5 টি উত্তর


আজকে আমাদের মূল আলোচনার বিষয় হলো- অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় । তাহলে চলুন শুরু করা যাক- 

প্রতিটি মানুষই তাদের নিয়মিত চাকরি বাদে কিছু অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে চায়। অনেক লোক প্রতিটি দিনেই গুগলে বিনিয়োগ ছাড়াই হোম বেসড অনলাইন পার্টটাইম চাকরি সন্ধান করছেন ।

মানুষ এখন অনলাইনে অর্থ আয়ের জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করছে। অনলাইনে আয়ের নানা পথও তৈরি হয়েছে। তবে অনলাইনে কাজ করে আয় করতে গেলে কোন প্ল্যাটফর্ম ধরে এগোচ্ছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে আয় করার নানা সুযোগ থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতারণার মুখে পড়তে হতে পারে। অনলাইনে কাজ করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তাই এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজের ক্ষেত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে। কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট ও রিসোর্স আছে, যা কাজে লাগিয়ে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।বেশিরভাগ লোকের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে কিছু অতিরিক্ত আয় করতে হয়।

ইন্টারনেট জগৎটা Facebook, social media and gaming এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার সামান্য ইচ্ছা শক্তির বলে আপনি ইন্টারনেট হতে কিছু টাকা উপাজর্ন করতে পারেন।

This Content Topic

  • অনলাইনে আয় করার পদ্ধতি
  • আউটসোর্সিং অনলাইনে আয়
  • অনলাইনে আয় ডাটা এন্ট্রি
  • অনলাইনে আয় ওয়েবসাইট
  • অনলাইনে টাইপ করে আয়
  • অনলাইনে আর্টিকেল লিখে আয়
  • অনলাইন আয়ের সাইট

নিচে আমি অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় দেখাবো, যেখান থেকে আপনিও ইচ্ছা করলে কিছু অর্থ উপার্জন করে নিতে পারবেন।

অনলাইনে আয় করার সহজ উপায়

কপি টাইপিং

টানা দুই প্রান্তিক জুড়ে শীর্ষ ১০ চাহিদাসম্পন্ন কাজের মধ্যে রয়েছে কপি টাইপিং। গত প্রান্তিকে এর চাহিদা বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। এলোমেলো তথ্য থেকে পরিষ্কার তথ্যে কপি তৈরি, হাতে লেখা পোস্টকে সম্পাদনা উপযোগী পোস্টে রূপান্তর করার মতো নানা কাজ করতে হয় কপি টাইপিং কর্মীকে।

আরও পড়ুন- ডাঁটা এন্ট্রি কি? ডাঁটা এন্ট্রি করে কিভাবে আপনি মাসে ৩০০-৪৫০ ডলার ইনকাম করবেন দেখে নিন-ক্লিক করে দেখে নিন! 

নির্দিষ্ট প্রকল্পে নির্দিষ্ট বাজেট বা ঘণ্টা ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। যাঁরা দ্রুত ও নির্ভুল কপি টাইপ করতে পারেন, তাঁদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং বাজারে কাজের সুযোগ রয়েছে। আপনি চাইলে এখান থেকে আয় করতে পারেন- UPWORK

YouTube হতে টাকা উপার্জন

অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে YouTube. এখান থেকে যে কোন বয়সের লোক খুবই সহজে টাকা উপার্জন করতে পারেন। ইন্টারনেট বিশ্বের জনপ্রিয় ১০ ওয়েবসাইটের মধ্যে YouTube হচ্ছে একটি।

আপনি ইচ্ছে করলেই এখান থেকে কম সময় ব্যয় করে অল্প অভীজ্ঞতা নিয়ে মাসে ভাল মানের টাকা উপার্জন করতে পারেন। এই জন্য আপনাকে যেটি করতে হবে- প্রথমে বিভিন্ন ভাল মানের ভিডিও YouTube এ আপলোড করতে হবে।

এ জন্য আপনি আপনার মোবাইল ফোনকে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি ভ্রমন প্রিয় লোক হন তাহলে বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর প্রকৃতিক দৃশ্যগুলি আপনার ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী করেও এ কাজটি করতে পারেন।

