আফা আমিনূমাকরল্লা-হি, ফালা-ইয়া’মানুমাকরল্লা-হি ইল্লাল কাওমুল খা-ছিরূন।উচ্চারণ
এরা কি আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে নির্ভীক হয়ে গেছে? ৭৮ অথচ যে সব সম্প্রদায়ের ধ্বংস অবধারিত তারা ছাড়া আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে আর কেউ নির্ভীক হয় না। তাফহীমুল কুরআন
তবে কি তারা আল্লাহ প্রদত্ত অবকাশ (-এর পরিণাম) সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? #%৫৭%# (যদি তাই হয়) তবে (তারা যেন স্মরণ রাখে), আল্লাহ প্রদত্ত অবকাশ সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকে কেবল সেই সব লোক, যারা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মুফতী তাকী উসমানী
তারা কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে ? সর্বনাশগ্রস্থ সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর পাকড়াও থেকে কেহই নি:শঙ্ক হতে পারেনা।মুজিবুর রহমান
তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা কি আল্লাহ্ র কৌশলের ভয় রাখে না ? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত কেউ আল্লাহ্ র কৌশল হতে নিরাপদ মনে করে না।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত কওম ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে আর কেউ (নিজদেরকে) নিরাপদ মনে করে না।আল-বায়ান
তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে? নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল হতে কেউ নির্ভয় হতে পারে না।তাইসিরুল
তারা কি তবে নিরাপদ বোধ করে আল্লাহ্র পরিকল্পনা থেকে? আর আল্লাহ্র পরিকল্পনা থেকে কেউ নিরাপদ থাকতে পারে না ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত।মাওলানা জহুরুল হক
৭৮
মূলে مكر (মকর) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আরবীতে এর অর্থ হচ্ছে, গোপনে গোপনে কোন চেষ্টা-তদবীর করা। অর্থাৎ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমনভাবে গুটি চালানো, যার ফলে তার ওপর চরম আঘাত না আসা পর্যন্ত সে জানতেই পারে না যে, তার ওপর এক মহা বিপদ আসন্ন। বরং বাইরের অবস্থা দেখে সে একথাই মনে করতে থাকে যে, সব কিছু ঠিকমতই চলছে।
এখানে মূল শব্দ হচ্ছে مكر-এর অর্থ এমন গুপ্ত কৌশল, যার উদ্দেশ্য যার বিরুদ্ধে তা প্রয়োগ করা হয় সে বুঝতে পারে না। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এমন কৌশলের অর্থ হচ্ছে, তিনি মানুষকে তাদের পাপাচার সত্ত্বেও দুনিয়ায় বাহ্যিক সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্য দিয়ে থাকেন, যার উদ্দেশ্য হয় তাদেরকে ঢিল ও অবকাশ দেওয়া। তারা যখন সেই অবকাশের ভেতর উপর্যুপরি পাপাচার করেই যেতে থাকে, তখন এক পর্যায়ে আকস্মিকভাবে তাদেরকে পাকড়াও করা হয়। সুতরাং সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্যের ভেতরও নিজ আমল সম্পর্কে মানুষের গাফেল থাকা উচিত নয়। বরং সর্বদা আত্মসংশোধনে যত্নবান থাকা চাই। অন্তরে এই ভীতি জাগরুক রাখা চাই যে, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হলে এই সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্য আমার জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে প্রদত্ত ঢিল ও অবকাশও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নিজ আশ্রয়ে রাখুন।
৯৯. তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকেও নিরাপদ হয়ে গেছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর কৌশলকে নিরাপদ মনে করে না।(১)
(১) মূলে ‘মকর’ শব্দ ব্যবহার হয়েছে, আরবীতে এর মূল অর্থ হচ্ছে, ধোঁকাগ্রস্ত করা (ফাতহুল কাদীর) বা গোপনে গোপনে কোন চেষ্টা তদবীর করা। অর্থাৎ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমনভাবে গুটি চালানো, যার ফলে তার উপর চরম আঘাত না আসা পর্যন্ত সে জানতেই পারে না যে, তার উপর এক মহা বিপদ আসন্ন। বরং বাইরের অবস্থা দেখে সে একথাই মনে করতে থাকে যে, সব কিছু ঠিকমত চলছে। (আল-মানার ১১/২৭৪)
তবে এ আয়াতে যে ‘মকর’ বা কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে, তা আল্লাহর এক গুণ। তিনি তার বিরোধীদের পাকড়াও করার জন্য যে কৌশলই অবলম্বন করেন তা অবশ্যই প্রশংসাপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ তারাও আল্লাহর সাথে অনুরূপ করে বলে মনে করে থাকে। তিনি যে রকম তার গুণও সে রকম। তার এ গুণে গুণান্বিত হবার ধরণ সম্পর্কে কেউ জানতে পারে না। এ জাতীয় আলোচনা সূরা বাকারায় বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে। (আরও দেখুন, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ)
(৯৯) তারা কি আল্লাহর চক্রান্তের ভয় রাখে না? বস্তুতঃ ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর চক্রান্ত হতে নিরাপদ বোধ করে না।(1)
(1) এই আয়াতসমূহে মহান আল্লাহ প্রথমে এটা ব্যক্ত করেছেন যে, ঈমান ও তাকওয়া এমন এক জিনিস, যারা তা অবলম্বন করে মহান আল্লাহ তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর বর্কতের দরজা খুলে দেন। অর্থাৎ, প্রয়োজন মত তাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যার কারণে পৃথিবী খুব বেশি বেশি ফসল উৎপাদন করে, ফলে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য তাদের ভাগ্যে পরিণত হয়। কিন্তু এর বিপরীত মিথ্যায়ন ও কুফরীর রাস্তা অবলম্বন করার কারণে জাতি আল্লাহর কঠিন শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হয়। এরপর রাত ও দিনের যে কোন সময় আযাব এসে হাসিখুশি ভরা জনপদকে ক্ষণেকের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ছাড়ে। এই জন্য আল্লাহর এই সকল পরিণামের ব্যাপারে ভয়শূন্য হওয়া মোটেই উচিত নয়। এই ভয়শূন্যতার পরিণতি ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নয়। مكر শব্দের অর্থ বুঝার জন্য আল-ইমরানের ৫৪নং আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন।