ধরুন আপনি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছেন সেখানে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো ‘নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন’ তার উত্তরে আপনি কি বলবেন। অথবা, কোন প্রেক্ষাপটে কোন বিষয় নিয়ে বললে ভাল হবে আপনার অভিজ্ঞতা থেকে উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করুন।

7 Answers

 (26 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 



আসলে, আপনার নিজের সম্পর্কে বলা মানে আপনার পছন্দ বা অপছন্দের বিষয় সম্পর্কে নয়, বরং আপনি কী ধরনের জব প্রোফাইল পছন্দ করেন তবে অবশ্যই যে পদের জন্য ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছেন, সেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে আপনাকে, বা কী বিষয় নিয়ে আপনি পড়াশোনা করেছেন, যে প্রোফাইলে কাজ করার জন্য আপনি আবেদন করেছেন, কেন আপনি সেই প্রোফাইলের জন্য উপযুক্ত সেসবই হল এই প্রশ্নের যথাযোগ্য উত্তর।

ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় চেষ্টা করবেন ইন্টারভিউয়ার যেন আপনার সঙ্গে সমানভাবে অংশগ্রহণ করেন সেটা নিশ্চিত করতে। তাতে তার পছন্দ-অপছন্দ, প্রয়োজন সম্পর্কে আপনার একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে।

এই ফিল্ড সম্পর্কে কি আপনার কোনো ধারণা আছে?

যদি আপনার সত্যিই স্পষ্ট ধারণা থাকে, তা হলে সরাসরিভাবে তা জানিয়ে দিন। আর না থাকলে খুব ভদ্রভাবে বলুন, আপনি যা জানেন সবটাই অন্যের কাছ থেকে শোনা এবং আপনি বিস্তারিতভাবে এই ফিল্ড সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী। তবে এমন যেন না হয় যে, আপনি আদৌ ওই ফিল্ড সম্পর্কে জানেন না, অথচ অতি চালাকি করে বলে দিলেন, ধারণা আছে, তাহলে কিন্তু বিপদে পড়বেন আপনি।

কারণ, পরের প্রশ্নটা অবধারিতভাবে হবে, 'কী জানেন?' ব্যস, আপনার যাবতীয় জারিজুরি শেষ। তাই মনে রাখুন, অতি চালাকের গলায় দড়ি।

আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দুর্বল দিকগুলো কী?

যেকোনো ইন্টারভিউ দেওয়ার আগেই কিন্তু এই প্রশ্নটির উত্তরের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখতে হবে। সম্প্রতি আপনি গঠনমূলক কী কী কাজ করছেন, তার একটা লিস্ট করে রাখবেন এবং সময়মতো সেগুলো বলে দিবেন। আগেই বলেছি, প্রথমেই আপনাকে ইন্টারভিউয়ারের মানসিকতা ও চাহিদা সম্পর্কে অবহিত হতে হবে। আর সেটা হয়ে থাকলে এই প্রশ্নটার উত্তরও খুব সহজেই আপনি বলতে পারবেন।

আপনার কয়েকটি 'স্ট্রেন্থ' বা জোরালো দিকের মধ্যে আসতে পারে ইন্টেলিজেন্স (বুদ্ধিমত্তা), অনেস্টি বা ইন্টগ্রিটি (সততা), কর্পোরেট কালচার সম্বন্ধে পরিচিত থাকা, সকলের সঙ্গে মেশার দক্ষতা, সেন্স অফ হিউমার, গুড কমিউনিকেশন স্কিল, যেকোনো কাজে সিরিয়াসনেস, ডেডিকেশন প্রভৃতি। একটু মাথা খাটালে দেখবেন এরকম হাজারটা গুণে আপনি গুণবান। তবে এই সব শব্দগুলোর সঙ্গে আপনি অথবা আপনার অ্যাপিয়ারেন্স আদৌ মিলে যায় কি না, সেটা বুঝে নিয়ে তবেই এসব গুণের কথা বলবেন।