অথবা আপনি যে বিষয় ভালভাবে জানেন সে বিষয়ে বিভিন্ন টেউটোরিয়াল তৈরী করেও কাজটি করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন কারও কোন নকল ভিডিও কপি করে এটি করা যাবে না। এতে করে হিতের বিপরীত হতে পারে।

ফেসবুক থেকে আয় 2020

অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় ফেসবুক সুযোগ করে দিয়েছে। নয়টি ভাষায় বিশ্বের ৩২টি দেশে এই সুবিধা চালু করেছে। 

১. ফেসবুক এফ-কমার্স

ফেসবুকে পেজ খুলেই বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা করা যায়। যেটা ইদানীং সবাই ফেসবুকে দেখছেন। যারা এভাবে কাজ করছেন, তাদের মাসিক আয় হচ্ছে ১৫,০০০ টাকা – ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত। আবার অনেকেরই ভালো ইনভেস্ট থাকার কারণে অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় আরও বেশি ইনকাম হচ্ছে। সেটা ১ লাখ থেকে ২ লাখও হতে পারে।

প্রোডাক্টঃ শাড়ি,মেয়েদের ড্রেস, গিফট আইটেম ইত্যাদি।

অভিজ্ঞতাঃ টার্গেট মার্কেটিং।

২. টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন – online jobs

বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় ইনকাম সোর্স হচ্ছে টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন। এ অ্যাফিলিয়েশনের জন্য শুধুমাত্র ফেসবুককেই ব্যবহার করা হয়। এভাবে মাসে ১৫,০০০ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

প্রোডাক্ট: টি-শার্ট,শার্ট,মগ, হুডি ইত্যাদি

অভিজ্ঞতাঃ নিশ সিলেক্ট, অডিয়েন্স টার্গেট, মার্কেটিং ইত্যাদি

আরও দেখুন–কিভাবে উবারে ড্রাইভার হিসেবে জয়েন করবেন এবং মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করবেন!কিল্ক করুন- 

৩. হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশন

হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশনের জন্য শুধুমাত্র ফেসবুক মার্কেটিং করে ইনকাম করা যায়। ইনকাম কয়টা সেল করেছেন, সেই অনুযায়ী বাড়তে থাকে। ইনকাম মাসে ৫০০০ টাকা – ৮০,০০০ টাকা হতে পারে।

প্রোডাক্ট: বিভিন্ন কোম্পানির হোস্টিং

অভিজ্ঞতাঃ কনটেন্ট ডেভেলপ, সম্ভাব্য কাস্টমার খুঁজে বের করা, মার্কেটিং ইত্যাদি

৪. লোকাল ব্যবসা

লোকাল যে কোন ব্যবসার প্রফিট বৃদ্ধির জন্য এখন ফেসবুক মার্কেটিংকে সবাই ব্যবহার করছে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, ফ্যাশন হাউস থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য ব্যবসাতেও ফেসবুকে মার্কেটিং করেই ইনকাম বৃদ্ধি করা যায়।

প্রোডাক্ট: সার্ভিস, ট্রেনিং, প্রোডাক্ট ইত্যাদি

অভিজ্ঞতাঃ ইনভেস্ট, প্রোডাক্ট বাছাই, দক্ষ ব্যক্তি, মার্কেটিং ইত্যাদি

৫. লোকাল চাকরি

যে কোনো ব্যবসাতে যেহেতু ফেসবুক মার্কেটিং এখন বড় একটি ফ্যাক্ট। সুতরাং, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে এ কাজটি করার জন্য ফেসবুক মার্কেটিংয়ের এক্সপার্ট লোকজনের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতনে এ সেক্টরে চাকরিতে নিচ্ছে।

প্রোডাক্ট: সার্ভিস, ট্রেনিং, প্রোডাক্ট ইত্যাদি

অভিজ্ঞতাঃ রিয়েল কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যবসাতে প্রফিট বৃদ্ধি করা ইত্যাদি

৬. ফাইভারের গিগ সেল

ফাইভারে গিগের যত বেশি প্রমোশন চালাবেন, ততই গিগ সেল বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ফেসবুক প্রমোশন চালাতেও সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। সঠিক জ্ঞান ছাড়া গিগ প্রমোশন চালালে ফাইভারে ইনকাম বাড়বে, উল্টো ফাইভার অ্যাকাউন্টটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

