12 টি উত্তর
love/ ভালোবাসা হলো :- মূলত মানুষের আবেগ থেকেই ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। মানুষের মনের এক কাল্পনিক অনুভুতির ভাষা যা প্রিয় মানুষটির কথা ভাবা, তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া , তার প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি হওয়া,তার ছোট ছোট ইচ্ছা গুলো পূরন করা, তাকে নিয়ে মজার স্বপ্ন দেখা, তার কথা গুলো মনযোক দিয়ে শোনা, বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া, তার মনের কথা গুলো অনুভব করা , তার ইচ্ছা গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা, তার প্রতি বিশ্বাস জাগিয়ে তোলা, প্রিয় মানুষটির ভালোবাসা বা ভালোলাগার মুহুরত গুলোতে তার কথা মনে পরা, প্রতিটা আনন্দময় সময়ে, প্রতিটা ব্যস্ততার সময় গুলোতে, প্রতিটা দিন, প্রতিটা সময়, প্রতিটা সেই খুসির দিন গুলোতে ভালোবাসার মানুষ্টির কথা মনে পরাই হচ্ছে ভালোবাসা যা মানুষের মন থেকে জেগে উঠে যা আবেগ এর মাধ্যমে আবেগ ছাড়া ভালোবাসা কখনোই সৃষ্টি হবে না । কেনো না কোন অসহায় মানুষের প্রতি তাকালে আগে তার আবেগ জেগে উঠবে তার পর ঐ অসহায় মানুষটির উপর ভালোবাসা জেগে উঠবে ফলে ভালোবাসার মানুষটি চাইবে ঐ অসহায় মানুষটিকে সাহায্য করার।এসবি হচ্ছে ভালোবাসা যাকে ইংরেজিতে বলি love। 

ওই সব লাভ টাভ এর উত্তর দেয়ার আগে চলুন আপনাকে কিছু প্রশ্ন করি। গরু তো জীবনে অনেকবার দেখেছেন নিশ্চয়ই? আচ্ছা বলুন তো গরুর চোখ দেখতে কেমন হয়? কি? মনে পড়ছে না তো? কোন ব্যাপার না। আমি বলে দিচ্ছি। গরুর চোখ খুব সুন্দর হয় দেখতে। গোল গোল, বড় বড়, ভাসা ভাসা, কেমন যেন মায়া মায়া। কিছু কিছু গরুর চোখের নিচের অংশটা(মেয়েরা যেখানে কাজল পড়ে) প্রাকৃতিকভাবে কালো হয়।ওই গরুগুলোকে দেখলে মনে হয় যেন চোখে কাজল দেয়া। কি? হাসছেন নিশ্চয়ই? গরুর এত কিছু কে খেয়াল করে ! আমি শুধু উদাহরণ দিয়ে দেখালাম যে মন দিয়ে দেখলে সামান্য একটা জিনিসকে ও কত অসাধারণ লাগে।

আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে ও আপনার কাছে ঠিক এমনই লাগবে।হতে পারে সে দুনিয়ার কাছে খুব সাধারণ ।কিন্তু আপনার কাছে সবচেয়ে মুল্যবান হল সে। ভালোবাসার সঠিক সংজ্ঞা দেয়া হয়তো কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আমার মতে ভালোবাসা হল সেই অনুভূতি যা আপনার কাছে একজন খুব সাধারণ মানুষকে ও অসাধারণ করে তুলতে পারে।

ভালোবাসা হৃদয়ের একটি অনুভূতি। যাতে থাকে দায়বদ্ধতা। একজন আরেকজনকে সম্মান দেখান। সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। খারাপটাকে পেছনে ফেলে ভালোকে গ্রহণ করা। মানুষ ভুল করেই সে ভুলগুলোকে বড় করে না দেখে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাও ভালোবাসার আরেক নাম। আর ভালোবাসা মানে একদিনের জন্য অনেক কিছু করা নয় বরং প্রতিদিন কোনো একজনকে মনে করাও ভালোবাসা। আর ভালোবাসা বিভিন্ন রকম হয়। বাবা মায়ের প্রতি এক রকম, বন্ধুদের জন্য আরেক রকম। আমার নিজের একান্ত প্রিয় মানুষটির জন্য আরেক রকম। তবে এতে অবশ্যই সম্মান থাকতেই হবে। 