কারণ, হয়তো আপনি নিজেকে সৎ বললেন, কিন্তু আপনার সততার কোনো উদাহরণ দিতে পারলেন না। এতে কিন্তু আপনি মিথ্যেবাদী প্রমাণিত হতে পারেন। অতএব ভেবেচিন্তে উত্তর দিন। আবার দুর্বলতার ক্ষেত্রে সেগুলোকেই তুলে ধরুন যা ইন্টারভিউয়ের চাকরির জন্য প্রতিবন্ধক নয়। বেশি ব্যাখ্যায় যাবেন না। কারণ স্ট্রেন্থ বা উইকনেস এমন দু'টো শব্দ যে, একজনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি তার স্ট্রেন্থ, সেটিই অন্য কারও ক্ষেত্রে উইকনেস হয়ে যেতে পারে।

এই কোম্পানিতে কেন কাজ করতে চাইছেন?

এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ আছে কি?

আপনাকে প্রথমেই যেটা করতে হবে সেটা হলো, ওই কোম্পানির কাজ ও রেপুটেশন সম্পর্কে একটা ছোটখাটো রিসার্চ সেরে রাখা।

আপনার নিজের প্রোফাইল সম্পর্কেও আপনাকে আগেভাবে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করে রাখতে।হবে। আর আগে থেকেই যদি এসব প্রস্তুতি সেরে রাখেন, তা হলে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা আপনার কাছে কোনো ব্যাপারই নয়।

কোম্পানি সম্বন্ধে জানার জন্য ওই কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন, কর্পোরেট নিউজলেটার, বিজ্ঞাপন, কোম্পানি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা আগে থেকেই পড়ে রাখা প্রয়োজন।

চাকরির ইন্টারভিউতে প্রশ্নটার সবচেয়ে ভালো উত্তর দিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রাখা খুবই জরুরি। বিষয়গুলো হলো:

১। সর্বোচ্চ ৫-৭ টি বাক্যে আপনার উত্তর দিন। কারণ বেশি বড় উত্তর শোনার জন্য সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন, যা বেশির ভাগ ইন্টারভিউতেই থাকে না।

২। প্রশ্নটির উত্তরে সর্বোচ্চ ১মিনিট সময় নিন। কারণ বেশি লম্বা উত্তর কোনো প্রশ্নকর্তাই পছন্দ করেন না।

৩। উত্তরে আপনার পারদর্শিতা ফুটিয়ে তুলুন। আপনার সব পারদর্শিতা ৫-৭ টি বাক্যে ও সর্বোচ্চ ১ মিনিটে শেষ করার মতো না হলে, চাকরিটিতে যে পারদর্শিতা চাওয়া হচ্ছে সেগুলো বলুন (যদি থাকে)।

৪। চাকরি সম্পর্কিত কোনো বড় অর্জন থাকলে সুন্দর করে তুলে ধরুন।

৫। ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগে সেই উত্তরটা লেখে প্রস্তুতি নিয়ে যান।

এই ক্ষেত্রে যা বলতে পারেন তা হলো:

১। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য থেকে থাকলে তা উল্লেখ করুন - যেমন স্কলারশিপ, প্রথম স্থান অধিকার করা ইত্যাদি।

২। একটি দুর্বলতার কথা বলুন, এবং সাথে সাথে বলুন কিভাবে দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন।

এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে, কিছু জিনিস যা কখনোই বলা ঠিক নয়, এই বিষয়গুলো হলো:

১। আপনার পারিবারিক বিষয়গুলো তুলে আনা, যেমন আপনার বাবা কি করেন, মা কি করেন, পরিবারে কয়জন ইত্যাদি।

২। যে পদের জন্য সাক্ষাতকার দিচ্ছেন তার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা কোনো ভাবেই সংশ্লিষ্ট পদে কাজে আসবে না এই রকম কোনো গুণের কথা বলা।

নিজের সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। কিন্তু সঠিকভাবে নিজেকে তুলে ধরতে না পারলে তা কখনোই ভালো ফল এনে দিতে পারে না। অন্যদিকে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন শত শত প্রার্থী থেকে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে সহায়তা করে। যা একজন সফল কর্মীর পরিচায়ক। তাই নিজেকে জানুন আর নিজেকে তুলে ধরুন সফল ভাবে। ©
 (6179 পয়েন্ট) Girl with short hair

