করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলতে কি বোঝায়?
হৃদযন্ত্রের রক্ত, অক্সিজেন এবং পুষ্টির (করোনারি ধমনী) সরবরাহকারী প্রধান রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা রোগাক্রান্ত হলে তাকে হৃৎ-ধমনীর ব্যাধি বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলে। এই সমস্যা করোনারি আর্টারি রোগ নামেও পরিচিত এবং হার্টের অসুখ বা হৃদরোগের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ধমনীতে কোলেস্টেরলযুক্ত জমাট পদার্থ (প্লেক) এবং প্রদাহ সাধারণত এই রোগের জন্য দায়ী। যখন প্লেক জমা হয়, এটি করোনারি ধমনী রক্তনালিগুলোকে সংকীর্ণ করে, যা হার্টে রক্ত প্রবাহ হ্রাস করে। শেষ পর্যন্ত, রক্তের প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ভেসেলের সম্পূর্ণ বাধা হৃদরোগের কারণ হতে পারে। যেহেতু রোগটি অনেকদিন ধরেই আস্তে আস্তে বিকশিত হয়। সেহেতু রোগীর একটি উল্লেখযোগ্য বাধা বা হার্ট অ্যাটাক না হওয়া পর্যন্ত সমস্যাটি বোঝা যায় না।

করোনারি আর্টারি ডিজিজের প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি?
কোনও কোনও ব্যক্তির মধ্যে এই রোগটির লক্ষণ সবসময় পরিষ্কার ভাবে বোঝা নাও যেতে পারে। রোগটি হওয়ার একদম প্রথম দিকের দশায় সাধারণত এমনই ঘটে।

করোনারি হার্টের রোগে অন্তর্ভুক্ত যেসব লক্ষণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়:

  • বুকে ব্যথা
  • বুকে ভার অনুভব করা
  • জ্বালাভাব
  • পাকস্থলী আর পিঠের ওপরের দিকে ভার অনুভব করা
  • হাঁপানো
  • ক্লান্তি
  • আঁটসাঁটভাব
  • চেপে ধরা
  • বাহু বা কাঁধে ব্যথা
  • ঘাম
  • নিঃশ্বাসের দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরা
  • বমি বমিভাব বা বমি
  • চোয়ালের ব্যথা
  • পিঠে ব্যথা
  • বুকে ব্যথা অনুভব না করেও শ্বাসকষ্ট হওয়া ইত্যাদি।


করোনারি আর্টারি ডিজিজের প্রধান কারণগুলি কি কি?
করোনারি ধমনীর ভেতরের স্তরের ক্ষতি বা আঘাতে এই রোগ শুরু হয়। যেসব রক্তবাহিকাগুলি হৃৎপিণ্ড এবং শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত ও অক্সিজেন সংবহন করে, সেগুলির ভিতরকার দেওয়ালে অবাঞ্ছনীয় পদার্থের স্তর জমে পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়াই করোনারি করোনারি আর্টারি ডিজিজের প্রধান কারণ। ফ্যাট জাতীয় পদার্থ থেকে তৈরি অবাঞ্ছিত স্তরের পরত জমে গিয়ে ধমনীর ভেতরে দেওয়ালকে সরু ও শক্ত করে দেয়। হৃৎপিণ্ডে রক্ত সংবহনকারী ধমনীর ওপর প্রভাব পড়ায় হৃৎপিণ্ডে রক্ত সংবহনের গতিও কমে যায় আর তার ফলে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, তামাক ধূমপান, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়া, ইনসুলিন প্রতিরোধ, হাইপারগ্লাইসেমিয়া, ডায়াবেটিস মেলিটাস নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান, আবেগি মানসিক যন্ত্রণা, গর্ভাবস্থায় প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার ইতিহাস ইত্যাদি করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

করোনারি আর্টারি ডিজিজ কিভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়?
করোনারি আর্টারি ডিজিজ নির্ধারণের জন্য চিকিৎসক নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করতে বলতে পারেন:

  • হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের অবস্থা জানার জন্য বুকের এক্স-রে
  • এক্সারসাইজ স্ট্রেস টেস্ট, শরীর চর্চার সময় হৃদগতি ও তার ক্রিয়াকলাপ জানার উদ্দেশ্যে
  • ইকোকার্ডিওগ্রাম - আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করে হৃৎপিণ্ডের ছবি তোলা
  • কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন - হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা নির্ধারণ করার জন্য
  • হৃৎপিণ্ডে কোনও ব্লকেজ আছে কি না, তা জানার জন্য করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম।


করোনারি আর্টারি ডিজিজের সম্ভাবনা কমাতে পারে যে সমস্ত উপায়গুলি সেগুলি হল:

  • জীবনশৈলীর পরিবর্তন, যেমন কম ফ্যাটযুক্ত অথচ সুষম আহার, কর্মঠ জীবনধারা, ধূমপান না করা, নিয়মিত শরীর-স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করানো এই রোগের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
  • এই রোগ হওয়ার যাঁদের এমনিতেই যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে তাঁরা কোলেস্টেরল-এর মাত্রা, উচ্চ রক্তচাপ কমানোর এবং অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ঠিক করার ওষুধ খেয়ে নিজেদের রোগ উপশম করতে পারেন।


স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের পাশাপাশি উপসর্গগুলিকে আয়ত্তে আনতে ওষুধ প্রয়োগের মতো বিষয়গুলিও করোনারি হার্টের রোগের চিকিৎসা মধ্যে পড়ে।

চিকিৎসাঃ
করোনারি হৃদরোগ ধরা পড়লে তবে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা হ্রাস করার জন্য চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের ঝুঁকির কারণগুলো হ্রাস বা নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের উচ্চ কলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ওষুধ ও থেরাপি দিতে হয়। রোগীর ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ গ্রহণ জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। এছাড়া ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দেওয়া। কম লবণ আছে এরকম খাবার গ্রহণ, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা। অতিরিক্ত ওজন কমানো। এবং স্ট্রেস ফ্রি থাকা।