বিজ্ঞাপন

মেমোরি কার্ড কেনার আগে জেনে নিন মেমোরি কার্ড সম্পর্কে সকল তথ্য

 বাজারে নকল মেমরি কার্ডের ভিড়ে প্রয়োজনীয়তা বুঝে আসল মেমরি কার্ডটি কেনা প্রয়োজন। মেমরি কার্ডের এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়েই এই লেখা।মেমরি কার্ড

মেমরি কার্ড হচ্ছে এক ধরনের সেমিকন্ডাক্টরভিত্তিক সেকেন্ডারি মেমরি। এটি এমন এক ধরনের মেমরি যা বর্তমানে মোবাইল ডিভাইসগুলো যেমন মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ক্যামেরা, টেলিভিশন, মিডিয়া প্লেয়ার ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়।মেমরি সমস্যার সমাধান

সিস্টেম এবং বিভিন্ন ডিভাইসের স্পেস নিয়ে ইদানীং অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। বিভিন্ন ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, আইপড বা এমপিথ্রি প্লেয়ার, ভিডিও প্লেয়ার ইত্যাদিতে সেকেন্ডারি সেমিকন্ডাক্টর মেমরি ব্যবহার করা হয়। কোন ডিভাইস কি ধরনের মেমরি সাপোর্ট করে এবং কোন মেমরি সবচেয়ে ভালো চলে সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় আসলে সমস্যায় পড়েন অনেকে। এজন্য প্রথমেই জেনে নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট ডিভাইস কোন ধরনের মেমরি সাপোর্ট করে। ডিভাইসটি কি কোনো মেমরি কার্ড সাপোর্ট করে নাকি রম সাপোর্ট করে তা আগেই জেনে নিতে হবে। ডিভাইসের মেমরি কোনটা তা নিশ্চিত করার পর মেমরি কার্ডের প্রকারভেদ কোনটি তা জানতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ম্যানুয়াল কাজে লাগতে পারে। অবশ্য ইন্টারনেট থেকেও মেমরি কার্ডের ধরন খুঁজে বের করা সম্ভব।এসডি কার্ড

যে কার্ডের ব্যবহার এখন সবচেয়ে বেশি হয় তা হচ্ছে এসডি কার্ড। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে নানা রকমের প্লেয়ার এবং ডিজিটাল ক্যামেরা সব কিছুতেই এখন এসডি কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সিএফ কার্ডকে সরিয়ে এখনকার ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরাতেও এসডি কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এসডি কার্ড এত জনপ্রিয় হবার মূল কারণ হচ্ছে এর ফর্ম ফ্যাক্টর কম। সেই সাথে এর সহজলভ্যতাও বিবেচ্য। এসডি কার্ড তিনটি ফর্ম ফ্যাক্টরের হয়। এগুলো হচ্ছে- এসডি কার্ড, মিনি এসডি কার্ড এবং মাইক্রো এসডি কার্ড। মাইক্রো এসডি কার্ড এই কার্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তবে মাইক্রো এসডি কার্ডের সাথে অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করে যেকেউ এসডি কার্ডের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন। অর্থাৎ কারো ডিভাইসে যদি এসডি কার্ডের সাপোর্ট থাকে এবং তার কাছে যদি একটি মাইক্রো এসডি কার্ড থাকে তাহলে নতুন করে এসডি কার্ড না কিনেই শুধু একটি অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করে ডিভাইস চালানো সম্ভব। মিনি এসডি কার্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।এমএমসি কার্ড

সাধারণত আগে মোবাইল ফোনে এ কার্ড বেশি ব্যবহার করা হতো। বিশেষ করে নকিয়া মোবাইল ফোনে এ কার্ড জনপ্রিয়তা পায়। একসময় এসডি কার্ডের চেয়ে এ কার্ডের দাম কম থাকায় এসডি কার্ডের পরিবর্তে এ কার্ড ব্যবহার করা হতো। তবে এখন এ কার্ডের ব্যবহার সীমিত হয়ে এসেছে। এসডি কার্ডের স্লটে পরিবর্তন হিসেবে এ কার্ড ব্যবহার করা যেত। তবে সেক্ষেত্রে এমএমসি কার্ডের সেকেন্ড জেনারেশনের কার্ড ব্যবহার করতে হবে।এসডিএইচএস এবং এসডিএক্সসি

