চুপচাপ থাকতে পারি না আমি?

 (12430 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

আমার ধর্মে বলা আছে উচিত কথা বল নয়তো চুপ করে থাক।কিন্ত আমি চুপ করে থাকতে পারি না।একটু না অনেক বেশি কথা বলি,,,জানি না যে কথা গুলা বলি তার মধ্যে কোন টা ভুল আর কোন টা ঠিক। আমি নিজেকে চুপচাপ শান্তি করতে চাই। কিন্ত কি ভাবে।।।।।।

2 Answers

 (275 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

আপনি যখন চুপচাপ থাকতে পারেন না।তখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা কম দেয়ের চেষ্টা করুন।বেশী বেশী ধর্মীয় বই পড়ুন।আর প্রভুর সৃষ্টি নিয়ে চুপচাপ চিন্তা করুন।দেখবেন আপনি একদম ঠিক হয়ে যাবেন।নিজেই পারেন নিজেকে ঠিক করতে।
 (2348 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

প্রায় বছর পাঁচেক আগের কথা। নতুন চাকরীতে যোগ দিয়েছি মাত্র। খুলনাতে পোস্টিং। রমজান মাস। জুমুআর নামাজ পড়তে মসজিদে গেছি। ইমাম সাহেব রমজান মাসে সংযম বজায় রাখার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন। বলছেন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কিছু উপায়। 

একটা কথা আমার খুব ভাল লেগেছিল। সেটা হল কথা কম বলা (আমি নিজেই এমন সেজন্য হয়তো)। তো উনি বলছেন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য কথা কম বলা একটা ভাল উপায়। আমরা যত গুনাহ করি তার একটা বিরাট অংশ করি মুখের মাধ্যমে। মুখ সামলে না চলার কারণে সমাজে অসংখ্য সমস্যা যেমন তৈরি হয় তেমনি নিজেদের গুনাহর পাল্লা ও ভারী হয়। আর বেশি কথা বললে গীবত ও আনুপাতিক হারে বেশি হয়। 

আপনি যখন আপনার বন্ধু বান্ধবের সাথে বেশি কথা বলতে যাবেন তখনি 10 টা ভাল কথা কিংবা দরকারী কথার সাথে কিছু অপ্রয়োজনীয় কথা চলে আসবে। আর স্বাভাবিক ভাবেই অন্য কারও ভাল মন্দ কাজের কথাও চলে আসবে। আর আপনি গীবতে জড়িয়ে পড়বেন। 

যাই হোক ইমাম সাহেব বলেছিলেন রমজান মাসে গুনাহ কম করার উপায় নিয়ে। কিন্ত আমার পয়েন্ট হল রমজানের শিক্ষা তো আমরা সারা বছর মানতে পারি। তাহলেই আমাদের কথার মাধ্যমে গুনাহ কমে যায়। 

যাই হোক আপনি বেশি কথা বললেও এ বিষয়ে সচেতন। কাজেই আমি মনে করি আপনি চাইলে নিজেকে শোধরাতে পারবেন। 

নিজের কথা বলা কমানোর একটা ভাল উপায় হল অন্যদের কথা বেশি শোনা। মনোযোগ সহকারে শোনা। 5 টা কথা শুনবেন, বুঝবেন তারপর ভেবে চিন্তে একটা উত্তর দিবেন। 

আরেকটা উপায় হল গুনাহর বিষয়টি মাথায় রাখবেন। তাহলে সেটা মনে পড়ার সাথে সাথে হুটহাট কথা বলা কমে যাবে।

কথা বলার আগে ভাববেন সেটা কারো ক্ষতির কারণ হবে কিনা, কারো মনে কষ্ট দিবে কিনা অথবা সেটা বলার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কিনা। তাহলে দেখবেন বেশি কথা বলার অভ্যাস কমে আসছে। 

আর আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়লে তখন আপনার কথা গুলো আস্তে আস্তে দরকারী হয়ে উঠবে। সে জন্য জ্ঞানের বিস্তার ঘটান। আর তখন আপনার কথা মানুষের ভাল করবে। 

কিন্ত মজার ব্যাপার হল আপনার জ্ঞান বাড়ার সাথে সাথে কথা বলা কমতে থাকবে। কারণ একটা বিষয়ে যদি আপনাকে কোন প্রশ্ন করা হয় আর আপনি যদি সে ব্যাপারে সামান্য কিছু তথ্য জানেন তাহলে হুট করে বলে দিবেন। 

যেমন আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করল জ্বর আসলে কোন ট্যাবলেট খাবে। আপনি বললেন নাপা এক্সট্রা। কিন্তু যারা আরেকটু বেশি জানে তারা সহজে বলবে না। কারণ Side Effects এর ব্যাপারটা তার মাথায় আছে। ভুল ওষুধের নাম না বলে অথবা জ্বরের কারণ না জেনে সে নাপা এক্সট্রা/ এইস এসব খাবার পরামর্শ দিবেনা। 

কিন্তু একজন Doctor বা Pharmacist সঠিক ভাবে রোগীকে গাইড করতে পারবেন। 

আমি জানি উদাহরণ টা Perfect হয়নি। এটাকে শুধুমাত্র একটা উদাহরণ ধরে নিন। আমি শুধু স্বল্প, মধ্যম আর পরিপূর্ণ জ্ঞানের পার্থক্য বুঝাতে এই উদাহরণ দিলাম। 

আর এটা দিলাম এই কারণে যে জ্ঞান অনুযায়ী মানুষের কথার ও ভিন্নতা হয়ে থাকে। 

আর সর্বশেষ ব্যাপার হল পৃথিবীর সবাই তো আর এক না। আপনি যত খুশি কথা বলুন। কিন্তু সেটা যাতে কারো ক্ষতি না করে, কারো মনে কষ্ট না দেয়, এর দ্বারা যাতে আপনার গুনাহ না হয়, এসব যাতে ইসলাম বিরোধী না হয়। এসব লক্ষ্য রেখে কথা বলে দেখুন আগের মত কথা বলতে পারেন কিনা! ধন্যবাদ। 


সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় বিভাগসমূহ

Loading...