Share

1 টি উত্তর

যেহেতু ভালোবাসার মানুষটির সাথে অনেক সময় পথচলা, অনেক স্মৃতি বিজড়িত থাকে তাই সে যখন কষ্ট দিয়ে দূরে সরে যায় তখন কারই বা মনে কষ্ট লাগে না? আরও কারণ হলো তাকে নিয়ে দীর্ঘদিন স্বপ্নে দেখা। সেই সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে ছারখার হয়ে যায় তাই কষ্ট লাগে।

মন খারাপ হয় না কার বলেন তো? আপনি মানুষ আর আপনার মন খারাপ হবে না, তা হতে পারে না। মানুষের মন খারাপ হবেই। ইয়াকূব নাবির কথা মনে আছে? ঐ যে উনার ছেলে ইউসুফকে তাঁর ভাইয়েরা মিলে কুয়োতে ফেলে দিল। ছেলের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে চোখের দৃষ্টিশক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিলেন আল্লাহর এই নাবি।

আমাদের নাবি মুহাম্মাদের ‎ﷺ কথাই ধরুন। তাঁর নবুয়াতি জীবনের প্রথম দিকে অবস্থা যখন খুব খারাপ ছিল, তখন তাঁর পাশে ছায়া হয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা। ঢাল হয়ে ছিলেন তাঁর চাচা আবু তালিব। অথচ এদুজন একই বছরে মারা গেলেন। কাছের দুজন মানুষের এভাবে চলে যাওয়ায় ‎নবিজি ‎ﷺ এতটাই দুঃখ পেয়েছিলেন যে, সেই বছরটা মুসলিমদের কাছে “বিরহ বছর” নামে পরিচিতি পায়।

উনাদেরও মন খারাপ হয়েছে। তবে হতাশ হয়ে পড়েননি। সেখান থেকে উঠে এসেছেন।

মন খারাপ আর হতাশ হওয়া কিন্তু দুটো এক জিনিস না। হতাশ ব্যক্তি নিজের উপর আশা তো ছেড়ে দেয়ই, আশেপাশের পরিবেশ থেকেও মন উঠিয়ে নেয়। কোথাও কোনো আশার আলো দেখতে পায় না। এভাবে নিজের তৈরি অন্ধকার কুঠুরীতে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে দিতে একসময় নিঃশেষ হয়ে যায়।

ঠিক আছে, বুঝলাম মন খারাপ। এখন ভালো করব কীভাবে?

মানুষের যেকোনো সমস্যা সমাধানের দুটো মৌলিক উপায় আছে। একটা ইসলামিক। আরেকটা সেক্যুলার। সেক্যুলার সমাধান শুধু বাহ্যিক আর দুনিয়ারটা দেখে। মানুষ তার কাছে আর দশটা প্রাণী ছাড়া আর কিছু না। যেকারণে এই উপায়ে সমাধান করলে সমাধান হয়, কিন্তু সেটা স্থায়ী হয় না। মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্যের সাথে যায় না। যেকারণে কিছুদিন পরপর আবার নতুন করে তাকে নতুন সমাধান খুঁজতে হয়। আর সেক্যুলার পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটা তৈরি হয় “ট্রায়াল অ্যান্ড এরর” করে করে। যেকারণে চূড়ান্ত সমাধান হয় না। কোথাও একটা ফাঁকা থেকে যায়।

কিন্তু ইসলামিক সমাধানে ইহকালীন পরকালীন দুটো থাকে। আপনার ডিভাইসের কোনো সমস্যা হলে আপনি কার কাছে যান? গুগলে। বা কোনো এক্সপার্টের কাছে। এরা কোথা থেকে শিখল বলেন তো? অরিজিনাল মেকারের দেওয়া ম্যানুয়াল বা ট্রাবলশুটার থেকে। সহজ হিসাব। যে যে-জিনিস বানায় সে-ই ওটার ভালোমন্দ সবচে ভালো জানে। ওটার কোনো সমস্যা হলে কীভাবে ঠিক করতে হবে, সেটা তারচে বেশি ভালো আর কেউ জানে না। তো আমরাও আমাদের মনের এই সমস্যার জন্য আমাদের মেকার মানে আল্লাহর কাছে যাব। আল্লাহ তাঁর কুর’আন ও হাদীসে মন খারাপ ও হতাশ হওয়ার কী সমাধান দিয়েছেন তা দেখব।

