3 টি উত্তর
দিয়েছেন
যারা টেবিল সল্ট বা কাঁচা লবণ কিংবা রান্নায় অতিরিক্ত লবণ খান, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সমূহ ঝুঁকির কথা বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন। এদিকে রমজান মাসে বেশির ভাগ মানুষই খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খান। এর সঙ্গে যোগ হয় ভাজা-পোড়া। ফলে, পুরো রমজানজুড়ে লবণ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। খাবারের সঙ্গে পরিমিত মাত্রায় আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ লবণে রয়েছে সোডিয়াম, যা উচ্চমাত্রায় গ্রহণের ফলে মানুষ গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। গবেষকরা দেখেছেন, অতিরিক্ত সোডিয়াম পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিবিসি’র নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সকালের নাস্তায় লবণজাতীয় খাবার যতটা এড়িয়ে চলা যায়, ততোটাই মঙ্গল। এরপর সারা দিনের খাবার তো রয়েছেই। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের (ডব্লিউসিআরএফ) বিশেষজ্ঞরা কম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া প্যাকেটজাত খাবারের ওপর স্পষ্ট অক্ষরে এর উপাদানসমূহ উল্লেখ করার কথাও বলেছেন। ডব্লিউসিআরএফ’র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানুষ যদি তার প্রতিদিনের খাদ্য-তালিকায় লবণ গ্রহণের মাত্রাকে কমিয়ে আনতে পারেন, সেক্ষেত্রে প্রতি ৭ জনে ১ জন পাকস্থলির ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাবেন। তবে আরও বেশিও হতে পারে এ সংখ্যা। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে ৬ গ্রাম লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৮ দশমিক ৬ গ্রাম লবণ গ্রহণ করছেন। আর এটাই ভাবিয়ে তুলেছে বিশেষজ্ঞদের। বৃটেনে প্রতি বছর প্রায় ৬ হাজার মানুষ পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বিশ্ব ক্যান্সার সংস্থাটির তথ্যমতে, এর মধ্যে প্রায় ৮শ’ মানুষ পাকস্থলির ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন, যা মোট আক্রান্তের ১৪ শতাংশ। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই দিনে ৬ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। এ জাতীয় ক্যান্সারের চিকিৎসা দেয়াটাও বেশ দুরূহ। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সারটি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। লবণ ছিটিয়ে চিপস খাওয়া, ভাতের সঙ্গে কাঁচা লবণ খাওয়া বা কিছু কিছু ফল-মূলের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া- এ সবই ক্ষতিকর। তাই সতর্কতার বিকল্প নেই।
দিয়েছেন

কাচাঁ লবণ খাওয়া শরিরের জন্য ক্ষতিকর।
অধিক কাচাঁ লবণ গ্রহণ স্বাস্থ্যের ওপর যথেষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে আমাদের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশ্বের যেসব জনগোষ্ঠী লবণ কম খায় তাদের শতকরা ৮০ ভাগের উচ্চ রক্তচাপ থাকে না। পক্ষান্তরে যেসব জায়গায় মানুষ লবণ বেশি গ্রহণ করে, যেমন জাপানে উচ্চ রক্তচাপ মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করেছে; সেখানকার প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেকই উচ্চ রক্তচাপের শিকার। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও অস্টিওপোরোসিস, পাকস্থলির ক্যান্সার, শারীরিক স্থূলতা হতে পারে এবং অ্যাজমা থাকলে এর উপসর্গগুলো বৃদ্ধি পায়।

হার্ট, লিভার থেকে শুরু করে কিডনি, অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ডের মতো শরীরের বিশেষ অংশগুলোর কাজকর্ম কিছুটা হলেও লবণের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত আমাদের ধারণা লবণ খেলেই ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়। লবণের ভালো এবং মন্দ - দুটো দিকই রয়েছে। সব মিলিয়ে লবণ খাবারের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।

লবণের ক্ষতিকারক দিক

- লবণ এক ধরনের স্ট্রেস ফুড। সিমপ্যাথেটিক নার্ভ সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে।

- লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে। বেশি লবণ খেলে হাই ব্লাড প্রেশারের আশঙ্কা থাকে।

- হাড় থেকে ক্যালসিয়াম শুষে নিয়ে লবণ হাড়ের ক্ষতি করে।

- শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের হবার কাজে লবণ ব্যাঘাত ঘটায়। এর জন্য ইউরিক অ্যাসিড, বাত দেখা দেয়। অতিরিক্ত লবণ খেলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে, কিডনি দুর্বল হয়ে যায়।


লবণ খাওয়া কমাতে চাইলে

- রান্নার সময় যতটা প্রয়োজন ততটা লবণ ব্যবহার করুন। খাবার টেবিলে বারবার লবণদানী থেকে কাঁচা লবণ নিয়ে খাওয়ার অভ্যাস কমান।

- রান্নার ধরনে পরিবর্তন আনুন। মাঝে মাঝে লো সল্ট রেসিপিতে রাঁধুন। নানা রকম ভেষজ ও মশলা দিয়ে খাবার বানাতে পারেন। লো সোডিয়াম জাতীয় সবজি যেমন গাজর, ব্রকোলি, ভুট্টা, শসা ইত্যাদি খান। লো সোডিয়াম জাতীয় সবজিতে ফ্যাটের পরিমাণও কম। আচার, টমেটো স্যুপ, ভেজিটেবল স্যুপ জাতীয় হাই সোডিয়াম খাবারে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি।

- ফ্রোজেন ফুড, রেডিমেড স্যুপের প্যাকেটের মতো প্যাকেটজাত খাবাবে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় ভালো করে লেবেল পড়ে নিন। লো সোডিয়াম স্যুপ খান। বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।

লবণের ভালো দিক

- নার্ভ সেলের কার্যকলাপের জন্য লবণ খুবই দরকারি।

- লো ব্লাড প্রেশারের জন্য লবণ উপকারী।

- সর্দি কমানোর জন্য, সাইনাসের কনজেশন ভাব দূর করার জন্যও লবণ বেশ কাজ করে।

- পেশীর ব্যথা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও লবণ সমান জরুরি।

- শুকনো কাশির সময় মুখে সামান্য লবণ রাখলে ঘন ঘন কাশির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

- ব্লাড ভেসেল ও সেলগুলোকে লবণ কিছুটা সংকুচিত করে রাখে বলে শরীর গরম থাকে। এ কারণেই শীতকালে লবণ খাওয়া হয় বেশি।

সামুদ্রিক লবণ


উপকারিতা

সামুদ্রিক লবণ সিলিকন, ক্যালসিয়াম, কপার, নিকেল সমৃদ্ধ। সামুদ্রিক লবণে উপস্থিত এসব মিনারেল ও অন্যান্য উপাদান ব্লাডসেল রক্ষা করতে সাহায্য করে। সাধারণ লবণের মধ্যে এত রকমের মিনারেল উপস্থিত থাকে না।


অপকারিতা

সামুদ্রিক লবণে আয়োডিন অনুপস্থিত। তাই সাধারণ লবণের চেয়ে এই লবণ খুব একটা উপকারী নয়। সামুদ্রিক লবণ খেলে খাদ্যতালিকায় আয়োডিনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারও রাখুন।

Download Bissoy Answers App Bissoy Answers