'জ্যোতিষশাস্ত্র' কি ইসলাম সম্মত?জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

'জ্যোতিষশাস্ত্র' কি ইসলাম সম্মত?জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?
বিভাগ: 
Share

1 টি উত্তর

জ্যোতিষশাস্ত্র ইসলাম সম্মত নয়। ইসলামে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা ও বিশ্বাস হারাম। এ বিশ্বাস নিয়ে জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া, তার ভবিষ্যদ্বাণী শোনা, জ্যোতিষশাস্ত্রের বই কেনা, রাশিফল পড়া সবকিছুই নিষেধ। কারণ এর মাধ্যমে জ্যোতিষবিদ দাবি করেন, ভবিষ্যৎ জ্ঞান তার কাছে রয়েছে। অথচ কোরআন মাজিদে আল্লাহ বলেছেন, অদৃশ্যের কুঞ্জি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। (সূরা আনআমঃ ৫৯)। বল আল্লাহ ছাড়া আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না। (সূরা আন- নামলঃ ৬৫)। জ্যোতিষের কথায় বা জ্যোতিষশাস্ত্রের বইয়ে বিধৃত রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করা কোনোভাবেই সঠিক নয়। যেহেতু জ্যোতিষশাস্ত্র প্রধানত ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যারা এই বিদ্যা চর্চা করে তাদের জ্যোতিষী বা গণক বলে গণ্য করা হয়। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি শাখা সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করল সে জাদুবিদ্যার একটি শাখার শিক্ষা গ্রহণ করল (আবু দাউদ ও ইবন মাযাহ)। যতই জ্যোতিষ বলুক অথবা যা কিছুই জ্যোতিষশাস্ত্রের বইয়ে থাকুক, কেউ তার রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করলে সে সরাসরি কুফরি করে। কারণ- আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্নিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে একজন ভবিষ্যতদ্রষ্টা গণকের নিকট গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, মুহাম্মদের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছিল সে তা অবিশ্বাস করল। (আহমাদ ও আবু দাউদ) ফলস্বরূপ, যে তার রাশিচক্র খোঁজে সে রাসূল (সাঃ) প্রদত্ত বিবৃতির রায়ের অধীনে পড়েঃ হজরত হাফসা (রাঃ) কর্তৃক বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে গণকের কাছে যায় এবং কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তার চল্লিশ দিন ও রাত্রির নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না। (সহিহ মুসলিম হাদিসঃ ৫৫৪০)। এই থেকে বুজা যায় এটি কত মারাত্মক ভুল কাজ। মহান আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকালাপ ৷ এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে৷ (সুরা মায়েদাঃ ৯০)। এমনকি জ্যোতিষের বক্তব্যের সত্যতায় সন্দিহান হওয়া সত্ত্বেও একজনের শুধু তার কাছে যাওয়া এবং প্রশ্ন করার শাস্তি এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আর সত্য হিসেবে বিশ্বাস করলে একদম শিরক হয়ে গেল যা সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। (সূরা নিসাঃ ৪৮)

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