ওয়া ইযআখাযনা- মীছা-কাকুম ওয়া রফা‘না- ফাওকাকুমুত্তূর খুযূমা আ-তাইনা-কুম বিকুওওয়াতিওঁ ওয়াছমা‘উ ক-লূছামি‘না ওয়া ‘আসাইনা- ওয়া উশরিবূফী কুলূবিহিমুল ‘ইজলা বিকুফরিহিম কুল বি’ছামা-ইয়া’মুরুকুম বিহী ঈমা-নুকুম ইন কুনতুম মু’মিনীন।উচ্চারণ
তারপর সেই অঙ্গীকারের কথাটাও একবার স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের থেকে নিয়েছিলাম তূর পাহাড়কে তোমাদের ওপর উঠিয়ে রেখে। আমি জোর দিয়েছিলাম, যে পথনির্দেশ আমি তোমাদেরকে দিচ্ছি, দৃঢ়ভাবে তা মেনে চলো এবং মন দিয়ে শুনো। তোমাদের পূর্বসূরীরা বলেছিল, আমরা শুনেছি কিন্তু মানবো না। তাদের বাতিল প্রিয়তা ও অন্যায় প্রবণতার কারণে তাদের হৃদয় প্রদেশে বাছুরই অবস্থান গেড়ে বসেছে। যদি তোমরা মু'মিন হয়ে থাকো, তাহলে এ কেমন ঈমান, যা তোমাদেরকে এহেন খারাপ কাজের নির্দেশ দেয়? তাফহীমুল কুরআন
এবং (সেই সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন আমি তোমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তোমাদের উপর তূর (পাহাড়)কে উত্তোলন করলাম (এবং বললাম) আমি তোমাদেরকে যা-কিছু দিয়েছি তা শক্ত করে ধর। এবং (যা-কিছু বলা হয়, তা) শোন। #%৬৯%# তারা (মুখে) বলল, শুনলাম এবং (অন্তরে বলল), অমান্য করলাম। (প্রকৃতপক্ষে) তাদের কুফরের অশুভ পরিণামে তাদের অন্তরে বাছুর জেঁকে বসেছিল। আপনি (তাদেরকে) বলে দিন, তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাক, তবে তোমাদের ঈমান তোমাদেরকে যে বিষয়ের নির্দেশ দেয় তা কতই না মন্দ!মুফতী তাকী উসমানী
এবং যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমাদের উপর তূর পর্বত সমুচ্চ করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে, আমি যা প্রদান করলাম তা দৃঢ়রূপে ধারণ কর এবং শ্রবণ কর। তারা বলেছিল, আমরা শুনলাম ও অগ্রাহ্য করলাম, এবং তাদের অবিশ্বাসের নিমিত্ত তাদের অন্তরসমূহে গো-বৎস প্রিয়তা সিঞ্চিত হয়েছিল। তুমি বলঃ যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তাহলে তোমাদের বিশ্বাস যা কিছু আদেশ করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।মুজিবুর রহমান
আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল। বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, যখন তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং ত‚রকে তোমাদের ঊর্ধ্বে উত্তোলন করেছিলাম, বলেছিলাম, ‘যা দিলাম দৃঢ়রূপে গ্রহণ কর এবং শোনো।’ তারা বলেছিল, ‘আমরা শোনোলাম ও অমান্য করলাম। কুফরীর কারণে তাদের হৃদয়ে গো-বৎসপ্রীতি সিঞ্চিত হয়েছিল। বল, ‘যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে তোমাদের ঈমান যার নির্দেশ দেয় তা কত নিকৃষ্ট।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমাদের উপর তূরকে উঠিয়েছিলাম- (বলেছিলাম) ‘আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা শক্তভাবে ধর এবং শোন’। তারা বলেছিল, ‘আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম। আর তাদের কুফরীর কারণে তাদের অন্তরে গো-বাছুর প্রীতি সিঞ্চিত করা হয়েছিল। বল, ‘তোমাদের ঈমান যার নির্দেশ দেয় কত মন্দ তা! যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক’।আল-বায়ান
