দাঁতের মাড়ির ফোলা কি?
সাধারণত দাঁতের কেন্দ্রস্থলে সংক্রমিত টিস্যুর সঞ্চয়ের ফলে দাঁতের মাড়ির ফোলার সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু দাঁতের প্রদাহ থেকে দাঁতের গোড়াও ফুলে যেতে পারে। মাড়ি ফোলা ভাব হলে দাঁতের মাড়ি লাল বা গোলাপি রং ধারণ করে। এ সমস্যাকে অ্যাবসেস বলা হয়। অ্যাবসেস হলে ওই স্থানটি ফুলে যায়, ব্যথা হয়। কখনো কখনো ফোলা স্থান থেকে পুঁজও বের হয়। সমস্যাটি এক দিনে সৃষ্টি হয় না। সাধারণত অপুষ্টি, মুখের সংক্রমণ, দাঁতের যত্ন না নেওয়া, নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করা প্রভৃতি কারণে মাড়ি ফোলা ভাব দেখা দেয়। আর দাঁতের মাড়িতে অনেক ধরনের রোগ দেখা দেয়, তার মধ্যে মাড়ি ফুলে যাওয়া অন্যতম। দাঁতের প্রদাহজনিত রোগ দেখা দিলে, তা অনেক দিন চিকিৎসা না করালে দাঁতের ওই গোড়ায় ফোলা ভাব দেখা দেয়। অনেক সময় সেখান থেকে পুঁজ বের হয় এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। তাছাড়া এ ধরনের সমস্যায় মুখে দুর্গন্ধও হতে পারে।

দাঁতের মাড়ির ফোলার প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি?
দাঁতের মাড়ি ফোলার লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • দাঁতে স্থায়ী ও দপদপ করা ব্যথা যা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • গরম ও ঠান্ডা তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীলতা।
  • কামড়ানো বা চিবানোর প্রতি সংবেদনশীলতা।
  • জ্বর।
  • মুখ ফুলে যাওয়া।
  • ফোড়া ফেটে গেলে দুর্গন্ধযুক্ত ও নোনতা তরলে মুখ ভরে যাওয়া।
  • মুখে দুর্গন্ধও হতে পারে।


দাঁতের মাড়ির ফোলার প্রধান কারণগুলি কি কি?
ডেন্টাল পাল্প অর্থাৎ দাঁতের অভ্যন্তরীণ যে অংশে রক্তবাহ, স্নায়ু এবং যোগকলা উপস্থিত থাকে, সেখানে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ এই সমস্যার প্রধান কারণ। প্রদাহজনিত কারণেও দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়। দাঁতের ক্ষয়ের ফলে এটি ঘটতে পারে। ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ছিদ্র বা চিড়ের মধ্যে দিয়ে ঢুকে তার কেন্দ্রস্থল বা পাল্পকে সংক্রমিত করে, ফলে স্ফীতির এবং পূঁজের সৃষ্টি হয়। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস না করার ফলে এবং অধিক চিনি (শর্করা) যুক্ত খাদ্য ও পানীয়, যেমন মিষ্টি বা সোডা খাওয়ার ফলেও দাঁতের মাড়ি ফুলে যেতে পারে।

দাঁতের মাড়ির ফোলা কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
দাঁতের মাড়ির ফোলা নির্ণয় করার জন্য, ডেন্টিস্ট (দন্তচিকিৎসক) ক্ষতিগ্রস্থ দাঁতটিকে পরীক্ষা করেন এবং দাঁতে টোকা মেরে স্পর্শের ও চাপের প্রতি তার সংবেদনশীলতা দেখেন। অন্যান্য পরীক্ষাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • দাঁতের এক্স-রে থেকে ফোলা বা ফোড়ার চিহ্নিতকরণ ও সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে তা বোঝা যেতে পারে।
  • সিটি স্ক্যানেরও নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।


দাঁতের মাড়ির ফোলার চিকিৎসাঃ
সংক্রমণের বিস্তার বন্ধ করতে কিছু চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ইনসিশন ও ড্রেনেজ (ফোড়া কেটে পূঁজ ঝড়িয়ে দেওয়া)।
  • রুট ক্যানাল চিকিৎসা।
  • দাঁত তুলে ফেলা।
  • অ্যান্টিবায়োটিক।


দাঁতের মাড়ির ফোলা দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায়ঃ
এ ধরনের সমস্যায় ঘরোয়া কিছু উপায় খুব উপকারী। চলুন জেনে নেয়া যাক।

  • আদা: মুখের যেকোনো সংক্রমণে আদা সেই প্রাচীনকাল থেকে ঔষধি হিসেবে চলে আসছে। শুধু সংক্রমণ নষ্ট করাই নয়, মুখে নতুন করে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণও অনেকটা রোধ করে।
  • লবণপানি: লবণপানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের সংক্রমণ বা জীবাণু নষ্ট হয়। ফলে অনেকটা আরাম মেলে। সংক্রমণ দূর হয় বলে মাড়ির ফোলাভাবটাও সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই কমে যায়।
  • লবঙ্গ: দাঁতের সমস্যায় লবঙ্গ এককথায় সবচেয়ে উপকারী ঘরোয়া টোটকা। দাঁতের ব্যথা হোক বা মাড়ি ফোলা সমস্যায় লবঙ্গ দ্রুত মুক্তি দিতে সাহায্য করে।
  • সরিষার তেল: সরিষার তেলে যন্ত্রণা উপশমকারী একাধিক দ্রব্য রয়েছে। তেলের সঙ্গে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে মাড়িতে মালিশ করলে উপকার পাওয়া যাবে।
  • লেবুপানি: সকালে দাঁত মাজার আগে লেবুর টক পানি দিয়ে মুখ ভালো করে কুলকুচি করলে মাড়ির সমস্যা অনেকাংশে রোধ করা যায়।


দাঁতের মাড়ির ফোলা প্রতিরোধে যা করবেনঃ

  • খাওয়ার পরে ঈষদুষ্ণ লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করুন যাতে খাদ্যের কণা মুখে থেকে না যায়।
  • পেইনকিলার (ব্যথার ওষুধ) খেতে পারেন।
  • ফ্লুরিনেটেড টুথপেস্ট দিয়ে দিনে অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করুন।
  • প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর টুথব্রাশ বদল করুন।
  • সুষম খাদ্যাভ্যাস সংক্রমণ ও দুর্গন্ধের সম্ভাবনা কমায়।
  • অ্যান্টিসেপ্টিক বা ফ্লুরিনেটেড মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।