ক-লূআজি’তানা-লিনা‘বুদাল্লা-হা ওয়াহদাহূওয়া নাযার মা-ক-না ইয়া‘বুদুআবাউনা- ফা’তিনা-বিমা-তা‘ইদুনা-ইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।উচ্চারণ
তারা জবাব দিলোঃ “তুমি কি আমাদের কাছে এ জন্য এসেছো যে, আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবো এবং আমাদের বাপ-দাদারা যাদের ইবাদত করে এসেছে তাদেরকে পরিহার করবো? ৫৩ বেশ, যদি তুমি সত্যবাদী হও, তাহলে আমাদের যে আযাবের হুমকি দিচ্ছো, তা নিয়ে এসো।” তাফহীমুল কুরআন
তারা বলল, তুমি কি এজন্যই আমাদের কাছে এসেছ যে, আমরা যেন শুধু আল্লাহরই ইবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের (যে মূর্তিদের) ইবাদত করত, তাদেরকে ত্যাগ করি? ঠিক আছে, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ, তা আমাদের সামনে উপস্থিত কর।মুফতী তাকী উসমানী
তারা বললঃ তুমি কি আমাদের নিকট শুধু এই উদ্দেশে এসেছো যে, আমরা যেন একমাত্র আল্লাহরই ইবাদাত করি এবং আমাদের পূর্ব-পুরুষরা যাদের পূজা করত তাদেরকে বর্জন করি? তুমি তোমার কথা ও দাবীতে সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর।মুজিবুর রহমান
তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আস আমাদের কাছে যাদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট এ উদ্দেশ্যে এসেছো যে, আমরা যেন এক আল্লাহ্ র ‘ইবাদত করি আর আমাদের পূর্বপুরুষগণ যার ‘ইবাদত করত তা বর্জন করি ? সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট এজন্য এসেছ যে, আমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করি এবং ত্যাগ করি আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ইবাদাত করত? সুতরাং তুমি আমাদেরকে যে ওয়াদা দিচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদী হও’।আল-বায়ান
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যাতে আমরা এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করি আর আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ‘ইবাদাত করত তা ত্যাগ করি? কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তাহলে আমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা করছ (ভয় দেখাচ্ছ) তা নিয়ে এসো।’তাইসিরুল
তারা বললে -- "তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ যেন আমরা একমাত্র আল্লাহ্র উপাসনা করি, আর বর্জন করি আমাদের পিতৃপুরুষরা যার উপাসনা করতো? অতএব নিয়ে এসো আমাদের উপরে যার দ্বারা তুমি আমাদের ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।"মাওলানা জহুরুল হক
৫৩
এখানে আবার একথাটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এ জাতিটিও আল্লাহকে অস্বীকার করতো না, আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল না। অথবা তাঁর ইবাদাত করতে অস্বীকার করছিল না। আসলে তারা হযরত হূদের 'একমাত্র আল্লাহ বন্দেগী করতে হবে এবং তাঁর বন্দেগীর সাথে আর কারোর বন্দেগী যুক্ত করা যাবে না’-এ বক্তব্যটিই মেনে নিতে অস্বীকার করছিল।
৭০. তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এ উদ্দেশ্যে এসেছ যে, আমরা যেন এক আল্লাহর ইবাদাত করি এবং আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত তা ছেড়ে দেই?(১) কাজেই তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যা ভয় দেখাচ্ছে(২) তা নিয়ে এস।
(১) এখানে একথাটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এ জাতিটিও আল্লাহকে অস্বীকার করতো না, আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল না। অথবা তাঁর ইবাদাত করতে অস্বীকার করছিল না। আসলে তারা হুদ আলাইহিস সালামের একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে এবং তার ইবাদাতের সাথে আর কারোর ইবাদাত যুক্ত করা যাবে না- এ বক্তব্যটি মেনে নিতে অস্বীকার করছিল।
(২) মূলে تَعِدُنَا শব্দ এসেছে। যার সাধারণ অর্থ, তুমি যার ওয়াদা আমাদের কাছে করছ। কিন্তু এখানে খারাপ কোন পরিণতির ভয় প্রদর্শন উদ্দেশ্য। (মুয়াসসার) আলেমগণ বলেন, এখানে وعد শব্দটি وعيد এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর) উল্লেখ্য যে, পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আ’রাফের ৭৭, সূরা হুদ এর ৩২ এবং সূরা আল-আহকাফের ২২ নং আয়াতেও এ শব্দটি একই অর্থে এসেছে।
(৭০) তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট এ উদ্দেশ্যে এসেছে যে, আমরা যেন শুধু আল্লাহর উপাসনা করি এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণ যার উপাসনা করত তা বর্জন করি?(1) সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে (আযাবের) ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর।’ (2)
(1) পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণই হচ্ছে প্রত্যেক যুগে ভ্রষ্টতার মূল কারণ। আ’দ সম্প্রদায়ও এই দলীলের ভিত্তিতে শিরক ত্যাগ করে তাওহীদ তথা একত্বতার রাস্তা অবলম্বন করতে প্রস্তুত হয়নি। দুর্ভাগ্যবশতঃ (দাদুপন্থী) মুসলিমদের মাঝেও এই বড়দের অন্ধ অনুকরণের রোগ ব্যাপক।
(2) যেভাবে মক্কার কুরাইশরাও রসূল (সাঃ)-এর একত্ববাদের দাওয়াতের উত্তরে বলেছিল, {اَللّٰهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} ‘‘হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ হতে (আগত) সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব অবতীর্ণ কর।’’ (সূরা আনফাল ৩২) অর্থাৎ, শিরক করতে করতে মুশরিকদের বিবেক-বুদ্ধিও লোপ পেয়ে যায়। অথচ জ্ঞান-বুদ্ধির দাবী এটাই ছিল যে, তারা বলত, ‘হে আল্লাহ! যদি এটা সত্য হয় এবং তোমার পক্ষ থেকে আগত হয়, তবে তুমি আমাদেরকে তা গ্রহণ করার তাওফীক দান কর।’ যাই হোক, আ’দ সম্প্রদায় তাদের নবী হূদ (আঃ)-কে বলে দিল, ‘তুমি যদি সত্য হও, তবে তোমার আল্লাহকে বল, যে আযাবের তিনি ভয় দেখাচ্ছেন, সে আযাব যেন পাঠিয়ে দেন!