কেউ আত্নহত্যা করলে তার জানাজা করানো জায়েজ আছে কি?
 (89 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

কেউ আত্নহত্যা করলে তার জানাজা করানো জায়েজ আছে কি? আত্নহত্যার পর তার কি ধরণের শাস্তি হতে পারে?

3 Answers

 (13 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

জায়েজ নাই কিন্তু মানুষত্বের কারনে পড়তে হয়।  



 (3389 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

আপনার প্রশ্নের মধ্যো দুইটি উত্তর চেয়েছন। উত্তর দুইটি আমি সহি বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ থেকে পেশ করলাম।

প্রশ্ননকেউ আত্নহত্যা করলে তার জানাজা করানো জায়েজ আছে কি? 

উত্তর ; আউন ইবনুূু সাল্লাম আল-কুফী (রহঃ) জাবির ইবনুূু সামুরা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক ব্যাক্তির জানাযা আনা হল, যে তার দ্বারা আত্নহত্যা করেছে, তিনি তার জানাযা পড়েন নি।

প্রশ্ন: আত্নহত্যার পর তার কি ধরণের শাস্তি হতে পারে? 

উত্তর : আবদুল্লাহ ইবনুূু আবদুল ওহাব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করে, সে জাহান্নামের আশুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরুপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যাক্তি বিষপান করে আত্নহত্যা করবে তার বিষ জাহান্নামের আশুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে ব্যাক্তি লোহার আঘাতে আত্নহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা যারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। 



 (6173 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

হ্যাঁ, কেউ আত্মহত্যা করলেও তার জানাজার নামাজ পড়া জায়েজ আছে এবং এটা আদায় করতে হবে। কেননা, এটা তার হক। তবে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ভালো মানুষেরা তার জানাজার নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকবেন। যাতে সবাই পরবর্তীতে আত্মহত্যা করাকে খারাপ কাজ হিসেবেই দেখে। দলিল: صحيح البخاري نوع الحديث:مرفوع 1240 حدثنا محمد ، حدثنا عمرو بن أبي سلمة ، عن الأوزاعي ، قال : أخبرني ابن شهاب ، قال : أخبرني سعيد بن المسيب أن أبا هريرة رضي الله عنه قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : " حق المسلم على المسلم خمس : رد السلام، وعيادة المريض، واتباع الجنائز، وإجابة الدعوة، وتشميت العاطس ". تابعه عبد الرزاق ، قال : أخبرنا معمر ، ورواه سلامة ، عن عقيل . রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হল জানাজার নামাজ। ... আজ পর্যন্ত কেউই একথা বলেননি যে, আত্মহত্যাকারী মুসলমান থাকে না; কাফের হয়ে যায়। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও আত্মহত্যাকারীকে কাফের বলেননি। তাহলে মুসলিম হিসেবে অন্য মুসলমানের ওপর অবশ্যই জানাজার নামাজের হক রয়েছে। তাই এটা আদায় করতে হবে। তবে গণ্যমান্য লোকেরা তার জানাজা পড়বেন না। কেননা, রাসুল সা. পড়েননি। দলিল: سنن الترمذي نوع الحديث:مرفوع 1068 حدثنا يوسف بن عيسى ، قال : حدثنا وكيع ، قال : حدثنا إسرائيل ، وشريك ، عن سماك بن حرب ، عن جابر بن سمرة ، أن رجلا قتل نفسه فلم يصل عليه النبي صلى الله عليه وسلم. هذا حديث حسن صحيح. واختلف أهل العلم في هذا، فقال بعضهم : يصلى على كل من صلى إلى القبلة، وعلى قاتل النفس. وهو قول الثوري، وإسحاق. وقال أحمد : لا يصلي الإمام على قاتل النفس، ويصلي عليه غير الإمام. قال الألباني: صحيح এই হাদিসে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করল; রাসুলুল্লাহ সা. তার জানাজার নামাজ পড়েননি। এই হাদিস বর্ণনার পর ইমাম তিরমিজি বলেছেন, কিছু কিছু আলেমের মতে প্রত্যেক মুসলমানের জানাজা পড়তে হবে- সে আত্মহত্যা করলেও। এই মতের পক্ষেই বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সুফিয়ান সাওরি ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াই রাহিমাহুমাল্লাহ। আর অনেক আলেম বলেন, জানাজা পড়তে হবে ঠিক; তবে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শাসক আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়বেন না। যেমনটি বলেছেন আরেক বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ। আর এমনটিই করেছেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ও নবি হওয়ার কারণে আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়েননি। কিন্তু অন্য মুসলমানরা পড়েছেন। আর আবহমান কাল থেকে এটার ওপরই মুসলমানদের আমল। . আত্মহত্যাকারীর শাস্তি হল জাহান্নাম। কেননা, সে মারাত্মক কবিরা গুনাহ করেছে। তাই এজন্য জাহান্নামই তার ঠিকানা। এটাই হাদিসের ভাষ্য।
সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় টপিকসমূহ

Loading...