মাইক্রো এসডি কার্ডের উপরে অনেকসময় এসডিএইচএস কিংবা এসডিএক্সসি লেখা থাকে। এটি আলাদা ফরম্যাট প্রকাশ করে, যার মাধ্যমে ঠিক কি পরিমাণের ডাটা স্টোর করতে সক্ষম তা বুঝিয়ে থাকে। এসডিএইচসি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সিকিউর ডিজিটাল হাই ক্যাপাসিটি যা ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত ডাটা স্টোর করতে সক্ষম এবং এসডিএক্সসি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সিকিউর ডিজিটাল এক্সটেনডেড ক্যাপাসিটি যা ৬৪ গিগাবাইট এবং এর উপরে ডাটা ধারণ করতে সক্ষম।মেমরি কার্ডের ক্লাস

কোন কার্ডটি সর্বোত্তম হবে তা জানার জন্য এর গতি (স্পিড) ক্যাটাগরি সম্পর্কেও জানতে হবে। স্পিড এর দিক থেকে মেমোরি কার্ডগুলোকে সাধারণত ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথাক্রমে ক্লাস ২, ক্লাস ৪, ক্লাস ৬, ক্লাস ১০, ইউএইচএস ১ এবং ইউএইচএস ৩। এসডি কার্ডে এর ক্লাস স্পিড রেট গোল করে নাম্বারিং করা থাকে। কার্ড স্পিড রেটিং যতো বেশি থাকে সেটি ততো দ্রুতগতিতে ফাইল রিড ও রাইট করতে পারে। যেমন একটি ক্লাস ৬ এর কার্ড ৬ মেগাবাইটস পার সেকেন্ড স্পিড সমর্থন করতে পারে, এমনিভাবে ক্লাস ১০ মেমরি কার্ড ১০ মেগাবাইটস পার সেকেন্ডে গতিশীল হয়। কিন্তু একটি ইউএইচএস মানের কার্ডে যাকে আলট্রা হাইস্পিডও বলা হয় তা ৩২০ মেগাবাইটস পার সেকেন্ড পর্যন্ত গতিশীল হতে পারে।কোন মেমরি উপযুক্ত

ব্যবহারকারী যদি ডাটা স্টোর যেমন মুভি, গান ও ছবি সংরক্ষণের জন্য একটি মেমরি কার্ড ব্যবহার করতে চান তাহলে ক্লাস ৪ থেকে এর উপরের যেকোনো কার্ড কিনতে পারেন। এতে কোনো অসুবিধা হবে না। এখন কেউ যদি এইচডি রেকর্ডিং করতে চান এবং সেই রেকর্ডিং কার্ডে সংরক্ষণ করতে চান তাহলে কমপক্ষে ক্লাস ৬ এর মেমরি কেনা উচিত। অন্যথায় রেকর্ডিং করার সময় অনেক ফ্রেম সংরক্ষণ হতে নাও পারে। আবার ভিডিওটি চালানোর সময় আটকে যেতে পারে বা ভিডিও এবং সাউন্ড আগে পিছে হয়ে যেতে পারে। তাই এইচডি মানের ভিডিও রেকর্ডিং ও দেখার জন্য সর্বনিম্ন ক্লাস ৬ কার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। এরপর কেউ যদি ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং করতে চান এবং সাথে সাথে যদি ফটোও ক্যাপচার করতে চান সেক্ষেত্রে কমপক্ষে একটি ইউএইচএস ১ মেমরি কেনা উচিৎ। স্মার্টফোনের পাশাপাশি ক্যামেরাতে এসডি কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আবার অনেকে তাদের ফোনের সকল অ্যাপস মেমরি কার্ডে মুভ করে ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে কমপক্ষে একটি ক্লাস ১০ মেমরি কার্ড হওয়া প্রয়োজন।সহজে আসল মেমরি কার্ড চেনা

আসল অর্থাৎ অরিজিনাল মেমরি কার্ড চেনার সবথেকে সহজ নিয়ম হলো এতে ব্র্যান্ডের নামটি খোদাই করে লেখা থাকে। ট্রান্সসেন্ড, স্যানডিস্ক, অ্যাপাচার, কিংস্টন ব্র্যান্ডের কার্ডগুলো বাজারে চলছে বেশি। সবচেয়ে বেশি স্যামসাং ব্র্যান্ডের মেমরি পাওয়া গেলেও সেটি আসল কিনা সন্দেহ থাকে। কোনো কোনো মেমরি কার্ডের সাথে একবছর ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। তাই এ ধরণের মেমরি কার্ড কেনাই ভালো। তবে যে ব্র্যান্ডেরটাই কেনা হোক না কেনো সেটি যাচাই করে কেনা ভালো।বাজেটের মধ্যে পারফেক্ট মেমরি