১. কারও মাথার উপর সাধ্যাতীত বোঝা নেই

প্রথম কথা, আল্লাহ কাউকে এত বড় বোঝা দেন না, যা সে বহন করতে পারে না। সূরা বাকারার আয়াতটা মনে আছে? “লাা য়ুকাল্লিফু-ল্লাহু নাফসান ইল্লা উস‘আহা” — আল্লাহ কারও মাথার উপর তার সাধ্যে কুলোবে না এমন বোঝা চাপিয়ে দেন না। (২:২৮৬)

কিছু কিছু সময় এমন মনে হয়, আর পারব না। এত কষ্ট আর সহ্য করতে পারব না। অনেকে তো কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জীবনও দিয়ে বসেন। অনেকে আবার ভাঙচুর করে বসেন। খেলাধুলায় প্রিয় দলের হারে এরকম কত ঘটনার খবর পত্রিকায় আসে।

যাহোক, উপরের আয়াতটা যদি মাথায় থাকে, তাহলে বুঝবেন যে, যত বড় কষ্টই হোক না কেন, ওটা সহ্য করার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা আপনার আছে। আমার আপনার কথা রদবদল হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কথার কখনো কোনো রদবদল হয় না। তিনি যখন বলেছেন, তিনি আমাদের উপর এমন কোনো বোঝা চাপান না, যা আমরা সহ্য করতে পারব না, তাহলে তা-ই সই। আমার মধ্যে ঐ কষ্ট সহ্য করার সামর্থ্য আলবৎ আছে।

আপনি যখন এভাবে আপনার মনটাকে ঠিক করে নেবেন, তখন দেখবেন, মুহূর্তের মধ্যে মন শান্ত হয়ে যাবে।

কষ্টের খবর বা ঘটনায় কষ্ট তো লাগবেই, কিন্তু সেটা যেন আমাদেরকে শেষ করে না দেয়। কারণ…

২. কষ্টের পর স্বস্তি আছে

“কষ্টের পর অবশ্যই স্বস্তি আছে। আবার শোনো, কষ্টের পর অবশ্যই স্বস্তি আছে।” (৯৪:৫)

একবার না, সূরা আল-ইনশিরায় আল্লাহ কথাটা পরপর দুবার বলেছেন। আমরা কখন কোনো কথা দুবার বলি বলেন তো?

শুধু দুবারই না, দুবারই বললেন, “অবশ্যই” আছে। আরবিতে “ইন্না”। মানে আছেই আছে।

উপরে একবার বলেছি, আমাদের কথার ঠিকঠিকানা না-ই থাকতে হওয়ার কিছু নেই। কারণ, “কষ্টের পর অবশ্যই স্বস্তি আছে।” এখানেই শেষ না। এই কষ্টকর অবস্থাটা যদি দাঁতে দাঁত চেপে পার করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে আল্লাহ আপনাকে আরও ভালো কিছু উপহার দেবেন।

আচ্ছা, বলেন তো, পৃথিবীতে কোনো সুখ কি চিরস্থায়ী হয়? আপনি এই কথা ভেবে মন খারাপ করেন। অথচ এটা ভাবেন না যে, পৃথিবীতে কোনো দুঃখও তো চিরস্থায়ী হয় না! কী আশ্চর্য মনমানসিকতা আমাদের। খালি নেতিবাচকটাকে আমল দিই। সুখ যেমন বেশিক্ষণ থাকে না, দুঃখও থাকবে না। কাজেই দুঃখে দুঃখে নিজেকে শেষ করার কোনো মানে নেই।

৩. সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে, আপনার হাতে না

মানুষের মনে হতাশা কোথা থেকে আসে জানেন? অসহায়ত্ব থেকে। আমি যেভাবে সবকিছু ঠিক করেছিলাম সেভাবে হলো না। সবকিছু আমার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। দিনকেদিন পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে। আমি কিছুই করতে পারছি না। এভাবে মানুষ একসময় সবকিছুর আশা ছেড়ে দেয়। আমি কিছু পারলাম না। আমাকে দিয়ে কিছু হলো না। এইসব আত্মঘাতী চিন্তাগুলো বাড়তে বাড়তে হতাশায় রূপ নেয়।

আচ্ছা, আমাকে একটা কথা বলেন তো, পৃথিবীর কোন জিনিসটার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে? সবকিছুই তো আল্লাহর হাতে। আল্লাহই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাহলে আপনি কেন খামোকা নিজের অক্ষমতা নিয়ে আক্ষেপ করে করে নিজের বারোটা বাজাচ্ছেন?