অনলাইনে আয় করার সহজ উপায়

প্রোডাক্ট: ফাইভার গিগ

অভিজ্ঞতাঃ অডিয়েন্স টার্গেট করতে পারা, কনটেন্ট ডেভেলপ করতে পারা, মার্কেটিং ইত্যাদি

৭. মার্কেটপ্লেসে কাজ

ফেসবুক যেহেতু মার্কেটিংয়ের অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম, সেহেতু মার্কেটপ্লেসে এখন প্রচুর কাজ পাওয়া যাচ্ছে এ সম্পর্কিত। এভাবে অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় মাসে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন।

প্রোডাক্ট: বায়ার রিকোয়েরমেন্ট অনুযায়ী সার্ভিস

অভিজ্ঞতাঃ কাজের পূর্বঅভিজ্ঞতার প্রমাণ, বায়ার কনভেন্স করতে পারা এবং রিপোর্টিং ইত্যাদি

ব্লগ লিখে আয়

আপনি গুগল ব্লগারে কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে বিনা মূল্যে একটি ব্লগ তৈরী করে নিতে পারেন। এখন ব্লগ তৈরী করে থেমে থাকলে হবে না। আপনার যে বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান আছে, আপনি সে বিষয় নিয়ে লিখে যান। এ ক্ষেত্রে হয়তো আপনি প্রথম ২-৩ মাস একটু কষ্ট করতে হবে। তাই বলে আপনি নিরাশ হয়ে থেমে থাকবেন না।

তাহলে এক্ষণি ফ্রিতে একটি BLOG নিন- Create Your Website

আপনি প্রতিদিন নিত্য নতুন আর্টিকেল লিখতে থাকেন। আপনার বিষয়টি যদি ইউনিক এবং জ্ঞানগর্ভপূর্ণ হয় তাহলে ভিজিটর অবশ্যই আপনার ব্লগে আসবে। এ ক্ষেত্রে সফলতা পেতে আপনাকে বেশী দিন অপেক্ষা করতে হবে না। আপনি নিজে নিজেই টাকা উপার্জনের পথ সুঘম করে নিতে পারবেন।

UpWork – একজন লেখক হয়ে

UpWork হচ্ছে এমন একটি সাইট যেখানে আপনি আপনার লেখা বা আর্টিকেল শেয়ার করে টাকা উপার্জন করে নিতে পারবেন। আপনি যদি একজন ভাল লেখক হন কিংবা যে কোন বিষয়ে ভাল জ্ঞান রাখেন, তাহলে যদি সে বিষয়ে ভাল মানের আর্টিকেল লিখতে পারেন, তাহলেই এটা আপনার পক্ষে সম্ভব।

UpWork আপওয়ার্কে কাজ পেতে দুর্দান্ত ১০টি টিপস!

আপনার লেখার মান যদি ভাল হয় তাহলে UpWork এ আপনার লেখার মূল্য অর্থাৎ টাকা উপার্জনের পরিমান দিন দিন বাড়তে থাকবে। এখান থেকে মাসে লাখ টাকা উপার্জন করে এমন লোকও আছে। এখানে যার যার মেধা অনুসারে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।
 

Adsense থেকে আয়

Adsense হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের (Advertisement) Program. এটি গুগল কর্তৃপক্ষ সয়ং নিজে পরিচালনা করছে। আপনি যদি আপনার ব্লগটিকে ভাল মানের Platform এ নিয়ে যেতে পারেন।

আপনার ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে তাহলে Adsense থেকে আপনি হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এ পদ্ধতীতে আপনার ব্লগে Adsense এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ক্লিক প্রতি ডলার আয় করতে পারবেন। অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় এভাবে কাজ করলে আপনি সফলতা পাবেন। 

আরও দেখুন- আপনি আপনার সোফায় বসে অর্থ উপার্জন করুন ৯ টা ওয়েবসাইট থেকে, না দেখলে মিস করবেন-কিল্ক করুন 

আমরা অনেকেই মনে করি, Adsense Approv করাটা অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু আমি বলছি মোটেও কঠিন কাজ নয়। আপনি যদি মানসম্মত ২৫-৩০ টি ইউনিক কনটেন্ট লিখতে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে Adsense Approv হয়ে যাবে। এখান থেকে আপনি দীর্ঘ দিন যাবত টাকা উপার্জন করে যেতে পারবেন।

প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে (Ask And You Answer)

