ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুইযা-তাল্লাকতুমুন্নিছাআ ফাতালিলকূহুন্না লি‘ইদ্দাতিহিন্না ওয়া আহসুল ‘ইদ্দাতা ওয়াত্তাকুল্লা-হা রব্বাকুম লা-তুখরিজুহুন্না মিম বুয়ূতিহিন্না ওয়ালাইয়াখরুজনা ইল্লাআইঁ ইয়া’তীনা বিফা-হিশাতিম মুবাইয়িনাতিওঁ ওয়া তিলকা হুদূদুল্লাহি ওয়া মাইঁ ইয়াতা‘আদ্দা হুদূদাল্লা-হি ফাকাদ জালামা নাফছাহূ লা-তাদরী লা‘আল্লাল্লা-হা ইউহদিছু বা‘দা যা-লিকা আমর-।
হে প্রিয় নবী! যখন তোমরা স্ত্রীলোকদের তালাক দাও তখন তাদের তালাক দিয়ো তাদের নির্ধারিত দিনের জন্য, আর ইদ্দতের হিসাব রেখো, আর তোমাদের প্রভু আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করো। তোমরা তাদের বের করে দিও না তাদের থাকা-ঘর থেকে, এবং তারাও যেন বেরিয়ে না যায় যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়ে থাকে। আর এগুলোই আল্লাহ্র সীমা। আর যে কেউ আল্লাহ্র বিধান লংঘন করে সে তো তবে নিজের অন্তরাত্মার প্রতি অন্যায় করেই ফেলেছে। তুমি জানো না, হয়ত আল্লাহ্ এর পরে কোনো উপায় করে দেবেন।
ফাইযা-বালাগনা আজালাহুন্না ফাআমছিকূহুন্না বিমা‘রূফিন আও ফা-রিকূহুন্না বিমা‘রূফিওঁ ওয়া আশহিদূযাওয়াই ‘আদলিম মিনকুম ওয়া আকীমুশশাহা-দাতা লিল্লা-হি যা-লিকুম ইঊ‘আজুবিহী মান ক-না ইউ’মিনুবিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইয়াজ‘আল্লাহূমাখরজা-।
তারপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে যায় তখন হয় তাদের রেখে দেবে ভালভাবে অথবা তাদের ছাড়াছাড়ি করে দেবে ভালভাবে, আর তোমাদের মধ্যে থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী করো, আর তোমরা আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য কায়েম করবে। এইভাবেই এর দ্বারা তাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে যে আল্লাহ্তে ও আখেরাতের দিনে বিশ্বাস করে। আর যে কেউ আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করে তার জন্য তিনি বেরুবার পথ করে দেন।
ওয়া ইয়ারঝুকহু মিন হাইছুলা-ইয়াহতাছিবু ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ফাহুওয়া হাছবুহূ ইন্নাল্লা-হা বা-লিগু আমরিহী কাদ জা‘আলাল্লা-হু লিকুল্লি শাইয়িন কাদর-।
আর তিনি তাকে জীবনোপকরণ প্রদান করেন এমন দিক থেকে যা সে ধারণাও করে নি। আর যে আল্লাহ্র উপরে নির্ভর করে -- তার জন্য তবে তিনিই যথেষ্ট। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণকারী। আল্লাহ্ নিশ্চয়ই সব-কিছুর জন্য এক পরিমাপ ধার্য করে রেখেছেন।
ওয়াল্লাঈইয়াইছনা মিনাল মাহীদিমিন্নিছাইকুম ইনিরতাবতুম ফা‘ইদ্দাতুহুন্না ছালাছাতুআশহুরিওঁ ওয়াল্লায়ী লাম ইয়াহিদনা ওয়া উলা-তুল আহমা-লি আজালুহুন্না আইঁ ইয়াদা‘না হামলাহুন্না ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইয়াজ‘আল লাহূমিন আমরিহী ইউছর-।
আর তোমাদের নারীদের যারা ঋতু সন্বন্ধে হতাশ্বাস হয়েছে, যদি তোমরা সন্দেহ কর তাহলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস, আর তাদেরও যারা ঋতুমতী হয় নি। আর গর্ভবতী নারীরা -- তাদের সময়সীমা হচ্ছে যে তারা যেন তাদের গর্ভ নামিয়ে ফেলে। আর যে কেউ আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করে, তিনি তার কাজকর্ম তার জন্য সহজ করে দেবেন।
যা-লিকা আমরুল্লা-হি আনঝালাহূইলাইকুম ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইউকাফফির ‘আনহু ছাইয়িআ-তিহী ওয়া ইউ‘জিম লাহূআজর-।
এইটিই আল্লাহ্র বিধান -- তোমাদের কাছে তিনি এ অবতারণ করেছেন। আর যে কেউ আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করে তার থেকে তিনি তার পাপসমূহ মোচন করবেন, আর তার জন্য প্রতিদান বাড়িয়ে দেবেন।
