ইউরিনারি রিটেনশন বা প্রস্রাব আটকে থাকা কাকে বলে?
ইউরিনারি রিটেনশন বা প্রস্রাব আটকে থাকা বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি সন্তোষজনকভাবে প্রস্রাব করতে পারে না। সেই ব্যক্তি প্রস্রাবের বেগ অনুভব করতে পারে ও তার মূত্রথলি যে পুরো ভর্তি তাও বুঝতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি প্রস্রাব করে উঠতে পারে না।

তীব্র প্রস্রাব আটকে থাকার সমস্যা হঠাৎ করেই হতে পারে এবং যন্ত্রণাকর উপসর্গ দেখা দিতে পারে, ফলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। যাইহোক, বেশ কয়েক বছর যাবৎ প্রস্রাব আটকে থাকার এই সমস্যা থাকলে এবং কোনও যন্ত্রণাকর উপসর্গ যদি না থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তির আস্তে আস্তে মূত্রথলি পুরোপুরি শূন্য করার ক্ষমতা চলে যায়।

ইউরিনারি রিটেনশন বা প্রস্রাব আটকে থাকার প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি?
তীব্র প্রস্রাব আটকে থাকার সমস্যার উপসর্গগুলি নিম্নরূপ:

  • প্রস্রাব করতে না পারা
  • প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা
  • তলপেটে ব্যাথা
  • তলপেট স্ফীত হয়ে যাওয়া।


দীর্ঘকাল যাবৎ প্রস্রাব আটকে থাকার সমস্যার উপসর্গগুলি হল:

  • প্রস্রাব নির্গমণে সমস্যা
  • প্রস্রাবের অপেক্ষাকৃত সরু ধারা
  • একবার প্রস্রাব করার পর তাৎক্ষনিকভাবে পুনরায় করার তাগিদ
  • প্রস্রাব করার পর তলপেটে হালকা অস্বস্তি।


ইউরিনারি রিটেনশন বা প্রস্রাব আটকে থাকার প্রধান কারণগুলি কি কি?
প্রস্রাব চেপে রাখার সমস্যার অনেকগুলি কারণ আছে এবং এর অন্তর্নিহিত কারণগুলি সূদুর প্রসারী:

  • শ্রোণীচক্র অথবা যৌনাঙ্গে অত্যাধিক আঘাত পেলে।
  • স্নায়ুর সমস্যা
  • আক্রান্ত স্থানে কোন সাম্প্রতিক সার্জারি
  • শারীরিক অবস্থা, যেমন, ডায়াবেটিস বা মাল্টিপল স্কেলেরোসিস
  • মূত্রথলির পেশীগুলির দূর্বলতা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • কিছু ওষুধের প্রভাব
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ
  • মুত্রনালীতে প্রতিবন্ধকতা।
  • বৃদ্ধ পুরুষদের প্রস্টেট গ্লান্ড বড় হলে, প্রস্রাব আটকে যায়, বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
  • প্রাস্রাবনালীতে পাথর হলে প্রস্রাব আটকে যেতে পারে।
  • ব্লাডারের মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে, প্রস্রাব আটকে যেতে পারে।
  • গর্ভধারিনী ও বৃদ্ধা মহিলাদের জরায়ু পিছনের দিকে, ঝুলে ইউরিথ্রাতে চাপ পড়লে।
  • প্রস্রাবনালীর বাইরে লিঙ্গের চামড়ার মুখ আটকে গেলেও প্রাস্রাবে অসুবিদা হয়। এটাকে ফাইমোসিস বলে।
  • হিসটিরিয়া রোগ হলে, এবং হাই প্রেসার জনিত স্ট্রোক হলে প্রস্রাব আটকে যেতে পারে।
  • কোষ্ট্যকাঠিন্যের জন্য ইউরেথ্রায় চাপ পড়লে।
  • মেরুদন্ডে আঘাত থেকে বা কোন রোগ হলেও প্রস্রাব আটকাতে পারে।


ইউরিনারি রিটেনশন বা প্রস্রাব আটকে থাকার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কিভাবে হয়?
প্রথম করনীয় হল সঠিক কারন খুঁজে বের করা। কেননা, অনেক কারনেই তো প্রস্রাব আটকে যায়। তীব্র প্রস্রাব আটকে থাকার সমস্যাজনিত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, ডাক্তার এইসকল পরীক্ষাগুলি করতে পারেন-

  • শারীরিক পরীক্ষা
  • সিস্টোস্কোপি
  • সিটি স্ক্যান
  • ইউরোডাইনামিক টেস্ট (যে টেস্টে ধরা পড়ে যে মূত্রথলি ও মূত্রনালী কতটা ভালোভাবে মূত্র সঞ্চিত রাখতে ও মুক্ত করতে পারে)
  • ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফী (আক্রান্ত স্থানের স্নায়ুর কার্যকলাপ পরিমাপ ও বিশ্লেষণ)।


ডাক্তার এইসকল পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করে প্রস্রাব আটকে থাকার সমস্যার চিকিৎসা করতে পারেন:

  • মুত্রনালীর প্রসারণ (মুত্রনালীর সম্মুখভাগ প্রসারিত করা যাতে প্রস্রাব সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে)
  • মূত্রনালীর স্টেন্ট প্রতিস্থাপন (একটি কৃত্রিম নল সন্নিবিষ্ট করে মূত্রনালীর প্রসারণ ঘটানো)
  • প্রস্টেটের ওষুধ (প্রস্রাব চেপে রাখার উপসর্গগুলি দূর করতে প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি রোধের ওষুধ দেওয়া হয়)
  • মূত্রথলির নিষ্কাশন (একটি নল দ্বারা মূত্রথলি খালি করা হয়)
  • সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা।