সদস্যঃ Raju Das Rudro

আমি সদস্য হয়েছি 8 মাস (since 15 ডিসেম্বর 2017)
সদস্যের ধরণ নিবন্ধিত সদস্য
অতিরিক্ত সুবিধাদিঃ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা
যে কোন প্রশ্নকে পূনঃরায় বিভাগ বন্টন করা
যে কোন প্রশ্ন বন্ধ করা
যে কোন প্রশ্নের  জন্য উত্তর নির্বাচন করা
পূর্ণ নাম: রাজু দাশ রুদ্র
লিঙ্গ: Male
কর্মক্ষেত্র: এবার সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি দিয়েছি । কম্পিউটার অপারেটর, লেখক, ক্ষুদে সাংবাদিক (একবার এক উকিল কে একটা কেইসে সাহায্য করেছিলাম, সেই থেকে টুকটাক আর কি)
আমার সম্পর্কে বিস্তারিতঃ: আমি একদিন মারা যাব, এই সত্যটা নিয়ে আমার খুব বেশি আক্ষেপ নেই। তবে, আমার মৃত্যুর পর আরও অসংখ্য অসাধারণ সব বই লেখা হবে, গান সৃষ্ট হবে, চলচিত্র নির্মিত হবে। কিন্তু আমি সে সব পড়তে, শুনতে কিংবা দেখতে পারবো না। এই সত্যটা আমাকে খুব যন্ত্রণা দেয়।
প্রিয় উক্তি: আমি সেটা নই যেটা আপনি ভাবছেন..!! আমি সেটাই যেটা আপনি ভাবছেন না.!! আমাকে ভাবা যায় না..!! বুঝতে হয়.!!
ফেসবুক আইডি: mbasic.facebook.com/chinivorta

"Raju Das Rudro" র কার্যক্রম

স্কোরঃ 676 পয়েন্ট (র‌্যাংক # 233 )
প্রশ্নঃ 52
উত্তরঃ 245 (14 সর্বোত্তম হিসাবে নির্বাচন করেছেন)
মন্তব্যসমূহঃ 365
পছন্দ করেছেনঃ 22 টি উত্তর
দান করেছেন: 22 পছন্দ, 0 অপছন্দ
পেয়েছেনঃ 57 পছন্দ, 0 অপছন্দ

Wall for Raju Das Rudro

Please log in or register to post on this wall.
মেয়েটি অসহায়ের মতোন তার বয়ফ্রেন্ডের কাছে বললো- "বাবু, আমি প্রেগন্যান্ট.. কাল যখন কলেজে ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় আমি মাথা ঘুরে পরে যাই তখন ক্লাসের ম্যাম ও আমার বান্ধবীরা ধরাধরি করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়; সাথে মাকেও খবর দেওয়া হয় । আমার অসুস্থতার খবর পেয়ে মা খুব দ্রুতই আসলেন হাসপাতালে ।"
ডাক্তার সাহেবা মা'কে বললেন- "মেয়েটি আপনার কে হয়?" । মা বললেন- "আমার মেয়ে । ডাক্তার সাহেবা এই প্রশ্ন কেন করছেন?".. ডাক্তার সাহেব বললেন, "আপনার মেয়ে গর্ভবতী । ওর পেটে ৭ মাসের বাচ্চা । "
জানো বাবু, মা ডাক্তার সাহেবার মুখে আমার গর্ভবতী হওয়ার খবর শুনে কোনোমতে নিজেকে সামলে রেখেছেন । মা কখনো ভাবতে পারেনি যে তাঁর মেয়ে এমন কাজ করবে ।"
জানো বাবু, আমি কখনো ভাবিনি এমন কাজ আমিও করবো, কিন্তু তোমাকে অন্ধভাবে ভালোবাসি বলেই আমি তোমার সব কথা রেখেছি ।
-
ছেলেটি বললো- "কী বলছো । তুমি প্রেগন্যান্ট??"
মেয়েটি- "হ্যাঁ বাবু । বাবু জানো মা'এর সামনে আমি দাঁড়াতে পারছি না আমার এই মুখ নিয়ে ।"
ছেলেটি বললো- "আমার কথা শুনো, তোমার পেটে বাচ্চা আসলো কীভাবে?"..
_ "আমাদের ভালোবাসার টানে খুব কাছে আসার ফল এটা বাবু । বাবু, এখন তো আমার পরিবার জেনে গিয়েছে ব্যাপারটা । সমাজ জানুক চলো তার আগে আমরা বিয়ে করে নিই । তাহলে কেউ কিচ্ছুটি ঠের পাবেনা ।"..
_ "কী বলছো এসব? আমি কোনোমতেই চাকরীর আগে তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না । আর হ্যা, কি যেন বললে, 'তোমার পেটে সন্তান?' ওটা কার সন্তান আমি জানিনা । আমি অন্যকারো ছেলের বাবা হতে পারবো না ।"
-
মেয়েটি কিছু বলবে তার আগেই ছেলেটি ফোন কেটে দেয় । পরমুহুর্তে অনেকবার ছেলেটির ফোনে ডুকার চেষ্টা করে মেয়েটি কিন্তু কিছুই কল যাচ্ছিলো না নাম্বারটি ব্ল্যাকলিস্টে থাকায় ।
আপনি কী এখন ভাবছেন যে, 'আসলেই তাদের মধ্যে কী হয়েছিলো?" 'ছেলেটিই-বা কেন এমন করলো?'; অবশ্যই আপনার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে । কি ঠিকতো? তাহলে জানা যাক,
-
প্রায় ১ বছর আগেকার কথা । হঠাৎ একদিন মেয়েটার কলেজেই ছেলেটির সাথে দেখা হয় । ছেলেটাকে ভালো লেগে যায় মেয়েটির কিন্তু কোনোভাবেই বলতে পারছিলো না । ছেলেটির কথাবার্তা ও আচার-আচরণ মেয়েটিকে আরো পাগল করে তুলছিলো । মেয়েটি একদিন সাহস করেই ছেলেটাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় । ছেলেটিও রাজি হয়ে যায় । তারপর থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে । ধীরে ধীরে তারা অনেক গভীরেই চলে যায় । ৩ মাসের মাথায় তাদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয়-
_ "বাবু?" (ছেলে)
_ "হ্যাঁ বাবু, আই লাভ ইউ.." (মেয়ে)
_ "আই লাভ ইউ টু সোনাপাখি । কী করছিলে সোনামণি?"
_ "এইতো কিছুনা । শুধু তোমাকেই ভাবছিলাম ।"
_ "ওহ তাই বুঝি?"
_ "হ্যাঁ সোনা.."
_ "বাবু, একটা কথা বলবো? রাগ করবে না তো?"
_ "বাবু, কথাটি তো আমাকেই বলবা তাইনা? তাহলে আমার থেকে অনুমতি নিচ্ছো কেন পাগল? আচ্ছা, বলো রাগ করবো না আমি । "
_ "বাবু, তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো?"
_ "বাবু, কতটুকু ভালোবাসি তা মুখে বলে প্রকাশ করা সম্ভব না । তবে এতটুকু বলতে পারবো যে, বাবা-মা'র পরে যদি কাউকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি, সে হলে একমাত্র তুমি ।"
_ "আমার জন্য তুমি কী কী করতে পারবে?"
_ "কি কি করতে পারবো তা বলতে পারবো না । তবে এটা বলতে পারবো যে, আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে যত বাঁধা বিপত্তি আসবে সব পেড়িয়ে আমি তোমার কাছেই থাকবো । প্রয়োজনে তোমাকে নিয়ে সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে যেতে পারবো ।"
_ "আচ্ছা সবই বুঝলাম, তুমি আগে কথা দাও আমার কথাটি রাখবে?"
_ "কথা দিলাম বাবু । বাবু, তোমার সব কথাই তো রাখি, তাহলে এখন এমন করে বলছো কেন?" (মেয়েটি তখনো জানেনা কীসের জন্য সে তার বয়ফ্রেন্ডকে কথা দিচ্ছে ।)
_ "কথা দাও, কথা দাও আমার কথা রাখবে । না করবে না ।"
_ "আচ্ছা বাবা আচ্ছা কথা দিলাম তুমি যে কথাটি বলবে সেই কথাটাই রাখবো । এবার তো বলোরে কথাটি কী?
_ "কথাটি হলো গিয়ে, আমি তোমাকে খুব কাছে থেকে ভালোবাসতে চাই ।"
_ "খুব কাছে থেকে বলতে?"
_ "নেকা, বুঝোনা নাকি?"
_ "ঝেড়ে কাশো, আমি আসলেই বুঝিনি কথাটি ।"
_ "আমি তোমার সাথে একটা রাত কাটাতে চাই । সোনামণি, তুমি কিন্তু কথা দিয়েছো ।"
_ "কিন্তু.."
_ "কীসের কিন্তু বাবু? আমরা তো দুজন-দুজনকে অনেক ভালোবাসি তাইনা? তাহলে কাছে আসতে এত দ্বিধা কেন?"
_ "বাবু আমি তো তোমার সব কথাই রাখি কিন্তু আজ যে এমন কিছু চাইবে তা আমি ভাবিনি । আমি কি করবো কিচ্ছু বুঝতেছিনা । আচ্ছা সোনা, চলোনা আমরা বিয়ে করে নিই? বিয়ের পর দৈহিক মিলন বৈধ, আর আমরা যদি এভাবে বিয়ের আগে একইসঙ্গে একইঘরে রাত কাটাই তাহলে সেটা অবৈধ হবে এবং আমাদের পবিত্র ভালোবাসাতে কালি লেগে যাবে । প্লিজ বাবু আমার একটু বুঝার চেষ্টা করো ।"
_ "এই তুমি আমাকে ভালোবাসো? বুঝে গেছি তুমি আমাকে কেমন আর কতটুকু ভালোবাসো ।"
_ "এ্যাই শুনো, ভালোবাসার তুলনা দিওনাতো; আমি জানি, আমি তোমায় কতটা আর কি পরিমাণে ভালোবাসি । আমি তোমার জন্য সবকিছু করতে পারি, পারবো; তোমার সব কথাই তো রাখি । কিন্তু এই ব্যাপারটা একটু অন্যরকম না বাবু? একটু ভেবে দেখো না ।"
_ "আমি ওতোসতো বুঝিনা । আমি যা বলেছি সব ভেবেচিন্তেই বলেছি ।"
_ "কিন্তু.. "
_ "আবার সেই কিন্তু!! রাখো তোমার কাছে তোমার কিন্তু ।"
_ "তুমি এমন করছো কেন? আমাকে একটু বুঝার চেষ্টা করো । এখন আমরা ভালোবাসার টানে কাছে আসলাম ও চাহিদা মেটানোর জন্য দুজনের খুব কাছাকাছি গেলাম । কিন্তু পরবর্তীতে যদি তুমি আমাকে অস্বীকার করো তখন আমার কী হবে? ভাবো, একটু ভাবো সোনা আমার ।"
_ "কিছুই হবে না । কিচ্ছুটি হবেনা তোমার । আমি তোমার পাশে চিরদিন আছি আর থাকবো । তোমার সুখ-দুঃখে সবসময় তোমার পাশে ছায়া হয়ে থাকবো । কোনো কষ্ট বুঝতে দিবো না তোমায় ।"
_ "বাবু তোমাকে এত্তগুলো ভালোবাসি রে । বাবু, তুমি ভেবোনা যে তোমাকে আমি অবিশ্বাস করছি । তুমি জানোতো একটা মেয়ের কাছে তার ইজ্জতটাই মূল । আর সেই ইজ্জতটা যদি আমি তোমাকে দিয়ে দেই আমাদের বিয়ের আগে তাহলে কী সেটার পর্যাপ্ত মূল্য থাকে বা থাকবে বলো?"
_ "তুমি কী আমাকে শিখাচ্ছো কোন জিনিসের মূল্য আছে আর কোন জিনিসটা মূল্যহীন?"
_ "বাবু, এত কঠিন মেজাজে কথা বলছো কেন? জানোনা তুমি, তোমার থেকে বকা খেলে আমার কান্না চলে আসে? আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমার কথাই রাখবো ।"
_ "থ্যাংক ইউ বাবু ।"
_ "আচ্ছা ।"
-
আজ প্রায় ৭ মাস হলো তাদের রিলেশনের । মেয়েটি ছেলেটিকে বললো, "আমি প্রেগন্যান্ট" আর এই ব্যাপারটি আমার মা'ও জেনে গিয়েছেন কিন্তু বাবা'কে এখনো জানাইনি । মা তো আমার সাথে কথাটুকু পর্যন্ত বলছেন না । চলোনা বাবু আমরা দুজনে বিয়ে করে ফেলি । আমি মা-বাবা দুজনকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে ম্যানেজ করে নিবো । ছেলেটির উত্তর শোনার জন্য মেয়েটি একদম প্রস্তুত ছিলো না । কী ছিলো সেই উত্তরটি? আসুন জানি-
_ "শুনো সোনা, তুমি এবোরশন করিয়ে নাও চুপিসারে ।"
_ "তুমি এসব কী বলছো? এবোরশন করাবো কেন? ও তো আমাদেরই ফসল, আমাদেরই ভবিষ্যৎ । তাহলে তুমি কেন এবোরশন এর কথা মুখে নিচ্ছো? তুমি আসলে কী বলতে চাচ্ছো?
_ "আমি বলতে চাচ্ছি যে আমি চাকরী পাওয়ার আগে তোমায় বিয়ে করতে পারবো না, আর এই অবৈধ সন্তানের দায়ভার আমি নিতে পারবো না । যার সন্তান তাকে দিয়ে আসো ।"