উত্তরের সময় 

 আমি নিজে কখনো চাকরির ইন্টারভিউ দেই নি তবে ইন্টারভিউ দিয়েছি যেখানে এই প্রশ্ন সরাসরি নয় তবে এরকম ধরনের প্রশ্নের সামনেও পড়েছি। ইন্টারভিউতে সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন নিজের সম্পর্কে বলতে বলা অথচ সবাইকে দেখি এই প্রশ্নেই নার্ভাস হয়ে যায়। 

আসলে এমন কিছু ব্যাপার আছে যে যেটা আপনার সবচেয়ে বেশি থাকা উচিৎ বা সবচেয়ে বেশি সবাই মনে করে সেটাতেই ঘাটতি থেকে যায়। যেমন ধরুন আপনার বাসায় একটা সুন্দর ডাইনিং টেবিল আছে সবার দেখলে পছন্দ হয়। কিন্তু আপনার কাছে সেটার কোনো ছবি নাই। একইভাবে আপনার কাছে নিজের জন্য বলার কোনো কথা থাকে না। 

নিজের সম্পর্কে বলতে বললে যদি আপনি আপনার নাম, ঠিকানা, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে শুরু করেন তাহলে সেটাই নেহায়েতই বোকামি হওয়ার কথা। কারণ এসব তথ্য তারা আগে থেকেই জানার কথা এবং এসব জানার জন্যও তারা প্রশ্ন করেন নি। প্রশ্নটি অবশ্যই আপনার মানসিকতা, আপনার মাইন্ডসেট জানতেই করেছেন। 

আমার মতে এখানে আপনি বলে নিতে পারেন যে "আমার সম্পর্কে ফরমাল তথ্য সবই আপনারা জানেন, তাই সেদিকে আমি যাচ্ছি না" এরপর বলুন আপনার নিজের কথা, পরিচয় নয় আপনি নিজে কেমন সেটা বলুন। আপনি বলতে পারেন "আমি একজন রিলিজিয়াস মানুষ, সবসময় ধর্ম মেনে চলার চেষ্টা করি। তাই নিজের মধ্যে আই গেস হনেস্টি যথেষ্ট পরিমাণে আছে" এছাড়া বলতে পারেন "শিক্ষাজীবনে অর্জন দেখতে সাদামাটা হলেও তা আমার মতে অন্যদের চেয়ে একধাপ ওপরে। কারণ আমি নিজের শখ থেকেই পাঠ্যবইয়ের বাইরে পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করে এসেছি এবং আজও পছন্দের বিষয়ের ওপর চাকরি করার ইচ্ছা নিয়েই এখানে এসেছি

এগুলো শুধু নমুনামাত্র। এটা আমার কথা যা আপনার সাথে মেলার কথা না। তবে এভাবেই আপনি নিজের কথা বলুন। ইন্টারভিউয়ারদের ইমপ্রেস করতে বেশি কথা বলতে না যাওয়াই ভালো, তারা ব্যাপারটা ধরতে পেরে বিরক্ত হতে পারে। বরং তার চেয়ে নিজের সত্যিটা বলুন, হনেস্টি থেকেই হয়তো আপনার ইন্টারভিউটা ক্লিন ইমেজ তৈরি করে দিবে। 

উত্তরের সময় 

১) নিজের নাম বলবেন ........
২) শিক্ষাগত অবস্থান ( কোথায় কি পড়ছেন....বিস্তারিত)
৩) কোথায় থাকেন.......
৪) আপনি কি পছন্দ করেন....

৫) আপনার মানসিক অবস্থা কেমন.... সেটা বলতে পারেন....... যেমনঃ অনেকে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী.......ইত্যাদি ইত্যাদি

কোন মিথ্যা বলবেন না............ আপনি যেমন..... তেমনই বলবেন.............. কারণ যারা ইন্টারভিউ নেয়.... তারা দেখেই অনেকটা অনুমান করতে পারে যে... লোকটা যা বলছে তা তার পার্সোনালিটির সাথে যায় কিনা......... 