 এবার আসি বিজ্ঞানের ভাষায়। ভালবাসার প্রাথমিক পর্যায়ে হোক কিংবা সেটা যখন দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনের দিকে গড়ায়ে; যেকোনো ক্ষেত্রেই মানুষের শরীর - মন জুড়ে নানারকমের রস বা রাসায়নিকের খেলা চলতে থাকে । বিজ্ঞানীরা আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্যে দিনে দিনে আরো নতুন নতুন তথ্য, রহস্যময় কার্যকলাপের আরো নতুন নতুন দিক উন্মোচন করছেন ।
তবে নিঃসন্দেহে estrogen আর testosterone শুরুর দিকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ।মানুষের আগ্রাসী কাম-তাড়নার উদ্রেক করে এই রাসায়নিক দুটো হয়ত শুধুই বিপরীত লিঙ্গের মানুষের দিকে আকর্ষণ বৃদ্ধি করে কিন্তু এটাও ঠিক তার ফলেই মানুষ একটা দীর্ঘস্থায়ী, সত্যিকারের সম্পর্কের দিকে সূচিত হয় ।
প্রেমের প্রথমদিকে যে মাথা ঝিম ঝিম ভাব, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, গাল - কান লাল হয়ে যাওয়া, হাতের তালু ঘেমে যাওয়ার উপসর্গ গুলো দেখা যায়; বিজ্ঞানীদের মতে সেসবের পেছনে দায়ী হলো Dopamine( ডোপামিন ), Norepinephrine( নরেপিনেফ্রিন ) আর Phenylethylamine( ফিনাইল-ইথাইল-এমিন ) ।
এদের মধ্যে Dopamine কে বলা হয় সুখের অনুভূতি জাগানোর রাসায়নিক বা "সুখ-রস" | যখন আমাদের সাথে কোনধরনের সুখময় বা আনন্দের ঘটনা ঘটে তখন এই Dopamine ই মস্তিস্কে ক্রিয়াশীল হয় ফলে আমরা সুখের অনুভূতি পাই ।প্রসঙ্গক্রমে বলি, কোনো কৃত্রিম উপায়ে যদি এমন করা যায় যে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটলেও আমাদের Dopamine নির্গত হবে; তাহলে দেখা যাবে আমরা দুঃখেও হাসছি বা খুশি হচ্ছি ।সবই রসের খেলা !


ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা। তবুও ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। আবেগধর্মী ভালোবাসা সাধারণত গভীর হয় ।