আপনি যদি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন, যেমন ধরুন – Math, English, Physics, Biology, Humanities ইত্যাদি। তাহলে আপনি প্রশ্ন উত্তর প্রদানের মাধ্যমে ইন্টারনেটে অন্যের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেন।

আপনি যদি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারেন, তাহলে ইন্টারনেটে অনেক সাইট আছে যেগুলি আপনার সাথে যোগাযোগ করবে তাদের সাইটে জয়েন করার জন্য।

ফলে তাদের সাইটে জয়েন করার মাধ্যমে ঐ কোম্পানী হতে আপনি ভাল মানের টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি বেশ চালাক এবং বুদ্ধিমান হতে হবে। আপনি বুঝতেই পারছেন আপনার চালাকি এবং মেধাকে কাজে লাগিয়ে এখান থেকে টাকা উপার্জন করবেন।

AMAZON এ আপনার Products বিক্রির মাধ্যমে

আপনারা হয়তো জানেন যে, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে পন্য কেনা কাটার জন্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হচ্ছে Amazon. এখানে লোকজন তাদের বিভিন্ন ধরনের Products বিক্রি করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন।

আপনার পন্যটি যদি ক্রেতার কাছে ভাল মনে হয় তাহলে পন্যটি কেনার জন্য ক্রেতারা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। আপনি যদি আপনার Products বিক্রি করে একজন ভাল মানের বিক্রেতা হতে পারেন।

তাহলে এখান থেকে কমদামে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করে ভাল দামে বিক্রয় করে লাভবান হতে পারেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনাকে আগে একজন ভাল মানের বিক্রেতা হিসেবে প্রমান করতে হবে।

Read more- Highest CPC Country ,উচ্চ সিপিসি সম্পন্ন দেশগুলির তালিকা দেখুন!

 

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

এক রিপোর্টে, ফ্রিল্যান্সার ডটকমে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি আগের প্রান্তিকে পোস্ট হওয়া ৭ হাজার ৯২৫ থেকে ১২ হাজার ৩২৯টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এ খাতে চাহিদা বেড়েছে ৫৫ শতাংশের বেশি।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের নানা রকম কাজে নিয়োগদাতাকে সাহায্য করতে হয়। গ্রাহকসেবা, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ব্লগ পোস্টিং থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল অফিসে বাস্তব অফিসের সহকারীর মতো কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রকল্পভিত্তিক বা ঘণ্টা ভিত্তিতে আয়ের সুযোগ থাকে।

জরিপ, সার্চ ও রিভিউ

অনলাইন জরিপে অংশ নিয়ে অর্থ আয় করতে পারেন। অনেক ওয়েবসাইট জরিপে অংশ নিলে তারা অর্থ দেয়। এ ছাড়া অনলাইন সার্চ ও পণ্যের পর্যালোচনা লিখে আয় করতে পারেন।

তবে, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য দেওয়া লাগতে পারে। কাজের সময় কোনটি প্রকৃত কাজ আর কোনটি স্ক্যাম—যাচাই-বাছাই করে নিয়ে কাজ করতে পারেন।



ফ্রিল্যান্সিং

অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার বিষয়টি সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দেয় কয়েকটি ওয়েবসাইট। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য আবেদন করতে হয়। কাজদাতা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ করে ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দেয়।

কয়েকটি ওয়েবাসাইটে কাজের দক্ষতার বিবরণ জানাতে হয়, যাতে ক্রেতা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এসব সাইটের মধ্যে ফাইভার ডটকম, আপওয়ার্ক ডটকম, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ও ওয়ার্কএনহায়ার ডটকমে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়া যায়। ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায় এসব সাইট থেকে। মনে রাখতে হবে, কাজ শেষ করার পর কাজদাতার অনুমোদন পেলে তবেই অর্থ ছাড় দেবেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কাজের মানের ওপর কাজদাতা রেটিং দিতে পারেন। গ্রাহকের পছন্দ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করে দিতে হয় ফ্রিল্যান্সারকে। বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ আনা যায়।