একটু থেমে চিন্তা করুন: চারপাশের পরিস্থিতি কোনোকালেই আপনার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। যাঁর হাতে এগুলোর নিয়ন্ত্রণ তিনিই সেরা পরিকল্পনাকারী। আর তাঁর চেয়ে বেশি কেউ আপনাকে ভালোও বাসে না।

কাজেই সবকিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন। দেখবেন, কী নির্ভার লাগছে!

অনেকসময় আমরা আল্লাহর অনেক কাজকর্মে মাথামুণ্ডু বুঝতে পারি না। কী কারণে আল্লাহ এমনটা করলেন মাথায় ঢোকে না। ঢোকার কথাও না। সে যাহোক, আল্লাহ সবকিছু সামলাবেন, এটা মাথায় ভালো করে ঢুকিয়ে নিন। আল্লাহর পরিকল্পনায় আস্থা রাখুন। দেখবেন শরীর-মন সব মুহূর্তেই চনমনে হয়ে পড়ছে।

৪. নিজের সেরাটা ঢেলে বাকিটা আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিন

একটা জায়গায় যেয়ে আমরা সবাই বাধা। কাচ্চি বিরিয়ানী বানানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করে চুলোয় তুলে দেওয়ার পর আপনার কিন্তু আর কিছু করার নেই। এখন যা হওয়ার ওটা আল্লাহর ইচ্ছায় উপকরণগুলো নিজেরাই করবে। ওষুধ খাওয়ার পর আপনি কি ওষুধকে বলে দিতে পারেন, কী কী করতে হবে? ওষুধ তার নিজগুণেই করে। যখন আল্লাহ চান না, তখন সেই ওষুধের বাবারও কিছু করার থাকে না। একই ক্যানসার অসুখ থেকে যুবরাজ সিংরা বেঁচে আসে, আবার হুমায়ূন আহমেদরা মারা যায়। আমার আপনার কী করার আছে এখানে?

একটা সীমা পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারি। আমাদের দায়িত্বটুকু পালন করতে পারি।

আমাদের কাজকর্ম আমাদের হাতে, কিন্তু এর ফলে কী হবে সেটা কস্মিনকালেও আমাদের হাতে ছিল না।

আপনার আমার কথা বাদ দেন, খোদ আল্লাহর নাবিদেরও তাদের কাজের ফলাফল কী হবে সেটার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে ছিল না।

নূহ নাবির কথাই চিন্তা করুন। নয় শ বছর দিনরাত মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকে ডেকে কী ফল পেলেন তিনি? নিজের স্ত্রী-সন্তানকেই মুসলিম বানাতে পারলেন না। লূত নাবির নিজের স্ত্রীর অবস্থাও একই। আমাদের ‎নবিজিই ‎ﷺ তো কত জায়গায় দা‘ওয়াহ দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে এসেছেন। তো তার মানে কি এই যে, উনারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন? অ্যাবসার্ড! কক্ষনো না। উনারা উনাদের সর্বোচ্চ ঢেলে দিয়েই সবসময় সব কাজ করেছেন। কিন্তু, ঐ যে, ফলাফল আমার আপনার হাতে না; আল্লাহর হাতে। আল্লাহর জ্ঞানে যেটা যেভাবে ভালো হবে, সেটা তিনি সেভাবেই করেন। যখন ভালো মনে করবেন, তখনই করবেন।

আমি যেভাবে চাইলাম, সেভাবে হলো না। আমি যেমনটা চেয়েছিলাম, তেমনটা হলো না — এতসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে মাথা খারাপ না করে, আপনি আপনার কাজটা করে যান ঠিকঠাকমতো। কাজের ফলাফল দিয়ে আল্লাহ আপনাকে কক্ষনো যাচাই করবেন না। কাজটা আপনি খালিস নিয়্যাতে তাঁর জন্য করেছেন কি না, তিনি শুধু সেটাই দেখবেন। এর উপরই আমাকে, আপনাকে নাম্বার দেবেন। কাজেই, নিজের কাজ ভালোমতো করে যান। বাকিটা আল্লাহর চিন্তা!

