এই যে আজ অনেকে মাজার দরগা ইত্যাদি বাবার দরবারে গিয়ে শিরক করছে।এদের কুরান এবং হাদিসের কি কি উদ্ধৃতি দিয়ে বোঝানো যাই। দয়া করে বিস্তারিত কেউ জানান,,?
 (318 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

1 Answer

 (2147 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

আপনি খুব হিকমাতের সাথে তাদের বুঝাবেন। নিম্নে পীর মাযারের ইতিবৃত্ত সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরছি, এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের বুঝান, আশা করি কাজে দিবে ইনশাআল্লাহ। “মাযার” শব্দটি আরবী। বাংলা অর্থ হল যিয়ারতের স্থান। যে স্থানকে যিয়ারত করা হয়, তার নামই মাযার। মুসলমানের কবর যিয়ারত করা জায়েজ। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন- ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ‏« ﻧﻬﻴﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻓﺰﻭﺭﻭﻫﺎ ﻓﺈﻥ ﻓﻰ ﺯﻳﺎﺭﺗﻬﺎ ﺗﺬﻛﺮﺓ অনুবাদ-হযরত ইবনে বুরাইদা (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন-আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন যিয়ারত কর। [কোন সমস্যা নেই।]। কেননা কবর যিয়ারত মৃত্যুকে স্মরণ করে দেয়। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৭০০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩০৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৫৭১, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৯} কবর যিয়ারত করা ছাড়া কবর তথা মাযার ঘিরে আরো যত কাজ করা হয়, তা সবই বিদআত। এসব করা জায়েজ নেই। যেমন- ১-মাযার ঘিরে উরস করা। ২-মাযারে বাতি প্রজ্বলন করা ৩-মাযারে মান্নত করা। ৪-মাযারে গিয়ে দুআ করা। মৃত ব্যক্তির কাছে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করে দেওয়ার আবেদন করা। ৫-মাযারে শিন্নি পাকানো ইত্যাদী সকল কাজই বিদআত ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। এসব করা খুবই গোনাহের কাজ। এসবের কোন ভিত্তি ইসলামে নেই। সম্পূর্ণ হারাম এ সকল কাজ। মাযার ঘিরে উরস করা হারামঃ- স্বীয় কবরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করাকে নিষিদ্ধ করে আল্লাহর নবী ইরশাদ করেন- ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ‏« ﻻ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﺑﻴﻮﺗﻜﻢ ﻗﺒﻮﺭﺍ ﻭﻻ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﻗﺒﺮﻯ ﻋﻴﺪﺍ ﻭﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﻓﺈﻥ ﺻﻼﺗﻜﻢ ﺗﺒﻠﻐﻨﻰ ﺣﻴﺚ ﻛﻨﺘﻢ ‏(ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ-ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﺳﻚ، ﺑﺎﺏ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ2044- ) “তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদি বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব করোনা।(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক কোন আসরের আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে দেন।)” {সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০} এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- রাসূলে (সাঃ) নিজ রওযা মুবারকে উৎসব (উরস) পালন করতে বারণ করেছেন। তাহলে অন্য কে আর এমন আছে যার কবরে তা বৈধ হবে? হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল্লামা মুনাভী (রাহঃ) এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন- ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﻨﺎﻭﻱ ﻭﻳﺆﺧﺬ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﺟﺘﻤﺎﻉ ﺍﻟﻌﺎﻣﺔ ﻓﻲ ﺑﻌﺾ ﺃﺿﺮﺣﺔ ﺍﻷﻭﻟﻴﺎﺀ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﺃﻭ ﺷﻬﺮ ﻣﺨﺼﻮﺹ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻳﻘﻮﻟﻮﻥ ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ ﻣﻮﻟﺪ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻭﻳﺄﻛﻠﻮﻥ ﻭﻳﺸﺮﺑﻮﻥ ﻭﺭﺑﻤﺎ ﻳﺮﻗﺼﻮﻥ ﻓﻴﻪ ﻣﻨﻬﻲ ﻋﻨﻪ ﺷﺮﻋﺎ ﻭﻋﻠﻰ ﻭﻟﻲ ﺍﻟﺸﺮﻉ ﺭﺩﻋﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﻭﺇﻧﻜﺎﺭﻩ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﺇﺑﻄﺎﻟﻪ ‏(ﻋﻮﻥ ﺍﻟﻤﻌﺒﻮﺩ- ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻨﺎﺳﻚ ﺑﺎﺏ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ- 6/23 ) “এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, সাধারণ মানুষ যারা বছরের কোন নির্দিষ্ট মাসে বা দিনে (উরসের নামে) ওলীদের মাযারে একত্রিত হয় এবং বলে-আজ পীর সাহেবের জন্ম বার্ষিকী (মৃত্যু বার্ষিকী), সেখানে তারা পানাহারেরও আয়োজন করে, আবার নাচ গানেরও ব্যবস্থা করে থাকে, এ সবগুলিই শরীয়ত পরিপন্থী ও গর্হিত কাজ। এ সব কাজ প্রশাসনের প্রতিরোধ করা জরুরী। (আউনুল মা’বুদ-৬/২৩) মাযার ঘিরে বাতি প্রজ্বলন হারামঃ- ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ : ﻟﻌﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺯﺍﺋﺮﺍﺕ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻭﺍﻟﻤﺘﺨﺬﻳﻦ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺍﻟﺴﺮﺝ ‏(ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ- ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﻛﺮﺍﻫﻴﺔ ﺃﻥ ﻳﺘﺨﺬ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻘﺒﺮ ﻣﺴﺠﺪﺍ- 2/136 ) “হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (সাঃ) অভিশম্পাত করেছেন (বেপর্দা) কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর, এবং সেসব লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ বানায় (কবরকে সেজদা করে) এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলিত করে। {জামি তিরমীযী-২/১৩৬} উক্ত হাদিসে সুষ্পষ্ট কবরে বাতি প্রজ্জ্বলনকারীর উপর আল্লাহ তায়ালার অভিশম্পাত করেছেন আল্লাহর নবী (সাঃ)। মাযারে মান্নত করা হারামঃ- আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত ও কুরবানী হচ্ছে ইবাদত। আর ইবাদত আল্লাহ ছাড়া কারা জন্য করা জায়েজ নয়। মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন- ﻗُﻞْ ﺇِﻥَّ ﺻَﻼَﺗِﻲ ﻭَﻧُﺴُﻜِﻲ ﻭَﻣَﺤْﻴَﺎﻱَ ﻭَﻣَﻤَﺎﺗِﻲ ﻟِﻠّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ‏(162 ‏) ﻻَ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ ﻭَﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺃُﻣِﺮْﺕُ ﻭَﺃَﻧَﺎْ ﺃَﻭَّﻝُ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ‏(163‏) ‏( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ 163-162- ) “আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই। তাঁর কোন অংশিদার নেই। আমি তা-ই করতে আদিষ্ট হয়েছি এবং প্রথম আনুগত্যশীল। (সূরা আনআম-১৬২-১৬৩) সূরা কাউসারে মহান রাব্বুর আলামীন বলেন- ﻓَﺼَﻞِّ ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﺍﻧْﺤَﺮْ অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন। {সূরা কাউসার-২}
সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ
Loading interface...
জনপ্রিয় টপিকসমূহ
Loading interface...