ছেলেটির মতে- "এটা তার (ছেলেটির) সন্তান নয় । অন্যকারো সন্তান । আর অন্যকারো সন্তানের বাবা সে (ছেলেটি) কেন হতে যাবে?'.. মেয়েটি ছেলেটির মুখে এই কথাটি শুনে হতবাক । মেয়েটি বললো-
_ "থাক!! যা বলেছো বলেছো, আর কথা বাড়িও না । তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম বলে ঠকেছি । তোমাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে আজ আমি কলঙ্কীত ।
অপাশ থেকে ছেলেটি ফোন কেটে দিলো । মেয়েটি একেরপর এক টেক্সট ম্যাসেজ পাঠাতে লাগলো-
".. যখন তুমি বলতে, তোমার পাশে আমি সবসময় থাকবো; তখন তোমার কথা শুনে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম, মা-বাবার পরে কেউতো আছে যে আমাকে তার ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবে ।
.. যখন তুমি বলতে যে, তোমাকে ছাড়া আমি আর দ্বিতীয় কাউকেই বিয়ে করবো না । তখন ভাবতাম যে, কোনো একসময় হয়তো নিজের অজান্তেই কারো উপকার করেছিলাম, সেজন্যেই তোমার মতো একটা সৎ স্বামী পাবো ।
.. আমি তোমাকে ভালোবাসি বলেই, তোমাকে অনেক বিশ্বাস করি বলেই, তোমার বুকে মাথা গুজে থাকতে পারবো এটা ভেবেই তোমার সব কথা রাখতাম ও আবদারও পূরণ করেছি । কিন্তু শেষমেশ তুমি এই ফল দিলে?
.. আজ আমার পেটে তোমার বাচ্চা বড় হচ্ছে, কিন্তু আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবো । হয়তো কেউই বুঝতে পারবে না আমার মনের কষ্টটা । কেউই ঠের পাবে না আমার সাথে কী কী হয়েছিলো ।
.. তোমার মতে আমাদে.. নাহ, আমার সন্তান অন্যকারো । আমি ওকে বড় করে তুলবো । পিতৃহীন পরিচয়েই আমি আমার সন্তানকে বড় করে তুলবো । সমাজে উঁচু মাথা নিয়ে যেন বাঁচতে পারে আমি সেই সুযোগই করে দিবো আমার সন্তানকে ।
.. তুমি ঠকিয়েছো । কিন্তু তোমাকে প্রতারক বলবো না । আর না বলবো প্রতিশ্রুতিভঙ্গকারী, আর না বলো বেঈমান । কিন্তু এটাই বলবো যে, আমার ভাগ্যে যা ছিলো তা ছিলো আমার দুর্ভাগ্য । কিন্তু তুমি হারালে, হ্যা তুমি আমার মতো একজন মেয়েকে হারালে, যে মেয়ে তোমাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতো, অন্ধভাবে বিশ্বাস করতো । যাকে যেভাবে ঠকিয়েছো, তার শিকার তুমি একদিন না একদিন হবেই ।"
-
কোনো উত্তর পায়নি মেয়েটি । সেদিনের পর থেকে সে নতুন করে বাঁচতে শিখে । তার মা-বাবা'কে সব সত্যি খুলে বলাতে তাঁরা সবাই মেনে নিয়েছেন । মেয়েটি ভুল করেছে এবং ভুল করে সেটা বুঝতে পেরেছে বলে তাঁর মা-বাবা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ।
-
আজ মেয়েটি এক ভদ্র স্বামীর স্ত্রী । যে স্বামী এসব কাহিনী শুনেই মেয়েটিকে বিয়ে করেছে । খুব সুখে-শান্তিতেই কাটছে তাদের সংসার ।
....
কিছু কথাঃ-.. মেয়েরা মন দিয়ে পড়বেন ।
আমার এই পুরো লেখনীটা কাল্পনিক, এর সাথে বাস্তবের কোনোপ্রকার মিল নেই ।
ভালোবাসা হবে দুজনের মন দিয়ে, এখানে ভালোবাসার নামে নোংরামির করার কী দরকার? মন দিয়ে যদি কাউকে ভালো না বাসতে পারো অথবা যদি বুঝতে পারো তোমার প্রেমিক তোমাকে ঠকাচ্ছে তাহলে আগে থেকেই সতর্ক হয়ে স
03 অগাস্ট করেছেন Raju Das Rudro
ভোর ছ'টা বাজে । পরিবেশ শুনশান হয়ে আছে । কাক-পক্ষ্মীটিরও আজ খবর নেই । মোরগটাও আজ ডাকছে না । আমি মুখ থুবড়ে পড়ে আছি রাস্তার পাশে । আমাকে দেখার মতো কেউ-ই নেই আজ । রাস্তার পাশ দিয়ে চলে যায় কুকুরটা । আমার আজ আর ভয় করছে না কুকুরটাকে । এদিকে আসলে যে কুকুরটাকে আমি ভয় পেতাম, আজ সেই কুকুরটাই আমার রক্তাক্ত চেহারা দেখে ভয় পাচ্ছে ।
আজ আমার বিয়ে । আমি আসছি নিজের বিয়ের কিছু কেনাকাটা করতে । তাই অনেক খুশি নিয়েই বের হয়েছি বাসা থেকে । আমার হাতে একটা আশির্বাদ পড়ানো । রুদ্রশী পড়িয়েছিলো এই দু'দিন হলো ।
একটু আগেই একটা ট্রাক আমাকে ধাক্কা মেরে চলে গেলো । কিছু বুঝে উঠার আগেই ট্রাকটা আমার উপর দিয়েই চলে গেলো । আমার গাড়ের উপর থেকে মাথাটা আলগা হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে । রক্ত গড়গড়িয়ে পড়ছে । আমি একসময় রক্ত অনেক ভয় পেতাম । রক্ত দেখলেই গা শিউরে উঠতো । রক্ত দেখলে ভাবতাম, একটা সুস্থ্য মানুষের শরীর থেকে এভাবে রক্ত বের হলে সে তো আর বাঁচবে না । বিধির কি লীলা, আমি আজ সেই রক্তমাখা হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছি ।
অন্যদিন এই পথ দিয়েই বখাটেরা হেঁটে যায় গাঁয়ের স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের নানাভাবে উক্তক্ত্য করে আসে । কিন্তু আজ সেই বখাটেদের কেউ-ই আসছে না ।
আমি পড়ে আছি মসজিদের কিছুটা পাশেই । আমি যে রাস্তায় পড়ে আছি সেই রাস্তা দিয়েই সকল নামাজি মুসল্লি'রা যায় । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে, আজ সবাই আসছে কিন্তু কারো চোখে আমি পড়ছি না । কুকুরটা অনেক ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । তবে আমার থেকে অনেকটা দূরে । আমার রক্ত গলগল করে গড়িয়ে পড়ছে । চোখ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে । মনে হচ্ছে গাড় থেকে একটু একটু করে ছিঁড়ে যাচ্ছে আমার মাথাটা । ভিষণ যন্ত্রণা অনুভব করছি । হয়তো কোনো একসময় কারো ক্ষতি করেছিলাম সেজন্যেই এত কষ্ট পাচ্ছি ।
গাড়ের উপর কেউ যেন দাড়ালো ছুরি দিয়ে কাটছে । রক্ত এতটা গতিতেই পড়ছে যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তা রক্তে মাখামাখি হয়ে গেলো । আমি আমার রক্ত দেখতে ভাবতে পারছি না যে, আমার শরীরে এত রক্ত আসলো কোথা থেকে । নাকি গলা কাটার পর রক্ত বেড়ে গেলো?
আমার চোখ দিয়ে আরো কিছু দেখতে পারছি না । ঝাপসা হয়ে এলো, আর ইচ্ছে করেও চোখ খুলে রাখতে পারছি না ।
মাথাটা পড়ে গেলো, এখন আমার গাড় থেকে মাথাটা বেশি হলে ৪ আঙুল দূরে । আমার দিকে উলটো হয়ে তাকিয়ে রয়েছে আমার চোখসহ মাথাটা । আমি মাথাটার দিকে তাকিয়ে ভাবছি, "ওর শরীর কোথায়?" আর আমার মাথাটা আমার শরীরের দিকে তাকিয়ে ভাবছে, "ওর শরীর কোথায়?"
এতদিন নিজের মুখ আয়নায় দেখেছি, আর আজ নিজের মাথাটা দিয়ে নিজের পুরো শরীর দেখছি । আসলেই ব্যাপারটা কেমন জানি!!
চোখ বন্ধ হয়ে গেলো, সাথে আমি হারালাম আমার আত্মীয়স্বজনদের, হারালাম আমার রুদ্রশী'কে । আজ ওর সাথে আমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু বিধির কি নির্মম পরিহাস । আমাদের এক হতে দিলেন না । গায়ে হলুদ মাখার বদলে রক্ত দিয়ে মাখামাখি হলাম ।
আমি এখন আমার দেহ থেকে বাহিরে আছি । আছি অপেক্ষায় আমার লাশ নেওয়ার লোকদের । কিন্তু কেউ-ই আসছে না । আমার বেওয়ারিশ লাশ পড়ে আছে । আমি কী তাইলে পৃথিবীতে এতটাই মূল্যহীন ছিলাম? জন্ম নেওয়া তাহলে আমার জন্য ভুল ছিল? আত্মা হয়ে এই কথাগুলো ভাবছি ।
ভাবছি আর ভাবছি । হঠাৎ মনে হলো বাসার কথা ।  মনে হলো আমার মা বাবা আর রুদ্রশীর কথা । সবাই গম্ভীরভাবে ভাবছেন, "আমি এখনো আসছি না কেন?"
আমার পথ চেয়ে সবাই বসে আছেন । একে একে সবাই আসলো আমার লাশের পাশে । এসে লাশটা নিয়ে গেলেন । রুদ্রশী আমার দূর্ঘটনার কথা জানার পর চুপ হয়ে গুটিশুটি মেরে বসে রইলো দেয়ালের এক পাশে । কোনো কথা নেই ওর মুখে ।
আমি এখন ভাসছি । একটু আগেই গাড়ে হাত দিলাম, ওমা আমার মাথা দেখি ঠিকই আমার গাড়ের উপর আছে, কিন্তু আমিই শুধু পৃথিবীতে নেই ।  ছোটোবেলা ভাবতাম, "যদি আমি পাখির মতো উড়তে পারতাম, তাহলে কতোই না ভালো হতো । এখান থেকে ওখানে, ওখান থেকে সেখানে উড়তাম পাখা মেলে আর ঘুরতাম মন খুলে ।"
কিন্তু আজ পাখি হয়ে না ঘুরলেও অতৃপ্ত আত্মা হয়ে ঘুরতেছি ।
আমি রুদ্রশী কে কথা দিয়েছিলাম, "ওর পাশে সারাজীবন থাকবো ছায়া হয়ে ।" কিন্তু সেই কথাটা যে এভাবে সত্যি হবে তা আগে ভাবিনি । এখন আমি আমার কথাটা রাখছি । ওর সাথে ছায়া হয়েই আছি কিন্তু ওকে বুঝতে দিচ্ছি না । ও সেদিনের পর থেকে এখনো কিছু খায়নি । চোখ মুখ কালো হয়ে গেছে । ওকে দেখে মনে হচ্ছে, জীবিত থেকেও মৃত হয়ে আছে । শুধু ওর চোখের পাতাটা নড়ছে এটা দেখেই দেখা যাচ্ছে ও বেঁচে আছে ।
আমি প্রত্যেকদিনের মতো আজও ওর পাশে থাকার জন্য ওর কাছে যেতেই ওকে পেলাম না সেখানে, যেখানে এতদিন বসে ছিলো । কানে শুনতে পেলাম বাড়ির উঠোনে সবাই বসে কাঁদছে, আর সাদা কাপড়ের নিচে শুয়ে আছে রুদ্রশী । এই ঘন্টাখানেক আগেই সে গলায় দড়ি দিয়েছে । একটু পরেই বুঝতে পারলাম আমার গাড়ে কারো হাতের স্পর্শ । পিছন ফিরতে আমাকে আর অবাক হতে হলো না, আমার সেই বাবুটাই, "রুদ্রশী"..
-
রাজু দাশ রুদ্র
১৩/০৭/২০১৮ খ্রি.
13 জুলাই করেছেন Raju Das Rudro
আমি ডাক্তার নই তাই ওতটা ভালোভাবে আপনাদের বুঝাতে পারব না, তারপরও আমি যথাসাদ্য চেষ্টা করব বুঝানোর ।
-
আপনি আজ বিয়ে করেছেন । বিয়ের আগে আপনি অনেকবার নিজেকে প্রশ্ন করেছেন যে, আমি কি কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে পারব? আমি কি এমন মেয়ে পাব যার শরীরে কোনো পরপুরুষের ছোঁয়া স্পর্শ করতে পারেনি? যে ছেলেদের দেখলে ২ পা পিছিয়ে থাকতো । সম্মান বাঁচানোর জন্য সে পর্দা করতো, অথবা ঘর থেকে অকাজে বের হত না । এমন প্রশ্ন করেছেন তো নিজেকে? আবার অনেকের মতে, “বাসর রাতে যদি আমার স্ত্রীর যোনীপথ থেকে যদি রক্ত না বের হয় তাহলে বৌকে তালাক দিব” ।
-
উপরোক্ত বাক্যটি প্রায় অনেকের খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু তারপরও আমাকে উক্ত বাক্যটি ব্যবহার করতে হল । হ্যাঁ, উপরোক্ত বাক্যটি আমি লোকমুখে শুনেছি বলতে এবং অনেকের সাথে তর্কও করেছি । তারা সকলে মনে করেন যে, বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে সহবাস করার সময় যদি স্ত্রীর যোনীপথ দিয়ে রক্ত বের না হয় তাহলে মেয়েটি সতী নয় বা বিয়ের আগে পরপুরুষের সাথে যৌনমিলনে লিপ্ত হয়েছিল ।
-
আমি নারীদেহ বিশেষজ্ঞ নই । তারপরও যতটুকু জানি মেয়ের সতীপর্দা সহবাসে না করেও অন্যভাবে ফেটে যেতে পারে । তাই এ নিয়ে কোনো মেয়েকে নষ্ট বলা বা অসতী কলঙ্ক অপবাদ দেওয়া একদম অনুচিত হবে । কোথায় যেন পরেছিলাম এই মুহুর্তে ঠিক মনে আসছে না, কিছু মেয়েদের সতী পর্দা সারাজীবন অক্ষত অবস্থায় থাকে; এমনকি বিয়ের পরেও নাকি । জানি এ কথা অনেকেই মানবেন না বা বিশ্বাস করবেন না ।
-
এবার কথা বলি সতী অসতী ব্যাপারটা নিয়ে । প্রতিটা মেয়ের সতিপর্দা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে । আমরা ছেলেরা বা স্বামীরা মেয়েদের সতীপর্দা দ্বারাই বুঝে নিতে পারি যে মেয়েটা কুমারী কি না ।  কিন্তু আপনি কীভাবে জানবেন আপনার স্ত্রী কুমারী কি না? হুম, এই প্রশ্ন অনেকের মনেই আছে ।
ভাই, বলতে পারেন বিধাতা কি আমাদের ছেলেদের কোনো পর্দা-টর্দা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? নাহ তো... আগেই বলেছি আমি নারীদেহ বিশেষজ্ঞ নই; তারপরেও বলতে পারি, মেয়েদের সতীপর্দা নামের যেই জিনিসটা আছে সেটা দিয়ে তাঁর স্বামীর কাছে নিজেকে কুমারী প্রমাণ করা নয় বরং সেটার অন্য কাজও রয়েছে বা থাকতে পারে । আমি খুব কম জানি, তারপরেও যতটুকু জানি ততটুকুই আপনাদের জানাচ্ছি । হয়তো আপনারা আমার থেকে বেশি জানেন, এটাই স্বাভাবিক ।
-
আপনাদের কোরআন শরীফে লেখা আছে –
“দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য (উপযুক্ত) । (একইভাবে) সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য (উপযুক্ত) ।  তাদের সম্পর্কে (দুশ্চরিত্র লোকেরা) যা বলে,তা থেকে তারা পবিত্র । তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা” ।
-
নানা কারণে মেয়েদের সতীপর্দা ফেটে যেতে পারে । যেমন – বাইক চালালে, স্কুলজীবনে নিয়মিত দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করলে, ব্যায়াম করলে, গাছে উঠা, অতিরিক্ত লাফালাফি ইত্যাদি ইত্যাদি । অর্থাৎ মিলনে রক্তপাত নাও ঘটতে পারে । আবার রক্তপাত নির্ভর করবে মিলনের তীব্রতা, রুক্ষতা, যোনীপথের পিচ্ছিলতা ইত্যাদি বিষয়ের উপর । মূলত প্রথম মিলনে রক্তপাত একটা আপেক্ষিক ব্যাপার । তাই বলে এটা ভাবা পুরোই অনুচিত যে, মেয়েটা এর আগে সহবাস করেছে ।
-
আচ্ছা আমাদের দেশটা তো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় অনেক ছোট । তারপরও পতিতালয়ে, বিভিন্ন হোটেলে, রাস্তাঘাটে সব মিলিয়ে হাজার হাজার পতিতা রয়েছে । কিন্তু সে জায়গায় হাজার বাদ দিলাম, শ শ পতিত নেই কেন? যৌন চাহিদা কি শুধুই মেয়েদের আছে, ছেলেদের নেই?  এজন্যই কি সংবিধান মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ এবং ছেলেদের বিয়ের বয়স ২১ করে দিয়েছে । যাতে ছেলেরা এই ৩ বছরের মধ্যে ওই হাজার হাজার পতিতার যোনী পথে প্রবেশ করতে পারে?