৫. আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছে তা নিয়ে কৃতজ্ঞ থাকুন

খারাপ সময়ে আমাদের আরেকটা জনপ্রিয় বদভ্যাসের কথা বলি। সময় যখন খারাপ যায়, তখন কী নেই এগুলোই দেখি। কত কী যে আল্লাহ দিয়ে রেখেছেন সেগুলোর দিকে ভুলেও চোখ যায় না।

বিপদে আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার জন্য মা আছে। শক্তহাতে ধরার জন্য আপনার বাবা আছে। ভালোবাসায় জড়িয়ে রাখার জন্য আপনার স্ত্রী আছে। ভালো বন্ধুবান্ধব আছে। নিদেনপক্ষে থাকার একটা ঘর আছে। কিছু না কিছু আছেই আপনার। কী আছে শুধু এটার লিস্ট বানিয়ে মনে হয় আরেকটা আর্টিকেল লেখা যাবে। এত কিছু থাকার পরও মন খারাপ করে থাকার কোনো মানে হয় না ভাই।

পশ্চিমে মানে পশ্চিমা দেশগুলোতে “গ্রাটিটুড জার্নাল” নিয়ে বেশ গবেষণা হচ্ছে। গ্রাটিটুড জার্নাল বা “কৃতজ্ঞতা রোজনামচা”র কাজ হলো আপনি আপনার জীবনের কোন কোন জিনিস নিয়ে কৃতজ্ঞ সেগুলোর তালিকা করবেন। ওরা গবেষণা করে দেখেছে যে, সামান্য এই তালিকা করলেই মনের উপর থেকে চাপ কমে যায়। মন শান্ত হয়। করণীয় কাজটা সুন্দর করে মন দিয়ে করা যায়।

আমাদের আল্লাহ সেই কবেই বলে দিয়েছেন, “তোমরা যদি কৃতজ্ঞ থাকো, তাহলে আমি আরও বাড়িয়ে দেব।” (১৪:৭)

কী বাড়িয়ে দেবেন সেটা নির্দিষ্ট করে বলে দেননি। আর মজাটা এখানেই। আপনার যখন যেটা প্রয়োজন বলে আল্লাহ মনে করবেন, ইনশা’আল্লাহ, তিনি তখন আপনাকে সেটা দেবেন। শুধু দেবেনই না, দিতেই থাকবেন! শুধু কৃতজ্ঞ থাকতে হবে আর কি!

৬. হতাশ অবস্থার দু‘আ

দু‘আ মু’মিনের সেরা অস্ত্র। হ্যারি পটারের জাদুর কাঠির আসর শুধু সিনেমার পর্দাতেই। বাস্তবে এসবের কোনো ভিত্তি নেই। অথচ এগুলো নিয়েই আজকাল মাতামাতি।

কিন্তু দু‘আ নামক অস্ত্র দিয়ে কত মুসলিম যে কত অসম্ভব সাধন করছে, তার খবর কজন রাখে। দু‘আ মু’মিনের মিরাকল অস্ত্র। আমাদের একটা ধাত আছে দু‘আকে শেষ ভরসা হিসেবে ব্যবহার করার। ঐ যে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে। ডাক্তাররা সব আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন বলছেন, আল্লাহকে ডাকুন। একমাত্র আল্লাহই এখন ভালো করতে পারবেন। আচ্ছা, ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভালো করলে সেটা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইচ্ছায় হয়? সবকিছু বিফলে যাওয়ার পর কি আল্লাহ ময়দানে হাজির হয়ে ভোজবাজির মতো সব পাল্টে দেন? আল্লাহকে নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনাগুলো এমন ফ্যান্টাসিময় কেন!