নিজের ওয়েবসাইট তৈরি

এখন নিজের ওয়েবসাইট তৈরির জন্য অনলাইনেই অনেক উপাদান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডোমেইন নির্বাচন, টেমপ্লেট, ওয়েবসাইট তৈরির নকশা প্রভৃতি। যখন পাঠক বা দর্শককে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন কনটেন্ট সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি সারা, তখন গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। গুগলের বিজ্ঞাপন যখন সাইটে দেখানো শুরু হবে এবং তাতে ক্লিক পড়বে, তখন আয় আসতে শুরু করবে। ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বা দর্শক যত বেশি হবে, আয়ের পরিমাণ তত বাড়বে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

এই পদ্ধতিতে আয়ের ক্ষেত্রেও নিজের ওয়েবপেজ বা ব্লগ প্রয়োজন। যখন ওয়েবসাইট বা ব্লগ চালু হবে, তখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লিংক তাতে যুক্ত করতে পারবেন। যখন আপনার সাইট থেকে ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা কোনো দর্শক কিনবেন, তখনই আপনার আয় আসতে শুরু করবে।

গ্রাফিকস ডিজাইন

অনলাইনে ঘরে বসে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিকস ডিজাইন ভালো উপায়। যারা এ কাজে দক্ষ, তারা বিভিন্ন ডিজাইন অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে দিয়ে রাখেন। সেখান থেকে তাদের আয় আসে। তাদের তৈরি একটি পণ্য অনেকবার বিক্রি হয়। অর্থাত্ একটি ভালো নকশা থেকেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত আয় হতে থাকে। অনলাইনে এ ধরনের অনেক ওয়েবসাইটে গ্রাফিকসের কাজ বিক্রি করা যায়। এ ছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতেও গ্রাফিকস ডিজাইনারদের অনেক চাহিদা রয়েছে।

জরিপ, সার্চ ও রিভিউ

অনলাইন জরিপে অংশ নিয়ে অর্থ আয় করতে পারেন। অনেক ওয়েবসাইট জরিপে অংশ নিলে অর্থ দেয়। এ ছাড়া অনলাইন সার্চ ও পণ্যের পর্যালোচনা লিখে আয় করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য দেওয়া লাগতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে কাজ করার সময় সতর্কভাবে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে কাজের সময় কোনটি প্রকৃত কাজ আর কোনটি স্ক্যাম—যাচাই-বাছাই করে নিয়ে কাজ করতে পারেন।


অনলাইনে আয় করার হরেক রকম উপায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ভুয়া। আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা বিভিন্ন পিটিসি সাইটের পিছনে সময় দিয়ে জীবনের মুল্যবান সময়টুকু নষ্ট করছেন। এখন বেশিরভাগ পিটিসি সাইট পেমেন্ট দেয় না।অনলাইন হতে আয় করার কয়েকটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।


ফ্রিল্যান্সিং:

ফ্রিল্যান্সিংয়ের নাম শুনেনি এমন লোক খুব কমই পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত এটিই অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হিসেবে অবস্থান করছে। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে অবশ্যই আপনাকে যেকোনো একটি কাজে দক্ষ হতে হবে। এই প্ল্যাটফরমে আসার আগে যেকোন একটি কাজ আগে ভালোভাবে শিখে নিন। বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ তরুণীরা ফ্রিল্যান্সিং করে খুব ভালো মানের টাকা আয় করছে। বাংলাদেশে এরকারনে বেকারত্বের হার অনেকাংশে কমে এসেছে। তবে একটি কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, আগে কাজ শিখতে হবে, অনেকেই রয়েছে যারা ভালোভাবে কাজ না শিখে মার্কেটপ্লেসে ঢুকে পড়েন। এতে কিন্তু মার্কেটপ্লেসগুলিতে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে এটা আমাদের মাথায় রাখা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় যদি মার্কেটপ্লেসে ঢুকার আগে কয়েকটি লোকাল কাজ করা হয়। আগে কাজ শিখুন ভালোভাবে তারপর মার্কেটপ্লেসে ঢুকে বিড করুন এর আগে নয়। বি প্রফেশনাল। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কমিউনিকেশন স্কিল খুবই গুরুত্বপুর্ন তাই ইংরেজিতেও দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। নিজের প্রোফাইলটা সুন্দর ভাবে সাজান। সুন্দরভাবে কভার লেটার লিখতে শিখুন। কাজ না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেয় লেগে থাকুন। সফলতা আসবেই।


ব্লগিং:

