আমি ফেসবুকে আসক্ত? আমি ফেসবুকে আসক্ত এর থেকে কিভাবে পরিত্রান পেতে পারি।কেউ জানাবেন প্লিজ যা আমার পড়ালেখার ১২ টা বাজিয়েছে দিছে।
7 টি উত্তর
ফেসবুক নেশায় আক্রান্ত হওয়ার ৫টি মানসিক কারণ: ১. অযথা বসে থাকার বদঅভ্যাস: হাতে তেমন কাজ না থাকলে অনেকেই ফেসবুক নিউজ ফিডের ওপর থেকে নিচে আবার নিচে থেকে ওপরে উঠতে থাকে। অথচ ফেসবুকে অন্যদের করা পোস্টের সীমা নেই। তাই চলতে থাকে অবিরাম উঠানামা যা ব্যক্তির সময় নষ্ট করে এবং উৎপাদনমুখী চিন্তার বাস্তবায়ন আর হয়ে ওঠে না। ২. মাত্রাতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় অনুভূতি প্রকাশ: অনেকে সারাদিন অযথাই ফেসবুকে কী খাচ্ছেন, কী করছেন এরকম একান্ত, অন্যের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিষয় ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকেন। এসব করে অনেকে আবার অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের জন্য অহেতুক স্বীকৃতি আদায় করতে চান। এগুলো আসলে ব্যক্তির প্রবল একাকীত্ব, আত্মবিশ্বাসহীনতাকেই প্রকাশ করে। ৩. অযথাই আঁকড়ে থাকার বদঅভ্যাস: অনেক সময় অযথাই আপনি ফেসবুকে কিছু বিষয় আঁকড়ে থাকেন। এই যেমন আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়া সঙ্গী-সঙ্গিনীর স্মৃতি। এরকম হলে মনে করবেন আপনি অতীতেই আটকে গেছেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজনে মানসিক সহায়তার জন্য পেশাদার কারও কাছে যান। অনেকে নিজেকে নিজে ছোট মনে করেন। এটা হীনমন্যতায় ফেসবুকে আপনি নিজের সঙ্গে অন্যের তুলনা করে নিজেকে নিজে ছোট করছেন হয়তো। ৪. অধৈর্য্য হয়ে বারবার নোটিফিকেশনে চোখ রাখা: সব কিছু আগে জানতে হবে এমন প্রবণতায় আচ্ছন্ন করছে ফেসবুক। আপনিও সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে অজান্তেই অতি ‘অ্যাক্টিভ’ হয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবার আপনি যখন লাল নোটিফিকেশন ভেসে উঠতে দেখেন তখন অজান্তেই আপনার মস্তিষ্কে ডোপামিন ধাক্কা মারতে শুরু করে। ডোপামিন হলো আপনার মস্তিষ্কের একটি রাসায়নিক উপাদান যা খাদ্য, সঙ্গম, ড্রাগের প্রতি আপনাকে আকৃষ্ট করে। এই ডোপামিন ব্যক্তির নিজের ধ্বংসেরও কারণ হতে পারে। ফেসবুকে আপনার পোস্টে কেউ ‘লাইক’ দিলে তার নোটিফিকেশন আপনাকে আরও ‘লাইক’ পাওয়ার নেশায় আসক্ত করে। ৫. কোন কিছু মিস না করতে ক্রমাগত নিউজফিড রিফ্রেশের অভ্যাস (ফিয়ার অব মিসিং আউট বা সংক্ষেপে ফমো): আজকের এই ‘আপডেট’ থাকার সময়ে আপনি সব সময় এগিয়ে থাকার চিন্তায় থাকেন। পিছিয়ে পড়ার এই ভয়কেই পুঁজি করে ফেসবুক। তাইতো আপনি প্রিয়জনের সঙ্গে খেতে বসে, সঙ্গী-সঙ্গিনীর সঙ্গে একান্তে বসে কিংবা ক্লাসে, মিটিংয়ে সব সময় ফেসবুকেই তাকিয়ে থাকেন। এসব ভয়াবহ বদঅভ্যাস কিংবা নেশা মুক্তির জন্য আপনি যা করতে পারেন: ১. প্রথমেই ফেসবুকটা নেশা হয়েছে তা স্বীকার করুন: সমস্যা অস্বীকার করলে কোন সমাধান আসে না। নিজের সঙ্গে নিজে সৎ থাকুন। যেটা বদঅভ্যাসে পরিণত করেছেন সেটাকে নাকচ করার চেষ্টা করবেন না। নিজে একজন আসক্ত ছিলাম। তাই বলছি লজ্জার কিছু নেই। বদঅভ্যাসটা স্বীকার করে নিন। পরম আস্থাভাজন বন্ধু-কাছের