আকাশের রঙ কি সত‍্যিই নীল? ইসলাম বা আধুনিক বিজ্ঞান কি বলে?

আকাশের রঙ কি সত‍্যিই নীল? ইসলাম বা আধুনিক বিজ্ঞান কি বলে?আকাশের রঙ কি সত‍্যিই নীল? ইসলাম বা আধুনিক বিজ্ঞান কি বলে? আকাশটাকে কখনো নীল, কখনো সাদা, কখনো কালো, কখনো লালও মনে হয়? আসলে আকাশের রঙটা কি?
বিভাগ: 
Share

3 টি উত্তর

সূর্য থেকে আসা আলো দেখতে সাদা হলেও তা আসলে সাদা নয়। স্যার আইজ্যাক নিউটন সর্বপ্রথম দেখান যে দৃশ্যত এই সাদা আলো আসলে সাতটি পৃথক রঙের সমন্বয়ে গঠিত।এগুলো হল Red,Orange,Yellow,Green,Blue,Indigo, Violet। এর মধ্যে তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচে বেশি লাল রঙের আর সবচে কম বেগুনির। যে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম তা সবচে বেশি বিচ্ছুরিত হয়। এখন নীলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য লালের চেয়ে কম। আবার বেগুনির কম নীলের চেয়ে। তাহলে প্রস্ন আসে আকাশ বেগুনি দেখি না কেন?? উত্তর পরে দিচ্ছি। আগে কেন নীল দেখি তা বলি। সূর্য্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে আট মিনিট তের সেকেন্ড। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন ধূলিকণা , গ্যাস, বাষ্প ভেদ করে পৃথিবীতে আসার সময় সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হয়। আগেই বলেছি যে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম তা সবচে বেশি বিচ্ছুরিত হয়। তাই নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম বলে তা বেশি বিচ্ছুরিত হয়। যার কারনে দিনের আলোতে আকাশ নীল দেখি। আর রাতের বেলায় যেহেতু সূর্যরশ্মি থাকেই না তাই আকাশ কালো দেখি। এখন কেন বেগুনি দেখি না? কেননা বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নীলের চেয়ে কম!!বায়ু মণ্ডলে আলোকরশ্মির বিচ্ছুরণ constant নয়। অন্যদিকে বায়ুমণ্ডল পৃথিবী থেকে এতই উপরে যে বেগুনি আলোর অনেকখানি শোষিত হয়ে যায় পৃথিবীতে আসতে আসতে । আমাদের রেটিনা অন্যান্য রঙের চেয়ে লাল, নীল আর সবুজ আলোতে বেশি সংবেদনশীলতা দেখায়। আমাদের চোখের এই সংবেদনশীলতার জন্য আমরা বিভিন্ন রঙ দেখি। আমাদের চোখ 'অতিবেগুনী' আলোর প্রতি সংবেদনশীল না। তাই আমাদের কাছে আকাশ গাড় বেগুনী মনে হয় না।

আকাশের আসলে নির্দিষ্ট রং নেই। আসলে আকাশ বলতেই তো কিছু নাই, তবু রঙ একটা দেখা যায়! আসুন, সেটাকেই আকাশের রঙ ধরে নিয়ে কথা বলি। আকাশের রং কেমন হবে তা নির্ভর করে আপনি কিভাবে আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন এবং সূর্য আকাশের কোথায় আছে তার উপর। আপনি যদি সূর্যের দিকে সোজাসুজি তাকান দেখবেন, সাদা রং দেখতে পাচ্ছেন। এর কারণ হলো সূর্যরশ্মি হলো রংধনুর সাতটি রঙের মিশ্রণ। এ কারণে তা দেখতে সাদা দেখায়। আইজ্যাক নিউটন অনেক আগেই প্রিজম দিয়ে তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। প্রতিটি রঙেরই আলাদা আলাদা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আছে। যে রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত কম তা আকাশে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। বলেন তো মৌলিক রংগুলোর মধ্যে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম কার?
.
হয় নাই। নীল না, বেগুনী। সবচেয়ে বেশি তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লাল রঙের। তাহলে আমরা আকাশের রং বেগুনী দেখি না কেন? এর উত্তর পেতে চাইলে আপনাকে মানবদেহে চলে আসতে হবে। আমাদের চোখ সব রঙের প্রতি একরকম সংবেদনশীল নয়। মূলত লাল, সবুজ আর নীল এই তিনটি রং এর প্রতি বেশি সংবেদনশীল। নির্দিষ্ট কিছু রঙের প্রতি সংবেদনশীলতা সব প্রাণীর এক নয়। এছাড়াও যেহেতু বেগুনী রঙ এর তরঙ্গদৈর্ঘ সবচেয়ে কম সুতরাং বায়ুমন্ডল ভেদ করে আমাদের চোখে এসে পৌছানোর আগেই বিচ্ছুরিত হয়ে যায়।
.
১৮৫৯ সালে জন টেনডাল নামের একজন আইরিশ পদার্থবিদ আকাশের রং নীল হবার কারণ সর্বপ্রথম ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন। 'আমাদের দৃশ্যমান আকাশে ভেসে বেড়ানো ক্ষুদ্রতম কণার মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার সময় লাল অপেক্ষা নীল রং বেশী বিক্ষিপ্ত হয়।' তাঁর এই ব্যাখ্যা 'Tyndall Effect' নামে পরিচিত। পরবর্তীতে লর্ড রেইলে নামে আরেকজন পদার্থবিদ এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। জন টেনডাল এবং লর্ড রেইলে দুজনই মনে করেছিলেন আকাশের রং নীল হওয়ার পিছনে ধূলিকণা ও জলীয়বাষ্পের বড়সড় অবদান আছে। তাঁদের এই ধারণা ভুল ছিলো। কারণ বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা বা জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অতি নগণ্য (১% চেয়েও কম)। আকাশের রং নীল হওয়ার পিছনে সত্যিকারের কারো অবদান থাকলে তা হলো নাইট্রোজেন (৭৮%) এবং অক্সিজেন (২১%)। কিন্তু এই অবদানের কারণ কি? ১৯১১ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন প্রমাণ করেন আলোর তড়িৎচুম্বকীয় প্রভাবের কারণে, গ্যাসীয় অণুর মধ্য দিয়ে আলো বিক্ষিপ্ত হয়। এখানে এর একটী গ্যাসের অবদান ও আছে। সেটা হল ওজন গ্যাস। এটার রঙ নীল।
.
সূর্যাস্তের সময় পরিষ্কার আকাশের রং আমরা দেখি লাল। কারণ, ঐ সময়ে সুর্য থাকে আমাদের থেকে সবচেয়ে দূরের অবস্থানে।এবং ঐ অবস্থান থেকে অন্য সব রঙ ই বিচ্ছুরিত হয়ে যায় লাল বাদে যেহেতু এটার তরঙ্গদৈর্ঘ সবথেকে বেশি।আর আমাদের চোখ ও কাছাকাছি অন্য রঙ এর লাল এর প্রতি সংবেদনশীল বেশি।

আসলে আকাশ কোনো বস্তু নয় তাই এটির রঙ নেই। মহাশূন্যকেকেই আমরা আকাশ বলে জানি। সাধারণত আকাশ নীল দেখায়। আলোর বিক্ষেপণের কারণে আকাশ নীল দেখায়। পৃথিবীর চারপাশে রয়েছে বায়ুস্তর। এই বায়ুর কোন কণিকার ওপর আলো পড়লে সেই কণিকা আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, যাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, সেই আলোর বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই আকাশে এই আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয় এবং আকাশ নীল দেখায়।মেঘের অণু বেশ বড় হয় এবং তাই তা নীল ছাড়া অন্য আলোকেও বিক্ষেপিত করে। যার ফলে মেঘের বর্ণ অনেকটা সাদাটে হয়।একারণেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকালীন সময় আকাশ লাল দেখায়। এসময় সূর্য দিগন্তরেখার কাছে অবস্থান করে। তাই সূর্যরশ্মি পৃথিবীতে আসতে পুরু বায়ুমণ্ডল ভেদ করে। তখন নীল আলো বিক্ষেপিত হয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যায় কিন্তু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তা কম বিক্ষেপিত হয় এবং পৃথিবীতে আসে। তাই তখন আকাশ লাল দেখায়। কিন্তু আমি ধর্মের ব্যাপাটি জানি না।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