 ব্লগিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মত একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফরম অনলাইন থেকে আয়ের জন্য। ব্লগ লিখেও আপনি খুব ভালোমানের টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি ইচ্ছে করলে এটিকে শখ হিসেবেই নিতে পারেন। ধরুন আপনি কোনো কিছু সম্পর্কে জানেন সেটা আপনি সবাইকে জানাতে চান কিংবা শিখাতে চান সেজন্য আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারেন। আপনি যেকোনো বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখতে পারেন। একটি ব্লগ সাইট খোলাও আহামরি কঠিন কিছু না। যদি বিগেনার লেভেলে হোন তাহলে ব্লগস্পট দিয়ে শুরু করতে পারেন। blogspot.com থেকে খুব সহজেই ব্লগসাইট খোলা যায়। ইচ্ছে করলে কাস্টম ডোমেইনও সংযুক্ত করতে পারবেন। এখানে অনেক ফ্রি থিম পাবেন আপনি। blogspot যেহেতু গুগলের মালিকানাধীন সাইট তাই এডসেন্স এপ্রুভ পেতে ঝামেলা হয় না। আর একবার এডসেন্স পেলেই কেল্লাপতে। আর আপনি ইচ্ছা করলে হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেসেও মুভ করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেসে অনেক টুলস রয়েছে যেগুলি আপনি ব্লগস্পটে পাবেন না। তবে যারা নতুন রয়েছেন তারা আগে ব্লগস্পট দিয়ে শুরু করলেই ভালো হয়।


ইউটিউবিং:

ইউটিউব থেকে আয় করা যায় এটা এখন সবাই জানে। কিন্তু বাংলাদেশের ইউটিউব প্ল্যাটফরমটা আর আগের মত নেই। বাংলাদেশের ইউটিউবে  এখন আজেবাজে কনটেন্টে গিজগিজ করতেছে। ইউটিউব থেকে আয় করা যায় এইজিনিসটা এতই ফলাউভাবে মাইকিং করা হয়েছে যে, এখন যে যেভাবে পারছে ইউটিউবে চ্যানেল একটা তৈরি করে আজেবাজে ভিডিও আপলোড করা শুরু করছে। অন্যের ভিডিও কপি করে, ভুয়া নিউজ দিয়ে, ভুল সোশ্যাল মেসেজ দিয়ে, ১৮+ কনটেন্ট দিয়ে। আপনি যদি ইউটিউবে আসতে চান তাহলে ইউনিক কিছু চিন্তা করুন। ভালো কনটেন্ট তৈরি করুন। তাহলেই আপনি ইউটিউবে সফল হতে পারবেন।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং:

চুক্তিভিত্তিকভাবে কোনো কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা বিক্রির মাধ্যমে আয় করাকেই সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। ধরুণ, আপনার কোনো সমস্যায় আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর জন্য প্রেসক্রিপশন দিলেন। খেয়াল করলে দেখবেন ডাক্তার এসব পরীক্ষা করানোর জন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতালের নাম বলবে। আপনি যদি ডাক্তারের বলা ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতাল থেকে আপনার পরীক্ষা করান তাহলে ডাক্তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। ডাক্তার রোগী পাঠানোর মাধ্যমে যে আয় করলেন এই বিষয়টিকে সহজ ভাষায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। কমার্স সাইটের বাইরে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনতে গেলে দেখবেন সেটি আপনাকে একটি লিংকের মাধ্যমে অ্যামাজন, ইবেসহ এ ধরনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে। আপনি যদি ঐ লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কেনেন তাহলে ওয়েবসাইটের মালিক একটা কমিশন পাবেন। অনলাইনে ঠিক এমনিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ব্লগার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা হাজার হাজার ডলার আয় করছেন। তবে একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে গেলে প্রথমত আপনার ধৈর্য্য থাকতে হবে। আপনাকে অবশ্যই বেশ কিছু বিষয় জানতে হবে। সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের বিভিন্ন পরামর্শ শুনতে ও জানতে হবে। যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে চান তাদের জন্য অনলাইনে অনেক রিসোর্স ওয়েবসাইট রয়েছে। ইউটিউবেও আপনি অসংখ্য ভিডিও টিউটোরিয়াল পাবেন এছাড়াও অনলাইনে আয়ের অনেকরকম উপায় রয়েছে। আমি শুধু জনপ্রিয় প্ল্যাটফরমগুলি তুলে ধরেছি।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