গতি ও স্টোরেজের কথা বিবেচনা করে ব্যবহারকারীর কোন মেমরিটি প্রয়োজন তা আগে জানতে হবে। এরপর বাজেট অনুযায় মেমরি কিনতে হবে। বাজারে বর্তমানে ৪ গিগাবাইটের মেমরি কার্ড ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যায়। ৮ গিগাবাইটের মেমরি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ১৬ গিগাবাইটের মেমরি কার্ড ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, ৩২ গিগাবাইটের মেমরি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা ও ৬৪ গিগাবাইটের মেমরি ১২০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে এখন বাজারে কিছু নিম্নমানের ব্র্যান্ডের ১২৮ গিগাবাইটের মেমরি কার্ডও পাওয়া যায়। তবে এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন আছে।হারানো ফাইল ফিরে পাওয়া

তথ্য স্থানান্তর করার সময় মেমরি কার্ড হঠাৎ খুলে নেওয়া হলে বা কোনোভাবে সংযোগ বিছিন্ন হলে সেটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে অকেজো হতে পারে। আবার অনেকসময় ভাইরাসের কারণেও অচল হয়ে যেতে পারে প্রয়োজনীয় ডাটা সম্বলিত মেমরি কার্ডটি। নানাভাবে অকেজো মেমরি কার্ড সচল করা গেলেও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং বাহ্যিকভাবে নষ্ট প্রায় কার্ডকে ঠিক করতে ডাটা রিকোভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। বেশিরভাগ সময়েই সেটি সম্ভব হলেও শতভাগ ডাটা ফিরে পাওয়া সম্ভব এমনটি বলা যাবে না।

মনে রাখতে হবে, যে মেমরি কার্ড রিকোভার করতে চান ওই মেমরি কার্ড থেকে অন্য কিছু মুছে ফেলা যাবে না কিংবা নতুন করে কোনো ফাইল রাখা যাবে না। মেমরি কার্ডে আগের মুছে যাওয়া স্থানে নতুন কিছু না রাখলে তা সেভাবেই থাকে সাধারণত, কারন একবার নতুন করে কিছু যুক্ত করলেই কার্ডে খালি স্মৃতিতে আগের ডাটাগুলো আর থাকবেনা। মেমরি কার্ড থেকে ছবি কিংবা ডাটা মুছে গেলে তা ফিরিয়ে আসতে সবচেয়ে কার্যকরী সফটওয়্যার হলো রিকোভা। http://www.piriform.com/recuva লিংক থেকে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। ডাউনলোড হয়ে গেলে সফটওয়্যারটি ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টল হয়ে গেলে সফটওয়্যারটি চালু করতে হবে। এরপর একটি তালিকা দেখাবে। এই তালিকায় ছবি, ডাটা, গান, মুভি এমন অনেক কিছুই থাকবে, এখান থেকে যে ধরণের ফাইল রিকোভার করতে চান সেটি নির্বাচন করে দিতে হবে। একাধিক ফরম্যাটের ফাইল নির্বাচন করা যাবে। এরপর পরের ধাপে যেতে নিচের নেক্সট বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার মুছে যাওয়া ফাইলগুলো কোন ফোল্ডারে ছিলো তা নির্বাচন করে দিতে হবে। এখন নেক্সট ক্লিক করলে মেমরি কার্ডের নির্দিষ্ট করা ফোল্ডার স্ক্যান করতে শুরু করবে সফটওয়্যারটি। ফাইলগুলো স্ক্যান শেষ হলে ‘রিকোভার’ বাটনে ক্লিক করে সেভ হওয়ার স্থান দেখিয়ে দিতে হবে। এবার অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ফাইলগুলো রিকোভার হতে বেশ সময় লাগবে । ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট দিবেন । আমি নতুন তাই কোনো ভুল হলে ক্ষমা করবেন ।

 

