2 টি উত্তর
মুনাফিকদের শাস্তি হবে সবচেয়ে কঠিন। তারা জাহান্নামের তলদেশে থাকবে। আর আগুনের যে  যত ভেতরে থাকে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কষ্ট তত বেশি হয়। মহান আল্লাহ তায়া’লা বলেন- সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ১৪৫ إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِى ٱلدَّرْكِ ٱلْأَسْفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا অর্থঃ নিঃসন্দেহে মুনাফেকরা রয়েছে দোযখের সর্বনিম্ন স্তরে। আর তোমরা তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী কখনও পাবে না।

নিজেদের অপরাধ ধরা পড়ার ভয়ে মুনাফিকরা সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। ধরা পড়লে ইহকালে কঠিন শাস্তিভোগ করে এবং পরকালে শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের গভীরতম স্থানে অবস্থান করবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে তাদের শাস্তি ও অবস্থান সম্পর্কে বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিকৃষ্ট স্তরে অবস্থান করবে।’ (সূরা নিসা, আয়াত নং ১৪৫)

মুনাফিকদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘অভিশপ্ত অবস্থায় তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে ধরা হবে এবং হত্যা করা হবে।’ (সূরা আহযাব আয়াত নং ৬১)

এটা এ আদেশ নয় যে, তাদেরকে ধরে ধরে মেরে ফেলা হবে; বরং এটা বদ্দুআ যে, যদি তারা তাদের মুনাফিক্বী ও তার কীর্তিকলাপ থেকে বিরত না হয়, তাহলে তাদের কঠিন শিক্ষামূলক পরিণতি হবে।

অনেকে বলেন, এটা আদেশ; কিন্তু মুনাফিকরা উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নিজেদের মুনাফিক্বী কর্ম থেকে বিরত হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে ঐ আদেশ কার্যকর করা হয়নি, যার আদেশ উক্ত আয়াতে দেওয়া হয়েছিল। (ফাতহুল ক্বাদীর)

আল্লাহ পাক আরো বলেন, ‘হে নবী! কাফির ও মোনাফিকদের সাথে যুদ্ধ করো এবং কঠোরতা প্রয়োগ করো। তাদের আবাস জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত খারাপ স্থান।’

ঈমানের ক্ষেত্রে মুনাফিকি এত জঘন্য ও ভয়ানক যে, তাদের জন্য কেউ যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। আখিরাতে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। অপর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মুনাফিকের আর একটি চিহ্ন আছে তা হলো যখন সে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, তখন অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে।’

যারা মুখে ইসলাম ও ঈমানের দাবি করে; কিন্তু অন্তরে ইসলামকে ঘৃণা করে এবং আল্লাহ ও রাসূলকে বিশ্বাস করে না, তারা হলো মুনাফিক। এরা মিথ্যাবাদী, প্রতারক, ভণ্ড ও দ্বিমুখী নীতি অবলম্বনকারী, যার মধ্যে এ বদঅভ্যাস সব থাকবে। এরা নিকৃষ্ট, জঘন্য, কপট, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। আল্লাহ কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না।