প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখ।? প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখ।?
জিজ্ঞাসা করেছেন
1 টি উত্তর

ভূমিকা:

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের বিজ্ঞানের যুগ। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ।   আর বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব আবিষ্কার হলো রেডিও, টেলিভিশ্ন,  কম্পিউটার ইন্টারনেট তথা তথ্য প্রযুক্তি।  এছাড়া নব নব শিল্প কারখানা আবিস্কার বিজ্ঞানকে মানব কল্যাণে প্রয়োগ করার কৌশল হচ্ছে প্রযুক্তি। আজকের দিনের বহুল আলোচিত প্রযুক্তি হলো ইন্টারনেট  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্বের সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের মূল হাতিয়ার হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তি । জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্ব পরিমণ্ডলে অবদান রাখতে তাই বিজ্ঞানের কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি ভিক্তিক সকল ব্যবস্থার উন্মেষ ও প্রয়োগ অনস্বীকার্য।  বর্তমানে জীবনের এমন কোন ক্ষেত্র নাই যেখানে প্রযুক্তি নাই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়ও আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলেছি।


 প্রযুক্তি সেবাসমূহের ক্ষেত্রঃ- 


বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নয়নের মূল স্বার্থকতা হল এটি ব্যবহার করে দেশ উন্নয়ন তথা  সুফল অর্জন করা। বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের সর্বত্রই বিজ্ঞাব ও  প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েই চলেছে লাগামহীনভাবে। বিশেষ করে সরকারি বেসরকারী বিভিন্ন কর্মকান্ডে তথ্য ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যবহার চোখে পরার মতো। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবাসমুহ সহজে ও খুব কম সময়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। জীবনের নানা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সেবা এতই প্রসারিত যে এগুলোর  তালিকা প্রণয়ন করাই দুরুহ।


সকালে ভোরে ঘুম থেকে উঠেই টুথপেস্ট, ব্রাশ দিয়াই আপনার প্রযযুক্তি ব্যবহার শুরু। হাতমুখ ধোয়ার জন্য যে বেসিন, টয়লেট বা বাথরুম ব্যবহার করছেন তাও প্রযুক্তির দ্বারাই নিম্নিত। আপনি যে পানি ব্যবহার করছেন তা মাটির নিচ থেকে বা নদী থেকে নিয়া পরিস্কার করে সাপ্লাই পাইপের মাধ্যমে আপনার বাসায় পৌছে দিতে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। আপনার বাসায় পানি তোলার জন্য যে মটর, মটর চালাতে বিদ্যুৎ তাও বিজ্ঞান প্রযুক্তির ফলেই সম্ভব হয়েছে। নিম্নে কিছু তালিকা দেওয়া হলঃ-


১। গৃহে প্রযুক্তি 

২। আবাসন ক্ষেত্রে প্রযুক্তি 
৩। যোগাযোগ ও ট্রান্সপোর্ট ক্ষেত্রে প্রযুক্তি
৪। কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি

৫।  চিকিৎসা সেবা ক্ষেত্রে
৬। শিল্প করখানা
৭। কম্পিটার ইন্টারনেট 

৮। গ্যাস, বিদ্যুৎ বা জ্বালানী
৯।  পরিবহন
১০। শিক্ষা 

১১। গবেষনা ও মহাকাশ প্রযুক্তি।


প্রযুক্তির গুরুত্বঃ

প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্র গুলো আসলে দৈনন্দিন জীবনে একটির সাথে আরেকটি এমন ভাবে জড়িয়ে আছে যে আমরা কোন একটিকে বাদ দিয়া চলতেই পারিনা। সবগুলোর সমন্বিত রুপ ব্যবহার করি। গ্রহ বা আপনার রুম থেকে শুরুই করে দেখুন, সকালের ব্রাশ থেকে খাবার টেবিলের নাস্তা করতে যেতে আপনাকে কত কি ব্যবহার করতে হচ্ছে। নাস্তা বানাতে গ্যাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। টেবিলটি নানা হাতিয়ার ব্যবহার করেই তৈরি হয়েছে। টেবিল পেপারটি প্রযুক্তি সম্পদ।

সুন্দর ড্রেস পরে স্কুলে যাবেন বা অফিসে বা যেখানে খুশি যাবেন। সেই পোষাক, সুতা ইত্যাদি প্রযুক্তির অবদান।

আপনি যে এলাকায় বাস করছেন সেই এলাকার উন্নায়ন, বাড়ী ফ্লাট তৈরিতে যা কিছু ব্যবহার হয়েছে তার সবকিছুই প্রযুক্তি দিয়াই তৈরি।


