1 টি উত্তর

কাল রাত এই নগরীতে খুব চমৎকার অন্ধকার ছিলো । কাল রাত আমি দুই সহোদরার মাঝখানে শুয়েছিলাম । কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এই জমকের জন্ম হয়েছে ! এদের বড়টির নাম মৃত্যু, তার গায়ের রঙ ঘন কালো; ছোটটির নাম জীবন,বড়টির তুলনায় সামান্য ফর্শা । তবে, অন্ধকারে তাদের বর্ণভেদ প্রায় বোঝা যায় না । তৃপ্তি ও আনন্দের উপলব্ধিকে বাঙ্ময় করা ছাড়া, কাল রাত ভোরের আলো ফুটে উঠবার আগ পর্যন্ত আমি একবারের জন্যেও বন্ধ করিনি আমার চোখ ! কাল রা আমি একটুও ঘুমাইনি,আমি জেগেছিলাম, মানে, যতটা জেগে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব ! আমি জানি, পঞ্চাশ সহস্র বর্ষ অপেক্ষার শেষে আমি এই অবিশ্বাস্য রজনী পেয়েছি । আমি বহুদিন, বহুভাবে আমার বিরুদ্ধে নারীকে এবং নারীর বিরুদ্ধে আমাকে লেলিয়ে দিয়ে দেখেছি; তারা পরস্পরকে নিয়ে কী পাগলামিটাই না করেছে ! আগে আমি এদের সঙ্গে মিলিত হয়েছি পৃথক ভাবে । জীবনের বুকে মুখ ঘষে জীবনকে বলেছি,ভালোবাসি । জীবনের দৃষ্টি এড়িয়ে আমি একই কথা বলেছি মৃত্যুকে । জীবনের সামনে মৃত্যু এবং মৃত্যুর সামনে জীবনকে প্রকাশ্যে ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করা,এবারই প্রথম ! আমি বলেছি আমি তোমাদের দু’জনকেই ভালোবাসি । সুখের জন্যে তোমাদের দ’জনকেই আমার প্রয়োজন । কাল অন্ধকার ছিল । বেশ অন্ধকার । খুব অন্ধকার । সূর্য ডুবে যাবার কারণে যে-অন্ধকার হয়, সেরকম নয়, তার চেয়ে বেশি এক ধরনের অন্ধকার । কসকো সাবানের মতো ট্রান্সপারেন্ট অন্ধকার নয়, মাষের ডালের মত থকথকে ঘন-গাঢ় অন্ধকার । সেই ঘন-গাঢ় অন্ধকারে আমি একবার জীবনের, একবার মৃত্যুর ঠোঁটে গচ্ছিত রেখেছি আমার চুম্বন । উন্মত্ত অবন্থায় এক-পর্যায়ে আমার এমনও হয়েছে, আমি একই সঙ্গে চুম্বন করেছি জীবনের অধর এবং মৃত্যুর ওষ্ঠকে । –তা আদৌ সম্ভব কি না, এখন আমি বলতে পারবো না, পুরো ব্যাপারটাই ছিল একটা পরবাস্তব, স্বপ্নদৃশ্যের মতো । কল্পনা দেখা । স্বপ্নসত্য । কাল রাত আমি জীবনকে বুঝিয়েছি, ভয় করো না, মৃত্যু নিষ্ঠুর কামুক রমণী নয়; একই মাতৃগর্ভজাত, সে তোমার বোন, তোমার মতই সে খুব মানবিক । একই কথা আমি একটু অন্যভাবে মৃত্যুকে বলেছি । মৃত্যু অনুজার ক্লান্ত মুখের ঘাম মুছিয়ে দিয়েছে । অথচ আশ্চর্য ! ভোরের আলো ফুটে উঠবার পর, পরস্পরের দিকে ফিরে-শোওয়া দুই সহোদরাকে দেখে মনে হলো ওদের দু’জনই আমার কাছে সমান অচেনা । এদের একজনকে তো আমার চেনার কথা ছিল ।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