দুঃখিত কিন্তু উত্তর পাবার পরও প্রশ্নটি আবার করলাম পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জানতে চাই!?

আসসালামু আলাইকুম। এই প্রশ্নটি বিভিন্ন গ্রুপে করেছি কিন্তু সম্পূর্ণ উত্তর পাই নি। প্রশ্নটি হলোঃ আল্লাহ তায়ালার নামে শিরকমূলক এবং গালিমূলক কথা বলার আগে এবং পরে শিরকমূলক এবং গালিমূলক কথা বলার জন্য যদি কেউ নিজেই নিজের জন্য আল্লাহর কাছে শাস্তি চায় এবং আল্লাহকে বলে " আমি যে শাস্তি চাইলাম এই শাস্তি বিষয়ক কোনো কথা যেমন নিজের কামনাকৃত শাস্তিটি মওকুফ বিষয়ক কোনো কথা তুমি (আল্লাহ) গ্রহণ করবা না।" এরপর সে নিজের কামনাকৃত শাস্তিটি থেকে বাঁচতে কি করতে পারে? যদি সে উক্ত পুরো বিষয়টি বারবার করতে থাকে যেমনঃ বারবার নিজের জন্য শাস্তি চাইতে থাকে এবং সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে তাহলে সে কিভাবে নিজের কামনাকৃত শাস্তি থেকে বাঁচতে পারবে? সকল মাজহাব,ইমাম এবং ইসলামের সকল দল উপরোক্ত প্রশ্নসমূহের ক্ষেত্রে কি একই উত্তর দেয়?

2 টি উত্তর


আল্লাহ তায়ালার নামে শিরকমূলক এবং গালিমূলক কথা বলার আগে এবং পরে কেউ নিজেই নিজের জন্য আল্লাহর কাছে শাস্তি চায় এবং আল্লাহকে বলে আমি যে শাস্তি চাইলাম এই শাস্তি বিষয়ক কোনো কথা যেমন নিজের কামনাকৃত শাস্তিটি মওকুফ বিষয়ক কোনো কথা তুমি (আল্লাহ) গ্রহণ করবা না। এমন কথাতো আল্লাহ শুনবেন না। কারন তিনি দুনিয়ার বাদশা নয় যে, তিনি আপনার কথা মত চলবে।

কেননা, পাপ করলে শাস্তি পেতেই হবে।  আল্লাহ তায়ালাকে গালমন্দ করা সকল কুফরি অপেক্ষা বড় কুফরি। এই পাপের কোন ক্ষমা নেই।

পাপ করলে তার শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে। অধিকাংশ পাপের শাস্তি হবে পরকালে। তবে কিছু পাপের শাস্তি দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে মন্দ কাজ করবে, তাকে সেই কাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে। (সূরা নিসা, আয়াত ১২৩)।

তাই যেকোন পাপ কাজ করার আগেই ভাবতে হবে। সেই পাপ থেকে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ তায়লাকে সর্বদা ভয় করতে হবে। কুরআনের বানীঃ আলাহকে ভয় কর, আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর। (সুরা মায়িদাহঃ ২)।

তবে কেউ নিজের পাপকৃত শাস্তিটি থেকে বাঁচতে যা করতে পারেঃ

মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো শাস্তি শিরকমূলক বা গালিমূলক হোক তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তা মাফ করে দেন। এ বিষয়টি যেকোনো মাজহাব এবং ইসলামের সকল দল মত নির্বিশেষে সমর্থিত এ বিষয়টি নিয়ে কোন মতভেদ নেই।

তবে উলামা সম্প্রদায়ের উক্তি এই যে, প্রত্যেক পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব। তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।

১। পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।

২। পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।

৩। ঐ পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবা বিশুদ্ধ হবে না।

আল্লাহ তায়ালার নামে শিরকমূলক এবং গালিমূলক কথা বলার আগে এবং পরে কেউ নিজেই নিজের জন্য আল্লাহর কাছে শাস্তি চায় তাহলে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন কি দেবেন না তা আল্লাহ তায়ালাই যানেন । আল্লাহ তায়ালা সব শোনেন এবং জানেন । সূরা বাকারার ১৮১ নং আয়াতে আছে- আল্লাহ তায়ালা সব শোনেন এবং যানেন ।

কেউ যদি নিজের শাস্তি চেয়ে আল্লাহকে বলে আমি যে শাস্তি চাইলাম এই শাস্তি বিষয়ক কোনো কথা যেমন নিজের কামনাকৃত শাস্তিটি মওকুফ বিষয়ক কোনো কথা তুমি  গ্রহণ করবা না। আল্লাহ তায়ালার শাস্তি খুব কঠোর । কোন মানব এ শাস্তি সহ্য করতে পারবে না । আলাহকে ভয় কর, আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর। (সুরা মায়িদাহ আয়াত ২) ।

আল্লাহর  নামে   শিরকমূলক এবং গালিমূলক কথা বলা  অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ । আল্লাহ তায়ালা শিরকের গুনাহ কখনো ক্ষমা করেন না ।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা শেরেকী গুনাহ ক্ষমা করবেন না । এটা ছাড়া অন্য সমস্ত গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন । আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করল, সে অতি কঠিন গুনাহে লিপ্ত হল । (সূরা নিসা আয়াত ৪৮)। গালি দেওয়া ফাসেকি । তবে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত সকল গুনাহ আল্লাহ ইচ্ছা করলে মাফ করে দেবেন । তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু । (সূরা যুমার আয়াত ৫৩)। এটি যেহেতু কুরআনের আয়াত তাই   এ বিষয়ে  কোন মাযহাব ও ইসলামিক দলের দ্বিমত পোষণের কোন কারণ নেই ।

সে নিজের কামনাকৃত শাস্তি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে ।

তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো ।তার নিকট খাটি দিলে তওবা করো । নিঃসন্দেহে আমার প্রভু গুনাহ ক্ষমাকারী ও প্রেমময় । (সূরা হুদ রুকু ১৮)। আল্লাহর কাছে গুনাহকারিকে খাটি দিলে তওবা করতে হবে ।

রাসুল (সঃ) বলেছেন,যে গুনাহ হতে খাটি দিলে তওবা করে থাকে, সে ঐ লোকের ন্যায় হয়ে যায়, যার কোন গুনাহ নেই।(ইবনে মাজাহ ও তাবারানি)।

তওবা করার সঠিক পদ্ধতিঃ


১। সকল পাপ ত্যাগ করতে হবে ।

২। পাপকে আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে হবে ।

৩। যে পাপের জন্য তওবা করছেন তা ভবিষ্যতে না করার নিয়ত করতে হবে ।

আল্লাহ তায়ালা ৯৯ শতাংশ দয়া নিজের কাছে রেখেছেন । বাকি ১ শতাংশ পৃথিবীতে দিয়েছেন । আল্লাহ তায়ালা সবাইকে ক্ষমা করুক ।

সূর্য পশ্চিম দিক থেকে না উঠা পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তওবা কবুল করবেন।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