সংবিধান এই নিয়ম করার কারণ আমরা সকলেই জানি যে, প্রকৃতির নিয়মে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় আগে বড় হয় । আর ছেলেরা তাঁদের নিজেকে নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে সমাজের উপযোগ্য ছেলে হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চাকরী করে বিয়ে করে । এখন আমার প্রশ্ন হল গিয়ে, “যদি অলিগলি, রাস্তাঘাটে হাজার হাজার পতিতা থেকে থাকে তাহলে এই পতিতাদের ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই পুরুষ লোকের প্রয়োজন । তাহলে যে পুরুষেরা এদের ব্যবহার করে তাঁদের সংখ্যা কত?” নিশ্চয়ই লাখ লাখ!! এই লাখ লাখ পুরুষের কি স্ত্রী নেই? অথবা এই পুরুষ কি কখনও বিয়ে করবে না? নাকি তারা তাঁদের স্ত্রীদেরকে  নিজের মতো স্বাধীনভাবে চলতে দিবে অর্থাৎ তাঁদের স্ত্রী পরপুরুষের রাতে সময় কাটাতে পারবে । দেবে এমন স্বাধীনতা? অবশ্যই দিবে না । যে পুরুষ বাসর রাতে রক্ত না বের না হলে বলে মেয়ে নষ্টা, অসতী, মাগি । আর সেই পুরুষই যখন পতিতালয়ে গিয়ে পতিতাদের সাথে সময় কাটায় তাকে কিভাবে ভালো বা মানুষ বলা যায়?
-
উপরোক্ত লেখা থেকে কোনো নারী জাতি এটা ভেবে নিবেন না যে শুধু মেয়েদের নিয়ে কথা বলছি । আমি আমার লেখার মধ্যে বুঝিয়ে দিতে চাচ্ছি যে, পুরুষ যেমন পতিতাদের ব্যবহার করে আসছে, আপনিও তেমনিভাবে পতিতদের ব্যবহার করুন । আমার লেখার উদ্দেশ্য হলো, ছেলেগুলো যাতে বিপদমুখ থেকে ফিরে আসে ।
-
আমি লক্ষ্য করেছি, অনেক সুশিক্ষিত ৩৫ থেকে ৪০ বয়সের পুরুষ বিয়ে করেন নি । অবশেষে তারা বিয়ের করার জন্য খোঁজেন ১৪-১৫ বছর বয়সী মেয়ে । এর মূল কারণ কি থাকতে পারে? তার মানে উনারাও কি সতী অসতী নিয়ে চিন্তিত!?
-
আপনি একটা মেয়েকে বিয়ের আগে অথবা পরে বাজারের পণ্যের মতো যাচাই করে নিচ্ছেন তার দেহটি টাটকা নাকি পঁচে গেছে । সে কি এর আগে অন্য পুরষের সাথে সহবাস করেছে কি না । কিন্তু সেই মেয়ে কি আপনাকে একবারও যাচাই করে আপনি সৎ কি না । আপনি এর আগে অন্য মেয়েলোকের সাথে সময় কাটিয়েছেন কি না এসব নিয়ে কোণোরোপ প্রশ্ন করে?
-
এ বিষয় নিয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাই না ।  হতে পারে আমার এই লেখাটি পড়ে অনেকের মেয়েদের ব্যাপারে থাকা ভুল চিন্তাভাবনা ভেঙ্গে যেতে পারে । আমার লেখায় ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ।
06 মে করেছেন Raju Das Rudro
আজ তো পহেলা বৈশাখ।
অনেকে বাসায় বসে আসিফ এর পহেলা বৈশাখ নিয়ে গাওয়া গান শুনছেন, কেউবা বাসায় বসে প্ল্যান করছেন আজ বন্ধুবান্ধবী অথবা প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে ঘুরবেন, ফিরবেন মজা করবেন, আরও কত কী ভেবে রেখেছেন। আবার অনেকে কাল রাতেই ভেবে রেখেছেন যে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে পান্তা-ইলিশ খাবেন, তারপর বৈশাখের নতুন কাপড় পড়ে বের হবেন ঘুরতে। এখানে,সেখানে কতখানেই না আজ ঘুরবেন। হাতে থাকবে অনেক পয়সা, নিজের জন্য কিছু কিনবেন এবং সাথে বন্ধু-বান্ধব অথবা প্রেমিকা থাকলে তাদের বা তাঁর পছন্দের জিনিসটিও কিনে দিবেন। তখন টাকার দিকে তাকাবেন না বা ভাববেন না। কারণ আপনি যথেষ্ট টাকা-পয়সা নিয়ে বেড়িয়েছেন, কেনোনা আজ “আজ পহেলা বৈশাখ”। আজ বাসা থেকে বেরুনোর পর চেনা-অচেনা মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ বা পরিচয় হবে। পুরাতন বন্ধুর সাথে দেখা হলে থাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে যাবেন খেতে।
-
আজ কিছু মানুষদের কাছে মনে হবেনা যে আজ কোনো উৎসব আছে কী না। তারা কাল রাতে ভেবে রেখেছে যে, প্রত্যেকদিনের মতো কালকের সকালটাও যেন আমাদের জন্য ভালো হয়। যে যার কাজে বেড়িয়ে পড়ছে। কাজে যাওয়ার পর দেখা গেলো যে, রঙিন পোষাক পড়া মানুষ ছাড়া আজ কোনো কাজ-ই নেই। বড় বড় ব্যবসায়ীরা আজ তাদের স্ত্রী এবং বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে যাবে তাদের ব্যবসা রেখে। আনন্দ ও উৎসবের জন্য তারা ভাববে না গরীব মানুষদের কথা; যারা উৎসব রেখে পেটের দায়ে আসছে কাজ করতে।
-
আজ দেখা যাবে কিছু মাছুম এতীম বাচ্চাদের। যাদের হাতে থাকবে বিভিন্ন ধরনের ফুল। অতিরিক্ত মানুষ হওয়ায় আজ রাস্তায় অনেক জ্যাম থাকবে। তাই গাড়িও দাঁড়িয়ে থাকবে, সেই বাচ্চাগুলো গাড়ির কাছে গিয়ে বলবে,- “আপু/ভাইয়া একটা ফুল নিবেন। দয়া করে একটা ফুল নেন না, নিয়ে বাসায় সাজিয়ে রাখবেন অথবা আপনার প্রিয় মানুষটিকে দিবেন। দেখবেন অনেক খুশি হবে।” এই মাছুম বাচ্চাদের আকুতি মিনতি কেউ-ই দেখবে না বা শুনবে না। আজ তারা ভীষণ ব্যস্ত। তাই এঁদেরকে চোখে লাগছেনা। বাচ্চাগুলো একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে যাচ্ছে হাতে ফুল নিয়ে।
-
এরপর আরও কিছু বাচ্চাদের দেখা যাবে, যাদের গায়ে ছেড়া জামা-কাপড়। হাঁটছে আপন মনে। পেটে ক্ষুধার জ্বালা। সহ্য হয়না, তাই ভালো পোষাক পরিহিত মানুষের কাছে হাত পেতে বলবে,- “কিছু পয়সা দিবেন, খুব খুধা লাগছে। খেতে না পেয়ে মারা যাব।” কিন্তু না সে টাকা পাবেনা। কারণ তাকে শুনতে হয়েছে,- “যাহ তো, এখন হাতে টাকা নেই।” কিন্তু তারপরেই দেখা যাচ্ছে যে, বন্ধু-বান্ধবী অথবা প্রেমিক-প্রেমিকাকে নিয়ে এমন একটা রেস্টুরেন্টে ডুকছে, সে রেস্টুরেন্টে কমপক্ষে ১,০০০ (এক হাজার) টাকা ছাড়া কেউ ডুকতে পারবে না।
আবার সেই অবহেলিত বাচ্চটা শুধু একটু বেশি-ই জেদ করে কিছু পয়সার জন্য, তাহলে তাকে খেতে হচ্ছে কিল-গুতা, নয়তো দামী জুতোর লাথি।
-
আসুন না আমরা সবাই মিলে শপথ করি,
“ আমাদের কাছে প্রতিটি শিশুই হবে সুন্দর ও আদরের ছোট ভাই/বোন। আমাদের সামনে যদি কখনো কোনো শিশু তার ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার চেয়ে বা পয়সা চেয়ে হাত পাতে তাহলে আমরা ফিরিয়ে দিব না। যার যতটুকু সামর্থ্য সে ততটুকুই সাহায্য করব। কখনো ধমক দিব না। তাদের দিকে আমরা একটু মমতার হাত বাড়িয়ে দিব। দেখবেন তার মুখে কী সুন্দর হাসি যে, যে হাসি আপনাকে করে তুলবে আনন্দের চেয়ে অনেক আনন্দিত...”
14 এপ্রিল করেছেন Raju Das Rudro
আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ, পুরোটা না পড়িয়া কেউ মন্তব্য করিবেন না ।
-
গার্লফ্রেন্ডের সাথে সেক্স করার ইচ্ছা নিয়া কখনো প্রেম  করিবেন না । আপনার যদি সেক্স করিতে মন চায় তাহলে চলে যান পতিতালয়ে । রাত এগারোটার পর আপনার শহরের অলিতেগলিতে, সিটি পার্কে, ফ্লাইওভারে যান । বিভিন্ন আকারের, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন বর্ণের “যোনীমুখ” পেয়ে যাবেন । ইচ্ছামতো আপনার চাহিদা মেটাতে পারিবেন মাত্র কটা টাকার বিনিময়ে । কখনো ভদ্র ঘরের একটা মেয়ের জীবন এবং তাঁর ভেতর থাকা আপনার প্রতি বিশ্বাসের সুযোগ নিয়া একটা নির্দোষ মেয়ের জীবন নষ্ট করিবেন না ।
-
বিয়ে একদিন আপনিও করিবেন । আপনার বউ যে আরেক পুরুষের সাথে মেলামেশা করেনি, অন্য পুরুষের হাতের স্পর্শ লাগে নি তাঁর গায়ে তার কি প্রমাণ? সেও যে একাধিক ছেলের সাথে লিটনের ফ্ল্যাটে যায়নি তার নিশ্চয়তা কি? অথবা আপনার মেয়েও যে বড় হইয়া পরপুরুষের সাথে লিটনের ফ্ল্যাটে যাইবে না তার কি নিশ্চয়তা? অথবা আপনার মতোই একজন পশুর নিচে শুয়ে “আহ জান, উহ জান” করিবে না তার কি নিশ্চয়তা?
-
হয়তো বিয়ের সময় আপনিও খুঁজিবেন কুমারী মেয়ে । চাইবেন আপনার স্ত্রী অন্য চার-পাঁচটা মেয়ের থেকে আলাদা ও সৎ চরিত্রবান মহিলা হোক । কি চাহিবেন না? হ্যাঁ চাহিবেন । এও চাহিবেন যে, আমার স্ত্রী এমন একজন সৎ চরিত্রবান মহিলা হইবে যাহার শরীরে বিয়ের পর আমার হাতের ছোঁয়াই হবে প্রথম স্পর্শ । কি চাহিবেন না? হ্যাঁ চাহিবেন ।
-
কথায় একটা প্রবাদ রইয়াছে - “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ” ।
    আজকে আপনি ভালো হইয়া যান । আপনার আরো চার-পাঁচটা বন্ধুকে ভালো হইতে বলুন  । তাহলে দেখিবেন আপনার দেখাদেখি আরো ১০ টা ছেলে সেক্স করার ধান্ধা নিয়া প্রেম করা বন্ধ করিয়া দিবে । ফলশ্রুতিতে আপনার কপালে জুটিবে সতিচ্ছেদ পর্দাওয়ালা বউ এবং আপনার বোন অথবা অনাগত ভবিষ্যতের আপনার মেয়েও ভালো থাকিবে । প্রেম-ভালোবাসা পবিত্র  । এসবের মধ্যে আপনারা বিয়ের পরের কাজ কেন টেনে আনিবেন? অবশ্যই এটা কোনো সৎ লোকের মানায় না ।
-
কথায় আরেকটি প্রবাদ রইয়াছে - “বিবেক থাকিতে আদালতে কেন?”
    যদি আপনি একজন বুদ্ধি ও বিবেকসম্পন্ন মানুষ হইয়া থাকেন তাহলে অবশ্যই কোনো মেয়ের বিশ্বাস ও ভালোবাসার অপব্যবহার করিবেন না । যদি বিন্দুমাত্র বিবেক-বুদ্ধি থাকিয়া থাকে তাহলে কখনো কোনো মেয়ের অনুভূতি ও ভালোবাসা নিয়া খেলা করিবেন না । তার জীবনটা অকালে ঝড়ে পড়িতে দিবেন না । হয়তো প্রথমবার প্রতারিত হবার পর সে দ্বিতীয়বার আর কোনো ছেলেকে বিশ্বাস করিবে না ।
-
প্রায় অনেকদিন আগে এক মেয়ের প্রোফাইলে অনেক আগ্রহ নিয়া প্রবেশ করিলাম । মেয়েটি নাকি প্রেম করিয়া সর্বস্ব হারিয়াছে । মেয়েটা কেমন স্বভাবের তা জানিতেই আমার প্রবেশ । আমি সবকিছু বলিতেছি না, তবে সামান্যতম বাস্তবতা তুলিয়া ধরিবার চেষ্টা করিয়াছি । হয়তো পড়িয়া আপনারা সবকিছু নিজেই বুঝিয়া লইতে পারিবেন । তার আগে একটা কথা বলিয়া রাখি যে, আমি ঐ মেয়ের পোষ্টে কমেন্ট করিয়াছিলাম । পক্ষান্তরে আপু আমার কমেন্টের রিপল্যা তে লোফার বলিয়াছেন এবং আরও বলেছেন, মেয়েদের ওপর নাকি আমার খারাপ মনোভাব । তিনি এও বলেছেন, মেয়েরা যাহাকে মন থেকে ভালোবাসে তাহাকে নাকি সে সবকিছু দিয়াই ভালোবাসিয়া থাকে, এমনকি তাহার শরীর দিয়াও  ।
[তাঁহাদিগের মন্তব্যের পৃষ্টে আপনার কিছু বলার আছে? বলিবার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাইয়া দিবেন । ]
তাঁহাদিগের পোষ্টে এও উল্লেখ আছে যে, উনি নম্র ও ভদ্র পরিবারের একজন পর্দাশীল মেয়ে । আমি তাঁহাদিগের প্রতিউত্তরের প্রতিউত্তর যেভাবে করিয়াছিলাম – “এই যে আপু, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি । বেয়াদবী মাফ করিবেন । আপনি তো ভালো এবং ভদ্র ঘরের মেয়ে । তাহলে তো আপনি অনেক রক্ষণশীল ও নামাজী পরিবারের মেয়ে । অবশ্যই আপনার পরিবার আপনাকে নিয়া গর্বিত । তাহলে আপনার বয়ফ্রেন্ড কেন থাকিবে? এটা আপনার ধর্মের কোথাও উল্লেখ রইয়াছে? নেই তো! তাহলে কেন বয়ফ্রেন্ড থাকিবে?”
আচ্ছা বাদ দেন, মানিলাম আপনার বয়ফ্রেন্ড আছে । এ যুগের প্রতিটা ছেলে-মেয়েরই একজন এমন কেউ থাকে যাহাকে নিয়া ঘিরে থাকে অনেক স্বপ্ন । প্রেম ভালোবাসা পবিত্র, তাই প্রেম করিতেই পারেন । এখন কথা হচ্ছে, আপনি ভদ্র ঘরের মেয়ে, ইভেন আপনার বয়ফ্রেন্ডও রইয়াছে । এক পর্যায়ে আপনাদিগের ভালোবাসা অনেক গভীর থেকে গভীরতম হইলো । বয়ফ্রেন্ড তাহার রুমে যাওয়ার প্রস্তাব দিল, অর্থাৎ সেক্স করিবার জন্য প্রস্তাব দিলো । ভালোবাসার টানে অথবা অপূর্ণ চাহিদা মিটাইবার জন্য আপনিও তাহাদিগের প্রস্তাব না করিতে পারিলেন না । কেনোনা আপনিও একটা সুযোগ পাইয়াছেন । একসময় আপনি লিটনের ফ্ল্যাটে চলিয়া গেলেন, সেক্সও করিলেন ।
-
এখন আমার প্রশ্ন হইলো – “সত্যিই কি আপনি ভালো এবং ভদ্র ঘরের মেয়ে? আপনাকে নিয়া আপনার গর্বিত মা-বাবা আপনাকে এমন ভদ্রতা শিখাইয়াছেন? আপনি যদি সত্যি ভদ্র ঘরের মেয়ে হইয়ে থাকেন তাহলে লিটনের ফ্ল্যাটে গিয়া তাহার সহিত ইচ্ছাকৃত ভাবে তাহার নিচে শুয়ে সেক্স করিলেন কিভাবে? তাহার নিচে শুয়ে আহ জান, উহ জান করিলেন কীভাবে? আপনি না ভদ্র ঘরের মেয়ে?”
আমি নিতান্তই একটা কথা বলিয়া থাকি – “ কিছু ছেলেরা সবসময় মেয়েদের ভোগ করিবার সুযোগে থাকিবে, কিন্তু আপনি কেন সেই ভোগের স্বীকার হইবেন?”
আসুন আরেকটু বুঝাইয়া বলি – “যখন কোনো মেয়ের সহিত কোন ছেলে মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাহার সহিত জোর করে সেক্স করে তাহলে সেটাকে আমরা ধর্ষণ বলিয়া বিবেচনা করিয়া থাকি । তখন সে অপরাধী, কারণ সে একজন মেয়ের অনিচ্ছা থাকা সত্বেও তাহাকে জোরপূর্বকভাবে তাহার ইজ্জত নষ্ট করিয়াছে । কিন্তু আপনি একজন ভদ্র ঘরের মেয়ে হইয়াও আপনি আপনার বয়ফ্রেন্ডের সহিত স্বইচ্ছায় সেক্স করিলেন । এরপর পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলিয়া গেলে তখন সব দোষ ছেলেদের ওপর চাপাইয়া দিলেন । এখন নিজের বিবেককে একবার প্রশ্ন করেন –  “এ কাজে কি ছেলেটা একাই দোষী, আপনি দোষী নন?”
