জ্বর ঠোসা (কোল্ড সোর) কি?
ঠোটের কোণায় একগুচ্ছ ফুসকুড়ি ওঠে, কখনো ঠোঁটের কোণ ফেটে যায় ও লাল দেখায়। সাধারণভাবে আমরা একে বলে থাকি জ্বরঠোস, জ্বর-ঠোসা বা জ্বরঠুঁটো। এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ফিভার ব্লিস্টার বলেন। প্রকাশ পাবার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ব্লিস্টারে ব্যথা অনুভব হলে তখন একে বলা হয় কোল্ড সোর। যদিও সবচেয়ে সাধারণভাবে এটিকে ঠোটের কোণে দেখা যায় তবে মুখ, হাত বা শরীরের অন্যান্য অংশেও এটি দেখা যেতে পারে।

সাধারণত জ্বর-ঠোসার পেছনে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস দায়ী এটি এবং ছোঁয়াচে হয়। শরীরে কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, যেমন কোনো সংক্রমণ বা জ্বরের পর এমন সমস্যা বেশি হয়।

জ্বর ঠোসার প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি?

  • প্রধানত ফোস্কাটি দেখা যাওয়ার আগে, আপনি ঐ স্থানটিতে কিছু অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। চুলকানি ও জ্বালাভাব হল সাধারণ সংবেদন যেটি আপনি অনুভব করতে পারেন, তার সাথে জায়গাটি স্পর্শ করলে হালকা ব্যথা হতে পারে।
  • একবার সম্পূর্ণরূপে গঠিত হলে, ফোস্কাটি হলুদবর্ণের তরল দ্বারা পরিপূর্ণ হয়, যেটায় চাপ দিলে তরল বের হয়।
  • যখন ফোস্কাটি ফেটে যায়, তখন এটি একটি ছোট ক্ষতরূপে থেকে যায়, যাতে পরে মামড়ি পড়ে। এই ফোস্কাগুলি সাধারণত সপ্তাহখানেক থাকতে পারে।
  • যদি ভাইরাস সংক্রমণ বেশি তীব্র হয় তাহলে আপনার জ্বর হতে পরে, লসিকা নালী ফুলে যেতে পারে এবং এই ক্ষতটির সাথে মাড়িতে অস্বস্তি হতে পারে।
  • এছাড়া বমিভাব কিংবা বমি, মাথাব্যথা হতে পারে।


সাধারণভাবে ৭ থেকে ১৪ দিন উপসর্গ বর্তমান থাকলেও ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মধ্যে ফিভার ব্লিস্টার এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে প্রথম সপ্তাহে অ্যান্টি-ভাইরাল জেল লাগালে আরোগ্যে দ্রুত হয়। তবে ১৪ দিনের বেশি সময় ব্যথাযুক্ত ফিভার ব্লিস্টার থেকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জ্বর ঠোসার প্রধান কারণগুলি কি কি?

  • হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (এইচএসভি) জীবাণুটি কোল্ড সোরের জন্য দায়ী। দুই ধরনের এইচএসভি আছে - এইচএসভি-১ এবং এইচএসভি-২।
  • এইচএসভি-১, অথবা হারপিস সিমপ্লেক্স লাবিয়ালিস নামে পরিচিত, যা সাধারণত মুখে ও তার চারপাশে প্রভাব ফেলে, যদিও এইচএসভি-২ এর কারণে ক্ষত জননেন্দ্রিয়ের উপরে অথবা চারপাশে হয়।
  • ভাইরাসটি চুম্বনের দ্বারা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এছাড়াও তোয়ালে, লিপ বাম, সাজসরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত বস্তু একে অপরের সাথে ভাগ করার ফলে হয়।
  • স্নায়ুগুলির মধ্যে ভাইরাস সুপ্ত থাকার কারণে এর পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে, সূর্যালোকপাত, চিন্তা ও হরমোনের ওঠানামা করার মতো বিষয়গুলিকে বাড়িয়ে দেয়।


জ্বর ঠোসা কিভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়?

  • খালি চোখে দেখেই জ্বর ঠোসা সনাক্ত করা সম্ভব। চিকিৎসক সাধারণত ক্ষতগুলিকে দেখে রোগটি নির্ণয় করেন, এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফোস্কার মধ্যেকার তরলটির পরীক্ষা করেন।
  • তরল থেকে ডিরেক্ট ইমিউনোফ্লুরোসেন্স টেস্ট বা পলিমারেজ চেইন রিএ্যাকশনের মাধ্যমে ভাইরাস সনাক্ত করা যেতে পারে।
  • সংক্রমণটি আপনার শ্বেত রক্ত কনিকার সংখ্যার উপর নির্ভর করে আরও বাড়তে পারে।
  • এন্টি-ভাইরাল ওষুধগুলি হল জ্বর ঠোসার চিকিৎসার চাবিকাঠি।
  • ওষুধগুলি মৌখিক বড়ির আকারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে, ইঞ্জেকশনের আকারে দেওয়া যেতে পারে।
  • টপিকাল ক্রিমগুলি চুলকানির উপসর্গের এবং জ্বালাভাবের থেকে আরাম দিতে সহায়তা করে।
  • রোগীকে যেকোন ব্যক্তিগত জিনিস ভাগ না করার এবং চুম্বন এবং সঙ্গীর সাথে যৌনসম্পর্ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।


জ্বর ঠোসা প্রতিরোধ:

  • ব্যবহৃত পানির গ্লাস, চামচ, লিপস্টিকসহ অন্যান্য কসমেটিক্স কারো শেয়ার না করা।
  • ছোটদের চুমু না দেয়া।
  • ব্লিস্টার স্পর্শ করলে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলা।
  • মানসিক চাপ মুক্ত থাকা।
  • চুম্বন এবং ওরাল সেক্স থেকে বিরত থাকা।
  • সানস্ক্রিন ক্রিম, লিপ-বাম ব্যবহার করা।
  • পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন।