ধরুন আমি প্রতিদিন রাত ৪ টার সময় ঘুমাতে যাই। এখন আমি যদি ২টা বা ৩ টার দিকে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করি তাহলে কি এই নামাজ তাহাজ্জুদ বলে গণ্য হবে।  

8 Answers

 (12514 পয়েন্ট) জ্ঞান অন্বেষনে তৃষ্ণার্ত! জ্ঞানের জন্য জ্ঞানকে ভালোবাসি, জ্ঞানের জন্যই সাধনা-সিদ্ধির প্রচেষ্টা করি।

উত্তরের সময় 

 

ঘুম থেকে উঠেই তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে হবে ইসলামে এরকম বাধ্যতামূলক কোন আদেশ নেই।

তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম শেষ রাত্রে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদের সালাত পড়তেন। তাই এভাবে পড়াই উত্তম হবে। নবী (সাঃ) রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন এবং শেষাংশে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। আর এটাই হল সুন্নতী তরীকা।

রেফারেন্সঃ আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তাহাজ্জুদ সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন। তারপর সালাতে দাড়াতেন এবং সাহরীর পূর্বক্ষণে বিতর আদায় করতেন। এরপর প্রয়োজন মনে করলে বিছানায় আসতেন।

(সহীহ শামায়েলে তিরমিযী, হাদিস নম্বরঃ ১৯৬ সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৮০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪৭৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫৯৩ হাদিসের মানঃ সহিহ)।

রাতের বেলায় তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আপনি রাতের এক অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, যা আপনার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য’’। (সূরা আল-ইসরাঃ ১৭/৭৯)।

❖ না ঘুমিয়ে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা যাবে কিনা এই ব্যাপারে আলেমদের মাঝে ইখতিলাফ রয়েছেঃ

তাহাজ্জুদ শব্দটি নিদ্ৰা যাওয়া ও জাগ্রত হওয়া এই পরস্পর বিরোধী দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়। [ফাতহুল কাদীর]

আয়াতের অর্থ এই যে, রাত্রির কিছু অংশে কুরআন পাঠসহ জাগ্রত থাকুন। কেননা (به) এর সর্বনাম দ্বারা কুরআন বোঝানো হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]

আর কুরআন পাঠসহ জাগ্রত থাকার অর্থ সালাত পড়া। এ কারণেই শরীআতের পরিভাষায় রাত্রিকালীন সালাতকে “তাহাজ্জুদ” বলা হয়।

সাধারণতঃ এর অর্থ, এরূপ নেয়া হয় যে কিছুক্ষণ নিদ্ৰা যাওয়ার পর যে সালাত পড়া হয় তাই তাহাজ্জুদের সালাত। হাসান বসরী বলেনঃ এশার পরে পড়া হয় এমন প্রত্যেক সালাতকে তাহাজ্জুদ বলা যায়। [ইবন কাসীর]

তবে প্রচলিত পদ্ধতির কারণে কিছুক্ষণ নিদ্ৰা যাওয়ার পর পড়ার অর্থেই অনেকে তাহাজ্জুদ বুঝে থাকেন। সাধারণতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম শেষ রাত্রে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদের সালাত পড়তেন। তাই এভাবে পড়াই উত্তম হবে।

মধ্যরাতের পরে বা রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে তাহাজ্জুদ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়। রাত দুইটার পর থেকে ফজরের নামাজের ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত। সাহরির সময় শেষ হলে তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শেষ হয়।

ভাই ঢাকার সময় অনুযায়ী সাহরির সময় শেষ হয় ৪:০০ মিনিটে তাই আপনি যদি ২টা বা ৩ টার দিকে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেন তাহলে এই নামাজ তাহাজ্জুদ বলে গণ্য হবে।

ভাই প্রতিদিন রাত ৪ টার সময় ঘুমাতে যান কেন?

গভীররাত পর্যন্ত জাগা নবী (সাঃ)-এর সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ। নবী (সাঃ) এশার সালাতের পর অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় নষ্ট করতে, গাল গল্প করতে বা কোনো কাজে নিজেকে লিপ্ত করতে অপছন্দ করতেন। এগুলো তিনি নিষেধ করেছেন। সুতরাং, এগুলো যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকেন, তাহলে তিনি গুনাহগার হবেন।

কেননা, নবী (সাঃ)-এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেখানে নবী (সাঃ)-এর নিষেধাজ্ঞা থাকবে সেটা গুনাহের কাজ এবং নবী (সাঃ)-এর সুন্নাহের পরিপন্থী কাজ হবে। তাই এখানে সতর্ক অবলম্বন করতে হবে।

শেষ কথা হচ্ছেঃ না ঘুমিয়েও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যাবে মধ্যরাতের পর যে কোন সময়।

 (561 পয়েন্ট) মোঃফয়েজ আহমেদ।

উত্তরের সময় 

না ঘুমিয়ে এই সালাত আদায় করা যাবে কিনা এব্যাপারে আলেমদের মধ্যে দুটি মত আছে । একদল বলেন অবশ্যই ঘুমাতে হবে ও শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়তে হবে । আরেক মত হচ্ছে না ঘুমিয়েও পড়া যাবে মধ্যরাতের পর যে কোন সময়। তবে আমরা যা বুঝতে পারি সামগ্রিক ভাবে না ঘুমিয়ে বা না ঘুম আসলেও তাহাজ্জুদ পড়া যাবে ।

কিন্তু না ঘুমিয়ে তাহাজ্জুদ পড়লে সওয়াব কম হবে আমরা আলেমদের মত হতে জানতে পারি ।

ঘুম হচ্ছে আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত । আল্লাহ বলেন -
• "তাঁর আরও নিদর্শনঃ রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ। নিশ্চয়ই এতে মনোযোগী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।" (সূরা রুম : 23) 

তাহাজ্জুদের মসনূন সময় এই যে, এশার নামাযের পর লোকেরা ঘুমাবে। তারপর অর্ধেক রাতের পর উঠে নামায পড়বে। নবী (সাঃ) কখনো মধ্য রাতে, কখনো তার কিছু আগে অথবা পরে ঘুম থেকে উঠতেন...কুরআনে রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের যে তাকীদ করা হয়েছে তার মর্ম এই যে, রাতের কিছু অংশ ঘুমিয়ে থাকার পর উঠে নামায পড়া। তাহাজ্জুদের সালাত আদায় হল অত্যধিক সওয়াবের কাজ । কারণ এখানে প্রথম সওয়াব হচ্ছে আপনি এই ঘুম ত্যাগ করে সালাতের জন্য উঠলেন এবং তার পর আবার সওয়াব হচ্ছে সালাতের জন্য । অর্থাৎ দুই কাজে অনেক সওয়াব হচ্ছে । যা আপনি না ঘুমিয়ে শুধু সালাত পড়লে হচ্ছে না । 

আরেকটা বিষয় না বললেই নয় আমরা হাদিসে পাই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল । (বুখারী) এবং পুরস্কার সবই আল্লাহর হাতে ।   

(আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন ।)

 (6 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

সবচেয়ে ভালো হবে আপনি আপনার বাসার কাছে কোন এক হুজুর এর সাথে কথা বলেন...আমিতো বলব তাহাজ্জুদ হচ্ছে রাতের শেষ অংশের নামাজ....আপনি যদি সহিহ নিয়তে নামাজ পরেন তাহলে অবশ্যই নামাজ কবুল হবে...এর জন্য ঘুম শর্ত না....ঘুম ও আল্লাহর বড় একটা নিয়ামত...আপনার উচিৎ ঘুমানো তবে আপনি যদি মনে করেন যে ঘুমালে উঠতে পারবেন না যার দরুন ফজরের নামাজ ও মিস হয়ে যেতে পারে তাহলে আপনি তাহাজ্জুদ পড়ে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাতে পারেন....তবে খেয়াল রাখবেন সকল কাজে যেন আপনার নিয়তটা সহিহ থাকে....হাদিস বর্ণনা ব্যাখ্যা করা আমার কাজ না....আমি একজন সাধারন মানুষের মতো করে বুঝানোর চেষ্টা করছি। আশা করি বুঝতে পারছেন।

 (805 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

তাহাজ্জুদের নামায অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতপূর্ণ ইবাদত। তাহাজ্জুদ নামায সুন্নাত। নবী করীম (সাঃ) হরহামেশা এ নামায নিয়মিত পড়তেন এবং সাহাবায়ে কেরাম রা. কে তা নিয়মিত আদায় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। পবিত্র কুরআনে তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য বিশেষভাবে তাকিদ করা হয়েছে। যেহেতু উম্মতকে নবীর অনুসরণ করার হুকুম করা হয়েছে সে জন্যে তাহাজ্জুদের এ তাকীদ পরোক্ষভাবে গোটা উম্মতের জন্য করা হয়েছে। আল্লাহপাক ইরশাদ করেন- "এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে থাক। এ নামায তোমার জন্যে আল্লাহর অতিরিক্ত ফযল ও করম। শীঘ্রই আল্লাহ তোমাকে উভয় জগতে বাঞ্ছিত মর্যাদায় ভূষিত করবেন [বণী ইসরাইল :৭৯] যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে কুরআনে তাদেরকে মুহসেন ও মুত্তাকি নামে অভিহিত করে তাদেরকে আল্লাহর রহমত এবং আখেরাতে চিরন্তন সুখ সম্পদের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই মুত্তাকি লোক বাগ-বাগিচায় এবং ঝর্ণার আনন্দ উপভোগ করতে থাকবে এবং যে যে নিয়ামত তাদের প্রভূ তাদেরকে দিতে থাকবেন সেগুলো তারা গ্রহণ করবে। কারণ, নিসন্দেহে তারা এর পূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) মুহসেনীন (বড় নেক্কার) ছিল। তারা রাতের খুব অল্প অংশেই ঘুমাতো এবং শেষ রাতে ইস্তেগফার করতো। (কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে মাগফেরাত চাইতো)”। [সূরা যারিয়াত:১৫-১৮] প্রকৃতপক্ষে তাহাজ্জুদ নামায মন ও চরিত্রকে নির্মল ও পবিত্র করার এবং সত্য পথে অবিচল থাকার জন্যে অপরিহার্য ও কার্যকর পন্থা। আল্লাহপাক বলেন- “বস্তুতঃ রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্যে খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা যিকির একেবারে যথার্থ”। [সূরা মুয্যাম্মিল-৬] এসব বান্দাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর প্রিয় বান্দা বলেছেন এবং নেকি ও ঈমানদারির সাক্ষ্য দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা যারা তাদের প্রতিপালকের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়। [সূরা ফুরকান:৬৩-৬৪] ☞ তাহাজ্জুদ নামাযের ওয়াক্তঃ তাহাজ্জুদের অর্থ হল ঘুম থেকে উঠা। কুরআনে রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের যে তাকীদ করা হয়েছে তার মর্ম এই যে, রাতের কিছু অংশ ঘুমিয়ে থাকার পর উঠে নামায পড়া। তাহাজ্জুদের মসনূন সময় এই যে, এশার নামাযের পর লোকেরা ঘুমাবে। তারপর অর্ধেক রাতের পর উঠে নামায পড়বে। নবী (সাঃ) কখনো মধ্য রাতে, কখনো তার কিছু আগে অথবা পরে ঘুম থেকে উঠতেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে-ইমরানের শেষ রুকুর কয়েক আয়াত পড়তেন। তারপর মেসওয়াক ও অযু করে নামায পড়তেন। ☞ তাহাজ্জুদ নামাযের সময়ঃ অর্ধ রাতের পরে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের মুল সময় মুলত রাত ৩টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাতের পর দু রাকআত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েয আছে। তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা পেতে হলে, এশার নামাযের পর ঘুমিয়ে রাত ২টা বা ৩টার দিকে উঠে নামায আদায় করতে হবে।
 (20 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

আসসালামু আলাইকুম,,,

নিম্নের হাদিস দুইটি সহিহ,,,

আর দুটাই বুখারী থেকে নেওয়া, হাদিসের ভাষ্যমতে রাতের কিছুটা অংশে ঘুমিয়ে তারপর তাহাজ্জুদ আদায় করাই উত্তম।

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আমর ইব্‌নুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সালাত। আর আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সিয়াম। তিনি [দাঊদ (‘আঃ)] অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ  তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন এবং রাতের এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন সাওমবিহীন অবস্থায় থাকতেন।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১১৩১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 

 

২. আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 

তিনি বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বলেন, তিনি প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুআয্‌যিন আযান দিলে শীঘ্র উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, নইলে উযূ করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন।

 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১১৪৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 

 (175 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

তাহলে নামাজ হবেনা তাহাজ্জুদ নামাজ ঘুম থেকে ওঠে তখনি আদায় করার কোনো আদেশ নেই আপনি মধ্যরাতের আগে ঘুমাতে যান মধ্য রাত হলে ঘুম থেকে উঠুন তারপর অজু করুন তারপর নামাজ আদায় করুন মধ্য রাতের ভিতরে নামাজ আদায় করতে হবে আল্লাহ তায়ালা ৭ম আসমান থেকে ১ম আসমানে এসে বলেন হে আমার বান্দার ঘুম থেকে ওঠে নামাজ আদায় কর তারপর তুমি যা চাবে তাই আমি দিব তুমাকে ।
 (51 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপর। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

তাহাজ্জুদের সালাতের গুরুত্ব অনেক ।

# আবু হুরাইরা (রা) বলেন রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন , "ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হচ্ছে (শেষ) রাতের সালাত।" (মুসলিম ) 

এ নামায রাতের শেষ তৃতীয়াংশ ঘুম থেকে উঠৈ আদায় করা উত্তম । কারণ-
# “আল্লাহ তা‘আলা 'প্রতি রাতের শেষাংশে – শেষ তৃতীয়াংশে'- নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হয়ে আহবান জানাতে থাকেন ‘এমন কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব? এমন কেউ কি আছে যে আমার কাছে কিছু চাইবে আর আমি তাকে দেব? আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?” [বুখারী, হাদীস নং ১১৪৫, মুসলিম হাদীস নং ৭৫৮] 

তবে না ঘুমিয়ে এই সালাত আদায় করা যাবে কিনা এব্যাপারে আলেমদের মধ্যে দুটি মত আছে । একদল বলেন অবশ্যই ঘুমাতে হবে ও শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়তে হবে । আরেক মত হচ্ছে না ঘুমিয়েও পড়া যাবে মধ্যরাতের পর যে কোন সময়। তবে আমরা যা বুঝতে পারি সামগ্রিক ভাবে না ঘুমিয়ে বা না ঘুম আসলেও তাহাজ্জুদ পড়া যাবে ।

কিন্তু না ঘুমিয়ে তাহাজ্জুদ পড়লে সওয়াব কম হবে আমরা আলেমদের মত হতে জানতে পারি ।

ঘুম হচ্ছে আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত । আল্লাহ বলেন -
• "তাঁর আরও নিদর্শনঃ রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ। নিশ্চয়ই এতে মনোযোগী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।" (সূরা রুম : 23) 

এবং এই ঘুম ত্যাগ করে শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় হল অত্যধিক সওয়াবের কাজ । কারণ এখানে প্রথম সওয়াব হচ্ছে আপনি এই ঘুম ত্যাগ করে সালাতের জন্য উঠলেন এবং তার পর আবার সওয়াব হচ্ছে সালাতের জন্য । অর্থাৎ দুই কাজে অনেক সওয়াব হচ্ছে । যা আপনি না ঘুমিয়ে শুধু সালাত পড়লে হচ্ছে না । 

আরেকটা বিষয় না বললেই নয় আমরা হাদিসে পাই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল । (বুখারী) এবং পুরস্কার সবই আল্লাহর হাতে । 

সুতরাং আপনি নামাযের নিয়ত করে রাত জাগলেন এবং নামায পড়লেন এতে যে পরিমাণ সওয়াব হবে তা নিশ্চয়ই নিয়ত ছাড়া শুধু রাত জেগে শেষে নামায পড়ে প্রাপ্ত সওয়াবের চেয়ে বেশি। কারণ দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনার নামাজ পড়ার নিয়ত ছিল না শুধু ঘুম আসছেনা বলে আপনি শেষে ভাবলেন এখন নামাজ পড়ে নেই । ( শুধু নিয়ত করলে একটি সওয়াব লেখা হয় এবং তা কর্মে পরিণত করলে আরেকটি সওয়াব মোট দুইটি সওয়াব পাওয়া যায় । ) 

আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন ।

 (36 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

অবশ্যই না। তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য উঠার পর সকল প্রস্তুতি নিয়ে নামাজ পড়তে হবে। আর নামাজ প্রস্তুতি নিয়েই শুরু করবেন তা কিন্তু নয়, প্রতিদিনের তাহাজ্জুদের নামাজের সর্বোত্তম সময় জেনে এই নামাজ আদায় করবেন।কারণ আল্লাহ্ কুরআনে বলেছেন, "নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়া মুমিনের জন্য কর্তব্য"।
সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় বিভাগসমূহ

Loading...