هَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّا تَأۡوِيلَهُۥۚ يَوۡمَ يَأۡتِي تَأۡوِيلُهُۥ يَقُولُ ٱلَّذِينَ نَسُوهُ مِن قَبۡلُ قَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِٱلۡحَقِّ فَهَل لَّنَا مِن شُفَعَآءَ فَيَشۡفَعُواْ لَنَآ أَوۡ نُرَدُّ فَنَعۡمَلَ غَيۡرَ ٱلَّذِي كُنَّا نَعۡمَلُۚ قَدۡ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ وَضَلَّ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يَفۡتَرُونَ

হাল ইয়ানজুরূনা ইল্লা-তা’বীলাহু ইয়াওমা ইয়া’তী তা’বীলুহূ ইয়াকূলুল্লাযীনা নাছূহু মিন কাবলুকাদ জাআত রুছুলুরব্বিনা-বিলহাক্কি ফাহাল লানা-মিন শুফা‘আআ ফাইয়াশফা‘ঊলানাআও নুরদ্দ ফানা‘মালা গাইরল্লাযী কুন্না-না‘মালু কাদ খাছিরূআনফছাহুম ওয়াদাল্লা ‘আনহুম মা-কানূইয়াফতারূন।উচ্চারণ

এখন এরা কি এর পরিবর্তে এ কিতাব যে পরিণামের খবর দিচ্ছে তার প্রতীক্ষায় আছে? ৩৮ যেদিন সেই পরিণাম সামনে এসে যাবে সেদিন যারা তাকে উপেক্ষা করেছিল তারাই বলবেঃ “যথার্থই আমাদের রবের রসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। এখন কি আমরা এমন কিছু সুপারিশকারী পাবো যারা আমাদের পক্ষে সুপারিশ করবে? অথবা আমাদের পুনরায় ফিরে যেতে দেয়া হবে, যাতে পূর্বে আমরা যা কিছু করতাম তার পরিবর্তে এখন অন্য পদ্ধতিতে কাজ করে দেখাতে পারি?” ৩৯ তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং যে মিথ্যা তারা রচনা করেছিল তার সবটুকুই আজ তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে। তাফহীমুল কুরআন

কাফিরগণ কি এই কিতাবে বর্ণিত শেষ পরিণামেরই অপেক্ষা করছে? #%৩২%# (অথচ) এই কিতাবের বর্ণিত শেষ পরিণাম যে দিন আসবে সে দিন, যারা পূর্বে সে পরিণামের কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্যবাণী নিয়েই এসেছিলেন। এখন আমাদের কি এমন কোন সুপারিশকারী লাভ হবে, যারা আমাদের পক্ষে সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি পুনরায় (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠানো হবে, যাতে আমরা যে (মন্দ) কাজ করতাম তার বিপরীত কাজ করতে পারি? বস্তুত তারা নিজেরাই নিজেদের লোকসানে ফেলেছে এবং তারা যা-কিছু গড়ে রেখেছিল (অর্থাৎ তাদের দেবতাগণ), তারা তাদের থেকে অন্তর্হিত হয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি এই অপেক্ষায়ই আছে যে, এর বিষয় বস্তু প্রকাশ করা হোক? যেদিন এর বিষয় বস্তু প্রকাশিত হবে সেদিন যারা এর আগমনের কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য বাণী নিয়ে এসেছিলেন, এমন কোন সুপারিশকারী আছে কি যারা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি পুনরায় দুনিয়ায় পাঠানো যেতে পারে যাতে আমরা পূর্বের কৃতকর্মের তুলনায় ভিন্ন কিছু করতে পারি? নিঃসন্দেহে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, আর তারা যেসব মিথ্যা (মা‘বূদ ও রসম রেওয়াজ) রচনা করেছিল, তাও তাদের হতে অন্তর্হিত হয়ে যাবে।মুজিবুর রহমান