যাহোক, আমরা যেন হতাশ না হই, নিরাশ না হই, সেজন্য আমাদের ‎নবিজি ‎ﷺ একটি চমৎকার দু‘আ শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। বলেছেন শোনামাত্রই যেন মুখস্থ করে নিই।

মুখস্থ করা নিয়ে আমাদের আরেকটা সমস্যা আছে। এত বড় দু‘আ (আসলে কিন্তু মাত্র কয়েক লাইন) কি আমি মুখস্থ করতে পারব? এই বয়সে কি আর এসব মুখস্থ হয়? কী আর বলব। আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের নিয়ে এমন বাজে ধারণা রাখি, তাহলে আর কী বলার আছে। যাদের মনের মধ্যে এরকম ধারণা তাদেরকে যদি বলি ৬০/৭০ বছরেও মানুষ পুরো কুর’আন মুখস্থ করে ফেলেছে, তাহলে কি তারা কিছুটা অনুপ্রেরণা পাবেন?

যাহোক, দু‘আ মুখস্থ করার বেলায় আমার ক্ষেত্রে যেটা কাজ করে তা হলো, দু‘আর অর্থ জানা। অর্থ জানলে সেই দু‘আটা মুখস্থ করার ব্যাপারে আগ্রহ জাগে। দু‘আ শুধু দুর্বোধ্য “মন্ত্রের” মধ্যে আটকে থাকে না।

আচ্ছা দু‘আর মানে কী বলেন তো? মিনতি। আকুতি। আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া। কী চাচ্ছেন সেটা যদি না-ই বোঝেন, তাহলে সেটা মন্ত্র ছাড়া আর কী! তোতাপাখিও তো বুঝেই মুখস্থ কথা বলে, না?

ِِআচ্ছা, দু‘আটা বলছি এখন:

اَللَّهُمَّ إِنِي عَبْدُكَ

আল্লাহ, আমি আপনার দাস।

اِبْنُ عَبْدِكَ اِبْنُ أَمَتِكَ

আপনার দাস-দাসীর ছেলে।

نَاصِيَتِي بِيَدِكَ

আমার কপালের সামনের চুলের গুচ্ছ আপনার হাতে।

مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ

আমার ব্যাপারে আপনার হুকুমের কোনো নড়চড় হবে না।

عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ

আর আপনার বিচার ন্যায্য বিচার।

أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اْسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ

আমি আপনার কাছে চাইছি, আপনি নিজে আপনাকে যেসব নাম দিয়েছেন

أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ

বা আপনার বই (কুর’আন)-এ উল্লেখ করেছেন

أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ

অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন

أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ

কিংবা অদৃশ্যের জ্ঞানে একান্ত নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন

أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي

কুর’আনকে বানিয়ে দিন আমার মনের হিল্লোল

وَنُورَ صَدْرِي

আমার অন্তরের আলো

وَجَلاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي

আমার কষ্টের বিনাশকারী, দুঃশ্চিন্তার উপশম

(মুসনাদ আহমাদ, ৩৭০৪)

দু‘আটার শেষে আল্লাহর ‎রাসূল ‎ﷺ চমৎকার একটা কথা বলেছেন। “আল্লাহ তার দুঃখ তো দূর করবেনই, তার কষ্টটাকে আনন্দ দিয়ে বদলে দেবেন!”

আল্লাহ, তুমি সত্যিই মহান!

একমাত্র আল্লাহই আছেন, যিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। কাজেই এসব দুঃখকষ্ট ঠিক করা তাঁর কাছে কোনো ব্যাপার না। যারা তাঁর কাছে চায়, তিনি তাদের ঠিকই সাহায্য করেন। আল্লাহর উপর ভরসা করার মতো ভরসা করুন। তার পরিকল্পনায় আস্থা রাখুন। দেখবেন মনের উপর থেকে ভীষণ একটা চাপ নেমে যাবে। নির্ভার লাগবে। স্বস্তির নিঃশ্বাস বের হবে। স্নিগ্ধ প্রশান্তিতে মনটা ভরে উঠবে। আপনার জীবন ও এর আশেপাশের সবকিছু যে আপনার হাতে না, সেরা পরিকল্পক আল্লাহর হাতে — এই কথাটাই মনটাকে ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