আমি সর্বদা মানি যে, ছেলেরা বিয়ের আগে চাইবেই সেক্স করিতে, কিন্তু আপনি? আপনি একজন ভদ্র ঘরের মেয়ে হয়েও  বয়ফ্রেন্ডের সহিত এত ক্লোজ কীভাবে ও কেন হলেন যে কি না আপনাকে সেক্স করিবার কথা বলিতে পারে? যখন বুঝিতে পারিলেন আপনার বয়ফ্রেন্ড আপনার সহিত সেক্স করিবার জন্য উঠেপড়ে লাগিয়াছে তখন আপনি তাহার সহিত ব্রেকআপ করিবার পরিবর্তে সেক্স কেন করিলেন? এই প্রশ্নের জবাব আছে? ভালোবাসা মানেই কি নিজের শরীর অন্যের কাছে বিলিয়ে দেওয়া? সত্যি বলিতে এটা নোংরামি ছাড়া কিছুই নহে । আর এখানে দোষটা কি ছেলেটারই, আপনার একটুও দোষ নেই এতে? আমি মনে করি ছেলে মেয়ে উভয়েই দোষী । হয়তো আমি ভুল বলিয়াও থাকিতে পারি, তাই আপনাদিগের মতামত একান্তভাবে কামনা করছি  ।
-
লিখা শেষে আমার আরো কিছু কথা – “এই পোষ্টটি দেওয়ার পিছনে আমার খারাপ কোনো উদ্দ্যেশ্য নেই । আমি এখন পর্যন্ত যে কয়টা লিখা লিখিয়াছি কোনো লিখাই খারাপ উদ্দ্যেশ্যে লিখিনি । আমি আমার লেখনীর মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করিতে চাই । এটাই আমার স্লোগান । এই লিখার মাধ্যমে কে খারাপ বা কে ভালো তা বোঝাইতে চাইনি । আমি শুধু চাই আপনারা সচেতন হোন । সুষ্টু ও সুন্দরভাবে আপনার জীবনকে এগিয়ে নিয়া যান । মনে রাখিবেন, শরীর নিয়া যে ভালোবাসাটা থাকে তা সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা না, বরঞ্চ নোংরামি । সত্যিকারের ভালোবাসা তো নোংরামি না । ভালোবাসা হচ্ছে স্বর্গীয়, আর সেটা থাকে পবিত্র । তাই নিজের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের কথা ভেবে এইসব নোংরামি করিবেন না ।
হয়তো অনেক ভুলবাল এবং অনেক খারাপ কথাও বলিয়াছি । তার জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী ।
10 এপ্রিল করেছেন Raju Das Rudro
সুনামগঞ্জী লোকাল বাস থেকে এই মাত্র নামলাম । সিলেট গিয়েছিলাম বন্ধুর বিয়েতে । ভালো মতোই বিয়ে হলো এবং আমিও আমার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । দুইদিন থেকে সজাগ থাকায় বাসের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ছিলাম । ২ ঘন্টার পথ সুনামগঞ্জ । মাথার উপরে কুলিং ফ্যান ভনভন করে ঘুরায় ঘুম আসতে তেমন একটা দেরী হলো না । কন্টাক্টররের ধাক্কায় ঘুম ভাঙ্গলো, -“ভাই ভাড়া দেন” । আমি চোখ কচলে পকেটে হাত দিলাম । পকেটে হাত দেওয়া মাত্রই আমার ঘুম চোখ থেকে চলে গিয়ে চড়ক গাছে উঠলো । “আরেহ, একি! আমার মানিব্যাগ কোথায়! এখানেই তো আমার পকেটে ছিলো ।” কন্টাক্টার আমার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো,- “ভাই, নেমে টাকা দিয়েন ”  | আমিও তার কথায় “আচ্ছা” সম্মতি দিয়ে ধপাস করে বসে পড়লাম সিটে । মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো । আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে আমার মানিব্যাগ কে নিতে পারে । আমার সাথেই বাসে উঠেছিলো মহিবুল নামে এক ছেলে । ওর সাথে নাম জানা ছাড়া আর কোনো কথা হয়নাই । কন্টাক্টারকে ডাক দিলাম,- “এ ভাই এদিকে একটু আসেন তো... আচ্ছা আমার পাশে যেই ছেলেটি বসেছিলো সেই ছেলেটি কোথায় নেমেছে কিছু জানেন কি? ওহ জানেন না..ওহ আচ্ছা, এখন তাহলে আর কি করার । আসলেই আমার ভাগ্যটা খারাপ” । আমার মোবাইলে চার্জ ছিলো না বলে আগেই ব্যাগে রেখে দিয়েছিলাম, তাই চোরটা মোবাইলের হদিস পায়নি, পেলে আমার মোবাইল নেওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারতো না । ভাবতে লাগলাম হারানো ব্যাগের কথা । ওতে ছিলো আমার প্রয়োজনীয় একটা কার্ড যা আমি চিরতরে হারিয়ে ফেললাম । মন খারাপ নিয়েই বসে আছি ।
-
এই মাত্র বাস থামলো সুনামগঞ্জের বাস স্টেশনে । বাস ভাড়া দেওয়ার জন্য এক পরিচিত ব্যক্তির থেকে টাকা ধার নিয়ে কন্টাক্টারকে দিয়ে বাড়ির পথ ধরলাম । আমার মনটা এখনো খুব খারাপ মানিব্যাগটার জন্য তাই ধীরে ধীরে হাঁটতেছি । বাড়ি যাওয়ার পথে তিন রাস্তার মোড়ে একটা ফ্লেক্সির দোকান আছে । সবসময় ভীড় থাকে সেই দোকানে । নিত্যদিনের মতো আজকেও দোকানে অনেক ভীড় । আর তার পাশে এক বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে আছে হাত পাতিয়ে । আমি ধীরে ধীরে দোকানের দিকে এগোলাম । যাওয়ার পর বাড়ি না গিয়ে আমি সেখানে দাঁড়িয়ে আমি বৃদ্ধাকে লক্ষ্য করে যাচ্ছিলাম । উনার বয়স আনুমানিক ৬০ এর কাছাকাছি হবে । কুড়ো হয়ে গেছেন, মুখ ও হাতের চামড়া মনে হচ্ছে খসে পড়তেছে । হাত ও গলার হাড় দেখা যাচ্ছে । এমনভাবেই দেখা যাচ্ছে যে কোনো এক্সে ছাড়া যেকোনো ব্যক্তি অনায়াসেই বলে দিতে পারবে কয়টা হাড় রয়েছে গলায় ও হাতে । হাতের সবগুলো রগ ফুলে উঠেছে । দেখে মনে হচ্ছে যে, এই বুধয় ফাটলো । বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন আর কাঁপছেন । উনাকে দেখে মনে হচ্ছিলো যে , মাঘ মাসের প্রচন্ড শীতে তিনি কনকন করে কাঁপছেন । পড়নে ময়লা একটা কাপড়, শেষ কবে ধুয়েছিলেন হয়তো তাঁর নিজের-ই মনে নেই । ধুবেন-ই-বা কীভাবে, তাঁর হাতে আর শরীরে তো পর্যাপ্ত শক্তি-ই নেই ।
-
আমি অনেকক্ষন থেকে লক্ষ্য করে যাচ্ছিলাম-ই । দোকানের মানুষগুলো মোবাইলে টাকা ভরে আবার চলে যাচ্ছে; তারপর আবার নতুন নতুন মানুষ আসছে টাকা ডুকানোর জন্য । কিন্তু কারো চোখ যাচ্ছে না এই অসহায় বৃদ্ধার দিকে । কেউ কেউ টাকা ডুকিয়ে খুশি মনেই চলে যাচ্ছে, কেউ কেউ পুরাতন বন্ধুকে অনেকদিন পর পেয়ে চা খেতে বসে গেছে পাশের স্টলটায়, আবার কেউ কেউ তার বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে দিব্যি হেসে হেসে আড্ডা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে । তখনো কিন্তু তাদের চোখে আসতে পারেন নি এই দাঁড়ানো বৃদ্ধা । তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একনাগারে বলে যাচ্ছেন, - “বাবা দুইটা টাকা ভিক্ষা দেন” । কে শুনে তাঁর কথা । না, কেউ-ই শুনছে না । মানুষদের এমন আচরণে আমার কাছে ওদেরকে মানুষ বলে মনে হচ্ছে না । কারণ মানুষের বিবেক-বুদ্ধি আছে বলেই তারা অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা । কিন্তু এদের দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে নাযে, এদের মধ্যে মনুষ্যত্ব বলতে কিছু আছে কি না । আমার খুব দুঃখ হচ্ছিলো বৃদ্ধাকে দেরে, কারণ তিনি সবার কাছে ডানহাত পেতে টাকা চাচ্ছেন কিন্তু কেউ তাঁকে এক পয়সা ও দিচ্ছে না । আমার আর সহ্য হচ্ছিলো না । আমার মানিব্যাগ হাইজ্যাক হওয়ার কারণে আমার কাছে এক কানাকড়িও ছিলো না । তাই আমি দোকানীর কাছে গিয়ে ১০০ টাকা ধার চাইলাম এই বলে যে, - “দাদা আমাকে ১০০ টাকা ধার দেন, আমি কাজল ড্রাইভারের  বাড়িতে ভাড়া থাকি । আমি আপনার টাকা একটু পরেই দিয়ে দিব বাসা থেকে নিয়ে” । নাহ, লোকটি আমাকে টাকা দিলো না । টাকা না দেওয়ার পিছনে একটা সত্য কারণ আছে আর সেটি হলো,- আমরা গরীব মানুষ তাই আমাদের এখনো শহরে কোনো জায়গা-জমি নেই যে বাসা করে থাকব, তাই আমরা পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকি । এই ৪/৫ দিন হলো আমরা নতুন বাসা চেঞ্জ করেছি তাই এই এলাকার কেউ-ই আমাদের ঠিকমতো ছিনে না । আমি মুখে করুণা নিয়ে আবারো লোকটিকে বললাম,- “আরে দাদা দেন না ১০০ টা-টাকা, দেখতে পাচ্ছেন না এই বৃদ্ধা কেমন করে হাত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন । দেখে মনে হচ্ছে যে উনি এখন পর্যন্ত কিচ্ছুটি খান নি । উনার জায়গায় যদি আজ আপনার মা দাঁড়িয়ে থাকতেন তাহলে কি আপনি হাত-পা-মুখ বন্ধ করে বসে থাকতেন? কীই থাকতেন না তো! তাহলে কেন আমাকে ১০০ টা-টাকা ধার দিতে পারছেন না । আমি তো আর আপনার ১০০ টাকা নিয়ে বড়লোক হতে পারব না । আপনি একবার উনার কথা ভেবে দেখুন, কীভাবে দাঁড়িয়ে আছেন দুইহাত পেতে” । উনি আমার কথায় রেগে তেলে-বেগুনে এক হয়ে উনার কিচ্ছা বলা শুরু করলেন । সংক্ষেপে বলছি,- “কি বালের মা, আমার মা তো আমাকে জন্ম দিয়ে আমাকে রেখে আরেকজনের সাথে পালিয়ে গিয়েছে । আমার কথা একটুও ভাবেন নি । তারপর থেকে আমি অনেক কষ্টে এর দোকানে একদিন, ওর দোকানে আরেকদিন কাজ করে কষ্ঠ করে বড় হয়েছি এবং এই ছোট্ট টি-স্টল দিয়েছি নিজেই ” । দোকানে এক কর্ণারে ঝুলন্ত ফলক দেখিয়ে বললো, - “আমার এই দোকানে আজ পর্যন্ত কাউকে বাকী দেইনি, এমনকি দয়া করেও কাউকে টাকা দেইনি” । আমি আর লোকটির সাথে তর্ক না করে দোকানের সামনে থেকে সরে আসলাম, ততক্ষণে যে ওই বৃদ্ধা এখান থেকে চলেই গিয়েছেন তা আমার লক্ষ্যই ছিলো না । আমার খুব খারাপ লাগল উনার জন্য এবং কষ্টও হলো । দোকানীর সাথে বকবকানীর জন্য অনেক দেরী হয়ে গেল তাই আমি বৃদ্ধাকে খোঁজতে বাস স্ট্যান্ডের দিকে রওনা দিলাম । আমার বাসায় না গিয়ে উনার পিছনেই দৌড়াতে লাগলাম । একসময় আমি উনার দেখা পেলাম । দেখলাম যে এখন বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে উনার ছেলে ও নাতির বয়সী ছেলেদের কাছে ডান হাত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন করুণ দৃষ্টিতে । কেউ একটা কানাকড়িও দিচ্ছে না, তা দেখা সত্বেও তিনি হাত বাড়িয়েই বসে আছেন এই ভেবে যে, কেউ-না-কেউ তো দিবেই । না কেউ-ই দিচ্ছে না একটা পয়সাও । আমার খুব ঘৃণা হলো এই মানুষগুলোর উপর । আমি বাস স্ট্যান্ডে নতুন, বাস স্ট্যান্ড-ই বা কেন; আমি তো এই এলাকাতেই নতুন । এমন কাউকে ছিনিনা যে তার কাছ থেকে টাকা ধারে নিয়ে বৃদ্ধাকে দিব । মনে মনে প্রার্থনা করতে লাগলাম যে,- “একটু আগে যেই পরিচিত লোকটিকে যদি পেতাম তাহলে উনার থেকে টাকা চাইতাম বৃদ্ধার উদ্দেশ্যে” ।
...
একসময় যে বৃদ্ধাটির হাত ছিল তার সন্তানের শরীরের সেবা-যতœ করার জন্য, সেই হাত আজ বাড়িয়েছি দুটো ভিক্ষের জন্য । বিধির কি নির্মম পরিহাস । কাকে কোন গোলকধাঁধাঁয় ফেলেন তা হয়তো কেঊ-ই জানেনা । আমি কাছে একটা টাকা ছিলোনা বলে আমি উনাকে সাহায্য করতে পারলাম না । মনে মনে চোরব্যাটাকে বেদম গালাগালি দিতে লাগলাম ।  যদি আমার মানিব্যাগটা আজ ছিনতাই না হতো তাহলে আমি উনাকে তাঁর এই নির্মম পরিস্থিতিতে সাহায্য করতে পারতাম ।
-
    আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে টাকা-পয়সা খরচ করি । কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন যে, এই দুঃখিনী মানুষদের জন্য এক দু টাকাও থাকেনা আমাদের কাছে ।
    খাবার টেবিলে বসে আমরা প্রতিদিনই নিজেদের প্রিয় খাবারটি আগে খুঁজি, কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন, এই মানুষগুলো পেটপুরে দুমুঠো ভাত-ই পাচ্ছে না পেট ঠান্ডা করার জন্য ।
   নানা পূজা-পার্বণে আমরা আমাদের জন্য নানা রকমের কাপড়-চোপড় কিনি, কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন যে, এই মানুষগুলো তাদের তাদের শরীর ঢাকার জন্য আমাদের মানুষদের কাছে একটা কাপড় চাইলে আমরা বলি যে, - “নষ্ট কাপড় নেই, এখন চলে যাও” । অথচ, আমাদের ভালো কাপড়-ই অনেকসময় আমাদের মেঝের জন্য পাপোশ হিসেবে ব্যবহার করি ।
একবার কি ভেবে দেখেছেন আমাদের দেশের মানুষদের বিবেক?
-
আপনি যদি আমার উপরোক্ত লেখাটি ভালোভাবে ও মনযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার মনে ইতিমধ্যে একটি প্রশ্ন জেগেছে যে, - “আমার মনে যদি মনুষ্যত্ব এতোই আেেছ তাহলে আমি কেন বৃদ্ধাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলাম না? এত সময় নষ্ট করে বাসায় গিয়ে টাকাটা আনতে পারতাম ।”
...
প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আমার একটাই উত্তর যে, আমার বাসা আরও প্রায় অনেক দূরেই ছিল । যেতে আসতে আমি উনাকে হারিয়ে ফেলতাম । আর উনাকে সাথে নিয়ে বাসায় ও যেতে পারতাম কিন্তু উনার যা অবস্থা ছিল, তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না হেঁটে যাওয়া । ঘটনাটি যখন আমার সাথে ঘটে বা বৃদ্ধার সাথে যখন আমার দেখা হয় তখন আমার কাছে টাকা না থাকা সত্বেও আমি চেষ্টা করেছি উনাকে সাহায্য করার, কিন্তু সাহায্য করতে দেয়নি মানুষরুপী জানোয়ার-রা । এই ধরেন ১০/১৫ দিন আগের ঘটনা আর তখন আমি বেকার ছিলাম । এখন আমি একজন ছোট একটা চাকরী করি । এখন প্রতিদিন বাসায় যাওয়ার আগে আমি উনাকে খুঁজি । কারণ এখন আমার কাছে উনার সাহায্যের জন্য পর্যাপ্ত টাকা থাকে । কিন্তু উনিই থাকেন না । এখনো বৃদ্ধাকে আমি খুঁজে যাই । আপনারা সবাই আশির্বাদ/ দোয়া করবেন যাতে আমি উনাকে পাই এবং মার সমতুল্য শ্রদ্ধা এবং সাহায্য করতে পারি ।
05 এপ্রিল করেছেন Raju Das Rudro
“প্রকৃত বন্ধু”
রাজু দাশ রুদ্র

