সহবাস করার ক্ষেত্রে পদ্ধতি কি? এ ব্যাপারে ইসলাম কি বলে? দয়া করে জানাবেন।?

সহবাস করার ক্ষেত্রে পদ্ধতি কি? এ ব্যাপারে ইসলাম কি বলে? দয়া করে জানাবেন।?যেমন কোন কোন পদ্ধতিতে সহবাস করা যাবে?
বিভাগ: 
Share

3 টি উত্তর

ইসলাম ডেস্ক : সহবাসের স্বাভাবিক পন্থা হলো এই যে, স্বামী উপরে থাকবে আর স্ত্রী নিচে থাকবে। প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই স্বাভাবিক পন্থা পরিলক্ষতি হয়। এ দিকেই অত্যন্ত সুক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে আল কুরআনে। আয়াতের অর্থ হলোঃ “যখন স্বামী - স্ত্রীকে ঢেকে ফেললো তখন স্ত্রীর ক্ষীণ গর্ভ সঞ্চার হয়ে গেলো।” আর স্ত্রী যখন নিচে থাকবে এবং স্বামী তার উপর উপুড় হয়ে থাকবে তখনই স্বামীর শরীর দ্বারা স্ত্রীর শরীর ঢাকা পড়বে। তাছাড়া এ পন্থাই সর্বাধিক আরামদায়ক। এতে স্ত্রীরও কষ্ট সহ্য করতে হয়না এবং গর্ভধারণের জন্যেও তা উপকারী ও সহায়ক। বিখ্যাত চিকিতসা বিজ্ঞানী বু-আলী ইবনে সীনা তার অমর গ্রন্থ “কানুন” নামক বইয়ে এই পন্থাকেই সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে উলেখ করেছেন এবং ‘স্বামী নিচে আর স্ত্রী উপরে’ থাকার পন্থাকে নিকৃষ্ট পন্থা বলেছেন।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য ও মধুর মিলন সহবাসের পূর্ব প্রস্তুতি। যেদিন যে রাতে স্বামী-স্ত্রী উভয় সহবাসের পূর্ণ আগ্রহ অনুভব করিবে এবং সেই ব্যবপারে কোনরুপ বাধাবিপত্তি থাকিবেনা। সেইদিন তাহারা সহবাসের জন্য প্রস্তুত হইবে। অর্থ্যাত্ তাহারাপরিস্কার পরিছন্ন হইয়া উভয়ে পাতলা মিহি কাপড় পরিধান করিবে। বিশেষত স্ত্রি একটু বেশি সাজ -সজ্জা করিবে। ঐ দিন দিবারাতে উওম ও পুষ্টিকর খাদ্য আহার করিবে এবং রাতে একটু সকাল সকাল আহার করিয়া শরীরে সুগন্ধি মাখাইয়া উভয়ে নির্জন কক্ষে শয়ন করিবে। শয্যার উপর উপর মশারি খাটাইবে। সন্ধ্যারাত্রে বেশি না জাগিয়া তাড়াতাড়ি নিদ্রা যাইবে, মধ্য রাতের পর উভয়ে নিদ্রা ত্যগ করিবে। অত:পর অজু করিয়া আসিয়া উভয়ে সামান্য লবঙ্গ এবং এলাচ চিবাবে। তারপর উভয়ে ঘেশাঘেশি ভাবে শায়িত হইয়া প্রথমে উভয়ের অধরে, কপালে, লালাটে ও চক্ষে চুমু খাইবে। স্বামি তার হাতদ্বারা স্ত্রির দুই স্তন মেলায়েমভাবে মর্দন করিবে। পরস্পরের হস্তদ্বারা উভয়ের লিঙ্গ আলতোভাবে স্পর্শ করবে। এইভাবে কিছু সময় শৃঙ্গার উপাচারেরপর উভয়ে যখন প্রবল উত্তেজনা অনুভব করিবে, তখন তাহারা মূলরাত্রির জন্য তৈরি হইবে। স্বামি উঠিয়া বসিয়া স্ত্রিকে চিতভাবে শয়ন করিয়া তাহার দুই জানু একটু ফাক করিয়া হাটুদ্বয় খাড়া করিয়া রাখিবে। তারপর স্বামি নিজে স্ত্রির দুই হাটুর সম্মুকে নিজের পায়ের