তেজস্ক্রিয়তা কোথায় ব্যবহার করা হয়?
 (6511 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

2 Answers

 (6511 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

গত কয়েক দশক ধরে মানুষ বিজ্ঞানের পারমাণবিক শাখায় যথেষ্ট উন্নতি সাধন করেছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছে অনেক কৃত্রিম আইসোটোপ। পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, জটিল চিকিৎসায় এবং শিল্প-কারখানায় পারমাণবিক শক্তি তথা এইসব বিকিরণকে কাজে লাগানো হচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। রেডিও থেরাফিতে গামা রশ্মি দিয়ে ক্যান্সার-সেলের মৃত্যু ঘটিয়ে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা করা হয়। এক্স-রে, মেমোগ্রাফি, এনজিওগ্রাফি প্রভৃতি পদ্ধতিতে বিকিরণ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ঔষধ ও ডাক্তারী যন্ত্রপাতিকে জীবানুমুক্ত করতে তেজস্ক্রিয় বস্তু ব্যবহার করা হয়। এইডস, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জঠিল রোগের গবেষণার ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় বস্তুর ব্যবহার হচ্ছে। নির্মাণ বা উৎপাদন-শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়। অতি সামান্য পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বস্তু ব্যবহার করে পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের গতি ও ভূ-গর্ভস্থ পাইপ লাইনে কোন ফাটল সৃষ্টি হলে তা মাটির উপরিভাগ থেকেই নির্ণয় করা যায়। অন্ধকারে দৃশ্যমান করতে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে তেজষ্ক্রিয় থোরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। খাদ্যশস্যের মান উন্নয়ন, সংরক্ষণ, পুষ্টিগুণ বর্ধিতকরণ এবং কীটপতঙ্গ দমনে তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করা হয়। জেনেটিক পরিবর্তন ঘটিয়ে অধিক ফলনশীল, বৈরী আবহাওয়ায় খাপ খাওয়াতে সক্ষম ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ প্রতিরোধক শস্য উৎপাদনে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করা হয়। মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন অল্প পরিমাণে তেজস্ক্রিয় বস্তু ব্যবহার করে মাটি, পানি বা বায়ুর দূষণমাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব। সাবমেরিন ও মনুষ্যবিহীন মহাশূন্যযানে জ্বালানির উৎস হিসেবে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার হয়। কার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে (তেজস্ক্রিয়তা-ক্ষয়ের পরিমাপ) বিশ্লেষণ করে জীবাশ্মসংক্রান্ত নমুনা ও শিলাখন্ডের বয়স নির্ধারণ, উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ, চিত্রকর্ম বা অন্যান্য শিল্পকর্মের খাঁটিত্ব প্রমাণ এবং খনিজ পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ সম্ভব হয়। নিরাপত্তার জন্য স্ক্যানিং মাশিনে ও স্মোকিং ডিটেকটরে তেজস্ক্রিয় পদার্থের রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।
 (174 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

(১) ক্যান্সার রোগ নিরাময়ের কাজে তেজষ্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়। (২) উন্নত বীজ তৈরির গবেষনায় তেজষ্ক্রিয়তা সফল ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। (৩) খনিজ পদার্থে বিভিন্ন ধাতুর পরিমাণ নির্ণয়ে উক্ত ধাতুর তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ তেজষ্ক্রিয় প্রদর্শক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। (৪) ঘড়ির কাঁটায় তেজষ্ক্রিয় থোরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে। (৫) তেজস্ক্রীয় আইসোটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। (৬) নির্মাণ বা উৎপাদন-শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়। (৭) কার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে (তেজস্ক্রীয়তা-ক্ষয়ের পরিমাপ) বিশ্লেষণ করে জীবাশ্মসংক্রান্ত নমুনা ও শিলাখন্ডের বয়স নির্ধারণ করা হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় টপিকসমূহ

Loading...