মানুষ তার জীবদ্দশায় যা দান করে তাকেই কি সাদকায়ে জারিয়া বলে? নাকি মৃত্যুর পর আত্মীয়-স্বজনের দানকে সাদকায়ে জারিয়া বলে?
বিভাগ: 

2 টি উত্তর

হাদীছে এরশাদ হয়েছে মানুষ মৃত্যু বরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। ১) সাদকায়ে জারিয়া ২) ইসলামী জ্ঞান, উপকারী বিদ্যা লিপিবদ্ধ করে যাওয়া ৩) সৎ সন্তানদের দু’আ। এ হাদীছের বাহ্যিক অর্থে বুঝা যায়, জীবিত অবস্থায় ব্যক্তির দানকেই সাদকা জারিয়া বলা হয়। মৃত্যুর পর তার সন্তানদের দানকে নয়। কেননা মৃত্যুর পর সন্তানদের থেকে যা হবে তা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বর্ণনা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অথবা সৎ সন্তান যে তার জন্য দু’আ করবে। অতএব কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুর পূর্বে কিছু দান করার অসীয়ত করে যায় অথবা ওয়াক্‌্‌ফ্‌ করে যায়, তবে তা সাদকা জারিয়া হিসাবে গণ্য হবে। মৃত্যুর পর কবরে সে তা থেকে উপকৃত হবে। অনুরূপভাবে ইসলামী জ্ঞান, তার উপার্জন থেকে হতে হবে। এমনি ভাবে সন্তান, যদি পিতার জন্য দু’আ করে। এ জন্য কেউ যদি প্রশ্ন করে আমি কি পিতার জন্য দু’রাকাত নামায পড়ব? নাকি নিজের জন্য দু’রাকাত নামায আদায় করে এর মধ্যে পিতার জন্য দু’আ করব? আমি বলব: উত্তম হচ্ছে নিজের জন্য দু’রাকাত নামায আদায় করবেন এবং এর মধ্যে পিতার জন্য দু’আ করবেন। কেননা এ দিকেই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, অথবা ‘সৎ সন্তান’ যে তার জন্য দু’আ করবে, এরূপ বলেন নি যে তার জন্য নামায আদায় করবে বা অন্য কোন নেক আমল করবে। বিষয়/প্রশ্নঃ (৩৮৯) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ যাকাত লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী

সদকায়ে জারিয়া অর্থ চলমান দান। অর্থাৎ এমন দান যার মাধ্যমে পুণ্য উত্তরোত্তর বিরামহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যথা দীনি শিক্ষা দেয়া, মসজিদ, মাদরাসা এবং জনহিতকর কাজ যথা রাস্তা ঘাট হাসপাতাল ইত্যাদি নির্মাণ করা। সুতরাং একটি মসজিদ নির্মাণ করে ইন্তেকাল করলে যতদিন যত মানুষ এ মসজিদে নামায পড়বে ততদিন সে কবরে বসে এর পুণ্য পেতে থাকবে। তদ্রূপ  একজনকে দীন শিখিয়ে গেলে সে যাদেরকে শিখাবে তার ছাত্ররা যাদের শিখাবে এভাবে যতদিন এ শেখা ও শেখানোর ধারা অব্যাহত থাকবে ততদিন সে পুণ্য পেতে থাকবে। এটা মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তি উভয়ের জন্য হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি নিজের জন্য জীবদ্দশায় এ জাতীয় কাজ করে যায় তাহলে সে মৃত্যুর পরে অবিরত পুণ্য পেতে থাকবে। তদ্রূপ সে কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য এ জাতীয় কাজ করলে মৃত ব্যক্তিও কবরে বসে পুণ্য পেতে থাকবে।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