একজনকে বন্ধু বলা যতটা সহজ, ততটাই কঠিন বন্ধুত্ব রক্ষা করা । ডাক্তার এ.পি.জে আব্দুল কালাম বলেছেন – “একটি ভালো বই একশত বন্ধুর সমান । কিন্তু একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরীর সমান” । বন্ধুত্ব হচ্ছে ঠিক চুইংগামের মতো । চুইংগামের আটার মতো একবার মনের ভিতর স্থান নিয়ে নিলেই হলো, পড়ে আর হাজার চেষ্টা করে ছাড়াতে চাইলেও তা ছাড়াতে সম্ভব না ।

বিখ্যাত সমাজসেবক হেলেন কেলারের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? যিনি বলেছিলেন – “একাকী আলোয় হাঁটার চেয়ে একজন বন্ধুর সাথে হাঁটা উত্তম” । তাই মানবজীবনে ভালো একজন বন্ধু বানাতে হলে তাকে প্রথমে পরিক্ষা করে নিতে হয় যে, তার মধ্যে কি বন্ধুত্বের গুণ আছে? সে কি পারবে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে?
বন্ধুত্ব সবার সাথেই করা যায় । বন্ধুত্বের জন্য প্রয়োজন ভালো মনমানসিকতা । বন্ধু কখনো হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে, কখনো হয় দুষ্টু ছেলেদের সাথে । যারা অনেক দুষ্টু হওয়া সত্বেও জানে কিভাবে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে হয় । বন্ধুত্ব সবকিছুর একমাত্র সঙ্গী । মনের বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাস, আবেগ আর ছেলেমানুষী হুল্লোলের অপর নামই তো হলো বন্ধুত্ব । সেই তো বন্ধু; যে জানে কিভাবে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে হয় । সেই তো বন্ধু; যার বন্ধুত্ব অর্থ দিয়ে কেনা যায় না, না বন্ধুত্ব করে নেওয়া যায় গায়ের প্রবল জোড় দিয়ে । বন্ধুত্বের জন্য চাই শুধু গুণ ।
দুজনকে পাশাপাশি রেখে বন্ধু হতে বললেই বন্ধুত্ব হয়ে যায় না । প্রেমের মতোই বন্ধুত্ব হলো সাবলীল এবং স্বতঃস্ফুর্ত । ফলে কোনো প্রিয় বন্ধুরা কখনোই একসঙ্গে থাকলে চুপচাপ থাকবে না । বন্ধুত্ব হওয়ার পর যদি হাসি, ঠাট্টা – মশকরা নাইবা করে তাহলে সে বন্ধুত্ব না করাই শ্রেয় । জোর করে বন্ধুত্ব রাখা বা আদায় করা যায় না ।

