বিজ্ঞাপন

সূরা ফাতিহার ফজিলত?

‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ শুরু, আরম্ভ, উদ্বোধন, উদঘাটন প্রভৃতি। কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহাকে সূরাতুল হামদ, উম্মুল কুরআন, আসসাবউল মাছানি, ওয়াকিয়াহ, সূরাতুল কাফিয়্যাহ, সূরাতুল কানয, সূরাতুশ শিফা ও সূরাতুল আসাস নামেও অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহার প্রত্যেকটি বাক্য ও শব্দ উচ্চারণ করা সহজ। যে কেউ ইচ্ছা করলে সূরা ফাতিহা সহজে মুখস্থ করতে পারে। মক্তব, মাদরাসা ও মসজিদে কুরআনুল কারিমের প্রথম সবক সূরা ফাতিহার মাধ্যমে দেয়া হয়। সালাত আদায়ের জন্য কুরআনুল কারিম থেকে প্রথম যে দশটি সূরা মক্তব-মাদরাসায় পড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা প্রথম পড়ানো হয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে দান করেছি পুনঃপুনঃ আবৃত্তির সাতটি আয়াত।’ (সূরা হিজর: ৮৭)। বেশির ভাগ মুফাসসিরে কুরআনের অভিমত হলো, পুনঃপুনঃ পাঠের জন্য যে সাতটি আয়াতে কালিমার ইঙ্গিত সূরা হিজরের মধ্যে এসেছে তা সূরা ফাতিহার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক নামাজে সূরা ফাতিহা পুনঃপুনঃ পাঠ করা হয় বলে এ সূরাকে ‘সূরাতুস সালাত (নামাজের সূরা)ও বলা হয়। এ সূরার সাতটি আয়াতের প্রথম চারটি আয়াতে আল্লাহর প্রশংসা এবং শেষ তিনটি আয়াতে বান্দার প্রার্থনার কথা বর্ণনা করা রয়েছে।

হজরত আবু সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা রা: বর্ণিত হয়েছে। একদা হজরত রাসূল সা: বললেন, আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শিক্ষা দেবো না? তারপর যখন মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শেখাবার কথা বলেছিলেন? তিনি বললেন, তা হলো সূরা ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’। এটিই সেই সাতটি পুনঃ আয়াত এবং আমাকে প্রদত্ত মহা কুরআন। (বুখারি)। হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, এক সময় জিব্রাঈল আ: নবী করিম সা:-এর কাছে বসা অবস্থায় উপর দিক থেকে একটি দরজা খোলার আওয়াজ শুনে উপর দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন, আকাশের এ দরজাটি আগে আর কখনো খোলা হয়নি। নবী করিম সা: বললেন, ওই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা নেমে আসতে দেখলাম। জিব্রাঈল আ: বললেন, এই ফেরেশতা জমিনে এর আগে আর কখনো নামেনি। নবী করিম সা: বললেন, ওই ফেরেশতা আমাকে বলল, দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। যা আপনার আগে কোনো নবী আ:-কে দেয়া হয়নি। তা হলো সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। (মুসলিম)।

সূরা ফাতিহার ফজিলতের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। ‘খাজিনাতুল আসরার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করে ফরজ নামাজ আদায়ের আগে কেউ যদি বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকলে সন্তান হবে, বেকার থাকলে চাকরি হবে, ঋণ থাকলে ঋণ পরিশোধের উপায় হয়ে যাবে, সম্পদহীন থাকলে সম্পদ লাভ হবে, অসুস্থ থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে ও বিপদাপন্ন হলে উদ্ধার পেয়ে যাবে’। হজরত আলী রা: বলেছেন, কোনো বিপদে পতিত ব্যক্তি এক হাজার বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ওই ব্যক্তির আর বিপদ থাকতে পারে না। হজরত ইমাম জাফর সাদেক রা: বলেছেন, ‘৪১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে খাওয়ালে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে’। (তাওয়ারিখে মদিনা)। এ ছাড়া কুরআনের একটি হরফ বুঝে পাঠ করলে ১০টি নেকি লাভ হয়। সূরা ফাতিহায় ১২৫টি হরফ রয়েছে। ১২৫টি হরফ যিনি পাঠ করবেন তার আমল নামায় ১২৫০টি নেকি দান করা হয়।


আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে উক্ত বিষয়ে আমল করা, দ্বীনের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করক। আমিন।

‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ শুরু, আরম্ভ, উদ্বোধন, উদঘাটন প্রভৃতি। কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহাকে সূরাতুল হামদ, উম্মুল কুরআন, আসসাবউল মাছানি, ওয়াকিয়াহ, সূরাতুল কাফিয়্যাহ, সূরাতুল কানয, সূরাতুশ শিফা ও সূরাতুল আসাস নামেও অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহার প্রত্যেকটি বাক্য ও শব্দ উচ্চারণ করা সহজ। যে কেউ ইচ্ছা করলে সূরা ফাতিহা সহজে মুখস্থ করতে পারে। মক্তব, মাদরাসা ও মসজিদে কুরআনুল কারিমের প্রথম সবক সূরা ফাতিহার মাধ্যমে দেয়া হয়। সালাত আদায়ের জন্য কুরআনুল কারিম থেকে প্রথম যে দশটি সূরা মক্তব-মাদরাসায় পড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা প্রথম পড়ানো হয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে দান করেছি পুনঃপুনঃ আবৃত্তির সাতটি আয়াত।’ (সূরা হিজর: ৮৭)। বেশির ভাগ মুফাসসিরে কুরআনের অভিমত হলো, পুনঃপুনঃ পাঠের জন্য যে সাতটি আয়াতে কালিমার ইঙ্গিত সূরা হিজরের মধ্যে এসেছে তা সূরা ফাতিহার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক নামাজে সূরা ফাতিহা পুনঃপুনঃ পাঠ করা হয় বলে এ সূরাকে ‘সূরাতুস সালাত (নামাজের সূরা)ও বলা হয়। এ সূরার সাতটি আয়াতের প্রথম চারটি আয়াতে আল্লাহর প্রশংসা এবং শেষ তিনটি আয়াতে বান্দার প্রার্থনার কথা বর্ণনা করা রয়েছে।

হজরত আবু সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা রা: বর্ণিত হয়েছে। একদা হজরত রাসূল সা: বললেন, আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শিক্ষা দেবো না? তারপর যখন মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শেখাবার কথা বলেছিলেন? তিনি বললেন, তা হলো সূরা ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’। এটিই সেই সাতটি পুনঃ আয়াত এবং আমাকে প্রদত্ত মহা কুরআন। (বুখারি)। হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, এক সময় জিব্রাঈল আ: নবী করিম সা:-এর কাছে বসা অবস্থায় উপর দিক থেকে একটি দরজা খোলার আওয়াজ শুনে উপর দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন, আকাশের এ দরজাটি আগে আর কখনো খোলা হয়নি। নবী করিম সা: বললেন, ওই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা নেমে আসতে দেখলাম। জিব্রাঈল আ: বললেন, এই ফেরেশতা জমিনে এর আগে আর কখনো নামেনি। নবী করিম সা: বললেন, ওই ফেরেশতা আমাকে বলল, দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। যা আপনার আগে কোনো নবী আ:-কে দেয়া হয়নি। তা হলো সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। (মুসলিম)।

সূরা ফাতিহার ফজিলতের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। ‘খাজিনাতুল আসরার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করে ফরজ নামাজ আদায়ের আগে কেউ যদি বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকলে সন্তান হবে, বেকার থাকলে চাকরি হবে, ঋণ থাকলে ঋণ পরিশোধের উপায় হয়ে যাবে, সম্পদহীন থাকলে সম্পদ লাভ হবে, অসুস্থ থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে ও বিপদাপন্ন হলে উদ্ধার পেয়ে যাবে’। হজরত আলী রা: বলেছেন, কোনো বিপদে পতিত ব্যক্তি এক হাজার বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ওই ব্যক্তির আর বিপদ থাকতে পারে না। হজরত ইমাম জাফর সাদেক রা: বলেছেন, ‘৪১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে খাওয়ালে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে’। (তাওয়ারিখে মদিনা)। এ ছাড়া কুরআনের একটি হরফ বুঝে পাঠ করলে ১০টি নেকি লাভ হয়। সূরা ফাতিহায় ১২৫টি হরফ রয়েছে। ১২৫টি হরফ যিনি পাঠ করবেন তার আমল নামায় ১২৫০টি নেকি দান করা হয়।


আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে উক্ত বিষয়ে আমল করা, দ্বীনের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করক। আমিন।

জিজ্ঞাসা করেছেন
বিজ্ঞাপন
bissoy.com এ মানসম্মত উত্তর দিয়ে জিতে নিন উপহার। উপহারের অর্থমূল্য নিয়ে নিন মোবাইল ব্যাংকিং এ। বিস্তারিত দেখুন এখানে