তারা কি এখন এ অপেক্ষায়ই আছে যে, এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হোক? যেদিন এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হবে, সেদিন পূর্বে যারা একে ভূলে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের পয়গম্বরগণ সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব, আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী আছে কি যে, সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে পুনঃ প্রেরণ করা হলে আমরা পূর্বে যা করতাম তার বিপরীত কাজ করে আসতাম। নিশ্চয় তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা মনগড়া যা বলত, তা উধাও হয়ে যাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি শুধু এর পরিণামের প্রতীক্ষা করে, যেদিন এর পরিণাম প্রকাশ পাবে! সেদিন যারা পূর্বে এর কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ তো সত্যবাণী এনেছিল, আমাদের কি এমন কোন সুপারিশকারী আছে যে আমাদের জন্যে সুপারিশ করবে বা আমাদেরকে কি পুনরায় ফিরে যেতে দেওয়া হবে, যেন আমরা পূর্বে যা করতাম তা হতে ভিন্নতর কিছু করতে পারি ?’ তারা নিজেদেরই ক্ষতি করেছে আর তারা যে মিথ্যা রচনা করত তাও অন্তর্হিত হয়েছে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কি শুধু তার পরিণামের অপেক্ষা করছে? যেদিন তার পরিণাম প্রকাশ হবে, তখন পূর্বে যারা তাকে ভুলে ছিল, তারা বলবে, ‘আমাদের রবের রাসূলগণ তো সত্য নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং আমাদের জন্য কি সুপারিশকারীদের কেউ আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে, কিংবা আমাদের প্রত্যাবর্তন করানো হবে, তারপর আমরা যা করতাম তা ভিন্ন অন্য আমল করব’? তারা তো নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত, তা তাদের থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।আল-বায়ান

তারা কি তার পরিণামের অপেক্ষা করছে (কাফিরদেরকে যে পরিণামের ব্যাপারে এ কিতাব খবর দিয়েছে) যখন তার (খবর দেয়া) পরিণাম এসে যাবে তখন পূর্বে যারা এর কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের রসূলগণ তো প্রকৃত সত্য নিয়েই এসেছিল, এখন কোন সুপারিশকারী আছে কি যারা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে (পৃথিবীতে) ফিরে যেতে দেয়া হবে কি যাতে আমরা যে ‘আমাল করছিলাম তত্থেকে ভিন্নতর ‘আমাল করি? তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেছে, আর তারা যে মিথ্যে রচনা করত তাও তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে।তাইসিরুল

তারা কি আর কিছুর অপেক্ষা করে ওর পরিণাম ছাড়া? যেদিন এর পরিণাম আসবে, যারা এর আগে এটি অবহেলা করেছিল তারা বলবে -- "আমাদের প্রভুর রসূলগণ নিশ্চয়ই সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী আছে কি? তারা তবে আমাদের জন্য সুপারিশ করুক, অথবা আমরা কি প্রত্যাবৃত্ত হতে পারি যেন আমরা যা করতাম তার বিপরীত কিছু করতে পারি?" তারা আলবৎ তাদের অন্তরা‌ত্মা হারিয়েছে, আর তাদের থেকে বিদায় নিয়েছে সেইসব যাদের তারা উদ্ভাবন করেছিল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৮

এ বিষয়বস্তুটিকে অন্য কথায় এভাবে বলা যেতে পারে, এক ব্যক্তিকে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতিতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়া হয় কিন্তু এরপরও সে তা মানতে প্রস্তুত হয় না। তারপর তার সামনে কিছু লোক সঠিক পথে চলে দেখিয়েও দেয় যে, ভুল পথ চলার সময় তারা কেমন ছিল এবং এখন সঠিক পথ অবলম্বন করার পর তাদের জীবনে কত ভাল পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এ থেকেও ঐ ব্যক্তি কোন শিক্ষা গ্রহণ করে না। তাহলে এর অর্থ এ দাঁড়ায় যে, এখন ঐ ব্যক্তি নিজের ভুল পথে চলার শাস্তি লাভ করার পরই কেবল একথা মেনে নেবে যে, সে ভুল পথে ছিল। যে ব্যক্তি ডাক্তারের জ্ঞানগর্ভ পরামর্শ গ্রহণ করে না এবং নিজের মত অসংখ্য রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ মত চলে রোগমুক্ত হতে দেখেও তা থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ করে না, সে এখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত হয়েই কেবল একথা স্বীকার করবে যে, যেভাবে ও যে পদ্ধতিতে সে জীবন যাপন করে আসছিল তা সত্যিই তার জন্য ধ্বংসকর ছিল।