 (729 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

প্রথমে নাম-পরিচয় খুব সংক্ষেপে বলবেন, খুবই সংক্ষেপে। আপনার বাবা-মা’র নাম কি, কি করেন- এসব কিচ্ছু বলার দরকার নাই। কারণ সেটা সিভিতেই আছে। তারপরই আপনার দক্ষতাগুলোর কথা বলবেন। আপনি কেন এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান, বা আপনার কি কি দক্ষতা থাকার কারণে আপনি চাকরিটা পাওয়ার যোগ্য, সেগুলো ব্যাখ্যা করবেন। ইন্টারনেট ঘেটে সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিবেন, যেন সেই প্রতিষ্ঠানে আপনি কেন যোগ্য সেটা বুঝাতে সহজ হয়। তারপর নিজের কো-কারিকুলাম একটিভিটি নিয়ে বলতে পারেন। এসব বিষয় আগে থেকেই সাজিয়ে নিবেন মনের ভেতর, নয়তো ঠিকভাবে পারফর্ম করতে পারবেন না। সোজা কথায়, গতানুগতিক নিয়মে নিজের ফ্যামিলি নিয়ে না বলে, দক্ষতা কি কি আছে, দক্ষতার কারণে কোনো পুরস্কার পেয়েছিলেন কিনা........... এসব বলবেন।
 (527 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

 নিজের সম্পর্কে বলতে গেলেই সবাই নিজের নাম ঠিকানা বলতে শুরু করেন। যেটা আসলে করা উচিৎ না। নিজের দক্ষতা ও অর্জন, ভাল লাগা মন্দ লাগা নিয়ে কথা বলা উচিৎ। নিজের সম্পূর্ণ কর্মজীবনের বর্ণনা বা বায়োডাটা বলতে শুরু করবেন না ভুলেও। আপনার ক্যারিয়ার অথবা বায়োডাটা থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু পয়েন্ট তুলে ধরুন যেটি এই চাকরির জন্য আপনাকে যোগ্য বলে প্রমাণ করে। আপনার জীবনের ২-৩ টি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন তুলে ধরুন যা আপনি ইন্টারভিউয়ারকে জানাতে চান। তারপর এসব অর্জন কিভাবে আপনাকে এই চাকরির জন্য যোগ্য বলে প্রমাণ করে সেটা তুলে ধরুন। 

 (4521 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

এ প্রশ্নটি ইন্টারভিউ এ প্রায় করা হয়ে থাকে। ইন্টারভিউয়াররা এ প্রশ্নটি করতে ভালবাসেন, তারা মনে করেন এ প্রশ্নের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর মনের ভয় দূর হবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই এ প্রশ্নটির উত্তর গুছিয়ে বলতে পারেন না। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে অনেকে লাইফস্টোরি বলে থাকেন। কিন্তু ইন্টারভিউয়াররা এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর ৪-৫টি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়, যেমন- নির্দিষ্ট দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান। তাই এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আপনাকে আগে থেকেই অনুশীলন করতে হবে। শুরুর উত্তরটা যেন খুব সুন্দর হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি এ প্রশ্নের উত্তর আপনাকে অবশ্যই ২-৩ মিনিটের মধ্যে বা প্রদত্ত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। মোট কথা আপনি যে একজন পজেটিভ মানুষ এই দিক টা তুলে ধরার চেষ্টা করুন। আবার নিজের সম্পর্কে এমন কিছু বলবেন না, যা আপনি পরে দেখাতে অক্ষম!!
 (7 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

কোন প্রকার জটিলতা ছাড়াই 

১.নিজের  পূর্ন নাম বলুন

২.কোথা থেকে এসেছেন সেটা বলুন।

৩.সর্বশেষ সার্টিফিকেট পাশের কথা বলুন

৪.কাজের অভিজ্ঞতা বলুন   

৫.জন্মস্থান বলুন

৬.ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করুন   

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...