লাইলী-মজনু

Asked on

1 Answers

Answered on 

প্রেম কাহিনী অথবা রোমান্টিক জুটির কথা উঠলে আমাদের দেশে সবার আগে যাদের নাম উচ্চারিত হয় তারা হলেন লাইলি-মজনু। মধ্যযুগীয় ইরানি কবি �Nizami of Zanje� নামে যিনি পরিচিত, তিনি আরবীয় সামাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে রচনা করেন,�Layla and Majnn is a tragic tale abot nattainable love�| । প্রেমের ইতিহাসে, বিশেষ করে এই উপমহাদেশীয় মুসলিম সমাজে কালজয়ী হয়ে ওঠে দুটি চরিত্র_ লাইলী ও মজনু। স্বর্গীয় প্রেমের প্রতীক মানা হয় এই জুটিকে। অধরা প্রেমের এক বিয়োগন্ত গাঁথা এ কাব্য। কাব্য লিখিত হওয়ার আগে শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে এই মিথ আরবে প্রচলিত ছিল। পাণ্ডুলিপি এবং সিরামিকে মূর্ত চিত্রে জীবন্ত হয়ে ছিল এই মিথ। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে লাইলী এবং কায়েস একে-অপরের প্রেমে পড়েন। তাদের প্রেম সমাজের নজরে এলে দুজনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়। নিঃসঙ্গ কায়েস মরুপ্রান্তরে নির্বাসনে যান। বিরহকাতর কায়েসের ক্ষ্যাপাটে আচরণের জন্য তাকে ডাকা হতো মজনু (পাগল) নামে। মরুভূমিতে এক বৃদ্ধ বেদুইন লড়াই করে লাইলীকে পাওয়ার জন্য কায়েসকে প্রেরণা দেন। লাইলীর গোত্র ক্ষমতাচ্যুত হয়, কিন্তু তারপরও লাইলীর বাবা কায়েসের সঙ্গে লাইলীর বিয়েতে সম্মতি দেন না। কথিত আছে, লায়লির পিতা মজনুকে আহত করলে লাইলীও আহত হতো, এমনই ছিল তাদের সেই স্বর্গীয় প্রেম। কিন্তু মজনুকে মরুভূমিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে বেদুইনের দল মজনুর হার না মানা ভালোবাসা দেখে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তারা লাইলীর বাবাকে যুদ্ধে হারিয়ে দেয়। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। লাইলীকে তার পিতা জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর লাইলী মজনুর কাছে ফিরে আসে, কিন্তু প্রচণ্ড দুঃখ আর অনাহারে মজনু মারা যায়। লাইলীও তার ভালোবাসা মজনুর পথ অনুসরণ করে। মৃত্যুর পর তাদের পাশাপাশি সমাধিস্থ করা হয়। স্বর্গে গিয়েও ভালোবাসার মানুষকে চাওয়ার তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের আকুতি এই কাহিনীকে অমর করে রেখেছে। 'দুই দেহ এক আত্দা' নামক বহুল প্রচলিত কথা এই যুগলের অনুপ্রেরণায় পাওয়া।
Recent Questions
Loading interface...
Trending Tags
Loading interface...