সালাম সম্পর্কে?
ইসলামের সালামের সূচনা হয় কিভাবে.?? এবং কিভাবে.?? বিস্তারিত জানতে চাই।

3 Answer

Answered on 

পৃথিবীর আদি থেকেই সালামের প্রচলন হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ) কে তাঁর স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। তাঁকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তায়ালা বললেন, যাও ঐ দলটিকে সালাম দাও। তাঁরা হলেন ফেরেশতাদের উপবিষ্ট একটি দল। তাঁরা তোমার সালামের জবাবে কী বলে তা মনোযোগ সহকারে শ্রবন করো। কারণ, তাঁরা যে জবাব দেবে তাই হবে তোমার ও তোমার বংশ ধরদের সালামের জবাব। অতঃপর আদম (আঃ) তাঁদের নিকট গেলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, আসসালামু আলাইকুম। ফেরেশতাগণ জবাবে বললেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ। মহানবী (সাঃ) বলেন, তাঁরা ওয়ারাহমাতুল্লাহ বৃদ্ধি করেছেন। রাসূল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে আদম (আঃ) এর আকৃতিতেই প্রবেশ করবে এবং তার উচ্চতা হবে ষাট হাত। আদম (আঃ) এর পরবর্তী সৃষ্টির আকৃতি ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে বর্তমান আকৃতিতে পৌঁছেছে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত- হাদীস নং- ৪৪২১)

Answered on 

সালামের উৎপত্তি:

মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ সর্বপ্রথমে প্রথম মানব আদমকে সালামের শিক্ষা দেন।  (তিরমিযী)

হাদিসে আছে, আবু হুরায়রাথেকে বর্ণিত হয়েছে রাছূলুল্লাহ মুহাম্মাদ(সাঃ) বলেন আল্লাহ আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করে বলেন, যাও ফেরেশতাদেরদলকে সালাম দাও এবং তোমার সালামের কি উত্তর দেয় মন দিয়ে শুন। এটিই হবে তোমার আর তোমার সন্তানদের সালাম। সে অনুযায়ী আদম গিয়ে বলেন, আস্‌সালামু আলাইকুম(অৰ্থ- ‘আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক’)।

ফেরেশতারা উত্তর দেন, আস্‌সালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ(অৰ্থঃ ‘আপনাদের উপর শান্তি এবং আল্লাহ রহমত বর্ষিত হোক’)।  ফেরেশতারা রাহমাতুল্লাহ বৃদ্ধি করেন।     -মিশকাত,হাদিস নং- ৪৬২৮, অধ্যায়- শিষ্টাচার, অনুচ্ছেদ- সালাম।

অন্যান্য নবীদের জীবনে সালামের প্রচলন

ইব্রাহিম(আঃ) এর ক্ষেত্রে, কুরআনে পাওয়া যায়-

এবং অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের নিকট এসেছিল। তারা সালাম জানায়। তিনিও ‘সালাম’ দেন।   -সূরা হুদ (১১), আয়াত নং-৬৯


Answered on 

  • জান্নাতে প্রথম সালামের প্রচলন:
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: 
"আল্লাহ তা’আলা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যখন সৃষ্টি করলেন তখন তাঁর দৈর্ঘ্য বা উচ্চতা ছিল ষাট হাত। এরপর তিনি (আল্লাহ্) তাঁকে (আদমকে) বললেন: যাও। ঐ ফিরিশ্তা দলের প্রতি সালাম প্রদান করো এবং তাঁরা তোমার সালামের জওয়াব কিরূপে বা কিভাবে দেয় তা মনোযোগ দিয়ে শোন। কেননা এটাই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের রীতি। 
তারপর আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ফিরিশ্তাদের) বললেন: 
“আস্‌সালামু আলাইকুম”। 
ফিরিশ্তাগণ তার উত্তরে বললেন: 
“আস্‌সালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ”। 
ফিরিশ্তারা সালামের জওয়াবে “ওয়া রহ্‌মাতুল্লাহ” শব্দটি বাড়িয়ে বললেন। 
যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন তারা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আকৃতি বিশিষ্ট হবেন। 
তবে আদম সন্তানদের দেহের দৈর্ঘ্য সর্বদা কমতে কমতে বর্তমান পরিমাপ পর্যন্ত পৌছেছে। 
***ইমাম বুখারী সংগৃহিত হাদিস: ৩০৯১; ইফাবা; হাদিসের মান: সহীহ। 
***ইমাম মুসলিম সংগৃহিত হাদিস: ২৮৪১
Recent Questions
Loading interface...