শুকনো কাশি কি?
কাশিতে যখন কোনো কফ বা শ্লেষ্মা নির্গমণ হয় না তখন তাকে শুকনো কাশি বলা হয়। সাধারণত এর সাথে গলায় একটা সুড়সুড়ে ভাব অনুভব হয়। শীতে দূষণের মাত্রা বেশি থাকায় শুকনো কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়। শুকনো কাশি থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না। পাশাপাশি দূষণের কারণে হাঁপানি, যক্ষ্মা, ফুসফুসের সংক্রমণ ইত্যাদি কারণে শুকনো কাশি হয়ে থাকে। শ্লেষ্মা না থাকলেও গলা ব্যথা বা জ্বালাভাব হতে পারে। অনেক সময় কাশির জন্য সারারাত ঘুমাতে পারেন না অনেকে। যার কারণে অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পরতে হয়।

শুকনো কাশির প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলো কি কি?
শুকনো কাশির সাথে জড়িত লক্ষণ ও উপসর্গগুলো হল:

  • শ্বাসকষ্ট।
  • জ্বর ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
  • গলা ফুলে থাকা।
  • রাতে ঘাম হওয়া।
  • ওজন কমে যাওয়া।
  • ব্যায়াম করতে না পারা (সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া)।
  • শ্বাসগ্রহণের সময় বুকে সাঁই সাঁই আওয়াজ।
  • বুকজ্বালা।
  • খাবার গিলতে অসুবিধা।


শুকনো কাশির প্রধান কারণগুলো কি কি?
শুকনো কাশি প্রধানত নিচে দেওয়া কারণগুলোর জন্য হয়:

  • ভাইরাসঘটিত অসুস্থতা (ঠান্ডা লাগা, ফ্লু [ইনফ্লুয়েঞ্জা] বা ভাইরাস সংক্রমণের পরে কাশি [যেখানে ভাইরাসঘটিত অসুস্থতার পরে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশি থাকতে পারে])।
  • অ্যাজমা।
  • হুপিং কাশি।
  • ল্যারিংক্সে প্রদাহ (ল্যারিঞ্জিটিস) বা কিছু বিশেষ প্রকারের ফুসফুসের অসুখ (ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ অসুখ)।
  • ধূমপান।
  • অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (হে ফিভার, শরীরে শ্বাসের সাথে অ্যালার্জির কারণগুলি প্রবেশের জন্য যেমন পোষ্যের শরীর থেকে আসা অ্যালার্জি, রেণু বা ধুলো) বা কোনও বাতাসে থাকা পদার্থ নিঃশ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে, যেটা সাধারণত সদ্যজাত ও শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তীব্র শুকনো কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • গ্যাস্ট্রো-এসোফেজাল রিফ্লাক্স বা পোস্ট নাসাল ড্রিপ (নাক বা সাইনাস থেকে শ্লেষ্মা নিঃসরণ করে গলা দিয়ে নির্গমণ করানো)।
  • নাকডাকা এবং প্রতিরোধী স্লিপ অ্যাপনিয়া।

যক্ষ্মা বা ক্যানসারের আশঙ্কা এ ক্ষেত্রে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই যেকোনো ধরনের আশঙ্কা এবং লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো ধরনের অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অতীব জরুরি। সঠিক চিকিৎসা ও দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের সমস্যা থেকে দূরে রাখে।

শুকনো কাশি কিভাবে নির্ণয় করা হয় ও এর চিকিৎসা কি?
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক আক্রান্তের কাশি ও অন্যান্য উপসর্গগুলোর বিশদ ইতিহাস জানতে চাইবেন, এর পরে আক্রান্তের শারীরীক পরীক্ষা করা হবে। চিকিৎসাগত ইতিহাস, ব্যক্তির বয়স, ও পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে, চিকিৎসক আক্রান্তকে নিম্নোক্ত পরীক্ষাগুলো করতে বলতে পারেন:

  • অ্যালার্জি পরীক্ষা।
  • ছাতির এক্স-রে।
  • গলার লালার নমুনা (গলার ভিতরের দিক থেকে লালার একটা নমুনা সংগ্রহ করা হয়, এবং নমুনাটি সংক্রমণের কারণ জানার জন্য পরীক্ষা করা হয়)।
  • পাল্মোনারী কার্যকারীতার পরীক্ষা।


শুকনো কাশি নিরাময়ের উপায়ঃ

  • শুকনো কাশির চিকিৎসা এর কারণগুলোর উপর নির্ভর করে। যেমন, ভাইরাস সংক্রমণের জন্য কাশিতে নিজেকে নিজের যত্ন নিতে হয় এবং এটা এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।
  • শিশুদের বেশি মধ্যে কাশির সমস্যা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। বিশেষ করে রাতে ঘুমনোর সময় কাশি হয় অনেক শিশুর। শ্বাসনালিতে সংক্রমণ থেকে কাশি হতে পারে। যদি আপনার দীর্ঘ সময় ধরে কাশি থাকে, তবে সময় নষ্ট না করে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়া প্রয়োজনে আপনার বুকের এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান করান।
  • ধূমপান ও বায়ুদূষণ কাশির একটি অন্যতম কারণ। তাই ধূমপান বর্জন করুন।
  • ধুলাবালুতে কাশি হলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ঝুল ঝাড়া ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।
  • ঠান্ডায় সমস্যা হলে গোসলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। খুব ঠান্ডা পানি খাবেন না।
  • লিকার চা, কুসুম গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস, গরম স্যুপ ইত্যাদি কাশি সারাতে সাহায্য করে।
  • গরম পানির ভাপ নিতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে কাশিতে ভুগলে, বিশেষ করে ধূমপায়ীরা সতর্ক হোন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


শুকনো কাশি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়ঃ

  • মধু: মধুতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাংগাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এতে করে কাশি অনেকটা কমে যাবে।
  • আদা: আদার যে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা খুসখুসে কাশির জন্য উপকারী। মিউকাসের জন্য গলা খুসখুস করে আর এই খুসখুসে কাশি দূর করতে আদা কার্যকরী।
  • যষ্টি মধু: যষ্টি মধুর অনেক গুণ রয়েছে। পানি দিয়ে ভালোভাবে যষ্টি মধু ফুটিয়ে নিন। এর মধ্যে মধু, লেবুর রস মেশান। তারপর সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে ফুটান।
  • তুলসী: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তুলসী অনেক উপকারী। তুলসীতে ভিটামিন 'সি' ও জিঙ্ক রয়েছে, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শুকনো কফ কমাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
  • লবণ পানি দিয়ে গার্গল: পানি গরম করে এর মধ্যে এক চিমটি লবণ দিন। তারপর ৩০ সেকেন্ড ধরে গার্গল করুন।


ওপরের বিষয়গুলো মেনে চললে আর ঠাণ্ডা খাবার ও বাইরের খাবার এড়িয়ে চললে ঠাণ্ড দ্রুত সেরে যাবে। তবে ১০ দিন পরেও যদি ঠাণ্ডা না সারে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।