শুধুই কাকতালীয় ঘটনা, নাকি অন্য কিছু? পারবেন এই ঘটনাগুলোর বাস্তব ব্যাখ্যা দিতে?

আমার জীবনেরই কিছু ঘটনা। যার ব্যাখ্যা পাই নি। 

  1. জীবনের প্রথম ক্যামেরা কেনার দুইদিনের মাথায় একজন তা পানিতে ফেলে দিল। নষ্ট হয়ে গেল। 
  2. প্রথম ডিপ ফ্রিজ কেনার পর কুরবানির ঈদে রাখা সব মাংস সহ ফ্রিজটি নষ্ট হয়ে গেল। 
  3. প্রথম ওভেন কেনার ৭ দিনের মাথায় ভেতরে আগুণ লেগে গেল। নষ্ট হয়ে গেল।
  4. প্রথম ওয়াশিং মেশিন কেনার ৩য় দিন সেটার নিচ থেকে পানি বের হতে লাগল। নষ্ট হয়ে গেল। 
  5. প্রথম এসি কেনার ১০ দিনের মাথায় তার কমপ্রেশর নষ্ট হয়ে গেল। 
  6. প্রথম গাড়ি কেনার ষষ্ঠ দিনের মাথায় অ্যাক্সিডেন্টে গাড়ি গুড়িয়ে গেল। নষ্ট হয়ে গেল। 
আল্লাহ আমাদের যে সচ্ছলতা দিয়েছেন তা নিয়ে কোনো অহংকার করি নি। যাকাত-ফিতরা কখনো কম দেওয়া হয় নি। অবৈধ একটি টাকাও আজ পর্যন্ত ঘরে আসে নি। মানুষের কাছে প্রতিটি জিনিস কিনেই দোয়া চেয়েছি। তারপরও জীবনের প্রথম জিনিস কখনো টেকে নি। 
সর্বশেষ গাড়িটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া। সচ্ছলতার তুলনাহ চাহিদা আমার ছিল সামান্য। গল্পের বই, ক্যামেরা, ইন্টারনেট, রুবিক্স কিউব, ইয়ো ইয়ো, মোবাইল আর হেডফোন। তাও হেডফোন, রুবিক্স কিউব, গল্পের বই, ইয়ো ইয়ো সবসময় নিজের জমানো টাকায় কিনেছি। বাকিগুলি বাবা-মায়ের দেওয়া। আর গাড়ি ছিল সেই ২-৩ বছর থেকে আমার একমাত্র চাওয়া যা পূরণ হতে না হতেই হারিয়েছি। 
কেন এমন হলো আমার সাথে? এই শোক আমি কীভাবে কাটাব? কীভাবে ফিরে আসব স্বাভাবিক জীবনে? আপনার কী পারবেন তার উত্তর দিতে?
উত্তর বা মন্তব্য প্রদান করতে দয়া করে লগইন কিংবা নিবন্ধন করুন।

2 টি উত্তর

ঘটনাসমূহ অত্যন্ত কাকতালীয় , জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে কিন্তু এইটাই সত্যি। একজন বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত ব্যাক্তি হিসেবে আমি যুক্তি সহকারে সবকয়টি ঘটনার বাস্তবিক ব্যাখ্যা দিচ্ছি।




