কনট্যাক্ট লেন্স কিভাবে আবিষ্কৃত হয় ?
 (7772 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

1 Answer

 (7772 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

অ্যাডলফ ফ্লিক ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম সফলভাবে চোখের জন্যে লেন্স আবিষ্কার করেন। তিনি চশমার বিকল্প কিছু খুঁজতে চেয়েছিলেন, আর সেই চিন্তা থেকেই লেন্সের আবিষ্কার। যদিও এই বিষয়ে তিনিই সর্বপ্রথম কাজ করেন নি, তার আগেও অনেকে লেন্স আবিষ্কারে শ্রম দিয়েছেন। যদিও তারা সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। রেনে, থমাস ইয়াং, মুলারসহ আরো অনেকেই দীর্ঘদিন শ্রম দিয়েও বার্থ হয়েছেন। এতোশতো অপরিচিত নামের ভিড়ে যিনি সর্বপ্রথম কনট্যাক্ট লেন্সের ধারণা দেন তার নামটা সুপরিচিত। তিনি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি। ইনি সেই মোনালিসাখ্যাত লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি। অসাধারণ প্রতিভাধর একজন মানুষ। তিনি ১৫০৮ সালে “কোডেক্স অব দ্য আই: ম্যানুয়াল ডি” নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম কনট্যাক্ট লেন্সের ধারণা দেন। আর এই ধারণা লাভের প্রায় ৩৮০ বছর পরে ১৮৮৮ সালে সফলতার মুখ দেখেন অ্যাডলফ ফ্লিক। ১৮৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি জার্মানিতে জন্ম ফ্লিকের। তার বাবা ছিলেন অ্যানাটমির প্রফেসর আর চাচা ছিলেন জার্মানির বিখ্যাত ফিজিওলজিস্ট। ফ্লিক পরিবারের সাথে ডাক্তারির একটা যোগসাজশ আছে আর সেই হিসেবে অ্যাডলফ ফ্লিকও যে ডাক্তার হবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি আর্মিতে যোগ দিলেন ! আর কিছুদিন পরেই তৎকালীন এক যুদ্ধে যোগ দিলেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তিনি বাবার অকাল মৃত্যুতে শোকাহত হলেন এবং বাবা-চাচার পেশাকেই আপন করে নিলেন। তিনি অপথ্যালমোলজি নিয়ে পড়াশোনা করা শুরু করলেন। সফলভাবে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৮৭৫ সালে একজন ডাক্তার হয়ে উঠলেন। পরবর্তীতে তিনি জোরেক (স্থানের নাম) এ কনট্যাক্ট লেন্সের জন্যে গবেষণা শুরু করলেন। তখন তিনি একে কনট্যাক্ট লেন্স না বলে কনট্যাক্ট স্পেকট্যাকলস হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত পরীক্ষা-নিরীক্ষা জাড়ি রাখেন। প্রথম দিকে তিনি খরগোশের উপর তার তৈরি লেন্সগুলো পরীক্ষা করতেন, এরপর নিজের চোখেও পরীক্ষা করে দেখেন। পরবর্তীতে বেশ অনেকজন স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় তার পরীক্ষা নিরীক্ষা আরো সহজ হয়ে উঠে। অবশেষে ১৮৮৮ সালে তিনি সফলতার মুখ দেখেন, যদিও তার তৈরি লেন্স মোটেও আকর্ষণীয় ছিলোনা, অর্থাৎ সেটা আপনাকে ফ্রিতে দেয়া হলেও আপনি নিতেন না :P । তার তৈরি লেন্স বর্তমান আধুনিক লেন্সের তুলনায় বেশ পুরু আর কাঁচের তৈরি ছিল। আধুনিক লেন্সের মতো তা শুধু মনির উপর লেপটে না থেকে চোখের সাদা অংশের উপরও লেপটে থাকতো। আর সবচেয়ে বাজে বিষয় ছিল যে সেটা দীর্ঘসময় পড়ার উপযোগী ছিলোনা। পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ১৯৪৯ সালে সর্বপ্রথম শুধু মনির উপর লেপটে থাকা লেন্সের আবিষ্কার হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের অবদানে লেন্স আজকের রূপে পৌঁছেছে।
সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় টপিকসমূহ

Loading...