وَمَآ أَرۡسَلۡنَا فِي قَرۡيَةٖ مِّن نَّبِيٍّ إِلَّآ أَخَذۡنَآ أَهۡلَهَا بِٱلۡبَأۡسَآءِ وَٱلضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمۡ يَضَّرَّعُونَ

ওয়া মাআরছালনা-ফী কারইয়াতিম মিন নাবিইয়িন ইল্লা-আখাযনাআহলাহা-বিলবা’ছাই ওয়াদ্দাররই লা‘আল্লাহুম ইয়াদ্দারর‘ঊন।উচ্চারণ

আমি যখনই কোন জনপদে নবী পাঠিয়েছি, সেখানকার লোকদেরকে প্রথমে অর্থকষ্ট ও দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন করেছি, একথা ভেবে যে, হয়তো তারা বিনম্র হবে ও নতি স্বীকার করবে। তাফহীমুল কুরআন

আমি যে-কোনও জনপদে নবী পাঠিয়েছি, তার অধিবাসীদেরকে অবশ্যই অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত করেছি, যাতে তারা বিনয় অবলম্বন করে। #%৫৫%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি কোন জনপদে নাবী রাসূল পাঠালে, ওর অধিবাসীদেরকে দুঃখ-দারিদ্র ও রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত করে থাকি, উদ্দেশ্য হল, তারা যেন নম্র ও বিনয়ী হয়।মুজিবুর রহমান

আর আমি কোন জনপদে কোন নবী পাঠাইনি, তবে (এমতাবস্থায়) যে পাকড়াও করেছি সে জনপদের অধিবাসীদিগকে কষ্ট ও কঠোরতার মধ্যে, যাতে তারা শিথিল হয়ে পড়ে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি কোন জনপদে নবী পাঠালে এর অধিবাসীবৃন্দকে অর্থ-সংকট ও দুঃখ-ক্লেশ দিয়ে আক্রান্ত করি, যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে জনপদেই আমি নবী প্রেরণ করেছি, তার অধিবাসীকে আমি অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পাকড়াও করেছি, যেন তারা অনুনয় বিনয় করে।আল-বায়ান

আমি কোন জনপদে এমন কোন নাবীই পাঠাইনি যেখানকার অধিবাসীদেরকে অভাব-অনটন আর দুঃখ-কষ্ট কশাঘাত করেনি যাতে তারা নম্রতা ও কাতরতা প্রকাশ করে।তাইসিরুল

আর আমরা কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠাইনি তাদের বাসিন্দাদের দুঃখ ও দুর্দশা দিয়ে পাকড়াও না-ক’বে, যেন তারা নিজেরা বিনয়াবনত হয়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলা যাদেরকে শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করেছেন, তাদেরকে যে আকস্মিক রাগের বশে ধ্বংস করেছেন এমন নয়। বরং তাদেরকে সঠিক পথে আসার জন্য বছরের পর বছর সুযোগ দিয়েছেন এবং সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। প্রথমত তাদের কাছে নবী পাঠিয়েছেন, যে নবী তাদেরকে বছরের পর বছর সাবধান করতে থেকেছেন। তারপর তাদেরকে আর্থিক কষ্ট ও বিভিন্ন রকমের বালা-মুসিবতে ফেলেছেন, যাতে তাদের মন কিছুটা নরম হয়। কেননা বহু লোক এ রকম অবস্থায় আল্লাহর দিকে রুজু হয় এবং কষ্ট-ক্লেশের ভেতর অনেক সময় সত্য গ্রহণের যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। এরূপ ক্ষেত্রে যখন নবী তাদেরকে এই বলে সতর্ক করেন যে, এখনও সময় আছে তোমরা শুধরে যাও, আল্লাহ তাআলা এ মুসিবত দ্বারা একটা সংকেত দিয়েছেন মাত্র, এটা যে কোনও সময় মহাশাস্তির রূপও নিতে পারে, তখন কোনও কোনও লোকের মন ঠিকই নরম হয়। অপর দিকে কিছু লোক এমনও থাকে, সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্য লাভ হলে যাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার দয়া ও কৃপার অনুভূতি জাগ্রত হয় এবং তখন সত্য গ্রহণের জন্য তারা অপেক্ষাকৃত বেশি আগ্রহী হয়। সুতরাং তাদেরকে দুঃখণ্ডদৈন্যের পর সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্যও দান করা হয়ে থাকে, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পায়। অবস্থার এ পরিবর্তন দ্বারা কিছু লোক তো অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করে এবং সঠিক পথে চলে আসে, কিন্তু জেদী চরিত্রের কিছু এমন লোকও থাকে, যারা এসব দ্বারা কোনও শিক্ষা গ্রহণ করে না। বরং তারা বলে, এরূপ সুখণ্ডদুঃখ ও ঠাণ্ডা-গরমের পালাবদল আমাদের বাপ-দাদাদের জীবনেও দেখা দিয়েছে। কাজেই এসবকে অহেতুকভাবে আল্লাহ তাআলার কোনও সংকেত সাব্যস্ত করার দরকার কী? এভাবে যখন তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার সব রকমের প্রমাণ চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন এক সময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে আযাব এসে পড়ে। তখন তাদেরকে এমন আকস্মিকভাবে ধরা হয় যে, তারা আগে থেকে কিছুই টের করতে পারে না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৯৪. আর আমরা কোন জনপদে নবী পাঠালেই সেখানকার অধিবাসীদেরকে অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা আক্রান্ত করি, যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে।(১)

(১) এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় এবং আদ’ ও সামূদ জাতিকে যেসব ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তা শুধুমাত্র তাদের সাথেই এককভাবে সম্পৃক্ত নয়; বরং সকল জাতির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। কুরাইশ কাফেরদের জন্যও প্রযোজ্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বীয় রীতি অনুযায়ী দুনিয়ার বিভ্রান্ত জাতি-সম্প্রদায়ের সংশোধন ও কল্যাণ সাধনকল্পে যেসব নবী-রাসূল প্রেরণ করেন তাদের আদেশ-উপদেশের প্রতি যারা মনোনিবেশ করে না প্রথমে তাদেরকে পার্থিব বিপদাপদের সম্মুখীন করা হয়, যাতে এই বিপদাপদের চাপে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হতে পারে। তাঁরই দিকে ফিরে আসতে পারে, নবী-রাসূলদের উপর মিথ্যারোপ করা থেকে বিরত হয়। (তাবারী; সাদী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯৪) আমি কোন জনপদে নবী পাঠালে ওর অধিবাসীবৃন্দকে দুঃখ ও ক্লেশ দ্বারা পীড়িত করি, যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে।(1)

(1) بأسَاء শারীরিক কষ্টকে বুঝায়; যেমন অসুখ ও অসুস্থতা। আর ضَرَّاء বলা হয় অভাব ও দারিদ্র্যকে। উদ্দেশ্য এই যে, যে জনপদেই আমি রসূল প্রেরণ করি এবং সেখানকার মানুষ তাকে মিথ্যাজ্ঞান করে, যার ফলে আমি তাদেরকে অসুখ ও দারিদ্র্য দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি, যার উদ্দেশ্য হয় যে, তারা যেন আল্লাহর পথে ফিরে আসে এবং তাঁর নিকট কাকুতি-মিনতি করে।