মানুষদের সঙ্গে খোলাখুলি আলাপ করুন। ২. আসক্তির কারণটা কী নিজের বেলায় সেটি চিহ্নিত করুন: ওপরের সব ধরনের আসক্তির লক্ষণ আপনার সঙ্গে নাও মিলতে পারে। এজন্য আপনার নিজস্ব ফেসবুক বদঅভ্যাসগুলো চিহ্নিত করুন। এটা করতে চাইলে আপনি একটি ডায়রিতে কিছু বিষয় লিখতে পারেন: আপনি কী করেন ( স্ক্রলিং, বার বার শেয়ারিং, নোটিফিকেশন বারবার দেখা, নিউজফিড রিফ্রেশ দেয়া) কখন এগুলো করেন (কাজের সময়, ঘুম থেকে উঠে, ঘুমাতে যাওয়ার সময় কিংবা সঙ্গী-সঙ্গিনীর সঙ্গে একান্ত সময়ে) যখন এসব করেন ঠিক সেগুলোর আগে আপনার সঙ্গে বিশেষ কিছু হয়েছিল কিনা (মানসিক চাপে ছিলেন, বিরক্ত ছিলেন, এরকম কিছু হয়ে থাকলে সংক্ষিপ্ত বর্ণনাসহ লিখে রাখুন)। ৩. নিজের ক্ষেত্রে কোন কারণটি কাজ করছে সেটি সচেতনভাবে চিহ্নিত করুন: ২ নম্বর ধাপটি মনোযোগ দিয়ে করুন। সচেতন হয়ে ফেসবুকের আসক্তি কাটানোর পথ পাবেন নিজেই। ৪. সবার আগে নিজেকে ভালোবেসে হতাশা কাটিয়ে উঠুন: ফেসবুকে অন্যের জীবনের ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবির সঙ্গে নিজেকে তুলনা করবেন না। নিজেকে নিজে হীন মনে করা বন্ধ করুন। অলসতা কাটিয়ে উঠে কোন উৎপাদনমুখী কাজ না করে কেবল নিজেকে দোষারোপ করলে হবে না। ৫. সময় কাটানোর বিকল্প উপায় খুঁজুন: যেকোনো বদঅভ্যাস দূর করতে সেই অভ্যাসটির জায়গায় একটি সুঅভ্যাস চর্চা শুরু করতে হয়। ফেসবুকে অযথা বসে না থেকে গল্পের বই কিংবা যেকোন বই- পুস্তক পড়ুন, সিনেমা দেখুন, বাগান করুন। এরকম অভ্যাসগুলো আপনাকে বিচলিত করবে কম কিন্তু দেবে দারুণ উচ্ছলতা। ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত
মোবাইল থেকে দুরে থাকুন। বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কাটান। খেলাধুলা করুন। যখন পড়ালোখা করবেন মোবাইল পাশে রাখবেন না।
মোবাইলের নেট কানেকশন অফ করে দিন।ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করে দিন।ভালো করে পড়াশোনা করুন।যখন পড়াশোনা করবেন আপনার মোবাইলটি মায়ের কাছে রাখুন।ফলে ইচ্ছা হলেও আর ফেসবুকে ঢুকতে পারবেন না।বাস্তবজগতে নিজেকে সবার কাছে যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুন।
ফেসবুকে আসক্তি কমানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল করা।কারণ আপনি যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তখন দেখা যাবে আপনার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো কোন কাজেই আসছে না।যেমন,ফেসবুক আইডি ডিলেট করে দিলেন।তারপর আরেকটা নতুন আইডি খুলতে কিন্তু একমিনিটের বেশি সময় লাগবে না।তাই আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে।
দিনে বেশি বেশি পরিশ্রম করুন।তাতে ফেসবুক চালানোর ইচ্ছা জাগবেনা।
প্রথমে আপনার মোবাইলটি হওয়া উচিত নোকিয়া ১২০০ মডেল যার মাধ্যমে শুধু কথা বলা যায় নেট চলে না এবং আপনি পড়াশোনার ব্যাস্ততার মাধ্যমে সময় কাটান ঠিক হয়ে যাবে!আশা করছি বুঝতে পারছেন...
সামনে যদি পরীক্ষা থাকে তাহলে ফেসবুক আইডি ডিএকটিভ করে দিন। তাতে আপনার পাড়ালেখা ভালো হবে। বন্ধুদের সাথে মিশতে পারেন(যারা ফেসবুক চালাই না)। সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।