Share

3 টি উত্তর

বাংলা খিচুড়ি 
প্রথমে যেটা দরকার সেটা হল চাল। কোন চালে খিচুড়ী বানাবেন সেটা আগে ঠিক করুন। যে চালের ভাত খান সেটা দিয়েই বানাবেন নাকি পোলাও এর চাল দিয়ে বানাবেন এইটা আগে ঠিক করে নিন।
এর পর প্রয়োজন মত ডাল নিন। যতটুকু চাল নিবেন তার অর্ধেক ডাল, আর চাল নিবেন আপনি কতটুকু খেতে পারবেন তার উপর অথবা চাইলে অন্য কাউকে দিবান কিনা সেটাও চিন্তা করে দেখতে পারেন।
এরপর যা প্রয়োজন তা হল মসলাপাতি। 

প্রথমেই লাগবে পেঁয়াজ। দুইটা বড় অথবা চারটা ছোট হলেও চলবে। কুচি কুচি করে কাটবেন নাকি বড় বড় করে কাটবেন সেটা আপনার ইচ্ছা। এইখানে বিবেচ্য বিষয় হল- খাওয়া গুরুত্বপূর্ন নাকি দেখা। খাওয়া মুল বিষয় হলে যেভাবে ইচ্ছা ওভাবেই কাটলে হবে। 

রসুন দিবেন কিনা আপনার ইচ্ছা, অনেক খায় অনেক খায়না, আদাও দিতে পারেন !!!

লবণের কথা ভুলে গেলে চলবেনা, দরকার হলে রান্না ঘরের চুলার উপর একটা স্টিকার লাগিয়ে রাখুন - "লবণ দিয়েছেন তো" এই টাইপের !!!!
দুটা তেজপাতা ধুয়ে নিন। ভাল কথা, চাল ডাল ও কিন্তু ধুয়ে নিতে হবে।
ইচ্ছা হলে দিতে পারেন উপকরন : 
খিচুড়ীর মাঝে চাইলে আলু, পটল, ফুলকপি টাইপ জিনিস পাতি দিতে পারেন । অবশ্য আগে দেখুন এসব ঘরে আছে কিনা, আর থাকলেও আপনি কস্ট করতে রাজি কিনা ?? যদি রাজি থাকেন তবে একটা আলু, দুইটা পটল এক কাপ ফুলকপি কেটে নিতে পারেন। 

প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় উপকরন যোগাড় হবার পড়ে আসে মূল কাজ । রান্নার জন্য চুলা জ্বালান, পাতিল নির্বাচন করুন, চাইলে কড়াইতেও করতে পারেন অবশ্য অনেকে এটাতে আপত্তি জানাতে পারেন। কিন্তু মূল কথা হল আপনি কি চান।

পাত্র চুলাতে বসিয়ে হালকা গরম করুন। এই চান্সে দেখে নিন ফ্রীজে কাঁচা মরিচ আছে কিনা ! একদম না থাকলে গুঁড়া মসলার উপর ভরসা রাখতে হবে। 

তেল কিন্তু লাগবেই- এইটা ছাড়া দেশে যেখানে কোন কাজ হয়না সেখানে রান্না হবারতো প্রশ্নই আসেনা। পাত্র গরম হলে তাতে প্রয়োজন মত তেল দিন । তেল গরম হলে তাতে পেঁয়াজ কাঁচা মরিচ তেজপাতা দিয়ে দিন। হালকা হলুদ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ও লবণ কিন্তু মাস্ট। 

ধোয়া চাল আর ডালের মিশ্রন এইবার পাত্রে ঢেলে দিন। হালকা আঁচে কিছুক্ষন রাখুন , মাঝে মাঝে নাড়ুন , । এইবার চাল ডালের ডাবল পরিমান পানি পাত্রে দিন। মাঝে মাঝে নাড়ুন আর অপেক্ষা করুন । একসময় হয়ে যাবে...................

