Shahed (@shahedgp)

ফিতরাত

shahedgp
May 30, 2019-এ লিখেছেন

 

মানুষ যখন প্লেনে চড়ে কোথাও যায়, প্লেনে উঠে-নামে, তখন সে নিজেকে খুব সম্মানিত মনে করে। অথচ খুঁজেপেতে খাওয়া একটা ছোট্ট চড়ুইও জন্মের ফিতরাতে উড়তে জানে। যেখানে খুশী, যতটা ইচ্ছে অজ্ঞ দু'ডানার স্বভাবেই উড়ে! ফিতরাত এমনই। মহার্ঘ্য, অমোঘ।

 

মানুষেরও জন্মগত দশটি ফিতরাত আছে, যা মহান রবের নির্ধারণ, রবের ইচ্ছা। আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, দশটি জিনিস ফিতরাত বা স্বভাবজাত। গোঁফ কাটা, দাড়ি বাড়ানো, মিসওয়াক করা, নাকের ছিদ্র পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখ কাটা, আঙ্গুলের সংযোগ স্থলের ময়লা ধুয়ে ফেলা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা ও পানি দিয়ে শৌচ করা। যাকারিয়্যা (রহঃ) বলেন মুসআব (রহঃ) বলেছেন, আমি দশম জিনিসের কথা ভুলে গেছি, সেটি হয়তো কুলি করা। -[মুসলিম/৪৯২,সুনানে ইবনে মাজাহ/২৯৩, তিরমিযী/২৭৫৭, নাসায়ী/৫০৪০, আবূ দাঊদ/৫৩, আহমাদ/২৪৫৩৯]

 

তবে পৃথিবীর দাম্ভিক মানুষেরা মূলত অজ্ঞতায় নাজেহাল। সকল নবী-রাসূলগণের পরম্পরা, দাড়ি ছেড়ে দেয়ার সুন্নাতের, ফিতরাতের ফ্যান না হয়ে তারা বরং ঘোরতর প্রতিপক্ষ। দাড়ি চেঁছেই তৃপ্তি তাদের, নারীসুলভ সৌন্দর্যের বোধে ফুরফুরে, চাঙা!

 

অথচ যে ফিতরাত একটি চড়ুইয়ের ভাগ্যে জোটে সে অভিজ্ঞতায় মানুষের আস্ফালন গভীর ভাবনার দাবী রাখে। মানুষ কণামাত্র পারেনা যদি না তার রব চায়। উড়োজাহাজে উড়ে মানুষ পাখি হতে পারেনা। যার যার ফিতরাত তার তার কল্যাণ। পুরুষের বেশধারী নারীর জন্য যেমন আল্লাহ্'র লানত, জান্নাত নিষিদ্ধ হয়েছে, পায়ুগামী লূত জাতির ধ্বংস হয়েছে, দাড়ি চেঁছে ফিতরাত ত্যাগ করাও তেমনি অকল্যাণের ইংগিত রাখে।

 

ফিতরাতঃ নির্দেশ ও নির্দিষ্ট, মানুষের রব কতৃক। আর তা মুছে ফেলার ঔদ্ধত্যে ধ্বংস ও আফসোস ছাড়া কোন প্রতিফল নেই।

 

তাই আরো একবার দুর্বিনীত হয়ে সেলুনের ঢোকার আগে আমরা যেন স্মরণ করি পরাক্রমশালী রবের সতর্কবাণী, 'হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে?' -(আল- ইনফিতার ৮২/৬)

Loading...