আপনি যে রাস্তা দিয়া হেটে চলেছেন সেটিও প্রযুক্তিরি অবদান। রাস্তা তৈরি ও পাকা করতে যা কিছু ব্যবহার হয়েছে সবকিছুই প্রযুক্তি থেকেই পাওয়া। বাস ট্রাক, ট্রেন, বিমান, এমনকি রিক্সা, সাইকেল ইত্যাদি বাদ নেই এ তালিকা থেকে যা আপনি প্রত্যাহ ব্যবহার করে চলেছেন। খাবার উৎপাদন করতে কৃষিতে সার, উন্নত বীজ, ট্রাকটর, ফসল তোলার যন্ত্রপাতী, সঙ্গরক্ষনের জন্য হিমাগার সবই প্রযুক্তি।

অসুস্থ্য হলে চিকিৎসা, ঔষধ পত্র সবকিছুই প্রযুক্তির দ্বারাই উদ্ভাবিত।

আজকের যুগে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি। এটিও প্রযুক্তি দ্বারাই উদ্ভাবিত ও নিয়ন্ত্রত। অনেক জটিল কাজ কম্পিউটার নিমেষেই শেষ করে দিচ্ছে। ইন্টার্নেট আমাদের ব্যবসা বানিজ্য, যোগাযোগ ইত্যাদি ব্যবস্থা করে জীবনকে করে দিয়েছে সহজ।

বিনোদনের সেই রেডিও টেলিভিশন ছাড়িয়ে আজ ইন্টারনেট এক অভুতপূর্ব ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

প্রযুক্তির গুরুত্বের কথা বলে তাই শেষ করা সম্ভব নয়। এছাড়া সরকারী সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।


ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাঃ


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ২০০৭ সালে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ছিল অনগ্রসর সম্ভাবনাহীন একটি দেশ। কিন্তু বর্তমানে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তিতে  বাংলাদেশ একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব দরবারে। সাধারণ মানুষ বর্তমানে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে মুহূর্তেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারে । ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের রুপ নিয়েছে "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নামে ।  প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। যেমন: বর্তমানে সরকারি তথ্য, আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন  ও সংশোধনের, বিশেষ বিশেষ বার্তা, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে ফলে কম সময়ের কাছে তা মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া দেওয়া হচ্ছে ই-স্বাস্থ্য সেবা, পরিষেবা ইউটিলিটি  বিল (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস) পরিশোধ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। সর্বস্তরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে খোলা হয়েছে ই-বুক প্লাটফর্ম। আর্থিক লেনদেন সহজ এবং নিরাপদ করার জন্য চালু করা হয়েছে অনলাইন ব্যাংকিং ।

এছাড়া গ্রামের ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডোব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌছানোর ফলে গ্রামের কৃষকগন নানা তথ্য যেমন ফসল উৎপাদনের মৌসুম বা উপযুক্ত সময়, সার প্রয়োগ এর জ্ঞান। ফসল বিক্রির  জন্য শহরে কোম্পানির সাথে যোগাযোগ ও দরদাম ইত্যাদি সহজে জানতে পারায় কৃষকের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।

গ্রামের মানুষ সহজে শহরে থাকা তাদের আত্মীয়স্বজন শহরে পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের খোজ খবর সহজে নিতে পারে।


প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার গুরুত্বঃ


প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। কারণ দিনের পর দিন প্রযুক্তির এতটাই উৎকর্ষ সাধন হচ্ছে যে, মানুষ প্রানভরে উপভোগ করছে এর সুফল। এক কথায় প্রযুক্তি মানুষের নিত্য দিনের সঙ্গীর মত ভার্চুয়াল বন্ধু হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার কারনে মানুষের জীবন মান উন্নত হয়েছে। ব্যবসা বানিজ্য লেনদেনের ব্যাপক প্রসার হয়েছে। মানুষের কাজের সময় কমেছে ফলে অল্প সময়ে অধিক কাজের সুযোগ এসেছে। কমেছে ভোগান্তি। জীবনমান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কর্মসংস্থান। ছাড়া ঘরে বসে ফ্রিলান্স করে স্বনির্ভরতা অর্জনের সুযোগও বেড়েছে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চেয়ে বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদির মাধ্যমে মুহুর্তেই লেনদেন করা যায় বলে  দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নগদ টাকা উত্তোলন ও জমা দেয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যের হয়ে উহেছে এইএম বুথ ও ইনলাইন ব্যাংকিং সেবা।  পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে ই
টিকেট,  টেলিকনফারেন্স, ই-ফাইলিং, এ-ট্র্যাকিং, ব্যবসায় ই-কমার্স থেকে শুরু করে ঘরের-অফিসের নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরা টা এখন আর ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে থাকছে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে চিকিৎসা, অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা, সংস্কৃতিসহ প্রতিটি মৌলিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিপ্লব এনে দিয়েছে। আজ আমরা তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ছাড়া এক মুহুর্ত চলতে পারিনা।