ভূমিকম্প কেন হয়? ইসলামিক দৃষ্টিতে জানতে চাই? ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, প্লাবন, মহামারী, ভূমিকম্প ইত্যাদি। একে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে থাকি। এসব বিপর্যয় কেন সংঘটিত হয়? ইসলামিক দৃষ্টিতে জানতে চাই?
বিভাগ: 

3 টি উত্তর

মহানবী সা: কর্তৃক প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণীতেই এর জবাব পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি ও ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন এবং পাপ-পুণ্যের পথ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। কেউ যদি স্বেচ্ছায় পাপের পথে পা বাড়ায়, তাহলে আল্লাহর রীতি এই যে, তিনি তাকে সেই উপায়-উপকরণ ব্যবহার করার সুযোগ করে দেন। কাজেই মানুষের অবাধ্যতা ও গুনাহের কারণেই যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে, সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা: থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখন আমার উম্মতের মধ্যে পনেরো ধরনের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হবে তখন তাদের ওপর প্রাকৃতিক বিপর্যয় নাজিল হবে। রাসূল সা:কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল। এ বৈশিষ্ট্যগুলো কী? তিনি বলেন, ‘যখন গনিমতের সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় আমানতকে গনিমত মনে করা হবে। জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে। পুরুষেরা তাদের স্ত্রীদের আনুগত্য করতে শুরু করবে। ব্যক্তি তার মায়ের অবাধ্য হবে। বন্ধুর সাথে সদাচরণ করবে অথচ পিতামাতার সাথে অসদাচরণ করবে। মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা হবে। সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকেরা নেতা হবে। কোনো ব্যক্তিকে তার অপকর্মের ভয়ে সম্মান করা হবে। মদপান করা হবে। রেশমি পোশাক পরিধান করা হবে। গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র বৃদ্ধি পাবে। শেষের লোকেরা প্রথম যুগের লোকদেরকে অভিসম্পাত করবে; তখন তারা যেন গরম বাতাস প্রবাহিত হওয়া বা ভূমিধস সংঘটিত হওয়া বা চেহারা বিকৃতি হওয়ার অপেক্ষা করে’ (তিরমিজি-৪/৯৪)। মূলত মানবজাতির অকর্মই সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাদের সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি বলুন, তিনিই তোমাদের ওপর ঊর্ধ্ব দিক থেকে অথবা তোমাদের গায়ের নিচ থেকে কোনো শাস্তি প্রেরণ করতে অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে ও এক দলকে অপর দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম’ (সূরা আনয়াম ৬৪-৬৫)। আলোচ্য ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তব প্রমাণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেগুলোকে পৃথিবীবাসী সুনামি, সিডর, আইলা, ক্যাটরিনা, নার্গিস ইত্যাদি নামে পরিচিত করেছে। মুসলমানেরা আল্লাহর দ্বীন যথাযথ পালন না করার কারণে তাদের বিভিন্ন দেশ ও দলে বিভক্ত হওয়াও এ ভবিষ্যদ্বাণীর জ্বলন্ত প্রমাণ। তাদের মধ্যে ধর্মহীনতা পরিলক্ষিত হওয়ার কারণে অমুসলিম দেশের দ্বারা আক্রান্ত হওয়াও এর বাস্তব উদাহরণ। উপরিউক্ত ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা পরিলক্ষিত হওয়ার পরও আমাদের করণীয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল সা: আমাদেরকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যেমন- আল্লাহ তায়ালা কিতাবধারীদের সম্পর্কে বলেন, ‘যদি তারা তাওরাত ও ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করত, আর যা তাদের ওপর তাদের মালিকের কাছ থেকে এখন নাজিল করা হচ্ছে (কুরআন) তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে তারা অবশ্যই রিজিক পেত তাদের মাথার ওপরের (আসমান) থেকে এবং তাদের পায়ের নিচের (জমিন) থেকেও’ (সূরা মায়িদা : ৬৬)। আর রাসূল সা:-এর হাদিস থেকে জানা যায়, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা: বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘যখন তোমাদের ওপর থেকে (আসমান থেকে) আজাব পাঠাতে সক্ষম নাজিল হলো, তখন রাসূল সা: বললেন, আমি তোমাদের সম্মুখ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি অথবা যখন তোমাদের পায়ের নিচ (জমিন) থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম নাজিল হলো, তখন রাসূল সা: বললেন, আমি তোমার সম্মুখ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ (বুখারি-৫/১৯৩)। হাদিসে আরো বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: সূর্যগ্রহণ দেখলে বলতেন- ‘যদি তুমি এ রকম কিছু দেখে থাকো, তখন দ্রুততার সাথে মহান আল্লাহকে স্মরণ করো। তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো’ (বুখারি-২/৩০, মুসলিম-২/৬২৮)। অতএব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের উচিত আল্লাহর নিকট তাওবা করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সঙ্কল্প করা, তাঁর নিকট নিরাপত্তার জন্য সাহায্য চাওয়া, মহান আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ করা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক প্রদত্ত ও রাসূলুল্লাহ সা: প্রদর্শিত পথ ও মতে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করা। লেখক : প্রিন্সিপাল, সিলেট ক্যাডেট মাদরাসা
