জক ইচ কি?
মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা একটু অগোছালো স্বভাবের হয়ে থাকে। এজন্য কিছু সমস্যায়ও তাদের ভুগতে হয়। এছাড়াও ছেলেদের মোটা জিন্সপ্যান্ট পরার জন্যও তাদের একটু বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়। অপরিচ্ছন্ন বা নিজের প্রতি উদাসীন হওয়াতে ছেলেরা বেশি আক্রান্ত হতে পারে জক ইচ রোগে।

জক ইচ বা টিনিয়া ক্রুরিস হল একধরনের ফাঙ্গাল সংক্রমণ যা ঊরুর ভেতরের ত্বক, কুঁচকি এবং নিতম্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই কারণে শরীরের এইসব উষ্ণ, আর্দ্র জায়গায় লালচে হয়ে যেতে পারে, ফাটতে পারে, কখনও রিঙের মতন দাগ হয়। এটা সাধারণত স্যাঁতস্যাঁতে ও গরম আবহাওয়ায় হয়। স্বাভাবিকের থেকে বেশি ওজনের লোকদের এটা আরও বেশি হয়।

এই রোগের ভাইরাস বিভিন্নভাবে এক শরীর থেকে অন্য শরীরের ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যবহৃত পোশাক, পানি, বিছানা ইত্যাদি এর বাহক হিসেবে কাজ করে। এটি জীবনের জন্য ঝুঁকিদায়ক অবস্থা নয় কিন্তু অত্যধিক অস্বস্তি এবং বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

জক ইচ এর প্রধান কারণগুলি কি কি?
জক ইচ হল একটি ফাঙ্গাল সংক্রমণ, যা ছোঁয়াচে। ত্বকের উপরিতলের উপর ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটে যা আর্দ্র এবং উষ্ণ হয়। তাই, খুবই টাইট বা ভেজা অন্তর্বাস পড়লে তা ঝুঁকির বিষয় হতে পারে। অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের যাদের ত্বকের ভাজ ছুঁতে থাকে, তাদেরও একটি বিশাল ঝুঁকি থাকে। সংক্রামিত টাওয়েল, চাদর ইত্যাদি ব্যবহার করার মাধ্যমে জক ইচ ছড়াতে পারে। যেহেতু এটি ভিষন ছোঁয়াচে তাই সংস্পর্শের মাধ্যমে আপনার শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাটি মহিলাদের থেকে পুরুষদের বেশি প্রভাবিত করে। যে ফাঙ্গিগুলি জক ইচের কারণ, সেইগুলি হল এপিডারমোফাইটন ফ্লকোসাম এবং ট্রাইকোফাইটন রুব্রাম।

জক ইচ এর প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলো কি কি?
জক ইচ কুঁচকির এলাকার চারপাশে প্রভাব ফেলে। যাইহোক, এটি ভিতরের উরু, নিতম্ব এবং কিছু ক্ষেত্রে, পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। উপস্থে সাধারণত প্রভাব ফেলে না। এটি বেশিরভাগ খেলোয়াড় বা স্থূলকায় ব্যক্তিদের মধ্যে বারংবার হতে দেখা যায়। নিম্নলিখিত লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি জক ইচের ইঙ্গিত দিতে পারে:

  • উরুর সংযোগস্থল ও নিতম্বে তীব্র চুলকানি ভাব এবং অস্বস্তি অনুভূত হয়।
  • প্রভাবিত ত্বকের রঙের পরিবর্তন হয়ে যায়, সাধারণত, প্রভাবিত জায়গায় লালচে ভাব দেখা দেয়।
  • বিজগুরির মতো দেখায়, যা আকারে গোল হয়।
  • ক্ষতর জায়গাটা খুবই প্রবলভাবে চিহ্নিত হয়ে যায়, আক্রান্ত স্থান কালো এবং শুষ্ক হয়ে।
  • ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সমকেন্দ্রিক বৃত্তের ভিতর স্বাভাবিক দেখতে চামড়া থাকতেও পারে।
  • ক্ষতটি একটু উঁচু দেখাবে।
  • ক্ষতটি সহ লাল বা খয়েরি রঙয়ের র‍্যাশ ও পানি ভর্তি ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
  • চুলকানোর পর এই পানি ভর্তি ফুসকুড়িগুলো ফেটে যায়।
  • আক্রান্ত স্থানে পানি লাগলে জ্বালাপোড়া করে।
  • ব্যায়াম করলে উপসর্গগুলি আরও খারাপ হয়।
  • এটি একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সংক্রমণ এবং অতীতে যদি কেউ জক ইচে ভুগে থাকেন, তারা ভবিষ্যতেও সম্ভবত আক্রান্ত হতে পারেন। আবার, কিছু সময়, কুঁচকির এলাকার সংক্রমণটি পায়ের সংক্রমণের সাথে সংমিশ্রণে দেখা যায়।


জক ইচ কিভাবে নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা হয়?
রোগীর মেডিকেল ইতিহাস এবং প্রভাবিত জায়গাটা পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়।

জক ইচ থেকে সাধারণত ঘরোয়া পদ্ধতিতেই মুক্ত পাওয়া যায়। কিছু ওষুধ রয়েছে যা বিনা প্রেসক্রিপশনেই আপনি যে কোন ফার্মেসিতে পেয়ে যাবেন। ধীরে ধীরে প্রতিকার করার উপায় বলা হলো।

  • চুলকানির স্থান প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। কোন অবস্থাতেই অপরিষ্কার থাকা যাবে না। গোসলের সময় জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে আক্রান্ত স্থান ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন, এবং অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন সাবানটি যেন পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্যবহার না করে। এতে তারাও আক্রান্ত হবে।
  • প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে সপ্তাহের ৭ দিনের জন্য ৭টি অন্তর্বাস কিনে নিন। প্রতিদিন নতুন অন্তর্বাস পরুন। সম্ভব না হলে একদিন ব্যবহারের পরেই অন্তর্বাস ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।
  • চুলকাবেন না। যত বেশি চুলকাবেন ততই তা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া এটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে, ফলে জনসমক্ষে বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে।
  • আক্রান্ত স্থান যথা সম্ভব শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন।
  • সুতির অন্তর্বাস পরিধান করুন।
  • প্রতিদিন আক্রান্ত স্থানে এন্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে
  • terbinafine, miconazole, বা clotrimazole উপাদানগুলো আছে। ফার্মেসিতে গিয়ে Lamisil, Lotrimin, Micatin, বা Monistat নামের ক্রিমের খোঁজ করুন। একই নামের না পেলেও একই কাজ করে এমন ক্রিম পেয়ে যাবেন। ক্রিমের গায়ে লেখা ব্যবহার বিধি অনুসরণ করুন।