যে ব্যক্তি ইসলামের ভিতরে উত্তম কোন সুন্নাত চালু করল, তার জন্য ছাওয়াব রয়েছে, এই হাদীছকে যে সমস্ত বিদ্‌আতী তাদের বিদ্‌আতের পক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে, আমরা কিভাবে তাদের উত্তর দিব?

যে ব্যক্তি ইসলামের ভিতরে উত্তম কোন সুন্নাত চালু করল, তার জন্য ছাওয়াব রয়েছে, এই হাদীছকে যে সমস্ত বিদ্‌আতী তাদের বিদ্‌আতের পক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে, আমরা কিভাবে তাদের উত্তর দিব?
বিভাগ: 
Share

1 টি উত্তর

তাদের জবাবে আমরা বলব, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَ أَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا “যে ব্যক্তি ইসলামের ভিতরে উত্তম কোন সুন্নাত চালু করল, তার জন্য ছাওয়াব রয়েছে।” তিনি তো এও বলেছেন যে, عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَ كُلُّ ضَلَاةٍ فِى النَّارِ “তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরে হেদায়েত প্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাহর অনুরণ করবে এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে। আর তোমরা নতুন আবিস্কৃত বিষয় হতে সাবধান থাকবে। কারণ প্রতিটি নব আবিস্কৃত বিষয়ই বিদ্‌আত আর প্রতিটি বিদ্‌আতই গোমরাহী এবং প্রতিটি গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম।” প্রশ্নে বর্ণিত যে হাদীছটিকে বিদ্‌আতীরা দলীল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে, সেই হাদীছের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তা এই যে, মুযার গোত্রের কিছু অভাবী লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আগমণ করলে তিনি সাদকা করার প্রতি উৎসাহ দিলেন। এক ব্যক্তি থলে ভর্তি রূপা নিয়ে এসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সামনে হাজির হল। তখন তিনি বললেন, مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَاوَ أَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَاوَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا إِلىَ يَوْمِ القِيَامَةِ “যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে উত্তম কোন সুন্নাত চালু করল, তার জন্য ছাওয়াব রয়েছে, এবং তার পরে কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই সুন্নাহর উপর আমল করবে, তাদের সমপরিমাণ ছাওয়াব পাবে।” হাদীছের প্রেক্ষাপট থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, উত্তম সুন্নাত বলতে সুন্নাহর উপর নতুনভাবে আমল শুরু করাকে বুঝানো হয়েছে। নতুনভাবে কোন আমল তৈরী করার কথা বলা হয়নি। কেননা আল্লাহ এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো জন্য শরীয়তের কোন বিধান প্রবর্তন করা জায়েয নেই। কাজেই হাদীছের অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি যদি সুন্নাহর উপর আমল করে, তার আমল দেখে অন্যরাও যদি সেই সুন্নাহর উপর আমল করা শুরু করে, তাহলে প্রথম আমলকারী ব্যক্তি নিজে আমল করার ছাওয়াব পাওয়ার সাথে সাথে তাকে দেখে আমলকারীর অনুরূপ ছাওয়াব প্রাপ্ত হবে। অথবা হাদীছের উদ্দেশ্য হল, শরীয়ত সম্মত কোন ইবাদত পালনের মাধ্যম বা উপকরণ যেমন ধর্মীয় কিতাব রচনা করা, ইলম প্রচার করা, মাদরাসা নির্মাণ করা ইত্যাদি। এমন নয় যে, নতুন ইবাদত তৈরী করা। মানুষের ইচ্ছামত যদি শরীয়ত প্রবর্তন করা জায়েয হয়, তাহলে অর্থ এই হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবদ্দশায় ইসলাম পরিপূর্ণ হয়নি। কোন বিদআত প্রবর্তন করে তাকে হাসানাহ বা উত্তম বলে ধারণা করা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়। যেহেতু তিনি বলেনঃ প্রতিটি বিদ্‌আতই গোমরাহী। বিষয়/প্রশ্নঃ (৮৮) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ ঈমান লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