ফেসবুকে কী কী করবেন, কী কী করবেন না?

ফেসবুক আমাদের বর্তমান জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই কমবেশি ফেসবুক ব্যবহার করেন। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, একদিন ফেসবুকে না ঢুকলে দিনটা অসম্পূর্ণ মনে হয়।

অনেকদিন ধরে ফেসবুক ব্যবহার করলেও আমরা অনেকেই ফেসবুকের যথাযথ ব্যবহার জানি না। চলুন জেনে নিই ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে কী কী করা উচিত এবং কী কী করা উচিত নয়। 


নিরাপত্তা : ফেসবুকে নিরাপত্তা রক্ষার জন্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলুন।
১. ফেসবুকে একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য যেমন—মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল শেয়ার করবেন না, এতে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

২. ফেসবুক কিংবা মেসেঞ্জারে আসা হিজিবিজি নম্বর বা ডিজিট সংবলিত কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। 

৩. ফেসবুকের টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ও লগইন অ্যালার্ট চালু করে রাখুন, সম্ভব হলে গুগল অথেনটিকেটর অ্যাপ সংযুক্ত করে রাখুন। 

৪. সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। 

৫. পাসওয়ার্ডে নিজের নাম বা জন্মসাল ব্যবহার করবেন না। বর্ণ, নম্বর ও চিহ্ন সংযুক্ত করুন। 

৬. অন্যের মুঠোফোন বা কম্পিউটার থেকে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকলে লগআউট করতে ভুলবেন না, ভুলে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকে সেই ডিভাইস থেকে লগআউট করুন। 

৭. আইডি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এবং তা ফিরিয়ে আনার ইচ্ছে থাকলে আইডির নাম ও জন্মতারিখ আগে থেকেই  আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে রাখুন।


ব্যক্তিত্ব: ফেসবুকে আপনার ব্যক্তিত্ব বজায় রাখার জন্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন। 

১. ফেসবুকের অ্যাবাউটে অপ্রাসঙ্গিক ও ভুল তথ্য (যেমন—খাই দাই অ্যাট বাটের হোটেল, ওয়ার্কস অ্যাট ফেসবুক) যুক্ত করবেন না, সঠিক ও গঠনমূলক তথ্য আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। 

২. বন্ধুত্বের আবেদন গ্রহণ করার আগে  তার সম্পর্কে ধারণা করে নিন।

৩. অপরিচিত ও কোনোদিন পরিচয় হওয়া সম্ভব নয় এমন ব্যক্তির বন্ধুত্বের আবেদন গ্রহণ না করাই উত্তম। 

৪. যাকে তাকে বন্ধুত্বের আবেদন পাঠাবেন না।

৫. কোনো পোস্টে কমেন্ট করার আগে একবার ভেবে নিন, আপনার বন্ধুরাও আপনার কমেন্ট দেখতে পায়। কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল কমেন্ট তাদের বিরক্তির কারণ হতে পারে, তাছাড়া এটা আপনার ব্যক্তিত্বকেও নষ্ট করে। 

৬. কেউ আপনার মেসেজের উত্তর না দিলে তাকে অনবরত মেসেজ দেবেন না। 

৭. কারো বিরুদ্ধে কটূক্তি করবেন না। 

৮. ‘আমিন না বলে যাবেন না, কাফের না হলে শেয়ার করো’ এমন পোস্ট শেয়ার করবেন না। 

৯. খালি গায়ে উঠানো ছবি আপলোড করবেন না। 

১০. ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি আপলোড করবেন না।


মেসেঞ্জারের তথ্যসংক্রান্ত নিরাপত্তা :মেসেঞ্জারে তথ্য আদান-প্রদানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন। 

১. নিজের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কোনো ছবি বা ভিডিয়ো কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না, এটা ভবিষ্যতে আপনার মানহানির কারণ হতে পারে। 

২. তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সংবাদ সবাইকে ফরোয়ার্ড করবেন না। 

৩. মেসেঞ্জারে পরিচিত কারো আইডি থেকে নক দিয়ে টাকা চাইলে তাকে কল দিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন, কারণ হ্যাকাররা এমন করতে পারে।

৪. একই মেসেজ অনেকজনকে ফরোয়ার্ড করবেন না বা সাধারণভাবে পাঠাবেন না, ফেসবুক এটাকে স্প্যামিং ভেবে আপনার আইডি বন্ধ করতে পারে।


অনলাইন কেনাকাটা : অনলাইন কেনাকাটায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখুন। 

১. বিশ্বস্ত নয় এমন পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে পণ্য হাতে পাওয়ার আগে টাকা পরিশোধ করবেন না। 

২. কোনো পেজ থেকে কিছু কিনতে হলে আগে রেটিং দেখে নিন, অবশ্য সবসময় রেটিং প্রকৃত অবস্থা তুলে নাও ধরতে পারে। 

৩. আগে টাকা পরে সার্ভিস, এমন কোনো সার্ভিস গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন, অনেকসময় টাকা নিয়ে আপনাকে ব্লক করে দিতে পারে।

৪. অতি লোভনীয় অফার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।



হয় তো/হয়তো-এর পার্থক্য