সহজ ভাবে বলি। চাউল,ডাল,তেল,মরিচ,পিয়াজ,হলুদ,আদা বাটা, রসুন বাটা,লবন,সবজি, সব একটি বড় পাত্রে সুন্দরভাবে মেখে মিক্স করে হাতের আংগুল বা তার চেয়ে একটু বেশী পানি দিয়ে চুলাতে বসাই দিয়ে তাপ দিন।পানি পুরা উড়ে গেলে ৫/৭ মিনিট চুলার উপরেই নাড়াচাড়া করতে থাকুন।কোন ভাবেই যেন পাত্রে পুড়ে নআআ যায়।তারপর নামিয়ে ফেলুন।

আপনার সমস্যা এখানে দুইটি মনে হচ্ছে: প্রথমত আপনার চাল, ডাল ও পানির অনুপাত ঠিক হয় নাই এবং দ্বিতীয়ত আঁচের কম বেশির একটি খেলা রয়েছে এখানে | আপনাদের ভাবি যখন দেশে একা বেড়াতে যায়, আমি প্রায়ই খিচুরী বানিয়ে থাকি, সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি (৩-৪ প্লেটের হিসেবে দিলাম): উপকরণ: চাল: ১ কাপ (কফি খাবার কাপ) ডাল: ১ কাপ (এখানে যেই ডাল ব্যবহার করুন না কেন, সব মিলিয়ে যেন ১ থেকে ১½ কাপের বেশি না হয় | আমি সাধারণত মসুর ও মুগের ডাল এক সাথে মিশিয়ে দেই পানি: ২½ কাপ কাঁচা মরিচ: ৩-৪টি, মাঝখান থেকে চিড়ে দেয়া রসুন: ৪-৫ টি কোয়া, চাইলে কুচি কুচি করতে পারেন, আমি ছুরির পাশ দিয়ে চাপ দিয়ে ভেঙ্গে দেই শুধু আদা: কম করেও ১½ ইঞ্চি পরিমান, চাকা বা কুচি করা জিরা গুড়ো: ½ চা চামচ লবন: ১ চা চামচ তেল/ঘি: ৪ চা চামচ হলুদ গুড়ো: ½ চা চামচ থেকে ১ চা চামচ, আপনি কত হলুদ ভাত চান তার উপর নির্ভর করবে শুকনো মরিচ: ১ টি এই হলো আপনার প্রধান উপকরণ | আসলে শুকনো মরিচ দিয়েছি একটু স্বাদের জন্য, আমি ব্যক্তিগত ভাবে কম করেও ৫টি কাঁচা মরিচ দেই | চাইলে এখানে ইচ্ছে মত সবজিও দিতে পারেন | চাইলে সামান্য পেঁয়াজও দিতে পারেন, যদি আপনার ইচ্ছে হয়, আমি পেঁয়াজ কাটার ঝামেলায় যাই না, ব্যবহারও করি না | পদ্ধতি: চাল ও ডাল খুব ভালো ভাবে ধুয়ে নিন | এরপর খুব ক্লান্ত থাকলে সব মিশিয়ে চড়িয়ে দিন রান্নায়, হাহাহাহাহা! আমি তাই করি এবং খারাপ লাগে না মোটেও | কিন্তু যদি একটু ভালো করতে চান, আগে হাড়িতে তেল/ঘি গরম করুন, তাতে রসুন, পেঁয়াজ কুচি (যদি চান), কাঁচা ও শুকনো মরিচ এবং জিরা গুড়ো একটু ভেজে নিন, হালকা মশলা গন্ধ আসলেই ডাল ঢেলে দিন, আর একটু ভাজুন (৩-৪ মিনিট) | এর পর চাল, পানি ও বাকি সব উপকরণ ঢেলে দিন | এখন আমরা আঁচের কায়দাটি দেখি | ভাত রান্না করার নিয়ম হলো প্রথমে বেশি আঁচে চালটি ফুটাতে হবে | মাঝারির থেকে বেশি দিয়ে রাখুন ৮-১০ মিনিট | যখন দেখবেন পানি টগবগ করে ফুটছে, আঁচ কমিয়ে আগের থেকে অর্ধেক করে দিন এবং ঢাকনা দিয়ে দিন | ঘড়ি ধরে এই অল্প আঁচে রাখুন ৮-১০ মিনিট | রান্না শেষ! দেখুন ভাত আপনার পছন্দ মত নরম হয়েছে কিনা, যদি মনে হয় ভাতটি বেশি আঠালো, আরো ৩-৪ মিনিট অল্প আঁচে ঢাকনা খুলে রাখুন | যেহেতু একা থাকেন, তাই এই রেসিপি দিলাম | কেউ সহজে বুঝবে না যে কত ফাঁকিবাজি করা আছে, হাহা!

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