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যাঃ (১) সূরা আসশুরার আয়াত ৩০-এ আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে তাতো তোমাদের কর্মের ফল। আমি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে থাকি । (২) সূরা রূম ৪১ আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের জন্য জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে তাদেরকে কোন কোন কর্মের শাস্তি আস্বাদন করানো হয় যাতে তারা সৎপথে ফিরে আসে। (৩) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না (সূরা তাগাবুনঃ ১১)। এবার হাদিসের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাকঃ বুখারী শরীফ থেকে জানা যায়, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ছোট কি বড় যত দুর্ভোগ বা হয়রানি বান্দার ওপর আপতিত হয় সবই অবশ্য নিজ কর্ম দোষে আর অধিকাংশই আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। ওপরের উপস্থাপনা থেকে দেখা গেল মানুষের কর্ম দোষে অর্থাৎ সীমা লংঘনের জন্য জলে-স্থলে বিপদাপদ(ঝড়, ঘূর্নিঝড়, জলোচ্ছাস, বন্যা) আপতিত হয়। তবে বিপদাপদ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সংঘটিত হয় না। হাদিসে বলা আছে পিতা-মাতা সন্তানকে যত ভালবাসে আল্লাহ তার বান্দাকে তারচেয়েও বেশি ভালবাসেন। তাই কখনো কখনো মানুষের কর্ম দোষে বিপদাপদ সংঘটিত হওয়া সঙ্গত হলেও আল্লাহ দয়া পরবশ হয়ে বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়ে বিপদ সংঘটিত করেন না। তবে ক্ষমার অযোগ্য হলে বিপদ সংঘটিত করেন। এটি সার্বভৌম ক্ষমতাধর আল্লাহর এখতিয়ার। আমাদের জানা উচিত যে এ প্রকৃতির পেছনে একজন স্রষ্টা আছেন যিনি তা নিয়ন্ত্রণ করেন। আকাশ মন্ডলে ও ভূ-মণ্ডলে যা আছে সবই তার আজ্ঞাবহ। যখনই তিনি কিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন কেবল বলেন, ‘হও’ তখন সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে যায় (সূরা ইয়াসিনঃ ৮২)। আল্লাহ সূরা বাকারা আয়াত ১৬৪তে বলেছেন, ‘আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে, তার নির্দেশে বায়ুর দিক পরিবর্তনে এবং তার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে অর্থাৎ শিক্ষা রয়েছে। তাই সিডর- সুনামি-কেটারিনা- আল্লাহর নির্দেশেই সংঘটিত হয়েছে তবে তা বান্দার সীমা লংঘনজনিত কর্মের জন্য সংঘটিত হয়েছে। উল্লেখ্য, আল্লাহ সীমা লংঘনকারীকে পছন্দ করেন না। সূরা রাদ আয়াত ১১তে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করি না যতক্ষণ না তারা নিজে নিজের অবস্থা পরিবর্তন করে। ---কালেক্টেড!
একটা গাড়িকে যখন ভালভাবে যত্ন নেওয়া হয়, তখন সেটা নিরাপদে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু, সেই যানবাহনকে যদি সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া না হয় এবং হেলাফেলা করা হয়, তা হলে তা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। কিছু কিছু দিক দিয়ে, পৃথিবী নামক গ্রহের বেলায়ও একই বিষয় বলা যেতে পারে। বেশ কিছু সংখ্যক বিজ্ঞানীর মতানুসারে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং সমুদ্রে মানবঘটিত পরিবর্তনগুলোর কারণে বার বার ও অধিকতর চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো ঘটায়, আমাদের গ্রহ এক বিপদজনক স্থান হয়ে উঠেছে। আর এর ফলে ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত বলে মনে হয়। সায়েন্স পত্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর আলোচনায় এক সম্পাদকীয় নিবন্ধ বলেছিল, “আমরা একমাত্র বাসযোগ্য গ্রহে অনিয়ন্ত্রিত এক বিরাট পরীক্ষানিরীক্ষার মাঝামাঝিতে রয়েছি।” প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা এবং চরম অবস্থার ওপর মানুষের কার্যকলাপ কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, সেই বিষয়ে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য আমাদের মৌলিক প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো সম্বন্ধে আরেকটু বুঝতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, চরম ঝড়গুলো কী কারণে ঘূর্ণিঝড়ের মতো রূপ ধারণ করে থাকে? গ্রহ সংক্রান্ত তাপ পরিবর্তনকারী পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থাকে একটা যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেটা সৌরশক্তিকে রূপান্তরিত ও বন্টন করে থাকে। গ্রীষ্মমণ্ডল যেহেতু সূর্যের অধিকাংশ তাপ লাভ করে থাকে, তাই এর ফলে ঘটিত তাপমাত্রার ভারসাম্যহীনতা বায়ুমণ্ডলকে গতিশীল করে।