অগাধ বিশ্বাস,

অনেক যত্ন,

একজন আরেক জনের জন্য ত্যাগ 

ভালোবাসা মানে এক জোড়া হাত, পরম নির্ভরতার

বয়সের ভারে কুঁচকে যাওয়া চামড়ায় সীমাহীন বলিরেখা

অথবা ম্রিয়মাণ সৌন্দর্যের অবারিত ক্ষয়ে যাওয়া

কখনোই নিস্পৃহ করে না হাতের সুদৃঢ় বন্ধন।

ব্র্যান্ডেড নেইলপালিশ আর হীরকখচিত এক জোড়া দামি চকচকে

চুড়ি অথবা সুইস রোলেক্স ঘড়ির নেই প্রয়োজন। ভালোবাসা মানে হাতে হাত রেখে বলা,

আমিতো আছি আমিতো আছি যখন তোমার যেখানে যেভাবে প্রয়োজন।

ভালোবাসা মানে এক জোড়া চোখে অপলক চেয়ে থাকা


ছানিপড়া চোখে দূরদৃষ্টির চশমায় মোটা লেন্সের পুরু আস্তরণে

দৃষ্টিকে করে না অবনত। কাজল অথবা লেইসের অহমিকা নেই প্রয়োজন

ভালোবাসা মানে চোখে চোখ রেখে বলা

এই চোখ শুধু তোমাকেই দেখার জন্য, তোমাকেই দেখবে বলে।


ভালোবাসা মানে একটি হৃদয়, একটি অদেখার ভুবন

যে ভুবনে নেই অন্য কারও প্রবেশাধিকার

সেই ভুবনের উর্বর মাটিতে পরম যত্নে অঙ্কুরিত ভালোবাসার বীজ

বিশ্বাসে, আদরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক।

ভালোবাসা মানে অদেখার আর বিশ্বাসের ভুবনে শুধু একজনেরই প্রবেশাধিকার।


ভালোবাসা মানে বিশ্বাস, নির্ভরতা, ইস্পাতকঠিন দৃঢ় সম্পর্ক, জীবনের কঠিন

সময়ে হাতে হাত রেখে অবিরাম পথ চলা, অবিরাম কথা বলা।

ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন।একে কিভাবে মোহ ও যৌনকামনা থেকে পৃথক করা যায় ? দার্শনিক ও মনোবিজ্ঞানীগণ ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন অথবা ন্যূনতম মোহ ও যৌন কামনা থেকে ভালোবাসাকে পৃথক করেছেন, বিভিন্ন ভাবে অভিধানে ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে । ভালোবাসা হলো : একটি জোরালো আবেগ, অনুরাগ বা সুখানুভব। যেমন, কাজের প্রতি ভালোবাসা। কোন বস্তুর প্রতি উষ্ণ আবেগ বা মনোনিবেশ করা বা পছন্দ করা। যেমন, আমি বাংলাদেশী খাবার ভালোবাসি। প্রিয় ব্যক্তি বা প্রিয়জনের প্রতি স্নেহ আদর কোমলতা প্রকাশে। যৌন আকাঙ্খা বা আবেগের গভীর অনুভূতি। যেমন, সে তার স্বামীকে ভালোবাসে। যৌন ভালোবাসা। দুজন ব্যক্তির মধ্যে যৌন মিলন, সহবাস। গ্রীকরা ভালোবাসাকে চার ধাপে সংজ্ঞায়িত করেছে: Agape হলো শর্তহীন ভালোবাসা। যেমন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের ত্রুটিসহ আমাদের ভালোবাসেন। Phi Leo হলো সেই ভালোবাসা যা আমাদের পছন্দ বা স্বাস্থকর বা অস্বাস্থকর প্রয়োজন বা আশক্তি দ্বারা আকৃষ্ট। Storge হলো পারিবারিক ভালোবাসা। অনেক সময় বন্ধুত্বটাও এই ভালোবাসার মধ্যে পড়ে । Eros হলো শারিরীক যৌন আকাঙ্খা। মনোবিজ্ঞানীরা ভালোবাসাকে তিনটি পর্যায়ে ফেলেছেন: তীব্র অনুভূতি: যা থেকে শারিরীক আকাঙ্খা তৈরী হয়। অন্তরঙ্গতা: যা থেকে একে অপরের কাছে আসা। অঙ্গীকার: যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, আমরা ভালোবাসি।

সম্পর্কে জড়ানোর আগেই যদি তুমি ভবিষ্যতে কি হবে তার হিসাব করতে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে পড়ো, তাহলে তুমি কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারবেনা।

ক্যালকুলেটরের হিসাবে ব্যবসা চলে ঠিক।
কিন্তু ভালবাসা হিসাব করে হয় না,
তা হুট করে হয়ে যায়।

তোমার অনেক স্বপ্ন আছে, থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু ভালোবাসা কোনো মেশিন বা বস্তু নই
যে ধাপে ধাপে বুঝে বুঝে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আমাদের সমাজে টাকা-বয়স-ক্যারিয়ার এর মিল
দেখে সম্পর্ক হয়।
অথচ ভালোবাসাটা হয় মনের মিল রেখে,
যা আমাদের সমাজ মেনে নেই না।

ক্যালেন্ডার দেখে বয়সের হিসাব করা যায় ঠিকই
কিন্তু তা দিয়ে ভালোবাসা হিসাব করা যায় না।

আশাকরি ভালবাসা কি এখান থেকে বুঝতে পেরেছেন।
-ইকবাল মোরশেদ

বিশ্বাসের অপর নাম হলো ভালোবাসা।


Love একটি ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ ভালবাসা ।


ভালবাসা মানে একক ভাবে প্রচন্ড প্রশান্তিময় আবেগ কে বোঝানো হয় ।


অথবা প্রেমের অপূর্ণতাকে ভালবাসা বলা হয়।।


এবং যখন ভালবাসা দুইজন এর মাঝে বিদ্যমান হয় এবং দুইজন এর মধ্যে যোগাযোগ সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় প্রেম ।


তথ্য:- কিছুটা আমার এক বন্ধু-ভাই থেকে কিছুটা নিজেই ভেবে লিখলাম  ।