স্মরণ কর, যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম এবং তূর পর্বতকে তোমাদের ঊর্ধ্বে তুলেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘যা দিলাম তা দৃঢ়রূপে ধারণ কর এবং শ্রবণ কর’। তারা বলেছিল, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম। কুফুরীর কারণে তাদের অন্তরে গো-বৎস-প্রীতি শিকড় গেড়ে বসেছিল। বল, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তবে তোমাদের বিশ্বাস যার নির্দেশ দেয়, তা কতই না নিকৃষ্ট’!তাইসিরুল
আর স্মরণ করো! আমরা তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম ও তোমাদের উপরে পর্বত খাড়া করেছিলাম। -- “তোমাদের আমরা যা দিয়েছি তা শক্ত করে পাকড়ে ধরো, আর শুনো।” তারা বলল -- “আমরা শুনলাম আর অমান্য করলাম!” আর তাদের হৃদয়ের ভেতরে পান করানো হয়েছে বাছুর তাদের অস্বীকার করার দরুন। বলো -- “তোমাদের ধর্মবিশ্বাস তোমাদের যা নির্দেশ দিচ্ছে তা দূষণীয়, যদি তোমরা ঈমানদার হও।”মাওলানা জহুরুল হক
এ ঘটনা বিস্তারিতভাবে এ সূরারই ৬৩নং আয়াতের টীকায় বর্ণিত হয়েছে। আর বাছুরের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে ৫৩নং আয়াতের টীকায়।
৯৩. স্মরণ কর, যখন আমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তুরকে তোমাদের উপর উত্তোলন করেছিলাম, (বলেছিলাম,) যা দিলাম দৃঢ়ভাবে গ্রহণ কর এবং শোন’। তারা বলেছিল, “আমরা শোনলাম ও অমান্য করলাম”। আর কুফরীর কারণে তাদের অন্তরে গো-বৎস প্রীতি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল। বলুন, যদি তোমরা ঈমানদার হও তবে তোমাদের ঈমান যার নির্দেশ দেয় তা কত নিকৃষ্ট!
৯৩। আরো স্মরণ কর (সেই সময়ের কথা) যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম, এবং ত্বূর (পাহাড়)কে তোমাদের ঊর্ধে স্থাপন করেছিলাম (ও বলেছিলাম,) ‘যা দিলাম তা দৃঢ়রূপে গ্রহণ কর এবং শ্রবণ কর।’ তারা বলেছিল, ‘আমরা শ্রবণ করলাম ও অমান্য করলাম।’(1) তাদের কুফরী (অবিশ্বাস)(2) হেতু তাদের হৃদয়কে (যেন) গো-বৎস-প্রীতি পান করানো হয়েছিল।(3) বল, ‘যদি তোমরা মুমিন (বিশ্বাসী) হও, তবে তোমাদের ঈমান (বিশ্বাস) যার নির্দেশ দেয় তা কত নিকৃষ্ট!’
(1) এ হল শেষ পর্যায়ের কুফরী ও অস্বীকার যে, মৌখিকভাবে তো তারা মেনে নিল, 'আমরা শ্রবণ করলাম' অর্থাৎ, আনুগত্য করব, কিন্তু অন্তরে এই নিয়ত লুক্কায়িত যে, আমাদেরকে কোন্ কাজ করতে হবে?
(2) অর্থাৎ, অবাধ্যতা এবং বাছুরের ভালবাসা ও পূজার কারণে তা কুফরী ছিল, যা তাদের হৃদয়ে স্থান লাভ করে নিয়েছিল।
(3) একে তো প্রীতি-ভক্তি এমন এক জিনিস, যা মানুষকে অন্ধ ও বধির বানিয়ে দেয়। তাতে আবার সে প্রীতি (রস) তাদের হৃদয়কে {أُشْرِبُوْا} 'পান করানো হয়েছিল' বলে অভিব্যক্ত করা হয়েছে। কেননা, পানি মানুষের শিরা-উপশিরায় যেভাবে দ্রুত চলাচল করে আহারাদি সেভাবে করে না। (ফাতহুল ক্বাদীর) (এ থেকে তাদের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়।)