পতার উপর ভর দিয়া বসিবে। আর যদি স্ত্রি দুই পা বিছাইয়া রাখে তবে স্বামি দুই রানের দুই পার্শে নিজের দুইপা রাখিয়া ঝুকিয়া পড়িয়া নিজের দুই কুনুর উপর দেহের ভর রাখিবে। এইভাবে উভয় প্রস্তুত হইয়া সহবাসের দোয়া পাঠ করিবে। তারপর দেখিবে যদি, যদি স্বামির লিঙ্গ থেকে হটাৎ কিছু বাহির হয়ে থাকে, তবে নির্বিঘ্নে স্বামী তাহার লিঙ্গ স্ত্রীলিঙ্গে প্রবেশ করাইবে। আর যদি ঐ রুপ কিছু নির্গত না হয় এবং স্ত্রী তেমন পুর্ণ যুবতি না হয়, বরং অল্প বয়সকা হয়, তবে স্বামী-স্ত্রী লিঙ্গে মুখের নালা বা তেল কিংবা তৈলাক্ত কোন জেলি মাখাইয়া লইয়া তারপর স্ত্রী লিঙ্গে প্রবেশ করাইবে। অনেক সময় স্ত্রী লিঙ্গ হইতে আঠাবত্ প্রদার্থ নির্গত হয়। ইহাতে উভয়ের লিঙ্গ পিচ্ছিল হয় এবংসহবাসের পথ সুগম হয়। এই অবস্থায় কিছু মাখাইবার প্রয়োজন হয় না। স্বামী স্মরণ রাখিবে, স্ত্রী অঙ্গে স্বীয় অঙ্গ সংযোগ করিয়া সহসা জোরে চাপ প্রয়োগ না করে ধীরে ধীরে প্রবেশ করাইবার চেষ্টা করিবে। খুব ব্যতিব্যস্ততা বা তাড়াহুড়া করা ঠিক নহে। তাহাতে বিপরিত হ ইতে পারে। পুরুষাঙ্গ প্রবিষ্ট হইবার পর স্বামী অঙ্গ সঞ্চালন করিবে। এই সময় স্ত্রীও স্বামীকে কিছুটা সহযোগীতা করিলে আনন্দের মাত্রাবৃদ্ধি পায়। অঙ্গ সঞ্চালনের সময় স্বামী লক্ষ্য করিবে যে, স্ত্রী ঘন না পাতলা সঞ্চালন পছন্দ করে। আর তাহার নিজেরই বা কিসে বেশী আনন্দ ও তৃপ্তি লাভ হয়। উভয়েই আনন্দ ও তৃপ্তির দিকে লক্ষ্য করিয়া কাজ করিবে। তারপর যখন স্বামীর বীর্যপাত হইবে এবং স্ত্রীরও বীর্যস্খলন ঘটিবে, তখন উভয়ে আবার সহবাসের শেষের দোয়াটি পড়িবে। পুরুষের একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা দরকার, তাহা হইল, প্রায় ক্ষেত্রে পুরুষের বীর্যপাত আগে হইয়া যায় এবং স্ত্রীদের চরম পুলক আসে পরে। ইহা একটি জটিল সমস্যা। কারণ পুরুষের বীর্যপাত হইবার পর সে অবসাদ গ্রস্থ হইয়া পড়ে। তাহা ছাড়া তাহার যৌনাঙ্গও সহবাসের অবস্থা হারাইয়া বসে। অথচ স্ত্রী তখন চরম উত্তেজনায়। এমন সময় স্বামী সহবাস বন্ধ করিয়া দিলে তাহা স্ত্রীর জন্য ভীষণ অসহ্যকর। ইহাতে স্বামীর উপর বিরক্তি, বিতূষ্ণা এবং তাচ্ছিল্লভাব জন্মিতে পারে। এদিকে খেয়াল রাখিয়া পুরুষদের বীর্যপাত হওয়ার পরও অঙ্গ সঞ্চালন যথাসাধ্য চালু রাখা ও স্ত্রীর বীর্যস্খলনে সাহায্য করতে হবে।
