ঘুষ দিয়ে চাকুরি প্রসঙ্গে...?

মনে করুন কোন চাকুরিতে ১০ জন লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। চাকুরির পরীক্ষায় আমি প্রথম হলাম। আমার কাছে ঘুষ চাওয়া হল। আমি ঘুষ না দিলে আমাকে চাকুরি না দিয়ে অযোগ্য কোন লোককে ঘুষের বিনিময়ে চাকুরি দেওয়া হবে। অর্থাৎ ঘুষ না দেওয়ার কারণে আমাকে প্রাপ্য অধিকার (চাকুরি) থেকে বঞ্চিত করা হবে। তাই বাধ্য হয়ে ঘুুুষ দিয়ে চাকুরিটা নিলাম।

খুব ভালো করে খেয়াল করুন, আমি কিন্তু ঘুষ দিয়ে অন্যের অধিকার (চাকুরি) হরণ করিনি। বরং ঘুষ দিয়ে নিজের অধিকার (চাকুরি) ধরে রেখেছি।

এমতাবস্থায় ঘুষ দেওয়া কি ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী হারাম হবে?


3 টি উত্তর



ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সর্বাবস্তায় হারাম। কেননা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহণকারী উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন। (আবু দাউদঃ ৩৫৮২)।

তাই ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া জায়েয হবে না। এতে একদিকে ঘুষ প্রদানের কবীরা গুনাহ হয়, অন্যদিকে ঘুষদাতা অযোগ্য হলে অন্য চাকরিপ্রার্থীর হক নষ্ট করারও গুনাহ হয়।

কিন্তু আপনি যা বলছেন, পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। আপনার কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছে। ঘুষ না দিলে চাকরি না দিয়ে অযোগ্য কোন লোককে ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হবে। অর্থাৎ ঘুষ না দেওয়ার কারণে আপনাকে প্রাপ্য অধিকার (চাকরি) থেকে বঞ্চিত করা হবে। তাই বাধ্য হয়ে ঘুুুষ দিয়ে চাকরিটা নিয়ে নিজের অধিকার (চাকুরি) ধরে রাখায় এমতাবস্থায় ঘুষ দিতে পারেন।

যদি আপনি প্রার্থিত পদের যোগ্য হোন, যোগ্য হওয়া সত্বেও ঘুষ ছাড়া উক্ত পদ পাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজনে ঘুষ দেওয়া জায়েজ আছে। এক্ষেত্রে ঘুষদাতা গোনাহগার হবে না, ঘুষগ্রহীতা গোনাহগার হবে।

অবশ্য কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে চাকরির যোগ্য হয় এবং ঘুষ প্রদান হারাম হওয়া সত্বেও ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় আর পরবর্তীতে সে যথাযথভাবে দায়িত্ব আঞ্জাম দেয় তাহলে এভাবে চাকরি নেওয়া পকৃতপক্ষে নাজায়েজ হলেও বেতন হালাল হয়ে যাবে।

কিন্তু যদি সে তার কর্মক্ষেত্রের অযোগ্য হয় এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তার জন্য ঐ চাকরিতে থাকা বৈধ হবে না। আর ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করে বেতন নেওয়াও বৈধ হবে না।

সর্বশেষ কথাঃ কোন ব্যক্তি যদি চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে ইন্টারভিউতে দেখা গেলো সে ঐ চাকরি করার সম্পুর্ণ উপযোগী। কিন্তু চাকরিটা পেতে হলে, তাকে ঘুষ দিতেই হবে। এক্ষেত্রে সে ঘুষ দিতে পারবে।

কেননা, জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষা করার জন্য বা বৈধ জিনিস অর্জন করার জন্য অপারগ হয়ে ঘুষ দেয়ার অবকাশ আছে।

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৮ নাম্বার আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে— ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে-অপরের সম্পদ ভোগ কর না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিও না। ’
উপরোক্ত আয়াতে অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদ ভোগ করার যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তা ঘুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ঘুষদাতা, ঘুষ গ্রহীতা, উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারী, সবার ওপর আল্লাহ লা’নত (আল-মুজামুল কবির লিত্তাবরানী)।

এখানে ঘুষ দেওয়া নেওয়া দুটাই হারাম করেছে ইসলাম অর্থাৎ আপনি যোগ্য ছিলেন চাকুরির জন্য কিন্তু না পেয়ে ঘুষের আশ্রয় নিয়ে চাকরি নিলে সেটা ইসলাম বিরোধী হবে। আপনাকে যদি আল্লাহ প্রাপ্য কোন জিনিস দিয়ে থাকে ইনশাআল্লাহ একদিন পাবেন আল্লাহ দিবেন তবে ইসলামি শরিয়ত বিরোধীভাবে নয়।তাই উপরোক্ত হাদিস টুকু ভাল ভাবে দেখলেই বিষয়টা সম্পূর্ণ ক্লিয়ার হয়ে যাবেন।ধন্যবাদ

না । ঘুষ সবক্ষেত্রে হারাম । আপনি চাকুরির পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন । কিন্তু আপনাকে আপনার অধিকারের জন্য ঘুষ দিতে হবে । এমন অবস্থায় আপনি ঘুষ দিতে পারবেন না । ঘুষ কবিরা গুনাহ । একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামের জন্য যথেষ্ট। আপনাকে ঘুষ দেওয়ার কথা যিনি বলেছেন তার শাস্তি তাই পেয়ে যাবে বরং আপনাকে তার ভাগিদার হতে হবে ।

হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন, ঘুষ প্রদানকারী ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়ের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। (বুখারি ও মুসলিম)। হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) আরও বলেছেন যে, ঘুষ দাতা ও ঘুষ খোর উভয়ে জাহান্নামি। ( তাবারানি)।

ঘুষ এর ফলে অনেক ক্ষতি রয়েছে । কোন পরিস্থিতিতে ঘুষ হালাল নয় । তা দেওয়া কিংবা নেওয়া উভই ।

আপনি চাকরির সঠিক অধিকার বর্তমানে না পেলে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে এর উত্তম প্রতিদান দেবেন । ঘুষ হারাম ।

হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন, যে সমাজে ঘুষ লেনদেন প্রসার লাভ করে সে সমাজে ভীতি ও সন্ত্রাস সৃষ্টি হয়ে যায় । ( মুস্ননাদে আহমদ)।

ইসলামে ঘুষকে হারাম করা হয়েছে । কোন অবসস্থাতেই ঘুষ বৈধ হবে না। ঘুষ ইসলামে নিসিদ্ধ ।

আল্লাহ তায়ালা রিজিকের মালিক । আপনার ঘুষ দেওয়া চাকরিতে আল্লাহ বরকত দেবেন না ।

আপনি চাকুরির জন্য ঘুষ দিতে পারবেন না ।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