বন্ধুত্ব চিরকালের । হতে পারে স্কুল জীবন শেষ করে আমরা অনেকে আলাদা হয়ে যাব । দুজন নতুন শহরে আলাদাভাবে বসবাস করব । তারপর প্রাত্যহিক জীবনের নানা কর্মকান্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়ব । কিন্তু এত কিছুর পরও ভালো বন্ধুত্ব কখনো হারিয়ে যায় না । কেনোনা বন্ধুত্ব চিরকালের । দুজন ভালো বন্ধু কখনো একে অপরকে ভুলে যাবে না । শত কষ্টের মাঝেও তার খোঁজ-খবর নিবে । বরং আরো বেশি করে একে অপরকে মনে করবে এবং ব্যস্থতা কাটিয়ে সময় পেলে দুজনে দেখা করবে নিজেদের পুরোনো বন্ধু মহলে । যেখানে বসে আড্ডা দিত সবাই মিলে । দেখা হলেই বন্ধু পিঠে কিল বসিয়ে বলবে, “এতদিন একবারও খবর নিস নি, বেঁচে আছি কি না মরে গেছি একবারও জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করিস নি” । বন্ধুত্ব এমনই হওয়া উচিৎ । যে বন্ধুত্বে মিথ্যে ঝগড়ার বদলে থাকবে আড্ডা, রাগ ও অভিমান । আবার রাগ অভিমান করে পরস্পরকে ভুলে গেলে সেটা কখনোই প্রকৃত বন্ধুত্ব নয় । যে যেখানেই, যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, যেকোনো উপায়ে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকা এবং মনের ভাব আদা-প্রদান করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব জিইয়ে রাখতে হয় ।

