وَٱذۡكُرُوٓاْ إِذۡ جَعَلَكُمۡ خُلَفَآءَ مِنۢ بَعۡدِ عَادٖ وَبَوَّأَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ تَتَّخِذُونَ مِن سُهُولِهَا قُصُورٗا وَتَنۡحِتُونَ ٱلۡجِبَالَ بُيُوتٗاۖ فَٱذۡكُرُوٓاْ ءَالَآءَ ٱللَّهِ وَلَا تَعۡثَوۡاْ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُفۡسِدِينَ

ওয়াযকুরূ ইযজা‘আলাকুম খুলাফাআ মিম বা‘দি ‘আ-দিওঁ ওয়া বাওওয়াআকুম ফিল আরদিতাত্তাখিযূনা মিন ছুহূলিহা-কুসূরওঁ ওয়া তানহিতূনাল জিবা-লা বুইয়ূতান ফাযকুরূআ-লাআল্লা-হি ওয়ালা-তা‘ছাও ফিল আরদিমুফছিদীন।উচ্চারণ

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আল্লাহ‌ আদ জাতির পর তোমাদেরকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন এবং পৃথিবীতে তোমাদেরকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যার ফলে আজ তোমরা তাদের সমতলভূমিতে বিপুলায়তন প্রাসাদ ও তার পাহাড় কেটে বাসগৃহ নির্মাণ করছো। ৫৯ কাজেই তাঁর সর্বময় ক্ষমতার স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যেয়ো না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। ৬০ তাফহীমুল কুরআন

স্মরণ কর, যখন আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে (তাদের) স্থলাভিষিক্ত করেন এবং যমীনে তোমাদেরকে এভাবে প্রতিষ্ঠা দান করেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছ ও পাহাড় কেটে গৃহের মত তৈরি করছ। সুতরাং আল্লাহর নিয়ামতসমূহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে বেড়িয়ো না।মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা স্মরণ কর সেই বিষয়টি যখন তিনি ‘আদ জাতির পর তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, আর তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ ও পাহাড় কেটে আবাস গৃহ নির্মাণ করেছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়ে দিওনা।মুজিবুর রহমান

তোমরা স্মরণ কর, যখন তোমাদেরকে আদ জাতির পরে সর্দার করেছেন; তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠিকানা দিয়েছেন। তোমরা নরম মাটিতে অট্টালিকা নির্মান কর এবং পর্বত গাত্র খনন করে প্রকোষ্ঠ নির্মাণ কর। অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করো না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘স্মরণ কর, আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল ভ‚মিতে প্রাসাদ নির্মাণ ও পাহাড় কেটে বাসগৃহ নির্মাণ করছো। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্ র অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর, যখন আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং তোমাদেরকে যমীনে আবাস দিলেন। তোমরা তার সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছ এবং পাহাড় কেটে বাড়ি বানাচ্ছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিআমতসমূহকে স্মরণ কর এবং যমীনে ফাসাদকারীরূপে ঘুরে বেড়িয়ো না।আল-বায়ান

স্মরণ কর, ‘আদ জাতির পরে তিনি তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন আর তোমাদেরকে যমীনে বসতি দান করেছেন, তোমরা তার সমতলে প্রাসাদ নির্মাণ করছ আর পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করছ, কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি কর না।তাইসিরুল

আর স্মরণ করো! কেমন ক’রে তিনি তোমাদের 'আদ-এর পরবর্তীকালে প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন, আর তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পৃথিবীতে -- যার সমতলক্ষেত্রে তোমরা প্রাসাদ গড়েছিলে আর পাহাড় কেটে বানালে বাড়িঘর। সেজন্য তোমরা স্মরণ করো আল্লাহ্‌র অনুগ্রহসমূহ, আর দেশে গর্হিত আচরণ করো না গন্ডগোল সৃষ্টিকারী হয়ে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৯

সামূদদের এ গৃহ নির্মাণ শিল্পটি ছিল ভারতের ইলোরা, অজন্তা গূহা ও অন্যান্য স্থানে প্রাপ্ত পর্বত গাত্রের গৃহের ন্যায়। অর্থাৎ তারা পাহাড় কেটে তার মধ্যে বিরাট বিরাট ইমারত তৈরী করতো। মাদায়েনে সালেহ এলাকায় এখনো তাদের এসব ইমারত সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় রয়ে গেছে। সেগুলো দেখে এ জাতি স্থাপত্য বিদ্যায় কেমন বিস্ময়কর উন্নতি সাধন করেছিল, তা অনুমান করা যায়।

৬০

অর্থাৎ আদ জাতির পরিণাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। তোমরা যদি আদদের মতো বিপর্যয় সৃষ্টি করতে থাকো, তাহলে যে মহান আল্লাহর অসাধারণ ক্ষমতা এ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী জাতিকে ধ্বংস করে দিয়ে তার জায়গায় তোমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন, সেই মহা শক্তিধর আল্লাহই আবার তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে অন্যদেরকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন। (টীকা ৫২ দ্রষ্টব্য।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৪. আর স্মরণ কর, আদ জাতির (ধ্বংসের) পরে তিনি তোমাদেরকে (তোমাদের আগের লোকদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর তিনি তোমাদেরকে যমীনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমর সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ ও পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরী করছ(১)। কাজেই তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।(২)

(১) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত স্মরণ কর যে, তিনি আদ জাতিকে ধ্বংস করে তাদের স্থলে তোমাদেরকে অভিষিক্ত করেছেন। তাদের ঘরবাড়ী ও সহায়-সম্পত্তি তোমাদেরকে দান করেছেন এবং তোমাদেরকে এ শিল্পকার্য শিক্ষা দিয়েছেন যে, উন্মুক্ত জায়গায় তোমরা প্রাসাদোপম অট্টালিকা নির্মাণ করে ফেল এবং পাহাড়ের গাত্র খোদাই করে তাতে প্রকোষ্ঠ তৈরী কর।

(২) আলোচ্য আয়াতসমূহ থেকে বুঝা যায় যে, দ্বীনের মূল বিশ্বাসসমূহে সব নবীই একমত। সবারই দাওয়াত ছিল এক আল্লাহর ইবাদাত করা এবং এর বিরুদ্ধাচরণের কারণে দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তির ভয় প্রদর্শন করা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৪) স্মরণ কর, আ’দ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা নম্র ভূমিতে প্রাসাদ(1) এবং পাহাড় কেটে বাসগৃহ নির্মাণ করছ।(2) সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিও না।’ (3)

(1) এর অর্থ হল, নরম যমীন থেকে মাটি নিয়ে ইট তৈরী কর এবং সেই ইট দিয়ে অট্টালিকা নির্মাণ কর। যেমন, আজও ভাঁটিতে এইভাবে (নরম) মাটি দিয়ে ইট তৈরী করা হয়।

(2) এখানে তাদের শক্তি, দৈহিক বলিষ্ঠতা এবং তাদের শিল্প-দক্ষতার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

(3) অর্থাৎ, এই নিয়ামতগুলোর কারণে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর এবং তাঁর আনুগত্যের পথ ধর। নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এবং পাপাচারে লিপ্ত হয়ে ফাসাদ সৃষ্টি কর না।