আমি এ বিষয়ে একটু ধারণা দেয়া হলো যদিও হাদিস থেকে বিভিন্ন আসনে সহবাস করার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তবে সহবাসের স্বাভাবিক পন্থা হলো এই যে, স্বামী উপরে থাকবে আর স্ত্রী নিচে থাকবে। প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই স্বাভাবিক পন্থা পরিলক্ষতি হয়। সর্বপরি এ দিকেই অত্যন্ত সুক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে আল কুরআনে। আয়াতের অর্থ হলোঃ "যখন স্বামী -স্ত্রীকে ঢেকে ফেললো তখন স্ত্রীর ক্ষীণ গর্ভ সঞ্চার হয়ে গেলো।" আর স্ত্রী যখন নিচে থাকবে এবং স্বামী তার উপর উপুড় হয়ে থাকবে তখনই স্বামীর শরীর দ্বারা স্ত্রীর শরীর ঢাকা পড়বে। তাছাড়া এ পন্থাই সর্বাধিক আরামদায়ক। এতে স্ত্রীরও কষ্ট সহ্য করতে হয়না এবং গর্ভধারণের জন্যেও তা উপকারী ও সহায়ক। বিখ্যাত চিকিতসা বিজ্ঞানী বু-আলী ইবনে সীনা তার অমর গ্রন্থ "কানুন" নামক বইয়ে এই পন্থাকেই সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে উলেখ করেছেন এবং 'স্বামী নিচে আর স্ত্রী উপরে' থাকার পন্থাকে নিকৃষ্ট পন্থা বলেছেন। কেননা এতে পুংলিংগে বীর্য আটকে থেকে দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আনন্দঘন মুহুর্তটা পরবর্তিতে বেদনার কারণ হয়ে না দাড়ায়। তাই ইসলামী জীবন বিধান মেনে চলুন আনন্দকে অনন্দ হিসেবে উপভোগ করুন। আল্লাহতা’আলা আমাদেরকে বিধান অনুযায়ী মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন। হযরত আলী (রাযি.) এর অসিয়ত :- হযরত আলী (রাযি.) তাঁর অসিয়ত নামায় লিখেছেন যে, সহবাসের ইচ্ছে হলে এই নিয়তে সহবাস করতে হবে যে, আমি ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবো। আমার মন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াবেনা আর জন্ম নেবে নেককার ও সত সন্তান। এই নিয়তে সহবাস করলে তাতে সওয়াব তো হবেই সাথে সাথে উদ্যেশ্যও পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। >>স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে। >>মুস্তাহাব হলো" বিসমিল্লাহ" বলে সহবাস শুরু করা। ভুলে গেলে যখন বীর্যপাতের পূর্বে মনে মনে পড়ে নেবে। >>সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করাও আল্লাহর রাসুলের সুন্নত। >>সকল জাত দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা উচিত। উল্য্যে যে, ধুমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। >>আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা। >>কেবলামূখী না হওয়া। >>একেবারে উলঙ্গ হবে না। >>বীর্যপাতের পর ততক্ষণাত বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং স্ত্রীর বীর্যপাত হওয়া পর্যন্তঅপো করবে। >>বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধরিত দোয়া পড়বে। কেননা যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সে শয়তানের প্রভাব মুক্ত হবে নিয়ত ঠিক করুন।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