৩৯

অর্থাৎ তারা পুনর্বার এ দুনিয়ায় ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করবে। তারা বলবে, আমাদের যে সত্যের খবর দেয়া হয়েছিল এবং তখন আমরা যে সত্যটি মেনে নেইনি, এখন চাক্ষুষ দেখার পর আমরা সে ব্যাপারে জেনে গেছি। কাজেই এখন যদি আমাদের আবার দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয় তাহলে এখন আমাদের কর্মপদ্ধতি আর আগের মত হবে না। (এ মিনতি এবং এর কি জবাব দেয়া হবে তা জানার জন্য দেখুন সুরা আন'আমের আয়াত ২৭-২৮, ইবরাহীম ৪৪-৪৫, সাজদা ১২-১৩, ফাতের ৩৭, যুমার ৫৬-৫৯, মু’মিন ১১-১২)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘শেষ পরিণাম’ দ্বারা কিয়ামত দিবসকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ঈমান আনার জন্য তারা কি কিয়ামত দিবসেরই অপেক্ষা করছে, অথচ সেদিন ঈমান আনলেও তা গৃহীত হবে না। আর যখন কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে, তখন আক্ষেপ করা ছাড়া তাদের আর কিছু করার থাকবে না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৩. তারা কি শুধু সে পরিণামের অপেক্ষা করে? যেদিন সে পরিণাম প্রকাশ পাবে, সেদিন যারা আগে সেটার কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, আমাদের রবের রাসূলগণ তো সত্যবাণী এনেছিলেন, আমাদের কি এমন কোন সুপারিশকারী আছে যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে কি আবার ফেরত পাঠানো হবে- যেন আমরা আগে যা করতাম তা থেকে ভিন্ন কিছু করতে পারি? অবশ্যই তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রটনা করত, তা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৩) তারা শুধু ওর পরিণাম (সংবাদ-সত্যতা বা কিয়ামতের) প্রতীক্ষা করছে।(1) যেদিন ওর পরিণাম বাস্তবায়িত হবে, সেদিন যারা পূর্বে ওর কথা ভুলে গিয়েছিল, তারা বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের রসূলগণ তো সত্য এনেছিলেন, আমাদের কি এমন কোন সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে কি পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে আমরা পূর্বে যা করতাম, তা হতে ভিন্ন কিছু করতে পারি?’ তারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রচনা করত তাও অন্তর্হিত হয়েছে।(2)

(1) تأويل শব্দের অর্থ হল, কোন জিনিসের প্রকৃত স্বরূপ, বাস্তব রূপ ও তার পরিণাম। অর্থাৎ, আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি, শাস্তি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ তো দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরা এই দুনিয়ার পরিণাম স্বচক্ষে দেখার অপেক্ষায় ছিল। অতএব এখন সে পরিণাম (কিয়ামত) তাদের সামনে এসে গেছে।

(2) অর্থাৎ, এরা যে পরিণামের অপেক্ষায় ছিল, তা তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে যাওয়ার পর সত্যের স্বীকারোক্তি অথবা পুনরায় দুনিয়াতে প্রেরিত হওয়ার আশা প্রকাশ এবং কোন সুপারিশকারীর খোঁজ করা ইত্যাদি সবই হবে নিষ্ফল। সেই উপাস্যগুলোও তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের তারা পূজা করত। তারা না তাদের সাহায্য করতে পারবে, না সুপারিশ করতে, আর না জাহান্নামের আযাব থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারবে।