কেউ বাঁচার জন্য খায়, কেউ খাওয়ার জন্যই বেঁচে থাকে! চারপাশে চোখ মেললেই বহু রকম খাদকের দেখা মেলে। আপনার বাড়িতে খুঁজলেই হয়তো পেয়ে যেতে পারেন কয়েক রকম খাদক! 

বিশ্বাস হচ্ছে না? শুরু করা যাক আপনার সন্তানকে দিয়েই। ভাবছেন ও আবার কী এমন খায় যে ওর দিকেও নজর দিতে হবে? হ্যাঁ, বেশিরভাগই কম-বেশি খাদক! তবে একেকজনের খাবার একেক রকম। যেমন আপনি যখন খাদকের তালিকায় আপনার সন্তানের নাম দেখে চমকে উঠেছেন, তেমনি চমকে উঠবেন তার খাদ্য তালিকা দেখলে। 


সে আপনার ঘরের খাদ্যদ্রব্য নিঃশেষ করে না, সে নিঃশেষ করে তার স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ। তাও এক বসায়! এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, আপনার সন্তানকে খাদকের তালিকায় রাখা যায় কিনা? কেননা যে স্মার্টফোনে একবার চার্জ দিয়ে আপনি কমপক্ষে দুদিন অনায়াসে চলতে পারেন, সেটা যদি সে এক বসায় শেষ করে ফেলে তাকে কি খাদক না বলে উপায় আছে?


ত্রাণের চাল, ডাল, তেল খাদক অনেক দেখেছেন। দেখেছেন বন, জঙ্গল কিংবা পাহাড় খাদক। নদী খাদকও নেহায়েত কম নেই এদেশে। তাই বলে রোগী খাদক? হ্যাঁ, এদেশে খাদকের যেমন অভাব নেই তেমনি তাদের খাবারেও আছে বৈচিত্র্য। তাই রোগী খাদকের মতো হাসপাতালের খবরও মিডিয়ায় দেখতে পাই আমরা। অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মাধ্যমে রোগী কেনাবেচার বিরল চিত্র দেখেও আমরা আর অবাক হই না।

কথায় আছে কাঁটায় কাঁটা তুলে। তেমনি খাদ্যই খাদ্যের নেশা কাটাতে পারে। লকডাউন সিজন ওয়ান মানে গত বছরের লকডাউনে মানুষ যখন দীর্ঘ বেকারত্বে আয়-রুজি হারিয়ে দিশেহারা, সে সময় এক শ্রেণির মানুষ ‘জিলেপি’ বানানোর প্রতিযোগিতায় মত্ত ছিলেন। অর্থাৎ দু’বেলা ভালো-মন্দ খেয়ে ‘এক্সট্রা’ হিসাবে জিলেপি খাওয়ার বিলাসিতা দেখিয়েছেন। সেসব খাবারের ছবি যখন ফেসবুকে গর্বভরে আপলোড করেছেন, তখন অনেকেই অনেক ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ‘খেয়ে’ শিক্ষা লাভ করেছেন। যা এবারের লকডাউনে প্রতিফলিত হয়েছে। এবার আর সে ধরনের খাবারের বিলাসবহুল ছবি ফেসবুকে খুব একটা দেখা যায়নি। অর্থাৎ কমেন্ট খেয়ে অনেকেই খাবারের ছবি আপলোড থেকে বিরত থেকেছেন।


হুমায়ূন আহমেদের ‘খাদক’ নাটকে দেখা যায়, এক ব্যক্তি আস্ত এক গরু খেয়ে ফেলতে পারে! আর সে দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোক আসছে। এখন গরুর আস্ত খামার খেয়ে ফেললেও কেউ সেই খাদককে দেখতে আসেন না। কারণ যুগে যুগে কম খাদক তো আর দেখিনি আমরা। 


তবে মজার ব্যাপার হলো এসব খাদক শুধু গিলতেই পারে, খেতে পারে না! আর যারা খেতে পারে, তারা খাবারের সংকটে ভোগে! আবার যারা পাহাড়, বন, নদী খেয়ে ফেলেন তারা সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও পেট ভরে খেতে পারেন না! হƒদরোগ, উচ্চ রক্ত চাপ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগ কিংবা রোগ হওয়ার ভয়ে শাক পাতা (ভেজিটেবলস) খেয়েই জীবনধারণ করেন। তাহলে এই প্রাকৃতিক পাহাড় খেয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার পাহাড় গড়ে লাভ কী?


আবার ধরুন চাকরি খাদকের কথা। কথায় কথায় অন্যের চাকরি খান তারা। আছে দূষিত বায়ু খাদক! আর এ খাদক আমরা সবাই। নেহাত অনিচ্ছায় এ খাবার খেতে হয় রোজ আমাদের। আরও কত কী খাচ্ছি আমরা! গালি খাই, ভেজাল খাই, প্রতিশ্র“তি খাই, ধমক খাই, খাবি খাই। মোদ্দাকথা আমাদের জীবনে খাদ্য এবং খাদকের কোনো অন্ত নাই।

AHAmdadofficial
প্রকাশের সময়
bissoy.com এ মানসম্মত উত্তর দিয়ে জিতে নিন উপহার। উপহারের অর্থমূল্য নিয়ে নিন মোবাইল ব্যাংকিং এ। বিস্তারিত দেখুন এখানে
Download Bissoy Answers App Bissoy Answers