কৃষ্ণনামে কি ফল?

#সাধারণ জ্ঞান
1998 views

1 Answers

উঃ কুশনামের ফল হচ্ছে কৃষ্ণপ্রেম লাভ করা।  
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইস্কন (ISKCON-International Society for Krishna Consciousness) ১৯৬৬-তে নিউইয়র্কে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ, সি, ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দ্রুত সমগ্র বিশ্বে প্রসার লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর অচিরেই ইসকন কয়েকশত মন্দির, আশ্ৰম বৈদিক কৃষিখামার ভিত্তিক সমাজ এবং গুরুকুল আশ্রম সমন্বিত এক বিশ্বব্যাপী সংঘে পরিণত হয়।  
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হতে শুরু-শিষ্য পরম্পরা-ক্রমে প্রাপ্ত ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতমের শাশ্বত জ্ঞান ও শিক্ষাসমূহের ভিত্তিতে ইসকন গঠিত । ভগবান শ্রীচৈতন্যদেব প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে শ্রীধাম মায়াপুরে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং  
গদ্বাসীকে কৃষ্ণভক্তির বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি কলিযুগের যুগধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ ফলপ্রদ ভগবানের দিব্যনাম সমন্বিত হৱেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তনের পন্থা প্রচার করেছিলেন।  
হারে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।  
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।। পৃথিবীর সমস্ত নগরাদি গ্রামে এই দিব্যনাম পরিব্যাপ্ত হবে- শ্রীচৈতন্যদেবের এই অভিলাষ পূরণের উদ্দেশ্যে ইস্কন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। || ইসকন গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের একটি অংশ বিশেষ। স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃঃ থেকে ব্রহ্মা, তারপর পরম্পরাক্রমে শ্রীচৈতন্যদেব এবং তৎপরবর্তী গুরু পরম্পরাক্রমে শ্রীল প্রভুপাদ এই অধ্যাত্ম পরম্পরায় ইস্কনের উদ্ভব। এই পরম্পরা ধরা ইস্কনের প্রামাণিকতার এক অন্যতম নিদর্শন।  
শ্রীল প্রভুপাদ ইস্কন স্থাপন করেছিলেন এই উদ্দেশ্যে যাতে সংঘে যােগদানকারী প্রত্যেকেই পূর্ণ কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জনের জন্য প্রয়ােজনীয় সমস্ত কিছু  
২২  
ক্রাগ্রত চেতনা পেতে পারে। ইস্কনের মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদের নিকট ঐকান্তিক আশ্রয় গ্রহণকারী যে কোন ব্যক্তিই পূর্ণরূপে কৃষ্ণভাবনাময় হবার জন্য সকল প্রকার প্রয়ােজনীয় সহায়তা সংঘ থেকে প্রাপ্ত হবেন।  
কাজের সুবিধার জন্য ইস্কন সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন অঞ্চলে (বর্তমানে প্রায় ৩০টি অঞ্চল) ভাগ করে নিয়েছে। প্রতিটি অঞ্চল একজন অভিজ্ঞ ভক্তের তত্ত্বাবধানে থাকে। এই পদটিকে বলা হয় গভর্নিং বডি কমিশনার বা জি. বি. সি । কিছু কিছু অঞ্চলে দুই বা ততােধিক সহকারী জি, বি, সি, সদস্য রয়েছেন। সমস্ত অঞ্চলের সকল জি, বি. সি. সদস্যদের নিয়ে গঠিত জি, বি, সি, বডি-ই হল ইস্কনের সর্বোচ্চ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছর একবার বিশ্বের মুখকেন্দ্র শ্রীমায়াপুরে জি. বি. সি. বড়ি-র সকল সদস্যবর্গ সংঘের কার্যাবলীর পর্যালােচনা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য মিলিত হন। ভােটের ভিত্তিতে জি. বি. সি. বডিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  
প্রত্যেক জি. বি. সি. অঞ্চলে কিছুসংখ্যক মন্দির থাকে। প্রতিটি মন্দির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বনির্ভর। তাই বস্তুতঃ ইসকনের কোন প্রধান কার্যালয় নেই, যদিও শ্রীমায়াপুরকে বিশ্বের প্রধান পারমার্থিক কেন্দ্র রূপে গণ্য করা হয়। | প্রত্যেক মন্দিরে একজন অধ্যক্ষ (টেম্প প্রেসিডেন্ট) থাকেন। মন্দিরের অধ্যক্ষ হলেন মন্দিরের প্রধান কর্মকর্তা। জি. বি, সি, কর্মাধ্যক্ষ নিয়মিত তার নিজ অঞ্চলের মন্দির-সমূহ পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরে নির্দিষ্ট পারমার্থিক মান রক্ষিত এবং বিধি বিধান সমূহ পালিত হচ্ছে কিনা, মন্দির পরিচালনা ও উন্নয়ন-কাজ সুন্দর ভাবে চলছে কিনা ইত্যাদি তিনি পর্যবেক্ষণ করেন ও প্রয়ােজনে সহায়তা করেন । এছাড়া তিনি প্রচার কার্যক্রমে সহযােগিতা করে থাকেন।  
জাগ্রত চেতনা শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, জি, বি, সি, কাৰ্যাধ্যক্ষদের হতে হবে । “পাহারাদার কুকুর" (Watch dogs)-এর মত। অর্থাৎ ইসকনের কল্যাণ বিধানের জন্য এবং অপ্রামাণিক কোন দার্শনিক মতবাদের অনুপ্রবেশ-জাত দূষণ থেকে সংঘকে রক্ষার জন্য তাদের সদাসতর্ক থাকতে হবে।  
শ্রীল প্রভুপাদ আরও বলেছিলেন যে “নেতা মানেই হল শ্রবণ-কীর্তনের নেতা"। সেইজন্য ইস্কনে নেতৃবৃন্দ কেবল পরিচালন এবং সংগঠন কার্যই নয়, এটাও প্রত্যাশিত যে তারা পরমার্থ অনুশীলন এবং আচার অভ্যাসাদির আদর্শ মান ও নিজেরা প্রদর্শন করবেন। শ্রীল প্রভুপাদ এ ব্যাপারে গুরুত্ব আরােপ করেছিলেন যে নেতৃবৃন্দ যদি নিজেরা শ্রবণ কীর্তনে আদর্শ দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করতে পারে, তাহলে ইস্কনে অধ্যাত্ম-অনুশীলনের উচ্চমান বজায় রাখা সম্ভবপর হবে।  
শ্রীল প্রভুপাদের তিরােধানের পর ইকনে কোন একক মুখ্য নেতা বা প্রধান নেই। শ্রীল প্রভুপাদ স্বয়ং বলেছিলেন যে তার শারীরিক অনুপস্থিতির পর তার অনুগামী সমস্ত শিষাবৃন্দই নেতায় পরিণত হবে। কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনকে সমর্থ বিশ্বে প্রসারিত করার জন্য তিনি তার সকল শিষ্যবৃন্দকে একত্রে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আদেশ দিয়েছিলেন। আর এই আদেশই এই আন্দোলনের নিরবচ্ছিন প্রসারের একমাত্র ভিত্তিস্বরূপ।  
 

1998 views Answered

Related Questions

Next steps