কথায় আছে বিশ্বাস ভালোবাসার শক্তি । বিশ্বাস ছাড়া ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব কখনোই ঠিকসই হয় না । আর বন্ধুত্বে বিশ্বাস রক্ষা করা খুবই জরুরী । এই পৃথিবীর কোনো মানুষই মানুষের ভালো চায় না । তারা সবসময় চাইবে কিভাবে দুজন বন্ধুর বন্ধুত্ব ভাঙ্গা যায় । তৃতীয় পক্ষের কোনো ব্যক্তির কথার সূত্র ধরে কখনোই নিজেদের এতবছরের বন্ধুত্ব নষ্ট করে ভুল করো না । প্রকৃত বন্ধু কখনোই একে অপরের ক্ষতি চাইবে না বরং কোথায় নিজেদের দোষ আছে সেটা দুজন দুজনকে ধরিয়ে দিবে । একজন প্রকৃত বন্ধুকে সর্বদা এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়, তবেই তো সে একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবে ।

এক বন্ধুর বিপদে কোনোরকম চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই অন্য বন্ধুর বিপদ-আপদে সাড়া দেওয়াই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় । প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, সময়-অসময়ে অন্য বন্ধুর সাহায্য করা উচিৎ । এতে পিছপা হয়ে গেলে সে প্রকৃত বন্ধুত্বের মর্যাদাকে সেখানেই নষ্ট করে ফেলে ।