 বাজারে নকল মেমরি কার্ডের ভিড়ে প্রয়োজনীয়তা বুঝে আসল মেমরি কার্ডটি কেনা প্রয়োজন। মেমরি কার্ডের এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়েই এই লেখা।মেমরি কার্ড

মেমরি কার্ড হচ্ছে এক ধরনের সেমিকন্ডাক্টরভিত্তিক সেকেন্ডারি মেমরি। এটি এমন এক ধরনের মেমরি যা বর্তমানে মোবাইল ডিভাইসগুলো যেমন মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ক্যামেরা, টেলিভিশন, মিডিয়া প্লেয়ার ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়।মেমরি সমস্যার সমাধান

সিস্টেম এবং বিভিন্ন ডিভাইসের স্পেস নিয়ে ইদানীং অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। বিভিন্ন ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, আইপড বা এমপিথ্রি প্লেয়ার, ভিডিও প্লেয়ার ইত্যাদিতে সেকেন্ডারি সেমিকন্ডাক্টর মেমরি ব্যবহার করা হয়। কোন ডিভাইস কি ধরনের মেমরি সাপোর্ট করে এবং কোন মেমরি সবচেয়ে ভালো চলে সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় আসলে সমস্যায় পড়েন অনেকে। এজন্য প্রথমেই জেনে নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট ডিভাইস কোন ধরনের মেমরি সাপোর্ট করে। ডিভাইসটি কি কোনো মেমরি কার্ড সাপোর্ট করে নাকি রম সাপোর্ট করে তা আগেই জেনে নিতে হবে। ডিভাইসের মেমরি কোনটা তা নিশ্চিত করার পর মেমরি কার্ডের প্রকারভেদ কোনটি তা জানতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ম্যানুয়াল কাজে লাগতে পারে। অবশ্য ইন্টারনেট থেকেও মেমরি কার্ডের ধরন খুঁজে বের করা সম্ভব।এসডি কার্ড

যে কার্ডের ব্যবহার এখন সবচেয়ে বেশি হয় তা হচ্ছে এসডি কার্ড। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে নানা রকমের প্লেয়ার এবং ডিজিটাল ক্যামেরা সব কিছুতেই এখন এসডি কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সিএফ কার্ডকে সরিয়ে এখনকার ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরাতেও এসডি কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এসডি কার্ড এত জনপ্রিয় হবার মূল কারণ হচ্ছে এর ফর্ম ফ্যাক্টর কম। সেই সাথে এর সহজলভ্যতাও বিবেচ্য। এসডি কার্ড তিনটি ফর্ম ফ্যাক্টরের হয়। এগুলো হচ্ছে- এসডি কার্ড, মিনি এসডি কার্ড এবং মাইক্রো এসডি কার্ড। মাইক্রো এসডি কার্ড এই কার্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তবে মাইক্রো এসডি কার্ডের সাথে অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করে যেকেউ এসডি কার্ডের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন। অর্থাৎ কারো ডিভাইসে যদি এসডি কার্ডের সাপোর্ট থাকে এবং তার কাছে যদি একটি মাইক্রো এসডি কার্ড থাকে তাহলে নতুন করে এসডি কার্ড না কিনেই শুধু একটি অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করে ডিভাইস চালানো সম্ভব। মিনি এসডি কার্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।এমএমসি কার্ড

সাধারণত আগে মোবাইল ফোনে এ কার্ড বেশি ব্যবহার করা হতো। বিশেষ করে নকিয়া মোবাইল ফোনে এ কার্ড জনপ্রিয়তা পায়। একসময় এসডি কার্ডের চেয়ে এ কার্ডের দাম কম থাকায় এসডি কার্ডের পরিবর্তে এ কার্ড ব্যবহার করা হতো। তবে এখন এ কার্ডের ব্যবহার সীমিত হয়ে এসেছে। এসডি কার্ডের স্লটে পরিবর্তন হিসেবে এ কার্ড ব্যবহার করা যেত। তবে সেক্ষেত্রে এমএমসি কার্ডের সেকেন্ড জেনারেশনের কার্ড ব্যবহার করতে হবে।এসডিএইচএস এবং এসডিএক্সসি

