কলেজ ডিগ্রি না পেলেও যে ৮ জন বিলিয়ন ডলারের মালিক?
 (26734 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

1 Answer

 (26734 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

#9 মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ধনী হওয়ার জন্য লেখাপড়া করার উপদেশ দেয়া হয়। তবে বিশ্বে গত দুই দশকে প্রযুক্তি খাতে অবদান রেখে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে বেশি লেখাপড়ার দরকার হয়নি। প্রযুক্তি বিশ্বের এসব উদ্যেক্তারা আমাদের শিখিয়েছেন যে, বিত্তশালী হতে হলে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতাই কাজে দেয়না, পাশাপাশি প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষা। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যেখানে প্রযুক্তিবিদরা প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন আবিষ্কার নিয়ে আসছেন।

বিল গেটস এবং মার্ক যাকারবার্গ হচ্ছেন এ তালিকার সেরা উদাহরণ যারা তাদের শিক্ষা শেষ না করেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েন। এরপর তারা এমন উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন, যার মাধ্যমে খুব কম সময়েই তারা আয় করেছেন  কোটি কোটি ডলার।

যদিও এই যুগে শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবুও আমরা এখানে ৮ ধনকুবের প্রযুক্তিবিদের কর্ম নিয়ে আলোচনা করছি—যারা শিক্ষাগত ডিগ্রি অর্জন না করলেও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী অবদান রেখেছেন।

১. স্টিভ জবস- এ্যাপল

এ্যাপল আজকের বিশ্বের সবচেয়ে নামী কম্পিউটার ও মোবাইল গেজেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের শিক্ষা জীবন শেষ হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে । শিক্ষা ছেড়ে প্রযুক্তির আগ্রহ ও উদ্যোক্তার মননকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন আজকের এ্যাপল। আইপড ও আইফোন তৈরীতে ক্যন্সারও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অবশেষে ২০১১ সালের অসুস্থতার কাছে হেরে যান স্টিভ জবস।

২. বিল গেটস- মাইক্রোসফট

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেলস এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের। গেটস  ২০ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে দেন এবং তৈরী করেছেন মাইক্রোসফট। তার তৈরি অপরাটেটিং সিস্টেম বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয়  ও বহুল প্রচারিত কম্পিউটার সফটওয়ার ব্যবস্থাপনা। মাইক্রোসফট একটি মুখ্য পিসি এবং ল্যাপটপ অপারেটং সিস্টেম। আজকের তারিখে এটি বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম।

৩. মাইকেল ডেল- ডেল

ডেল প্রতিষ্ঠানের তৈরীকৃত পিসি (ব্যাক্তিগত কম্পিউটার) এবং ল্যাপটপ আজকের বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি ১৯ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে দেন এবং নিজের একটি ব্র্যান্ড করতে কাজে লেগে পড়েন। নিজস্ব একটি সার্ভার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে ডেল।

৪. ইভান উইলিয়ামস- টুইটার

ভালো কিছু টুইট করো এবং লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করবে—এই উক্তিতে বিশ্বাসী ইভান উইলিয়ামস ২০ বছর বয়সে তার শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করতে এবং একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তৈরী করতে যেটা আজকের বিশ্বে বহুল স্বীকৃত।

৫. ট্রেভিস কালানিক- ইউবার

ট্যাক্সি খুজে পাবার একটি অ্যাপ তৈরি করে বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছে ইউবার। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ট্যাক্সি খুজে পাওয়া যায় ইউবারে। তথ্য সংরক্ষনের এমন অভিনব ধারণা দিয়ে ব্যবসায় সফল হয়েছেন ইউবার আবিষ্কারক ট্রেভিস। ২১ বছর বয়সে তার শিক্ষা থেকে বিরতি নিয়ে চেষ্টা করেছেন ব্যতিক্রমি  কিছু করার। তিনি সফল।

৬. ল্যারি এলিসন- ওরাক্যল

মাইক্রোসফটের মতো না হলেও ব্যবহারের দিক থেকে ওরাকল ডাটাবেজ সফটওয়ার প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বড় ডাটাবেজ সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো ওরাকলের উপর নির্ভরশীল। ল্যারি যখন শিক্ষা ছেড়ে কিছু একটা করার জন্য কাজের দিকে মনোনিবেশ করেন তখন তার বয়স ২০। তিনি সফলভাবে ওরাক্যাল পরিচালনা করছেন এবং তিনি এখন বিশ্বেরে অন্যতম ধনকুবের।

৭. জান কউম- হোয়াটস আপ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একছত্র আধিপত্যতে যে ভাগ বসিয়েছে তার নাম হোয়াটস আপ। হোয়াটস আপকে বিশেষত তরুন সমাজ তাদের তথ্য ও অনুভূতি আদান-প্রদানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর বলে মূল্যায়ন করছে। জান কউম কলেজ ছেড়ে দিয়ে ইয়াহুতে যোগ দেন। এরপর গড়ে তোলেন হোয়াটস আপ। এর তুমুল জনপ্রিয়তায় ফেসবুক একে কিনে নেয় বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে।

৮. মার্ক যাকারবার্গ- ফেসবুক

যদি আপনি ‘দ্যা সোশাল নেটওয়ার্ক’ ছবিটি দেখে থাকেন তাহলে তো জানেন মার্ক যাকারবার্গ কে? যদি না ও দেখে থাকেন জেনে নিন –যখন তিনি হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন তখন তৈরী করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা ‘ফেসবুক’। যা এখন বিশ্বের সবচেয়ে নামী যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। ২০ বছর বয়সে হার্ভাডের লেখাপড়া শেষ না করেই যাকারবার্গ ফেসবুক নিয়ে মেতে ওঠেন এবং হয়ে ওঠেন আজকের অন্যতম ধনকুবের।

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় টপিকসমূহ

Loading...