একজন প্রকৃত বন্ধু সর্বদা চায় বন্ধুর ভালো । নিজের ভালো হোক সকলেই চায়, তবে তার জন্য বন্ধুর ক্ষতি হোক এমন ভাবা কিন্তু প্রকৃত বন্ধুর পরিচায়ক নয় । একজন ভালো বন্ধুর সর্বদাই চাইবে তার ভালোর পাশাপাশি তার বন্ধুরও ভালো হোক ।
31 মার্চ করেছেন Raju Das Rudro

ব্যাজগুলি

ব্রোঞ্জ

ছবি x 1
সম্পাদক x 1
উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন x 49
দর্শক x 1
পাঠক x 1
আত্মজীবনী-রচয়িতা x 1
উত্তরদাতা x 1
কৃতজ্ঞ x 1
মন্তব্যকারী x 1
প্রশ্নকর্তা x 1
নিয়মিত x 1
আগ্রহী x 1
৫০০ ক্লাব x 1
সুন্দর উত্তর x 13
পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি x 1
ভোটার x 1

রূপা

ক্ষুধিত পাঠক x 1
জনপ্রিয় প্রশ্ন x 22
ভাষ্যকার x 1
বিজয়ী x 1
গোয়েন্দা x 1
অনুলিপি সম্পাদক x 1
পুরাতন x 1

সোনা

পিপাসু পাঠক x 1
বহুদর্শী x 1
তদন্তকারী x 1
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...