মাইক্রো এসডি কার্ডের উপরে অনেকসময় এসডিএইচএস কিংবা এসডিএক্সসি লেখা থাকে। এটি আলাদা ফরম্যাট প্রকাশ করে, যার মাধ্যমে ঠিক কি পরিমাণের ডাটা স্টোর করতে সক্ষম তা বুঝিয়ে থাকে। এসডিএইচসি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সিকিউর ডিজিটাল হাই ক্যাপাসিটি যা ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত ডাটা স্টোর করতে সক্ষম এবং এসডিএক্সসি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সিকিউর ডিজিটাল এক্সটেনডেড ক্যাপাসিটি যা ৬৪ গিগাবাইট এবং এর উপরে ডাটা ধারণ করতে সক্ষম।মেমরি কার্ডের ক্লাস

কোন কার্ডটি সর্বোত্তম হবে তা জানার জন্য এর গতি (স্পিড) ক্যাটাগরি সম্পর্কেও জানতে হবে। স্পিড এর দিক থেকে মেমোরি কার্ডগুলোকে সাধারণত ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথাক্রমে ক্লাস ২, ক্লাস ৪, ক্লাস ৬, ক্লাস ১০, ইউএইচএস ১ এবং ইউএইচএস ৩। এসডি কার্ডে এর ক্লাস স্পিড রেট গোল করে নাম্বারিং করা থাকে। কার্ড স্পিড রেটিং যতো বেশি থাকে সেটি ততো দ্রুতগতিতে ফাইল রিড ও রাইট করতে পারে। যেমন একটি ক্লাস ৬ এর কার্ড ৬ মেগাবাইটস পার সেকেন্ড স্পিড সমর্থন করতে পারে, এমনিভাবে ক্লাস ১০ মেমরি কার্ড ১০ মেগাবাইটস পার সেকেন্ডে গতিশীল হয়। কিন্তু একটি ইউএইচএস মানের কার্ডে যাকে আলট্রা হাইস্পিডও বলা হয় তা ৩২০ মেগাবাইটস পার সেকেন্ড পর্যন্ত গতিশীল হতে পারে।কোন মেমরি উপযুক্ত

ব্যবহারকারী যদি ডাটা স্টোর যেমন মুভি, গান ও ছবি সংরক্ষণের জন্য একটি মেমরি কার্ড ব্যবহার করতে চান তাহলে ক্লাস ৪ থেকে এর উপরের যেকোনো কার্ড কিনতে পারেন। এতে কোনো অসুবিধা হবে না। এখন কেউ যদি এইচডি রেকর্ডিং করতে চান এবং সেই রেকর্ডিং কার্ডে সংরক্ষণ করতে চান তাহলে কমপক্ষে ক্লাস ৬ এর মেমরি কেনা উচিত। অন্যথায় রেকর্ডিং করার সময় অনেক ফ্রেম সংরক্ষণ হতে নাও পারে। আবার ভিডিওটি চালানোর সময় আটকে যেতে পারে বা ভিডিও এবং সাউন্ড আগে পিছে হয়ে যেতে পারে। তাই এইচডি মানের ভিডিও রেকর্ডিং ও দেখার জন্য সর্বনিম্ন ক্লাস ৬ কার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। এরপর কেউ যদি ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং করতে চান এবং সাথে সাথে যদি ফটোও ক্যাপচার করতে চান সেক্ষেত্রে কমপক্ষে একটি ইউএইচএস ১ মেমরি কেনা উচিৎ। স্মার্টফোনের পাশাপাশি ক্যামেরাতে এসডি কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আবার অনেকে তাদের ফোনের সকল অ্যাপস মেমরি কার্ডে মুভ করে ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে কমপক্ষে একটি ক্লাস ১০ মেমরি কার্ড হওয়া প্রয়োজন।সহজে আসল মেমরি কার্ড চেনা

আসল অর্থাৎ অরিজিনাল মেমরি কার্ড চেনার সবথেকে সহজ নিয়ম হলো এতে ব্র্যান্ডের নামটি খোদাই করে লেখা থাকে। ট্রান্সসেন্ড, স্যানডিস্ক, অ্যাপাচার, কিংস্টন ব্র্যান্ডের কার্ডগুলো বাজারে চলছে বেশি। সবচেয়ে বেশি স্যামসাং ব্র্যান্ডের মেমরি পাওয়া গেলেও সেটি আসল কিনা সন্দেহ থাকে। কোনো কোনো মেমরি কার্ডের সাথে একবছর ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। তাই এ ধরণের মেমরি কার্ড কেনাই ভালো। তবে যে ব্র্যান্ডেরটাই কেনা হোক না কেনো সেটি যাচাই করে কেনা ভালো।বাজেটের মধ্যে পারফেক্ট মেমরি