* পৃথিবীর দৈনিক আবর্তনের কারণে এই বিরাট স্থানান্তর ঘটে, আর্দ্র বায়ু ঘূর্ণিবায়ুর রূপ নেয় আর সেগুলোর মধ্যে কিছু নিম্নচাপে পরিণত হয়। এক সময় নিম্নচাপ ঝড়ে পরিণত হতে পারে। আপনি যদি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলোর সাধারণ গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন, তা হলে আপনি দেখতে পাবেন যে, সেগুলো বিষুবরেখা থেকে—হয় উত্তরে বা দক্ষিণে—অধিকতর শীতল অঞ্চলগুলোতে সরে যেতে চায়। এর ফলে, ঝড়গুলো এক প্রকাণ্ড তাপ পরিবর্তনকারী হিসেবে কাজ করে এবং জলবায়ুর তীব্রতাকে হ্রাস করতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন সাগরের উপরিভাগের—জলবায়ু যন্ত্রের “বয়লার রুমের”—তাপমাত্রা প্রায় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলো ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তি লাভ করে, যেগুলোর নাম অঞ্চলভেদে সাইক্লোন, হারিকেন বা টাইফুন হয়ে থাকে। মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনা করলে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ১৯০০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ঘূর্ণিঝড়ের কারণে টেক্সাসের গালভেস্টন দ্বীপের ওপর সবচেয়ে প্রলংয়করী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। ঝোড়ো ঢেউগুলো সেই শহরের ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ জনের জীবন কেড়ে নিয়েছে ও সেইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর প্রায় ৪,০০০ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে আর ৩,৬০০টা ঘরবাড়িকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। বস্তুতপক্ষে, গালভেস্টনে মনুষ্যনির্মিত কোনো কাঠামোই অক্ষত ছিল না। আগের অধ্যায়ে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু সংখ্যক শক্তিশালী ঝড় হয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখছে যে, এর সঙ্গে পৃথিবীর উষ্ণতার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, যা হয়তো ঝড়ের ব্যবস্থায় অধিক শক্তি সরবরাহ করে যাচ্ছে। কিন্তু, আবহাওয়ার নানা পরিবর্তন হয়তো পৃথিবীর উষ্ণতার কেবলমাত্র একটা লক্ষণ হতে পারে। আরেকটা সম্ভাব্য ক্ষতিকর পরিণতি হয়তো ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বনভূমি নিধন সায়েন্স পত্রিকার এক সম্পাদকীয় নিবন্ধ অনুসারে, “সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিগত শতাব্দীতে ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার [চার থেকে আট ইঞ্চি] বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।” পৃথিবীর উষ্ণতার সঙ্গে এটা কীভাবে সম্পর্কযুক্ত? গবেষকরা দুটো সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার বিষয় উল্লেখ করে। একটা সম্ভাবনা হচ্ছে, মেরুদেশীয় স্থলভাগের বরফ ও হিমবাহ গলে যাওয়া, যা সমুদ্রের জলের আয়তন বৃদ্ধি করে। আরেকটা হচ্ছে, তাপীয় প্রসারণ—সমুদ্রের জল উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আয়তনও বৃদ্ধি পায়। প্রশান্ত মহাসাগরের অতি ক্ষুদ্র দ্বীপ টুভালু হয়তো ইতিমধ্যেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবগুলো দেখতে পেয়েছে। স্মিথসোনিয়ান পত্রিকা অনুসারে, ফুনাফুটির অ্যাটল প্রবালবলয় থেকে সংগৃহীত উপাত্ত দেখায় যে, সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা “বিগত দশকে গড়ে বার্ষিক ৫.৬ মিলিমিটার করে” বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর অনেক জায়গায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি মানে আরও বেশি শহুরে অঞ্চল, আরও বেশি বস্তি অঞ্চল এবং আরও বেশি করে পরিবেশ সংক্রান্ত অবক্ষয়। এই বিষয়গুলো হয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগের চরম অবস্থাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। কয়েকটা উদাহরণ বিবেচনা করুন। হাইতি হচ্ছে জনবহুল এক দ্বীপের দেশ, যেখানে বনভূমি নিধনের ইতিহাস রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ বিবরণী বলেছিল যে, হাইতির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো যত গুরুতরই হোক না কেন, বনভূমি নিধনের চেয়ে আর কোনোকিছুই সেই দেশের অস্তিত্বের জন্য এতটা হুমকিস্বরূপ নয়। দুঃখের বিষয় যে, এই হুমকি

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