  1. এটার উত্তর আপনিই দিয়েছেন। একজন মানুষ ক্যামেরাটি পানিতে ফেলে দিয়েছে। এটি অবাস্তবিক কোন ব্যাপার নয়।
  2. প্রতিটি ডিপ ফ্রিজের একটি লিমিট থাকে। যেমন আমার বাসার ফ্রিজে সেই লিমিট ১৫ কেজি। এখন আমি যদি ১৫ কেজি ৫০০ গ্রাম মাংস রাখি তাহলেও আমার ফ্রিজটি নষ্ট হতে পারে। এর কারণ ধারণ ক্ষমতার বাইরে যেকোনো যন্ত্র নষ্ট হতে পারে। ( উদাহরনঃ একটি টিভির ফিউজ ৫ অ্যাম্পিয়ার। কেউ টিভি টাকে একটি ১০ অ্যাম্পিয়ার সকেটে লাইন দিলেই টিভিটির ফিউজ কেটে যাবে এবং ব্র্যান্ড নিউ টিভিটি নষ্ট হবে।ইলেকট্রিক বা যান্ত্রিক জটিলতায় ও ইটা হতে পারে।)  
  3. অনেকেই ওভেন কিনে সঠিকভাবে ব্যাবহার করতে পারে না ফলে নষ্ট নয়ে যায়। ওভেনের বিভিন্ন মডেল থাকে। সকল ওভেন সব রকমের ম্যাটেরিয়াল সাপোর্ট করে না। আপনি হয়ত আপনার ওভেনে এমন কোনও বাটি রেখেছেন যা সেটি সাপোর্ট করে না। অথবা কারেন্ট এর শক খেয়েছিল ওভেনটি (আমি ২য় পয়েন্টে ব্যাখ্যা করেছি)  
  4. ইলেকট্রনিক ডিভাইস সমূহ অত্যন্ত সেন্সেটিভ জিনিস।আপনার ওয়াশিং মেশিনটি হয়তো বা আপনি ভালভাবে সেট করতে পারেন নি। আর যদি আপনার মেশিনটি আগে থেকেই সব কিছু সেট করা থাকে তাহলে আপনার বাসায় দোকান থেকে বস্তুটি যাবার পথে সমস্যা হয়েছে। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। রাস্তায় উঁচু-নিচু, বা সামান্য ধাক্কা খাওয়াতেই বাটির মুভমেন্ট হতে পারে ফলে পানি পরে যেতে পারে। এখন বলতে পারেন যদি ওয়াটার বোলের মুভমেন্ট এ এটা হয়েছে তবে ১ম দিন কেন হলো না ? ১ম দিন হল না কারণ তখন আপনার বাটিটি সম্পূর্ণ ভাবে সরে যায়নি। আসতে আসতে প্রতি ওয়াশে এটি একটু একটু করে সরে গিয়েছে। 
  5.  ৪ এবং ৫ এর কারণ একই। 
  6. এতো মূল্যবান একটি বস্তু হারিয়ে ফেলায় সত্যিই কষ্ট হবার কথা কিন্তু কিছু কষ্টকর হলেও এটাই সত্যি যে গাড়ির এক্সিডেন্ট অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার (আমার ভাবার বাইরের থেকেও স্বাভাবিক ব্যাপার এইটা) প্রতিবছর পৃথিবীতে ১৩ লক্ষ গাড়ির এক্সিডেন্ট হয় । তার মানে, ৩৬০০ গাড়ির এক্সিডেন্ট হয় প্রতিদিন। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতিটি দেশে প্রত্যেকদিন সর্বনিম্ন ১৮টি দুর্ঘটনা হয়। আপনাকে দুঃখ এবং কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে যে সেইদিন আপনি ছিলেন সেই ১৮ জনের ১জন।   


ভাগ্য বলতে কিছু নেই। সবই ব্যাক্তি ও বস্তুর দ্বারা প্রভাবিত কর্মের ফল। আমি কোনো ধর্ম বা সৃষ্টিকর্তাকে অপমান করছি না, কিন্তু বাস্তবতা আপনাকে মানতেই হবে টা যতটাই কষ্টকর হোক না কেন।   

উত্তর বা মন্তব্য প্রদান করতে দয়া করে লগইন কিংবা নিবন্ধন করুন।
আপনার কেনা জিনিসগুলো ইলেক্ট্রনিক । এগুলোর তো ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি থাকে । ক্যামেরা ব্যতীত সবগুলো দোকানে ফেরত নেওয়ার দরকার ছিল । কেননা এখানে সর্বোচ্চ ১০ দিনের কথা উল্লেখ্য আছে । ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি কমপক্ষে ৬ মাসের হয় । আর সেকেন্ড হেন্ড কিনলে কাকতালীয় ব্যপার না । নষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক ।
উত্তর বা মন্তব্য প্রদান করতে দয়া করে লগইন কিংবা নিবন্ধন করুন।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