আছকিনূহুন্না মিন হাইছুছাকানতুম মিওঁউজদিকুম ওয়ালা-তুদাররূহুন্না লিতুদাইয়িকূ ‘আলাইহিন্না ওয়া ইন কুন্না ঊলা-তি হামলিন ফাআনফিকূ‘আলাইহিন্না হাত্তা-ইয়াদা‘না হামলাহুন্না ফাইন আরদা‘না লাকুম ফাআ-তূহুন্না উজূরহুন্না ওয়া’তামিরূবাইনাকুম বিমা‘রূফিও ওয়া ইন তা‘আ-ছারতুম ফাছাতুরদি‘উ লাহূউখর-।
তাদের বাস করতে দাও যেখানে তোমরা বাস করছ, তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী, আর তাদের কষ্ট দিয়ো না তাদের অবস্থা সংকটময় করে তোলার জন্যে। আর যদি তারা গর্ভবতী হয়ে থাকে তবে তাদের জন্য খরচ করো যে পর্যন্ত না তারা তাদের গর্ভভার নামিয়ে ফেলে, তারপর যদি তারা তোমাদের জন্য স্তন্যদান করে তাহলে তাদের মজুরি তাদের প্রদান করবে, আর তোমাদের মধ্যে ভালোভাবে কাজ করতে বলো, আর যদি তোমরা অমত হও তবে তার জন্য অন্যজনে স্তন্য দিক।
লিইয়ুনফিকযূছা‘আতিম মিন ছা‘আতিহী ওয়া মান কুদির ‘আলাইহি রিঝকুহূ ফালইউনফিকমিম্মাআ-তা-হুল্লা-হু লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-মাআ-তাহা- ছাইয়াজ‘আলুল্লা-হু বা‘দা ‘উছরিইঁ ইউছর-।
প্রাচুর্যের অধিকারী যেন তার প্রাচুর্য থেকে খরচ করে, আর যার উপরে তার জীবিকা সীমিত করা হয়েছে সে যেন খরচ করে আল্লাহ্ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে। আল্লাহ্ কোনো সত্ত্বাকে কষ্ট দেন না তিনি তাকে যা দিয়েছেন তার অতিরিক্ত। আল্লাহ্ অচিরেই কষ্টের পরে আরাম প্রদান করবেন।
ওয়া কাআইয়িম মিন কারয়াতিন ‘আতাত ‘আন আমরি রব্বিহা-ওয়া রুছুলিহী ফাহা-ছাব নাহা-হিছা-বান শাদীদাওঁ ওয়া ‘আযযাবনা-হা-‘আযা-বান নুকর-।
আর কত না জনপদ তার প্রভুর ও তাঁর রসূলদের নির্দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, ফলে আমরা তার হিসাব তলব করেছিলাম কড়া হিসাব তলবে, আর আমরা তাকে শাস্তি দিয়েছিলাম শক্ত শাস্তিতে।
আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম ‘আযা-বান শাদীদান ফাত্তাকুল্লা-হা ইয়াউলিল আলবা-বিল্লাযীনা আ-মানূ কাদ আনঝালাল্লা-হু ইলাইকুম যিকর-।
আল্লাহ্ তাদের জন্য ভীষণ শাস্তি তৈরি রেখেছেন, অতএব আল্লাহ্কে ভয়-ভক্তি করো, হে জ্ঞানবান লোকেরা -- যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ্ তোমাদের কাছে প্রেরণ করেই রেখেছেন এক স্মারক --
রছূলাইঁ ইয়াতলূ‘আলাইকুম আ-য়া-তিল্লা-হি মুবাইয়িনা-তিল লিইউখরিজাল্লাযী না আ-মানূ ওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি মিনাজ্জুলুমা-তি ইলান্নূরি ওয়া মাইঁ ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়া ইয়া‘মাল সা-লিহাইঁ ইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহাআবাদা- কাদ আহছানাল্লা-হু লাহূরিঝক-।
একজন রসূল -- তিনি তোমাদের কাছে আবৃত্তি করছেন আল্লাহ্র নির্দেশাবলী, সুস্পষ্টভাবে, যেন যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে তাদের তিনি বের করে আনতে পারেন অন্ধকার থেকে আলোকে। আর যে কেউ আল্লাহ্তে ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাকে তিনি প্রবেশ করাবেন স্বর্গোউদ্যানসমূহে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, সেখানে সে অবস্থান করবে চিরকাল। আল্লাহ্ তার জন্য জীবনোপকরণকে অতি উৎকৃষ্ট করেই রেখেছেন।
আল্লা-হুল্লাযী খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিওঁ ওয়া মিনাল আরদিমিছলাহুন্না ইয়াতানাঝঝালুল আমরু বাইনাহুন্না লিতা‘লামূআন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীরুওঁ ওয়া আন্নাল্লা-হা কাদ আহা-তা বিকুল্লি শাইয়িন ‘ইল মা-।
আল্লাহ্ই তিনি যিনি সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান, আর পৃথিবীর বেলায়ও তাদের অনুরূপ। বিধান অবতরণ করে চলেছে তাদের মধ্যে, যেন তোমরা জানতে পার যে আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান, আর এই যে আল্লাহ্ সব-কিছুকে ঘিরে রেখেছেন জ্ঞানের দ্বারা।