ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস কি?
ডায়েবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস (ইংরেজি: Diabetic ketoacidosis) হচ্ছে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগের একটি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী জটিলতা। এর চিকিৎসা না করা হলে কোমা বা মৃত্যুও হতে পারে। সাধারণত টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেই এই জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তবে সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অন্য ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্তদেরও এই জটিলতা হতে পারে। ডায়েবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস এর লক্ষণগুলোর সূত্রপাত সাধারণত খুব দ্রুততার সাথে ঘটে।

ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি কি কি?
ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের সতর্কতামূলক লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • পেটব্যাথা
  • গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া
  • অতিরিক্ত তৃষ্ণা
  • ঘন ঘন প্রস্রাব করার ইচ্ছা
  • উচ্চ রক্ত শর্করা মাত্রা
  • প্রস্রাবের মধ্যে কিটোনের উচ্চ মাত্রা
  • একটানা ক্লান্তি বা দুর্বলতা
  • শুষ্ক ত্বক
  • বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
  • নিঃশ্বাস নিলে ফলের গন্ধ
  • সতর্কতার অভাব বা মনোযোগ দিতে অসুবিধা
  • বিভ্রান্তির সৃষ্টি হওয়া
  • কিছু ক্ষেত্রে চেতনা হ্রাস পাওয়া
  • অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগীর মুখে মিষ্টি ধরনের গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে।

যেসকল লোকেরা জানেন না যে তাদের ইতোমধ্যেই বহুমূত্ররোগে আক্রান্ত তারা অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস ডায়াবেটিস থাকার প্রথম লক্ষণ হিসেবে এই শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন।

ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের প্রধান কারণগুলি কি কি?
ডায়াবেটিস ট্রিগারে ইন্সুলিনের অভাব শরীরকে শক্তির উৎস হিসাবে চর্বি ব্যবহার করতে দেয়। চর্বি ভাঙ্গা হলে, তার ফলে কিটোন উৎপাদন করে। এই অতিরিক্ত কিটোন তারপর মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

  • সংক্রমণ: একটি অসুস্থতার উপস্থিতির ফলে কিছু হরমোনের মাত্রায় বৃদ্ধি হতে পারে যা ইন্সুলিনের ক্রিয়াকে বন্ধ করে
  • সঠিকভাবে ইনসুলিন গ্রহণ না করা
  • অপর্যাপ্ত খাবার খাওয়া
  • মানসিক বা শারীরিক আঘাত
  • হার্ট অ্যাটাক
  • অ্যালকোহল বা ড্রাগের অপব্যবহার, অতিরিক্ত কোকেন
  • নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ, যেমন স্টেরয়েড
  • স্ট্রোক।


ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস কিভাবে নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা হয়?
ব্যক্তির চিকিৎসার ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং পরীক্ষাগুলি একজন ডাক্তারকে অবস্থাটির রোগ নির্ণয় করতে সাহায্য করে। রোগনির্ণয়ের জন্য রক্তে উচ্চমাত্রার শর্করার উপস্থিতি, নিম্নমাত্রার পিএইচ, এবং প্রশ্রাবে বা রক্তে কিটো এসিডের পরিমাণের ওপর নির্ভর করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড থেরাপি ও ইনসুলিন প্রয়োগের মাধ্যমে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের চিকিৎসা শুরু হয়। জটিলতার মারাত্মকতার ওপর ভিত্তি করে ইনসুলিন সরাসরি রক্তে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে পেশির ওপর ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হতে পারে। সাধারণত এসবের পাশাপাশি রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা নেমে যাওয়া ঠেকাতে রক্তে পটাশিয়ামও প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসাকালীন সময়ে নিয়মতি রক্তে শর্করা ও পটাশিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি যদি কোনো ধরনের ব্যাকটেরিঘটিত সংক্রমণে আক্রান্ত থাকেন তবে সেটি আরোগ্যের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে রক্তের পিএইচের মাত্রা খুব বেশি মাত্রায় কম থাকে, সেক্ষেত্রে সোডিয়াম বাইকার্বনেট দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এর কার্যকারীতার নিশ্চয়তার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি এবং এর প্রয়োগ সুপারিশও করা হয় না।

ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের মারাত্মকতা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম। যুক্তরাজ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে এই জটিলতায় আক্রান্তের হার প্রায় ৪%, অপরদিকে মালয়েশিয়ায় এই হার প্রায় ২৫%। ইনসুলিন থেরাপির প্রচলন হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বের সকল স্থানে ও সকল ক্ষেত্রেই এই জটিলতায় আক্রান্তরা মৃত্যুবরণ করতেন। তবে বর্তমানে সময়োপযোগী ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রদান করা হলে মৃত্যুর হার ১ থেকে ৪%।