আমি মেয়ে, প্রতারণার শিকার হয়ে আপনাদের পরামর্শ চাচ্ছি?

আসসালাম আলাইকুম।আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক মেয়ের মেসেজ-

"আমি একজন এইচ এস সি পরীক্ষার্থী।প্রথম বর্ষে থাকাকালীন সময় একটি ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।সে বলে সে খুব ইসলামী মাইন্ডের এবং হাফেজ।সে আমাদের সম্পর্ককে একটা বৈধ পরিচয় দিতে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়।আমি বাড়িতে না জানিয়ে গোপনে তাকে বিয়ে করি।তার এক বড় ভাইয়ের বাসায় আমাদের বিয়ে হয়।সেখানে কোনো উকিল বা সাক্ষী ছিলনা।তাই বিয়েটা নিয়ে আমার একটু সন্দেহ ছিল, কিন্তু আমি তাকে খুব বিশ্বাস করতাম বলে কিছু বলিনি।বিয়ের পর থেকেই সে আমাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতে থাকে।কিন্তু আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা আগে পড়াশোনা শেষ করবো এবং পরিবারের মত নিয়ে বিয়ে করবো।কিছুদিন পর সে জোর করে আমার সাথে সেক্স করতে চায়।আমার হাইমেন ছিড়ে প্রচুর রক্তপাত হয়।তখন সে আমাকে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যেতে বলে।বাসায় আসার পর আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি, কিন্তু সে বলে এটা হওয়াতে ভালো হয়েছে।এরপর থেকে সে শুধু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেয়।আমি তার সাথে দেখা করা বন্ধ করে দিই।এরপর আমি জানতে পারি সে আমাকে তার নিজের আর পরিবার সম্পর্কে যা বলেছে অধিকাংশই মিথ্যা এবং বাড়িয়ে বলা।আমার পরিবার তাকে কখনোই তাকে মেনে নেবেনা।আমিও তার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইনা।কিন্তু সে আমাকে পেতে চায়।কাউকে কিছু বলতেও পারছিনা। আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙ্গে পড়ছি।আমি এখন কি করবো?সুইসাইড করার চেষ্টাও করেছি।কিন্তু পারিনি।আমার বাবা-মা জানতে পারলে খুব কষ্ট পাবে।আর ভবিষ্যতে যার সাথে আমার বিয়ে হবে, সে যদি এই বিষয়টা মেনে না নেয়!!আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা।কেউ সাহায্য করলে বা পরামর্শ দিলে খুব উপকার হয়।"

আমি কি উত্তর দিব বুঝতে পারছিনা। কেউ একটু সাহায্য করেন।      

  

 

উত্তর বা মন্তব্য প্রদান করতে দয়া করে লগইন কিংবা নিবন্ধন করুন।

2 টি উত্তর

আপনার উচিত এই ছেলের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না রাখা। আপনি আপনার মা-বাবার কথামত চলুন, পাঁচ ওয়াক্ত নামায় পড়ুন ,আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং তওবা করেন।

উত্তর বা মন্তব্য প্রদান করতে দয়া করে লগইন কিংবা নিবন্ধন করুন।
বিয়ের জন্য ছেলেদের শুধু নিজের সম্মতি প্রয়োজন । কিন্তু মেয়ের নিজের সম্মতির সাথে অভিভাবকের সম্মতিও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ । এই তিনজনের একজন যদি বিয়েতে মত না দেয় তবে বিয়ে হবে না । একটা স্পষ্ট কথা মেয়েদের জেনে রাখা উচিত যে, যত যাই হোক না কেন, তাঁর অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত কোন বিয়েই বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস এ ব্যাপারটিই নির্দেশ করে। # “যে নারী তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই নিজে নিজে বিবাহ করে, তার বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল।” (আহমাদ,আবু দাউদ,তিরমিযী,ইবনে মাজাহ,দারেমী,মিশকাত ৩১৩১ নং) # “ওয়ালী (অভিভাবক) এবং দুইজন উত্তম চরিত্রের সাক্ষী ব্যতীত কোনো বিবাহ (বৈধ) হবে না”। [আল বায়হাক্বী থেকে বর্ণিত ইমরান এবং ‘আয়িশা এর হাদীস; সহীহ আল- জামি’ ৭৫৫৭ এ আল-আলবানী হাদিসটিকে সহীহ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।] আরও বর্ণিত হয়েছে, এক স্ত্রীলোক অপর স্ত্রীলোক বিবাহ দিতে পারে না এবং কোনও স্ত্রীলোক নিজে নিজেই বিবাহ আবদ্ধ হতে পারে না। কারণ, কেবল ব্যভিচারিণীই নিজেকে বিবাহ আবদ্ধ করতে পারে। আর অভিভাবক হলেন পিতা , পিতা না থাকলে ভাই এভাবে যাবে এবং যদি কাছের কোন আত্মীয় জীবিত না থাকেন বা কাফের/মুরতাদ/ফাসেক হবার কারণে অভিভাবকত্ব হারান তবে তার অভিভাবকত্ব রাষ্ট্রের জিম্মায় চলে যাবে । তাই পালিয়ে যদি ছেলে বিয়ে করে কিন্তু মেয়েটির অভিভাবক সম্মতি দিয়েছে তবে বিয়ে বৈধ । কিন্তু মেয়ে পালিয়ে অভিভাবকের সম্মতি না নিয়ে বিয়ে করলে বিয়ে বৈধ হবে না । ছেলের পরিবার জানুক বা না জানুক এতে কিছুই এক্ষেত্রে যায় আসবে না । পড়ুন ফতোয়া সকল মাজহাব এ ব্যাপারে একমত । তবে মেয়ে যদি অভিভাবকের যুলুমের স্বীকার হয় তবে হানাফি মাজহাব সে যুলুম হতে বাচার জন্য একটু ছাড় দিয়েছে তবে অকারণ পালিয়ে বিয়েকে বৈধতা দেয়নি । পড়ুন ফতোয়া সুতরাং মেয়েদের জন্য পালিয়ে বিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ । এবং একজন প্রকৃত ঈমানদার নারী বা পুরুষ তার পরিবার হতে পালিয়ে বিয়ে করার কথা ভাবতেও পারে না । পরিবার শিরক- কুফরিতে নিমজ্জিত থাকলে ভিন্ন কথা । আর, একটা কথা না বললেই নয়, সমাজে অনেকেই গোপনে বিয়ে করে ফেলে। কাজী ঠিকই টাকা নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেবে। এমনকি অনেক হুজুর হয়ত প্রকৃত সহিহ হাদিসের কথা না জেনে এমন বিয়ে পড়ান জায়েজ বলে থাকেন। কিন্তু আসলে এটা অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আর পাত্রপাত্রী না জেনে এ কাজ করে থাকলে হয়ত benefit of doubt তাঁরা পেতে পারে। তবে এরপরে পিতামাতার অনুমতি না নিয়ে স্বামীস্ত্রীসুলভ আচরণ করা প্রতিটি মুহূর্ত হবে গুনাহ। আর প্রতিটি কর্মের এর জন্য তারাই দায়ী থাকবে। জেনে করলে শরীয়ত মোতাবেক শাস্তি হতে পারে । এবং তারপর সঠিকভাবে "পুনরায়" বিবাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে, অবশ্যকরনীয় হল, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা। তওবা করা। ইনশাল্লাহ আল্লাহ্ মাফ করবেন। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।
উত্তর বা মন্তব্য প্রদান করতে দয়া করে লগইন কিংবা নিবন্ধন করুন।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