গতি ও স্টোরেজের কথা বিবেচনা করে ব্যবহারকারীর কোন মেমরিটি প্রয়োজন তা আগে জানতে হবে। এরপর বাজেট অনুযায় মেমরি কিনতে হবে। বাজারে বর্তমানে ৪ গিগাবাইটের মেমরি কার্ড ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যায়। ৮ গিগাবাইটের মেমরি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ১৬ গিগাবাইটের মেমরি কার্ড ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, ৩২ গিগাবাইটের মেমরি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা ও ৬৪ গিগাবাইটের মেমরি ১২০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে এখন বাজারে কিছু নিম্নমানের ব্র্যান্ডের ১২৮ গিগাবাইটের মেমরি কার্ডও পাওয়া যায়। তবে এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন আছে।হারানো ফাইল ফিরে পাওয়া

তথ্য স্থানান্তর করার সময় মেমরি কার্ড হঠাৎ খুলে নেওয়া হলে বা কোনোভাবে সংযোগ বিছিন্ন হলে সেটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে অকেজো হতে পারে। আবার অনেকসময় ভাইরাসের কারণেও অচল হয়ে যেতে পারে প্রয়োজনীয় ডাটা সম্বলিত মেমরি কার্ডটি। নানাভাবে অকেজো মেমরি কার্ড সচল করা গেলেও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং বাহ্যিকভাবে নষ্ট প্রায় কার্ডকে ঠিক করতে ডাটা রিকোভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। বেশিরভাগ সময়েই সেটি সম্ভব হলেও শতভাগ ডাটা ফিরে পাওয়া সম্ভব এমনটি বলা যাবে না।

মনে রাখতে হবে, যে মেমরি কার্ড রিকোভার করতে চান ওই মেমরি কার্ড থেকে অন্য কিছু মুছে ফেলা যাবে না কিংবা নতুন করে কোনো ফাইল রাখা যাবে না। মেমরি কার্ডে আগের মুছে যাওয়া স্থানে নতুন কিছু না রাখলে তা সেভাবেই থাকে সাধারণত, কারন একবার নতুন করে কিছু যুক্ত করলেই কার্ডে খালি স্মৃতিতে আগের ডাটাগুলো আর থাকবেনা। মেমরি কার্ড থেকে ছবি কিংবা ডাটা মুছে গেলে তা ফিরিয়ে আসতে সবচেয়ে কার্যকরী সফটওয়্যার হলো রিকোভা। http://www.piriform.com/recuva লিংক থেকে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। ডাউনলোড হয়ে গেলে সফটওয়্যারটি ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টল হয়ে গেলে সফটওয়্যারটি চালু করতে হবে। এরপর একটি তালিকা দেখাবে। এই তালিকায় ছবি, ডাটা, গান, মুভি এমন অনেক কিছুই থাকবে, এখান থেকে যে ধরণের ফাইল রিকোভার করতে চান সেটি নির্বাচন করে দিতে হবে। একাধিক ফরম্যাটের ফাইল নির্বাচন করা যাবে। এরপর পরের ধাপে যেতে নিচের নেক্সট বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার মুছে যাওয়া ফাইলগুলো কোন ফোল্ডারে ছিলো তা নির্বাচন করে দিতে হবে। এখন নেক্সট ক্লিক করলে মেমরি কার্ডের নির্দিষ্ট করা ফোল্ডার স্ক্যান করতে শুরু করবে সফটওয়্যারটি। ফাইলগুলো স্ক্যান শেষ হলে ‘রিকোভার’ বাটনে ক্লিক করে সেভ হওয়ার স্থান দেখিয়ে দিতে হবে। এবার অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ফাইলগুলো রিকোভার হতে বেশ সময় লাগবে । ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট দিবেন । আমি নতুন তাই কোনো ভুল হলে ক্ষমা করবেন ।

 

জিজ্ঞাসা করেছেন
বিজ্ঞাপন
bissoy.com এ মানসম্মত উত্তর দিয়ে জিতে নিন উপহার। উপহারের অর্থমূল্য নিয়ে নিন মোবাইল ব্যাংকিং এ। বিস্তারিত দেখুন এখানে